ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
খুলনায় উপকূলীয় নারীদের জীবনসংগ্রাম নিয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শনী যে অঙ্গের কারণে মানুষ জান্নাত অথবা জাহান্নামে যাবে জয়পুরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের ২১ পরিবারে আর্থিক সহায়তা সোনারগাঁয় নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে যুবদল নেতাসহ দুইজন গ্রেপ্তার আদ্-দ্বীন থেকে রেফার করা রোগীদের চিকিৎসা দিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশ নেইমারকে ছাড়াই মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নামবে ব্রাজিল পরিবেশ রক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ জাককানইবির এক শিক্ষার্থীর রাউজানে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা দেশীয় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণে কর্মসূচি নিয়েছে সরকার : প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ‘কষ্টদায়ক শিক্ষা’, বললেন প্যারাগুয়ে কোচ আলফারো সফল ব্যবসায়ী হতে চাইলে এড়িয়ে চলুন ৯টি বিষয় মে মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬২২, আহত ১৬৫২ যুদ্ধবিরতির মাঝেই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলা, নিহত ১ ভয়ই ব্রাজিলকে সতর্ক রাখবে: আনচেলত্তি বোয়ালমারীতে মাদকের বিরুদ্ধে ‘মিনি ফুটবল বিশ্বকাপ’ উদ্বোধন আসামে ভারতীয় বিমানবাহিনীর পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত শরীয়তপুরে নারীকে চুল কেটে, আলকাতরা মেখে খুঁটিতে বেঁধে রাখল প্রতিপক্ষ নগরীর কোলাহলমুক্ত সবুজ উদ্যান রমনা চুয়াডাঙ্গায় অপহরণের ৯ দিন পর যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলায় ১৭ কৃষক নিহত লাইনে বিড়াল ঢুকে পড়ায় সাময়িক বন্ধ ছিল মেট্রোরেল গাজীপুর পোশাক কারখানায় আগুন কসবায় হজযাত্রীর লাগেজ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০ নিখোঁজ নাটকের অবসান, ‘গুপ্ত’ ছিলেন শিবির নেতা জিসান! যুক্তরাষ্ট্রের জয়ের পর ঐক্যের গান গাইলেন পচেত্তিনো মীনা বাজারে চাকরির সুযোগ, শুক্র-শনিবার ছুটি গণমাধ্যম সংস্কারে ‘ইউনিফাইড ইনস্টিটিউশন’ গঠনের তাগিদ মদে ট্যাক্স বাড়ানোই বিরোধী দলের দুঃখ: প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জে নিখোঁজের ৩ দিন পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার বাজেটে জনগণের স্বস্তি হলেও বিরোধী দলের অস্বস্তি: প্রধানমন্ত্রী
Nagad desktop

রেলে উপচেপড়া ভিড়, কমলাপুরে চরম অব্যবস্থাপনা

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৫, ১২:৫৬ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৫, ০১:১৫ পিএম
রেলে উপচেপড়া ভিড়, কমলাপুরে চরম অব্যবস্থাপনা
দেওয়ানগঞ্জ কমিউটার ট্রেনে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। ছবি: সংগৃহীত

ঈদুল আজহা উপলক্ষে রেলযাত্রার ষষ্ঠ দিনে কমলাপুরে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। ভিড় সামলাতে গিয়ে স্টেশনের সব নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৫ জুন) ভোর থেকে স্টেশনে এ দৃশ্য দেখা যায়। 

রেলওয়ের নিরাপত্তা কর্মী (আরএনবি), রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি),  র‍্যাব সদস্যদের যথেষ্ট উপস্থিতি থাকলেও তারা উচ্ছৃঙ্খল যাত্রীদের সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।

যাত্রীদের টিকিট পরীক্ষার জন্য তিন স্তরের তল্লাশি ব্যবস্থা থাকলেও বৃহস্পতিবার সকালে তা অনেকটাই অকার্যকর হয়ে পড়েছে। 

ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা অনেক পরিশ্রম করেও বিনা টিকিটের যাত্রী ঠেকাতে পারছেন না। তারা বেশ কয়েকজন যাত্রীকে বিনা টিকিটে ভ্রমণের দায়ে জরিমানা করলেও তাদের যাত্রা বাতিল হয়নি। 

রেলের কর্মীদের উৎকোচ দিয়ে তারা ট্রেনে উঠে পড়েছেন। জরিমানার পরে কেউ কেউ আবার ট্রেনের ছাদেও উঠে গেছেন। 

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত কমলাপুর থেকে ২৩টি আন্তঃনগর ও কমিউটার ট্রেন ছেড়ে গেছে।

