ঢাকা ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

মৃত্যুর মুখ থেকে স্বজনদের কাছে, আনন্দ উচ্ছ্বাস

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৪, ০১:৩০ এএম
মৃত্যুর মুখ থেকে স্বজনদের কাছে, আনন্দ উচ্ছ্বাস
চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছার পর সন্তানকে জড়িয়ে ধরে আবেগাপ্লুত এক নাবিক। ছবি : মোহাম্মদ হানিফ

জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হওয়া এমভি আবদুল্লাহ জাহাজের ২৩ নাবিককে উষ্ণ অভ্যর্থনার মাধ্যমে বরণ করা হয়েছে। দীর্ঘ ৬২ দিন নানা শঙ্কা ও উৎকণ্ঠায় কাটিয়ে অবশেষে চট্টগ্রামের ভূমিতে নেমেছেন নাবিকরা। চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি জেটিতে তাদের স্বজন, জাহাজের মালিকপক্ষ ও বন্দরের কর্মকর্তাদের আনন্দ উচ্ছ্বাসের অবতারণা হয়।

মঙ্গলবার (১৪ মে) বিকেল ৪টায় কেএসআরএম গ্রুপের অপর লাইটার জাহাজ এমভি জাহান মণি-৩ কুতুবদিয়া থেকে নাবিকদের নিয়ে বন্দরে আসে। জাহাজ ভেড়ার আগেই নাবিকরা ব্রিজের ওপর এসে হাত নাড়তে থাকেন। এদিক থেকে স্বজনরা হাত নেড়ে অভ্যর্থনা জানান। পরে ওই জাহাজের সঙ্গে একটি সিঁড়ি যুক্ত করা হলে একে একে ২৩ নাবিক নেমে আসেন। প্রথমেই নামেন জাহাজের ক্যাপ্টেন আবদুর রশিদ।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবদুর রশিদ বলেন, ‘জীবন নিয়ে ফিরে আসব, সেটা কখনো ভাবিনি। নিজের ভেতরে ভয় ছিল, তবু সাহসের সঙ্গে জলদস্যুদের হ্যান্ডেল করেছি। জিম্মি হওয়ার দিন আমার বুকে একে ৪৭ রাইফেল ধরেছিল। আমার অন্য নাবিকরা ভয় পেয়ে যান। প্রথমেই আমি বলেছি আমরা মুসলিম, আমরা রোজা রেখেছি। তোমরা আমাদের ক্ষতি করো না। জলদস্যুরা আমাদের ওপর পরে তেমন খারাপ আচরণ করেনি। তারা সব সময় অস্ত্রে সজ্জিত অবস্থায় ছিল, যা দেখলে যে কেউ ভয় পাবে।’

বন্দরের জেটিতে নাবিকদের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। ফোর্থ ইঞ্জিনিয়ার তানভির আহমদের মা জ্যোৎসা বেগম ছেলের বউকে নিয়ে উপস্থিত হন। তাদের চোখেমুখে আনন্দের উচ্ছ্বাস। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা ছেলের জন্য উপস্থিত হয়েছেন মা। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ছেলের জন্য শিমের বিচি, গরুর মাংস, শুঁটকি রান্না করেছেন। কারণ তার ছেলে এগুলো পছন্দ করেন। বাসায় ফিরে তা দিয়ে ভাত খেতে দেবেন ছেলেকে।

বন্দরে উপস্থিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘জিম্মি হওয়ার পর থেকে আমরা খুবই বিচলিত ছিলাম। কখন কী হবে, আমাদের নাবিকরা ফিরে আসতে পারবেন কি না। কখন ফিরে আসবেন? সবকিছুর অবসান ঘটিয়ে তারা দেশে ফিরে এসেছেন। এটিই আমাদের বড় পাওয়া। সরকারের কূটনৈতিক পদক্ষেপের জন্য আজ তারা দেশে ফিরে এসেছেন। আজ আমি আনন্দিত। আবেগ ধরে রাখতে পারিনি বলেই আমি ছুটে এসেছি। আমি নাবিকদের সুস্থতা কামনা করি।’

