ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪

এমপি আজীম হত্যার ঘটনায় কসাই গ্রেপ্তার, বেরিয়ে এল লোমহর্ষক তথ্য

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ০৪:২৭ পিএম
আপডেট: ২৪ মে ২০২৪, ০৯:৩২ পিএম
এমপি আজীম হত্যার ঘটনায় কসাই গ্রেপ্তার, বেরিয়ে এল লোমহর্ষক তথ্য

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারকে হত্যার পর তার শরীর থেকে চামড়া ছাড়িয়ে তাকে টুকরো টুকরো করা হয়। হাড় ও মাংস আলাদা করে ছোট ছোট প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে তাতে হলুদ দেওয়া হয়, যাতে কেউ সন্দেহ না করে। পরে সেই ব্যাগগুলো কলকাতার বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। 

এমপি আজীম হত্যার সঙ্গে জড়িত জিহাদ হাওলাদার নামের এক কসাইকে গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিমবঙ্গ অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বৃহস্পতিবার (২৩ মে) তাকে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, জিহাদ হাওলাদার কলকাতার নিউটাউনের একটি অ্যাপার্টমেন্টে এমপি আনার হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে এমপি আনার হত্যার লোমহর্ষক বিবরণ।

শুক্রবার (২৪ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। 

আনার হত্যাকাণ্ডের পেছনে মূলহোতা ছিলেন তারই বন্ধু ও ব্যবসায়ী অংশীদার আখতারুজ্জামান। তিনি ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌরসভার মেয়র শহীদুজ্জামান সেলিমের ভাই। তিনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তার নির্দেশ ও পরিকল্পনা অনুযায়ী জিহাদসহ আরও চার বাংলাদেশি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে স্বীকারোক্তি দেন জিহাদ। তাদের বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় যাওয়া-আসার ব্যাপারে সহায়তা করেছেন আখতারুজ্জামান।

পশ্চিমবঙ্গের সিআইডি জানায়, তারা অ্যাপার্টমেন্টের ভেতরে রক্তের দাগ এবং বেশ কয়েকটি প্ল্যাস্টিকের ব্যাগ খুঁজে পেয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই প্ল্যাস্টিক ব্যাগগুলো মাংস ও হাড় নিয়ে যাওয়ার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।

তারা আরও জানান, আনারকে হত্যার পর মরদেহ যাতে শনাক্ত করা না যায়, তাই জিহাদকে ভাড়া করা হয়।

এদিকে বুধবার (২২ মে) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আনোয়ারুল আজীম আনারকে খুন করা হয়েছে এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

গত ১২ মে এমপি আজীম চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। সেখানে বরাহনগরের মণ্ডলপাড়ায় তার বন্ধু গোপাল বিশ্বাসের বাড়িতে উঠেছিলেন। পরদিন দুপুর পৌনে ২টার দিকে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার জন্য বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। বুধবার (২২ মে) জানা যায় তিনি খুন হয়েছেন।

আনোয়ারুল আজীম আনার ঝিনাইদহ-৪ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য। তিনি ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টানা তিনবার আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

 

সাদিয়া নাহার/

প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা বিধিমালা নিবর্তনমূলক: টিআইবি

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৭:৫০ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৭:৫০ পিএম
প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা বিধিমালা নিবর্তনমূলক: টিআইবি
ছবি : সংগৃহীত

২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের (ডিএসএ) নামমাত্র পরিবর্তন এনে ২০২৩ সালে সাইবার নিরাপত্তা আইন (সিএসএ) প্রণয়ন করা হয়েছে। অর্থাৎ পুরনো আইনটিই নতুন নামে আসছে। যা অনেকাংশে অগণতান্ত্রিক এবং মত প্রকাশের অন্তরায়। প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা বিধিমালা ২০২৪ পর্যালোচনা ও সুপারিশে বলা হয়, বাস্তবে সিএসএ নতুন মোড়কে নতুন নামে ডিএসএর মতোই নিবর্তনমূলক। এর অনেক পরিবর্তন দরকার। সেসব পরিবর্তন না করে এ ধরনের অপূর্ণাঙ্গ বিধিমালা ক্ষমতার অপব্যবহার, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি ও জটিলতা বাড়াবে বলে মনে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। 

