মানুষের সঙ্গে বন্যপ্রাণীর বন্ধুত্বের ঘটনা খুব একটা শোনা যায় না। সাধারণত এসব প্রাণী মানুষকে এড়িয়ে চলে। কিন্তু মাগুরা সদর উপজেলার কুচিয়ামোড়া ইউনিয়নের কুল্লিয়া গ্রামে ঘটেছে ব্যতিক্রম এক ঘটনা। ভ্যান-সাইকেল মেকানিক মো. সাত্তার মোল্লার সঙ্গে একটি বেজির বন্ধুত্ব এখন পুরো এলাকায় আলোচনার বিষয়।
প্রায় দুই বছর আগে গ্রামের পুকুরপাড়ে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকা একটি বেজি ছানা দেখতে পান সাত্তার মোল্লা। প্রাণীটির প্রতি মায়া হয়। বাড়িতে নিয়ে আসেন। স্থানীয়ভাবে পরিচর্যা করে ধীরে ধীরে সুস্থ করে তোলেন। তখন থেকেই প্রাণীটি তার সঙ্গে রয়েছে।
সাত্তার মোল্লা বলেন, আমি ওকে একাধিকবার ছেড়ে দিয়েছি। ভেবেছিলাম বনেই থাকা ভালো। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, বারবার সে ফিরে এসেছে আমার কাছেই।
এখন বেজিটি পুরোপুরি বড় হয়ে গেছে। কিন্তু মানুষের ক্ষতি করছে না। বরং দিনের বেশির ভাগ সময় সাত্তারের দোকানের আশপাশে ঘুরে বেড়ায়। দোকানে বসে কাজ করার সময় তার পাশে কিংবা পায়ের কাছে বসে থাকে। প্রতিদিন বাজার থেকে মাছ, মাংস, দুধ এবং কখনো কলা এনে বেজিটিকে খাওয়ান সাত্তার।
তিনি বলেন, আমি দোকানে বসে কাজ করি, আর ও কাছেই থাকে। খায়-দায়, কিন্তু কাউকে কামড়ায় না।
শুরুর দিকে পরিবারের লোকজন বেজি পালনে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, প্রাণীটি হয়ত একসময় ক্ষতি করতে পারে। তবে এখন পরিবারও প্রাণীটির সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে।
সাত্তার জানান, আগে পরিবার নিরুৎসাহিত করত। এখন তারাও খাওয়ায়, আদর করে।
গ্রামের অনেক মানুষ প্রতিদিন সাত্তারের দোকানে ভিড় করছেন শুধু বেজিটিকে একনজর দেখার জন্য। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন। কারও কারও বিস্ময়– বেজি সাধারণত হিংস্র প্রাণী, কিন্তু এই বেজি আচরণে শান্ত।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, বেজি সাধারণত কামড়ে দেয়। কিন্তু এই বেজি একেবারেই আলাদা। সাত্তারের সঙ্গে ওর সত্যিকারের বন্ধুত্ব হয়েছে।
আরেক বাসিন্দা আবু তালেব বলেন, অনেকবার দেখেছি সাত্তার ওকে ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু আবার ফিরে এসেছে। মানুষ আর প্রাণীর এই সম্পর্ক সত্যিই অদ্ভুত।
এখন শুধু কুল্লিয়া গ্রামে নয়, আশপাশের গ্রামগুলোতেও সাত্তার আর তার বেজি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষ প্রাণীটিকে দেখতে ভিড় করছেন দোকানে।
মানুষ আর বন্যপ্রাণীর সম্পর্ক নিয়ে নানা ভয় ও ভুল ধারণা আছে। কিন্তু কুল্লিয়া গ্রামের এই ঘটনার মাধ্যমে পরিষ্কার হয়েছে—ভালোবাসা আর যত্ন পেলে বন্যপ্রাণীও হয়ে উঠতে পারে মানুষের সঙ্গী।
মেহেদী/