এ সময় ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘এর আগে এত দ্রুত জাহাজ মুক্ত হয়নি। এ জাহাজ মুক্ত করার জন্য বিদেশি জাহাজ বলপ্রয়োগ করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আমরা অনুমতি দিইনি। জাহাজের মালিকপক্ষ কবির গ্রুপও সেটা চায়নি। এতে জাহাজের নাবিকরা মৃত্যুর শঙ্কায় পড়তে হতো। আমরা নাবিকদের জীবনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। ফলে শান্তিপূর্ণ সমাধানের মাধ্যমে আজ নাবিকরা আমাদের দেশে ফিরে এসেছেন। এটি আমাদের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফসল। আমি ধন্যবাদ জানাই বন্দর কর্তৃপক্ষ, জাহাজের মালিক কেএসআরএম গ্রুপকে।’

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল বলেন, ‘নাবিকদের দেশে ফিরিয়ে আনতে পারা একটি বড় অর্জন। কারণ জলদস্যুরা খুব জঘন্য হয়, নির্যাতন ও মারধর করে। এর মধ্যে আমাদের নাবিকরা একেবারেই অক্ষত অবস্থায় ফিরে এসেছেন।’

মালিকপক্ষ কবির গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শাহরিয়ার জাহান বলেন, ‘আমাদের ভাইয়েরা দেশে ফিরে এসেছেন। এটি আমাদের দেশের জন্য বড় অর্জন। আমরা সমুদ্র জয় করেছি। এবার জিম্মি জাহাজের নাবিকদেরও জয় করেছি। কারণ নাবিকদের ফিরে আনা খুবই কঠিন একটা ব্যাপার ছিল। তবে আমরা যখন যেটি সরকারকে বলেছি তাতে দ্রুত সাড়া পেয়েছি। নাবিকরা দেশে ফিরেছেন, এটি দেশের জয়।’

কবির গ্রুপের প্রধান নির্বাহী (সিইও) মেহেরুল করিম বলেন, ‘জিম্মি হওয়ার পর থেকেই জাহাজ কীভাবে মুক্ত করব, সেই বিষয় নিয়ে কাজ শুরু করেছি। আন্তর্জাতিক সব অ্যাঙ্গেলে চেষ্টা করেছি জলদস্যুদের সঙ্গে যোগাযোগের। অবশেষে সফল হয়েছি। খুব কম সময়ের মধ্যে নাবিকরা ফিরে এসেছেন।  আল্লাহর কাছে শোকরিয়া।’

এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় জাহাজটি নোঙর করেছিল কুতুবদিয়ায়। মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয় নাবিকদের। এরপর ২৩ নাবিক চলে যান পরিবারের কাছে।

প্রসঙ্গত, আফ্রিকার মোজাম্বিক থেকে ৫৬ হাজার মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে দুবাই যাওয়ার পথে গত ১২ মার্চ সোমালিয়ার জলদস্যুরা ২৩ বাংলাদেশি নাবিকসহ এমভি আবদুল্লাহ জাহাজটি জিম্মি করেছিল। গত ১৪ এপ্রিল ভোররাতে জাহাজটি জলদস্যুমুক্ত হয়। এ সময় ৬৫ জন জলদস্যু জাহাজটি থেকে বোটে নেমে যায়।

গত ২২ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে জাহাজটি দুবাইয়ের আল হামরিয়া বন্দরে ভেড়ে। কয়লা খালাস শেষে ২৭ এপ্রিল স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নতুন ট্রিপের পণ্য লোড করতে ইউএইর মিনা সাকার বন্দরে যায় জাহাজটি। সেখান থেকে চুনাপাথর নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয় এমভি আবদুল্লাহ।

প্রায় ৬ মাস পর পরিবারের কাছে ফিরেছেন ২৩ নাবিক। গত ২৯ নভেম্বর এমভি আবদুল্লাহ জাহাজে উঠেছিলেন তারা। কোরিয়া থেকে সিঙ্গাপুর হয়ে আফ্রিকার মোজাম্বিকে যায় জাহাজটি। ৪ মার্চ মোজাম্বিক থেকে আরব আমিরাতে যাওয়ার পথে ১২ মার্চ হাইজ্যাক হয় এটি।