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি ও আর্টিকেল নাইনটিন-এর যৌথ উদ্যোগে ‘প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা বিধিমালা, ২০২৪: পর্যালোচনা ও সুপারিশ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে যে নিবর্তনমূলক ধারাগুলো ছিল সেগুলো সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টেও রয়ে গেছে। সে কারণে এ দেশের মানুষের অধিকার লঙ্ঘন বিশেষ করে বাক স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকতার স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে এটিকে দেখা গেছে। এবারের প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা বিধিমালায়ও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবিত বিধিমালায় মূল আইনের দুর্বলতা প্রতিফলিত হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা আইন ঢেলে সাজাতে হবে বিধিমালা করার আগে। বিধিমালায় দেখা যাচ্ছে, এ ধরনের কিছু করতে গেলে যে ধরনের দক্ষতা, জ্ঞান, অভিজ্ঞতা থাকা দরকার, তা প্রতিফলিত হয়নি। তার মতে, সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি নামে যেটি থাকবে, তাকে অনেক বেশি ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে এর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো অস্পষ্ট হওয়ায় এটি একটি অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে। 

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মাহফুজুল হক প্রস্তাবিত বিধিমালা নিয়ে পর্যালোচনা ও সুপারিশ তুলে ধরে বলেন, প্রস্তাবিত বিধিমালা পূর্ণাঙ্গ না। এর পরিসর ক্ষুদ্র ও সংকীর্ণ। এর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোর সংজ্ঞা সংকীর্ণ। এই সংজ্ঞায় শুধু সরকারি স্থাপনাকেই বোঝানো হয়েছে। বেসরকারি খাত, যেমন—টেলিকম, যাদের কাছে মানুষের অনেক তথ্য রয়েছে, সেগুলোকে এই কাঠামোর আওতায় আনা হয়নি। আবার সাইবার নিরাপত্তার সংজ্ঞাও অসম্পূর্ণ। কম্পিউটার সিস্টেমের ওপর ভৌত আক্রমণ যে হতে পারে, তার উল্লেখ প্রস্তাবিত বিধিমালায় নেই। এটা বড় ধরনের অস্পষ্টতা।

তিনি বলেন, একটি এজেন্সির (সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি) ছয়টি পরিচালক পদ। কিন্তু তাদের আওতায় কারা, কীভাবে থাকবেন, কী দায়িত্ব হবে, তার উল্লেখ প্রস্তাবিত বিধিমালায় নেই। ফলে এটি হতে যাচ্ছে একটি মাথাভারী প্রতিষ্ঠান। দেশে বেশির ভাগ সাইবার আক্রমণ আসে বাইরে থেকে আসে উল্লেখ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বলেন, বিদেশ থেকে কাউকে আইনের আওতায় আনতে গেলে যে আইনি কাঠামো দরকার, তা দেশে নেই। বিদেশি কেউ যদি আক্রমণ করে, তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রস্তুতি নেই।

সকল অংশীজনের মতামত ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই বিধিমালা সংশোধনের আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল সাক্ষ্যের জন্য নতুন জব্দ তালিকা থাকার দরকার ছিল বিধিমালায়। ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের মানদণ্ড ঠিক করে ল্যাব করতে হবে। ল্যাব থেকে মামলার আলামত যেন কোনোভাবেই ফাঁস না হয়, সে বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। সাইবার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিমকে খেয়াল রাখতে হবে, সাইবার সুরক্ষার নামে যেন মানবাধিকার লঙ্ঘন না হয়।

আর্টিকেল নাইনটিনের আঞ্চলিক পরিচালক (বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়া) শেখ মনজুর-ই-আলম বলেন, দেশে আইন করার খুব তাড়া। আইনের মূল উদ্দেশ্য সাইবার জগতের নিরাপত্তার বিষয়টি থেকে সরে গিয়ে মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করা, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রণের দিকে মনোযোগ বেশি।

