ছয় দফা দাবিতে আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসক, প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো কতটা যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য, তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
সোমবার (৮ জুন) সকালে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। পরে বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে আলোচনায় বসেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
এ আলোচনা শেষে জানানো হয়, আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবি-দাওয়া পূরণে সচেষ্ট হবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ আশ্বাসের পর চলমান কর্মবিরতি ও ক্লাস বর্জন কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
এর আগে সোমবার সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘এটি একটি গণতান্ত্রিক দেশ। আন্দোলন করার অধিকার সবার রয়েছে। তাদের দাবিগুলো কতটা যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য, তা আমরা পর্যালোচনা করব।’
এরপর সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সভাকক্ষে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ইন্টার্ন ও পোস্টগ্রাজুয়েট চিকিৎসকদের ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বসেন।
বৈঠকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা বর্তমান ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে নবম গ্রেডের বেসিক অর্থাৎ ২২ হাজার টাকা নির্ধারণের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। একইসঙ্গে এফসিপিএস ডাক্তারদের কোনো ইনক্রিমেন্ট ছাড়াই নবম গ্রেডের সব সুযোগ-সুবিধা প্রদানের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, এই সিদ্ধান্ত এখনই কার্যকর না হলেও আগামী বাজেটে এটি বিবেচনা করা হবে মর্মে সচিব ও মহাপরিচালক আশ্বাস দিয়েছেন।
ছয় দফা দাবির বিপরীতে উভয় পক্ষ যৌথ বিবৃতিও দিয়েছে গতকাল। এই সিদ্ধান্তগুলো হলো-
১. এফসিপিএস পার্ট-১ এবং এমডি/এমএস (ফেজ-১) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থী প্রতি মাসে নিয়মিত ভাতা পাবেন।
২. সরকারের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইন্টার্ন ও পোস্টগ্রাজুয়েট ডাক্তারদের বর্তমান ভাতা আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি করা হবে।
৩. সংশ্লিষ্ট সব পদ্ধতি অনুসরণ করে এবং স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে পরামর্শ করে স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়নের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
৪. বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠানো হবে।
৫. বিসিপিএস এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ করা হবে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে সহযোগিতা করবে।
৬. বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও মেডিকেল কলেজে এন্ট্রি লেভেলে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সম্মানজনক বেতন কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
১২ সদস্যের ইন্টার্ন চিকিৎসক প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির (আইডিএস) সভাপতি ডা. মোস্তফা আমির ফয়সল ও সাধারণ সম্পাদক ডা. নাবিল বিন কাশেম, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (এসএসএমসি) হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) সদস্য সচিব ডা. আল মায়ান শেখ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ (এসএইচএসএমসি) হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস কমিটির (আইডিসি) সমন্বয়ক ডা. মো. ফজলে এলাহী তরুণ ও ডা. সাব্বির হোসাইনসহ অন্যরা।
এর আগে ছয় দফা দাবিতে গত শনিবার প্রতিটি ক্যাম্পাসে মানববন্ধন এবং রবিবার থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছিলেন। সোমবার থেকে পোস্টগ্রাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকরাও এই কর্মবিরতিতে যোগ দিলে স্বাস্থ্যখাতে অচলাবস্থার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
জয়ন্ত সাহা/রিফাত/