৪ মার্চ থেকে টানা ৭০ দিন নাবিকদের সময় কাটে জিম্মিদশায়, নানা দুশ্চিন্তা-দুর্দশায়। নাবিকরা হলেন জাহাজের মাস্টার মোহাম্মদ আবদুর রশিদ, চিফ অফিসার আতিকুল্লাহ খান, সেকেন্ড অফিসার মোজাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, থার্ড অফিসার এন মোহাম্মদ তারেকুল ইসলাম, ডেক ক্যাডেট সাব্বির হোসাইন, চিফ ইঞ্জিনিয়ার এ এস এম সাইদুজ্জামান, সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার মো. তৌফিকুল ইসলাম, থার্ড ইঞ্জিনিয়ার মো. রোকন উদ্দিন, ফোর্থ ইঞ্জিনিয়ার তানভীর আহমেদ, ইঞ্জিন ক্যাডেট আইয়ুব খান, ইলেকট্রিশিয়ান ইব্রাহীম খলিল উল্লাহ এবং ক্রু মো. আনোয়ারুল হক, মো. আসিফুর রহমান, মো. সাজ্জাদ হোসেন, জয় মাহমুদ, মো. নাজমুল হক, আইনুল হক, মোহাম্মদ শামসুদ্দিন, মো. আলী হোসেন, মোশাররফ হোসেন শাকিল, মো. শরিফুল ইসলাম, মো. নুরুদ্দিন ও মো. সালেহ আহমদ।

এর আগে ২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর আরব সাগরে সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে পড়েছিল কেএসআরএম গ্রুপের এসআর শিপিং লিমিটেডের আরেকটি জাহাজ ‘এমভি জাহান মণি’। ওই জাহাজের ২৫ বাংলাদেশি নাবিকের পাশাপাশি এক ক্যাপ্টেনের স্ত্রীসহ ২৬ জনকে ১০০ দিন জিম্মি করে রাখা হয়েছিল। সরকারি উদ্যোগসহ নানা প্রক্রিয়ায় ২০১১ সালের ১৪ মার্চ জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হয়। ১৫ মার্চ তারা বাংলাদেশে ফিরে আসেন। সে সময় ৪০ কোটি টাকা মুক্তিপণ দেওয়া হলেও এবার কত টাকা মুক্তিপণ দেওয়া হয়েছে তা জানা যায়নি। 

> ‘আমাদের দিয়ে রান্না করিয়ে দস্যুরা খেয়ে ফেলত’
> জীবনটা অস্ত্রময় হয়ে উঠেছিল
> মেহেদিরাঙা হাতে ফুল ও কেক নিয়ে নুরকে বরণ করলেন স্ত্রী
> ‘মায়ের ছেলে মায়ের বুকে ফিরেছে’
> মৃত্যুর হুমকি ছিল, কিন্তু সাহস রেখেছি : এমভি আবদুল্লাহর ক্যাপ্টেন
> বাবাকে ছাড়তেই চাইছিল না দুই মেয়ে, বুকে জড়িয়ে থাকে বহুক্ষণ
> ছেলের জন্য গরুর মাংস, শুঁটকি ও শিমের বিচি রান্না করে এনেছি

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়াই হবে নজরুলের প্রতি শ্রদ্ধা: কাদের

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ০৮:৩৫ এএম
অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়াই হবে নজরুলের প্রতি শ্রদ্ধা: কাদের
ছবি : খবরের কাগজ

সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ সমূলে উৎপাটিত করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে পারলেই জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক,  সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শনিবার (২৫ মে) সকালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানাতে এসে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, আজকের এদিনে বলতে চাই, আমরা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী হয়েছি। কিন্তু সেই বিজয়কে সুসংহত করার এখনো অনেক কাজ বাকি। বিজয়কে সুসংহত করার পথে বাধা দিতে বিএনপির পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশের কিছু সাম্প্রদায়িক অশুভ শক্তি তৎপর। আজকের এ দিনে বলতে চাই, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষকে সমূলে উৎপাটিত করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়াই হবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি৷

ওবায়দুল কাদের বলেন, অসাম্প্রদায়িক চেতনার কবি, বিদ্রোহ বেদনার কবি, যৌবনের কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি। জাতীয় কবির জন্মতিথিতে আমরা বলবো, বাঙালি জাতির স্বাধিকার সংগ্রাম, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা সংগ্রামে আমাদের প্রেরণার উৎস হচ্ছেন কবি নজরুল। যার কবিতা, গান স্বাধীনতা ও স্বাধিকার সংগ্রামে আমাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

বিএনপির নেতাদের এক অভিযোগ প্রসঙ্গে ওবায়দুল  কাদের বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীকে জেলে পাঠানোর এজেন্ডা আমাদের নেই। যে দুর্বৃত্ত, অগ্নিসন্ত্রাস, খুন করে, অস্ত্র ব্যবসা করে, অপরাধীর বিরুদ্ধে জেল-জুলুম হয়, মামলা হয়। সেখানে কোনো বিএনপি বা কোনো দলের ব্যাপারে নির্বাচনের পর নতুন করে আমরা কোনো চিন্তাভাবনা করিনি৷ এমন চিন্তা নেই যে রাজনৈতিক দলের কাউকে নির্যাতন করবো, জেলে পাঠাবো।