সবুজ/এমএ/

সিট ফাঁকা থাকলেও টিকিট না পাওয়ার অভিযোগ সত্য নয়, সংসদে বিমানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৭:৩৫ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৭:৩৫ পিএম
সিট ফাঁকা থাকলেও টিকিট না পাওয়ার অভিযোগ সত্য নয়, সংসদে বিমানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান জানিয়েছেন, সিট ফাঁকা থাকলেও বিমানের টিকিট পাওয়া যায় না। বেশির ভাগ সময় সিট ফাঁকা রেখে বিমান উড্ডয়ন করে থাকে বিমান; এমন অভিযোগ সত্য নয়।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মুজিবুল হক চুন্নুর লিখিত প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় সংসদে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।

বিমানমন্ত্রী বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিট যাত্রীরা বিমানের নিজস্ব ওয়েবসাইট, জিডিএস, মোবাইল অ্যাপ, কল সেন্টার এবং বিমানের নিজস্ব বিক্রয় কেন্দ্র ছাড়াও যে কোনো অনুমোদিত দেশি-বিদেশি ট্র্যাভেল এজেন্ট থেকে ক্রয় করতে পারেন। বিমানের কোনো টিকিট যাত্রীর তথ্য ছাড়া বুকিং করা সম্ভব নয়। ফলে কারোর পক্ষে একসঙ্গে অনেক টিকিট যাত্রীর তথ্য ছাড়া বুকিং করে রাখার কোনো সুযোগ নেই। কোনো এজেন্সি চাইলেই যাত্রীর তথ্য ছাড়া কোনো টিকিট বুকিং করতে পারবে না। সেই সঙ্গে কোনো এজেন্সি মিথ্যা বা ভুয়া তথ্য দিয়ে বুকিং করলে সেটি ধরে জরিমানাসহ অন্যান্য পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়। এছাড়া প্রতিটি টিকিটে বুকিং সময়সীমা দেওয়া থাকে যার মধ্যে টিকিট ক্রয় সম্পন্ন না হলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।

মন্ত্রী জানান, যেকোনো এয়ারলাইন্স ব্যবসায় ভরা মৌসুম ও মন্দা মৌসুম থাকে। যখন ফ্লাইটে চাপ কম থাকবে, তখন কিছু সিট খালি থাকতে পারে যা সারা বছরের চিত্র নয়। আসন খালি থাকা সত্ত্বেও টিকিট কিনতে গেলে বলে টিকিট নেই, এটি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একটা ঢালাও অভিযোগ। এছাড়া যাত্রীরা কনফার্ম টিকিট করেও যথাসময়ে এয়ারপোর্টে উপস্থিত হতে না পারা, যাত্রীদের অনেকের ভুয়া ভিসা এবং ডকুমেন্টস থাকায় এবং ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আইনি জটিলতার কারণেও অনেক সময় আসন ফাঁকা থাকে। 

প্রসঙ্গত কিছু রুটে লোড প্যানাল্টি থাকায় কিছু সংখ্যক সিট অবিক্রিত রাখা হয় বিধায় সিট ফাঁকা থাকে। সুতরাং “সিট ফাঁকা থাকলেও বিমানের টিকিট পাওয়া যায় না; বেশির ভাগ সময় সিট ফাঁকা রেখে বিমান উড্ডয়ন করে থাকে” ওই কথাটি সত্য নয় মর্মে প্রতীয়মান হচ্ছে।

এমপি এ বি এম আনিছুজ্জামানের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন রুট বা গন্তব্যভেদে টিকিট মূল্য বিভিন্ন হয় থাকে। বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন এয়ারলাইন্সসমূহ তাদের বিদ্যমান যোগান ও চাহিদা, প্রতিযোগিতামূলক বাজার, ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ নীতি, পরিষেবা প্রদান প্রভৃতির ওপর ভিত্তি করে টিকিট মূল্য নির্ধারণ করে থাকে।

