চলমান ভোটার তালিকা হালনাগাদের কার্যক্রমের কারণে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কমকর্তারা ব্যস্ত থাকায় এনআইডির পেন্ডিং আবেদনের নিষ্পত্তিতে বেশি সময় লাগছে- এমনটাই জানিয়েছেন সংস্থাটি মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর।
রবিবার (২৩ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। জনান, ইসিতে যে ৪ লাখ পেন্ডিং আবেদন আছে, সেগুলো আগামী ৬ মাসের মধ্যে তারা শেষ করতে চান।
এনআইডি ডিজি বলেন, মাঠে এখন ভোটার নিবন্ধনের কাজ চলছে। অফিসাররা এ কাজে বেশ ব্যস্ত। ২২ মার্চ পর্যন্ত ৪৭ লাখ ৫৪ হাজার ভোটারের নিবন্ধন হয়েছে। ভোটার নিবন্ধনের কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে কর্মকর্তারা এনআইডি আবেদনের কাজে মন দিতে পারেননি। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই ৪ লাখ আবেদনের সংশোধনে আমরা আগে শেষ করি। ভোটার নিবন্ধনের কাজ শেষ হবে ৫ মে। ৫ মে পর্যন্ত ব্যস্ত অফিসাররা। এই ব্যস্ততার কারণে এনআইডি সংশোধনে মনযোগ দিতে পারিনি। এজন্য সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, আগে ভোটার নিবন্ধনের কাজ শেষ হোক। যখন ভোটার নিবন্ধনের কাজটা কমে আসবে তখন আমরা পুরো মনযোগ সেখানে দিতে পারব।
তিনি আরও বলেন, এরইমধ্যে আমরা ২ লাখ ৭৮ হাজার আবেদনের কাজ শেষ করায়, আমাদের আত্মবিশ্বাস জন্মেছিল যে জুনের মধ্যে কাজটা শেষ করতে পারব। এর মধ্যে যেসব আবেদন জমা পড়বে, তার কিছু হয়তো থেকে যাবে। কারণ, আমরা জনবল বাড়াতে পারব না। যে গতিতে আবেদন নিষ্পত্তি হচ্ছে, আমার কেন জানি মনে হচ্ছে, এই গতিতে কাজ হলে আমরা জনভোগান্তি কমাতে পারব। ক্রাশ প্রোগ্রাম জানুয়ারি থেকে মার্চে শেষ। ১ লাখ আবেদন সংশোধন করতে পারি। আমরা অনুমান করছি, কাছাকাছি সংখ্যার আবেদন আমরা শেষ করতে পারব। হয়তো পুরোটা পারব না ভোটার রেজিস্ট্রেশনের কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে।
এনআইডি সংশোধনের জন্য কাঠামোবদ্ধ কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচনী কর্মকর্তারা প্রতিবেদন তৈরিতে আমরা ছক তৈরি করেছি। তিন ছক- যারা বিদেশে থেকে ভোটার হচ্ছেন, চাকরিজীবীদের জন্য একটি ছক এবং তৃতীয় হচ্ছে- জেনারেল ছক। এই কাজ চলছে। প্রত্যেক জেলা-উপজেলায় যেন নিয়মিত এনআইডি আবদেন সংশোধনের প্রক্রিয়া মনিরর করা যায়, সেই সিস্টেম ডেভেলপ করা হচ্ছে।
এনআইডি সংশোধনের কাজে আর্থিক লেনদেনে অভিযোগ এসেছে কি না জানতে চাইলে এনআইডি ডিজি বলেন, কিছু কিছু জায়গায় এই চক্র কাজ করছে। কেউ কেউ টাকা পয়সা নিয়েছে এমন অভিযোগও আমি পেয়েছি। এ ক্ষেত্রে আমরা ডিবিকে কাজে লাগিয়েছি এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। ঠাকুরগাঁওয়ে আমাদের একজন ডাটা এন্ট্রি অপারেটরকে ধরা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। নরসিংদীতে দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।
এর আগে গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন আবেদন নিষ্পত্তিতে ৩ মাসে শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এনআইডি মহাপরিচালক। তবে সেই সময় পার হওয়ার ৫ দিন পর সেসব আবেদন নিষ্পত্তিতে আরও ৬ মাস সময় নেন তিনি।
এর আগে গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর সাংবাদিকদের এনআইডি ডিজি জানান, আগামী ৩ মাসের মধ্যে ঝুলে থাকা ৪ লাখের বেশি এনআইডি সংশোধন আবেদন নিষ্পত্তি করা হবে। এ পর্যন্ত আগের ২ লাখ ৭৮ হাজার আবেদন শেষ হয়েছে। এছাড়া আরও ৩ লাখ ২ হাজার আবেদন জমা পড়ে।
এলিস/মাহফুজ