তবে অপরাধ করে কেউ পার পাবে না এমন হুশিয়ারি উচ্চারণ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের কেউ যদি অপরাধ করে থাকে, এসবের সাথে যারা জড়িত তারা রাজনৈতিক নেতা বা কর্মী নয়, এরা হচ্ছে দুর্বৃত্ত। তাদের শায়েস্তা করতেই হবে জনস্বার্থে, জাতীয় স্বার্থে।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম, দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়া, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন প্রমূখ।

জয়ন্ত সাহা/অমিয়/

‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু’ গানটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে গাওয়ার অনুরোধ কবি পরিবারের

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ০৮:১৩ এএম
‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু’ গানটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে গাওয়ার অনুরোধ কবি পরিবারের
ছবি : খবরের কাগজ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু...’ গানটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীতের পরে গাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

শনিবার (২৫ মে) ভোরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৫তম জন্মজয়ন্তীতে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে এসে এই দাবি করেন কবির নাতনি নজরুল সংগীত শিল্পী খিলখিল কাজী৷ 

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন কবির আরেক নাতনি মিষ্টি কাজী৷ 

খিলখিল কাজী বলেন, জাতীয় সংগীতের পরে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে জাতীয় কবির ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু’ গানটি বাজানোর অনুরোধ জানাই৷ এ গানে তিনি দেশ ও মানুষের মুক্তির কথা বলেছেন৷ মানুষের এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে৷ এ গানটি নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর খুব প্রিয় ছিল৷ মানুষকে আলোকিত পথে নিয়ে যাওয়ার দিকনির্দেশনা দেয়৷

বিদ্রোহী কবির রচনাবলী বিশ্বের নানা ভাষায় অনুবাদের দাবি রেখে খিলখিল কাজী বলেন, নজরুল রচনাবলী আমাদের জাতীয় সম্পদ। এ রচনাবলী অনুবাদের মাধ্যমে পৃথিবীর সকল ভাষাভাষী মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হোক৷ তার রচনা অনুবাদের দায়িত্ব সরকারের৷ নজরুল ইনস্টিটিউটের পাশাপাশি বেসরকারিভাবেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷ আমাদের দাবি হলো, এ কাজটি দ্রুত করা হোক৷ 

জাতীয় কবির জন্মদিনের দিনটি সরকারিভাবে ছুটি ঘোষণার দাবিও পুনঃব্যক্ত করেন তিনি৷ 

জয়ন্ত সাহা/অমিয়/

বাবার দেহাংশ এক টুকরো হলেও চাই, এমপি আনারের মেয়ে ডরিন

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ১০:৩১ পিএম
বাবার দেহাংশ এক টুকরো হলেও চাই, এমপি আনারের মেয়ে ডরিন
সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন। ছবি: খবরের কাগজ

আমার বাবার লাশের দেহাংশের এক টুকরো আমি চাই। যে লাশের টুকরো ছুঁয়ে দেখতে পারি। লাশের টুকরোকেই বাবা মনে করে জানাজা করাতে চাই।

ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারকে নৃশংসভাবে হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও হত্যার পরিকল্পনাকারীকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে কাঁদতে কাঁদতে এসব কথা বলেন নিহত সংসদ সদস্য আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন।

শুক্রবার (২৪ মে) বিকেলে কালীগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা শহরের মেইন বাসস্ট্যান্ডে এ কর্মসূচির আয়োজন করেন। মানববন্ধন চলাকালে ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কে আধাঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাবা হারানোর ব্যথা-কষ্ট বোঝেন। তিনি আমার বাবা হারানোর বেদনা বুঝবেন। তার বাবার হত্যার বিচার করেছেন, আমার বাবা হত্যার বিচারও করবেন। হত্যার পরিকল্পনাকারীকে ধরার পরই খতিয়ে দেখা যাবে আসলে সে এত বড় অপকর্ম কেন ঘটাল। এর বিচার অবশ্যই হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। গতকালও কথা বলেছি। আমরা আইনের আশ্রয় নেব। প্রধানমন্ত্রী আছেন, আওয়ামী লীগের দলীয় সর্বোচ্চ অভিভাবকরা আছেন, তারা আমাদের পরামর্শ দেবেন এবং তারা অবশ্যই তাদের দলীয় এমপি হত্যার সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করবেন। কালীগঞ্জের মানুষের সুখে দুঃখে যিনি সবসময় পাশে থেকেছেন সেই মানুষটির হত্যার বিচার আমরা চাই। আমরা কোনো শৃঙ্খলাহানি করতে চাই না।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন কালীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম আশরাফ। এ সময় নব-নির্বাচিত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শিবলী নোমানী, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান মতি, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হোসেনসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