এমপি মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদীর এক প্রশ্নের জবাবে ফারুক খান বলেন, বাংলাদেশের আকাশপথ ব্যবহারকারী বিভিন্ন দেশের বিমানগুলো বাংলাদেশকে সঠিক পরিমাণ রাজস্ব দিয়ে থাকে। বাংলাদেশের আকাশ পথ ব্যবহাকারী বিভিন্ন দেশের বিমানগুলো বিমানবন্দরের এরিয়া কন্ট্রোল সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাংলাদেশের আকাশসীমা অতিক্রম করে থাকে। ফলে এরিয়া কন্ট্রোল সেন্টার হতে দাবি করা বিল অনুসারে সব এয়ারলাইন্সের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়ে থাকে।

এলিস/এমএ/

ঈদের পর নতুন সূচিতে চলবে মেট্রোরেল

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৭:১১ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৭:১১ পিএম
ঈদের পর নতুন সূচিতে চলবে মেট্রোরেল
ছবি : সংগৃহীত

ঈদুল আজহার পর নতুন সূচিতে চলাচল করবে মেট্রোরেল। সরকার নির্ধারিত নতুন অফিস সময়সূচির জন্য মেট্রোরেলের পিক ও অফ পিক আওয়ারের সময় বদলে যাচ্ছে। 

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) রাজধানীর প্রবাসী কল্যাণ ভবনে মেট্রোরেলের কার্যালয়ে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন ছিদ্দিক এ তথ্য জানান। 

তিনি বলেন, ‘গত ৬ জুন সরকার থেকে অফিসের সময়সূচি ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত করা হয়েছে। এই সময়সূচি ঈদের পর ১৯ জুন থেকে কার্যকর হবে। এজন্য মেট্রোরেলের পিক ও অফ পিক আওয়ারের সময়েও পরিবর্তন আনা হয়েছে।’

এমএএন ছিদ্দিক জানান, উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে মতিঝিল স্টেশন পর্যন্ত সকাল ৭টা ১০ মিনিট থেকে সকাল ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত আগের মতোই স্পেশাল অফ পিক থাকবে। এই সময় হেডওয়ে হবে ১০ মিনিট। আর সকাল ৭টা ৩১ মিনিট থেকে বেলা ১১টা ৩৬ মিনিট পর্যন্ত পিক আওয়ার। এই সময় হেডওয়ে হবে ৮ মিনিট। আবার বেলা ১১টা ৩৭ মিনিট থেকে দুপুর ২টা ২৪ মিনিট পর্যন্ত অফ পিক আওয়ার। এ সময় হেডওয়ে ১২ মিনিটের। আবার দুপুর ২টা ২৫ মিনিট থেকে রাত ৮টা ৩২ মিনিট পিক আওয়ার। এ সময় হেডওয়ে ৮ মিনিট। আবার রাত ৮টা ৩৩ মিনিট থেকে ৯টা পর্যন্ত স্পেশাল অফ পিক। এ সময় হেডওয়ে হবে ১০ মিনিট। 

তিনি জানান, মতিঝিল থেকে উত্তরা উত্তর পর্যন্ত সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত স্পেশাল অফ পিক। এই সময় হেডওয়ে ১০ মিনিট। সকাল ৮টা ১ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৮ মিনিট পর্যন্ত পিক আওয়ার। এ সময় হেডওয়ে ৮ মিনিট। দুপুর ১২টা ৯ মিনিট থেকে দুপুর ৩টা ৪ মিনিট পর্যন্ত স্পেশাল অফ পিক। এই সময় হেডওয়ে ১২ মিনিট। আবার দুপুর ৩টা ৫ মিনিট থেকে রাত ৯টা ১২ মিনিট পর্যন্ত পিক আওয়ার। এই সময় হেডওয়ে ৮ মিনিট। রাত ৯টা ১৩ মিনিট থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত স্পেশাল অফ পিক। এই সময় হেডওয়ে ১০ মিনিট।

এমএএন ছিদ্দিক বলেন, ‘আগের মতো মেট্রোরেলের সাপ্তাহিক বন্ধ শুক্রবার। শনিবার ব্যতীত সব সরকারি ছুটির দিন মেট্রোরেলের হেডওয়ে ১২ মিনিটের পরিবর্তে ১৫ মিনিট করা হয়েছে।’ 

তিনি জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ১৭ জুন মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ থাকবে। ঈদের দিনের পর কোরবানির পশুর চামড়া, কাঁচা বা রান্না করা মাংস মেট্রোরেলে বহন করা যাবে না। 

মেট্রোরেলের ভাড়া বৃদ্ধির প্রসঙ্গে ডিএমটিসিএল এমডি বলেন, ‘ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ভাড়া বাড়বে। এটা ৩০ জুনের আগে বলা যাচ্ছে না।’

তিনি জানান, ২ হাজার ২২০ জন যাত্রী ধারণক্ষমতা সম্পন্ন একেকটি মেট্রোরেলে গড়ে ১৬০০-১৭০০ যাত্রী যাতায়াত করে। এখন দিনে ৩ লাখ ২৫ হাজার যাত্রী মেট্রোরেলে যাতায়াত করে। দিনে ১৯৪ বার মেট্রোরেল যাওয়া আসা করলেও ১৯ জুন থেকে ১৯৬ বার করবে।

জয়ন্ত সাহা/সালমান/ 

কৃষি জমি সুরক্ষা ও ব্যবহার আইন হচ্ছে : কৃষিমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৫:৪৭ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৫:৪৭ পিএম
কৃষি জমি সুরক্ষা ও ব্যবহার আইন হচ্ছে : কৃষিমন্ত্রী

দেশের কৃষি জমি রক্ষায় ‌‘কৃষি জমি সুরক্ষা ও ব্যবহার আইন’ নামে একটি আইন পাসের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুস শহীদ। এ সময় দেশে আবাদযোগ্য জমি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। 

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. মামুনুর রশীদ কিরনের লিখিত প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। সংসদে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট আয়তন ১ কোটি ৪৯ লাখ ২১ হাজার হেক্টর ও মোট আবাদযোগ্য জমি রয়েছে ৮৮ লাখ ১৭ হাজার ৯৩৫ হেক্টর অর্থাৎ প্রায় ৫৯ শতাংশ।’

তিনি জানান, ‘অকৃষি কাজে কৃষি জমির ব্যবহার সীমিত রাখা এবং যত্রতত্র স্থাপনা না করার বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখপূর্বক গৃহায়ন ও গণপূর্ত, ভূমি এবং শিল্প মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিষয়টি নিশ্চিতকরণের উদ্যোগ নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

এমপি আলী আজমের এক প্রশ্নের জবাবে মো. আব্দুস শহীদ বলেন, ‘জমির উর্বরতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাটি পরীক্ষা করে সার সুপারিশ দেওয়া হয়েছে। সুষম মাত্রায় রাসায়নিক সার ব্যবহারের জন্য পরামর্শ এবং জৈব সার হিসেবে কম্পোস্ট, ভার্মি কম্পোস্ট, সবুজ সার, খামারজাত সার উৎপাদন ও ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় সেচের ব্যবস্থা করা হয়।’

এলিস/সালমান/

পশু কেনাবেচায় হয়রানি হলে ৯৯৯-এ কল করবেন: আইজিপি

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৪:৩০ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৫:০০ পিএম
পশু কেনাবেচায় হয়রানি হলে ৯৯৯-এ কল করবেন: আইজিপি

কোরবানির পশু কিনতে বা বিক্রি করতে গিয়ে কেউ হয়রানির শিকার হলে ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে জানালেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) দুপুরে গাবতলীর কোরবানির পশুর হাট ও বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় একথা বলেন তিনি।

আইজিপি বলেন, গরুর হাটে গরু কিনতে গিয়ে কেউ যদি হয়রানির শিকার হন তাহলে পুলিশকে জানান। প্রয়োজনে ৯৯৯-এ কল করে জানান। পুলিশ তড়িৎ ব্যবস্থা নেবে। নৌপথে ও সড়ক পথে কোরবানির পশুবাহী গাড়ির সামনে ব্যানারে লেখা থাকতে হবে কোন হাটে যাবে। তাহলে পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নিতে সুবিধা হবে। কেউ সমস্যায় পড়লে আর পুলিশকে দ্রুত জানালে আমরাও দ্রুত সহায়তা করতে পারব।