মাহফুজুর রহমান/এমএ/

জুডিশিয়ারিকেও স্মার্ট করতে হবে: প্রধান বিচারপতি

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ০৯:৩১ পিএম
জুডিশিয়ারিকেও স্মার্ট করতে হবে: প্রধান বিচারপতি
প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। ছবি : খবরের কাগজ

প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেছেন, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে জুডিশিয়ারিকেও স্মার্ট করে গড়ে তুলতে হবে। এই স্মার্ট জুডিশিয়ারি করার ক্ষেত্রে ন্যায়কুঞ্জ প্রতিষ্ঠা একটি পদক্ষেপ। সংবিধান জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার যে আন্দোলন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার যে আন্দোলন, সে আন্দোলনে বিচার বিভাগ জনগণের সঙ্গে আছে।’

শুক্রবার (২৪ মে) বিকেলে দিনাজপুরের আদালত প্রাঙ্গণে বিচারপ্রার্থীদের বিশ্রামাগার ‘ন্যায়কুঞ্জ’ উদ্বোধন শেষে এসব কথা বলেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। 

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আপিল বিভাগের বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম, দিনাজপুর জেলা যুগ্ম দায়রা জজ দেলোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক শাকিল আহমেদ, পুলিশ সুপার শাহ ইফতেখার আহমেদসহ অন্যরা।

নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারে আইসিসির দাবিকে বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ০৯:০২ পিএম
নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারে আইসিসির দাবিকে বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) চিফ প্রসিকিউটর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির যে দাবি জানিয়েছেন তাতে বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন আছে।

শুক্রবার (২৪ মে) এ কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। 

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ ও সাপ্তাহিক গণবাংলা আয়োজিত ‘বিশ্ব শান্তি ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি স্বীকৃতি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আইসিসির চিফ প্রসিকিউটর নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির যে দাবি জানিয়েছেন, তা আমরা সমর্থন করি। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী এখন মানবতার শত্রুতে পরিণত হয়েছেন। তিনি এত দূর গিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের কথাও শুনছেন না।’ খবর বাসসের। 

এ সময় ফিলিস্তিন ইস্যুতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর তীব্র সমালোচনা করেন হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত ইসলামের জন্য মায়াকান্না করে অথচ সারা বিশ্ব যখন গাজায় গণহত্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার, তখন তারা ফিলিস্তিনের পক্ষে কখনো একটি শব্দও বলে না। আর জামায়াত সারাক্ষণ ইসলাম-ইসলাম করে মুখে ফেনা তুলে ফেলে অথচ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে, ফিলিস্তিনে হত্যার বিরুদ্ধে টুঁ শব্দও করে না। এভাবে চুপ থেকে বিএনপি-জামায়াত নেতানিয়াহুর দোসরে পরিণত হয়েছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন জরুরি। ইসরায়েলি বাহিনী নির্বিচারে গুলি করে মানুষ হত্যা করছে। বিশ্বের সবখানের জনগণ এখন ফিলিস্তিনের পক্ষে। তবে জাতিসংঘে যখন এ ইস্যু তোলা হয়, তখন কোনো কোনো দেশ ভেটো দেয়। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে ফিলিস্তিন ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময় সোচ্চার। তিনি গাজাবাসীর জন্য সাহায্যও পাঠিয়েছেন।’

সংসদ সদস্য আওলাদ হোসেন বলেন, ‘ফিলিস্তিনে মানবতা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। সারা বিশ্বে এ নৃশংস হত্যাকে গণহত্যা বলে অভিহিত করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসরায়েলের নৃশংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করছেন।’

আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য উপকমিটির সদস্য লায়ন মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ও আলোচকের বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব সফিকুল বাহার মজুমদার টিপু, আওয়ামী লীগ নেতা এম এ করিম, স্বাধীনতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন প্রমুখ।

এমএ/