তিনি বলেন, বরাবরের মতো এবারও আমরা ঈদ উপলক্ষ্যে পশুর হাট, রেল, সড়ক ও নৌপথে ঈদযাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবকিছু মিলিয়ে ব্যবস্থা নিয়েছি।

কোরবানির ঈদের চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, রোজার ঈদে একমুখী চাপ থাকে। কিন্তু কোরবানির ঈদে সাধারণত যেটা ঘটে সেটা হচ্ছে, ঘরমুখো মানুষের চাপ সড়কে যেমন থাকে তেমনি, পশুবাহী ট্রাক-পিকআপও চলাচল করে। অর্থাৎ মানুষ বাড়ি যায়, গরু আসে। সড়কে দ্বিমুখী চাপ মোকাবিলা করতে হয়। পুরো বিষয় বিবেচনায় রেখে ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সঠিক রাখার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, কোরবানির পশুবাহী গাড়ি যাতে যথাযথভাবে নিরাপদে চলাচল করতে পারে, ঢাকাসহ সারা দেশে সে বিষয়ে ব্যবস্থা করা হয়েছে। সড়কে হাইওয়ে পুলিশ ব্যাপক নজরদারি করছে। 

পুলিশ বুধবার রাত থেকে মহাসড়কে চাপ দেখছে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ঘরমুখো মানুষের আরও চাপ আজ (১৩ জুন) বিকেল থেকে শুরু হবে। ঈদের দু’একদিন আগ পর্যন্ত এই চাপ অব্যাহত থাকবে।

আইজিপি বলেন, নির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া মহাসড়কে কোনো গরুবাহী গাড়ি কেউ থামাতে পারবে না। এ ব্যাপারে হাইওয়ে পুলিশসহ পুলিশের সব ইউনিটকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারা সজাগ রয়েছে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করার জন্য এবং পশুর হাটের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা আন্তঃমন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন বিভাগে মিটিং করেছি। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পুলিশ, পরিবহণ, হাট কর্তৃপক্ষ, ইজারাদার ও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। সবাই মিলে আমরা কাজ করছি। আশা করছি এই ঈদে নির্বিঘ্ন হবে সব কিছু।

ট্রাক ও ট্রলারে অতিরিক্ত পশু পরিবহণ না করার অনুরোধ জানিয়ে আইজিপি বলেন, অতিরিক্ত লোডের কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। তাতে পশু মানুষ উভয়ে মারা যেতে পারে। তাই নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টি আগে খেয়াল রাখুন।

হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগের প্রমাণ পেলে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে হুঁশিয়ারি দিয়ে আইজিপি বলেন, অজ্ঞানপার্টি মলমপার্টি অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের কোনো বিষয় থাকলে অভিযোগ থাকলে পুলিশকে জানান, পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। পশুর হাটে পরিবহণ সেক্টরে কোনো ধরনের চাঁদাবাজকে ছাড় দেওয়া হবে না।

কোরবানির ঈদকে ঘিরে নগদ টাকার চেয়ে ব্যাংকে লেনদেন করার পরামর্শ দেন আইজিপি। 

তিনি বলেন, বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন করলে বা পরিবহণ যদি করতে হয় তাহলে ব্যাংকে যান, পুলিশের সহযোগিতা নিন। অনেক সময় অনেকে সমস্যায় পড়েন। অপরাধীরা অপরাধ করার সুযোগ পায়। এটা করবেন না, পুলিশের সহযোগিতা নিন। পুলিশ সেবা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। হয়ত ১০-২০ মিনিট দেরি হতে পারে, কিন্তু এর জন্য আপনি ঝুঁকি নিতে যাবেন কেন?

জাল টাকা সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক ও সজাগ থাকতে অনুরোধ জানিয়ে আইজিপি বলেন, জাল টাকার লেনদেন যাতে না হয় সেজন্য প্রত্যেকটি মার্কেটে জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন স্থাপন করেছি। কেউ যদি জানতে পারেন বুঝতে পারেন পুলিশকে সহযোগিতা করেন পুলিশকে জানান পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।

খাজা/অমিয়/