রেলের নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিষেধ থাকা সত্ত্বেও প্রতিটি ট্রেনের পাওয়ার কার ও বুফেকারে ঠেসে যাত্রী তোলা হয়েছে। মেইল, কমিউটার, আন্তঃনগর- সব ট্রেনের ছাদে যাত্রী উঠেছেন। এদের সবাই বিনা টিকিটের যাত্রী। 

জিআরপি পুলিশের দলগুলো যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে উচ্ছৃঙ্খল যাত্রীরা উল্টো তাদের দিকে তেড়ে এসেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

বৃহস্পতিবার ভোর ৬টায় জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জগামী দেওয়ানগঞ্জ কমিউটার, সাড়ে ৬টার দিকে নীলফামারীর চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস, সকাল ৭টায় সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস ও সাড়ে ১১টায় জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, সকাল সাড়ে ১০টায় পঞ্চগড়গামী পঞ্চগড় এক্সপ্রেস এবং পরে লালমনিরহাটগামী বুড়িমারী এক্সপ্রেস, ভুয়াপুরগামী জামালপুর এক্সপ্রেস, রংপুরগামী রংপুর এক্সপ্রেস, কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনগুলো অন্তত ৩০ মিনিট দেরিতে প্ল্যাটফর্ম ছেড়েছে বলে জানা গেছে। 

যাত্রীদের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, বগির ফ্যান ঘুরছে না। ওয়াশরুমের বিকট গন্ধে দরজার পাশের সিটের যাত্রীরা নাকে রুমাল দিয়েও টিকতে পারছেন না। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বগিতে এসি নষ্ট হয়ে আছে। 

আবার বিনা টিকিট বা ভুয়া টিকিটের যাত্রী আসন দখল করায় ট্রেনের কামরায় হাতাহাতির খবরও পাওয়া গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে অসহায়ত্ব প্রকাশ করে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. সাজেদুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘কমলাপুরে যে যাত্রী চাপ রয়েছে, ট্রেনগুলো ওয়াশপিটে নিয়ে ওয়াশ করে লোকোশেডে গিয়ে প্রতিটি বগি পরীক্ষা করে প্ল্যাটফর্মে দিতে গেলে অনেক সময় লেগে যাবে। তাই কিছুটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে ট্রেনগুলো ছেড়ে দিতে হচ্ছে। এতে আমার কিছুটা ত্রুটি থেকে যায়।’ 

অভিযোগ রয়েছে, মেইল, কমিউটার ট্রেনে একটি আসনের বিপরীতে চারটি আসনের টিকিট কাটতে বাধ্য করা হচ্ছে যাত্রীদের। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘এমন কোনো অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। আর ভ্রাম্যমাণ আদালতেও এমন কেউ এসে কোনো অভিযোগ জানাননি।’ 

রেলের স্ট্যান্ডিং টিকিটের যাত্রীদের নিয়ে তিনি বলেন, ‘স্ট্যান্ডিং টিকিটের যাত্রীদের বিভিন্ন ট্রেনে যাওয়ার কথা। কিন্তু তারা প্ল্যাটফর্মে যে ট্রেনটি প্রথমে পাচ্ছেন, সে ট্রেনটিতে উঠার চেষ্টা করছেন। এতে একটি ট্রেনের ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করতে হচ্ছে। ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ না করতে আমরা যতই অনুরোধ করি না কেন, যাত্রীরা তা শুনবেন না। ছাদে ভ্রমণ ঠেকাতে আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি থাকলেও তা শতভাগ সফল হয়নি। এখানে আমাদের ব্যর্থতা থেকেই যায়।’ 

সাজেদুল জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে সারা দিনে ৬৩টি আন্তঃনগর ও কমিউটার ট্রেন ছেড়ে যাবে। 

ঈদযাত্রায় প্রতিদিন গড়ে ৬৫ হাজার যাত্রী রেলপথে বাড়ি ফিরছেন বলে জানান তিনি। 

এদিকে, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বেলা সোয়া ১১টার দিকে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে আসেন। এ সময় তিনি রেলযাত্রার সার্বিক চিত্র দেখে কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তখন অনেক যাত্রী তাকে রেলপথের দুর্ভোগের কথা জানান।

পরে ব্রিফিংয়ে সময় মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, আজ সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো রেলের ছাদে কেন এত মানুষ ভ্রমণ করবেন। আমরা রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে সব ব্যবস্থা নিয়েছিলাম ছাদে যাত্রী উঠা ঠেকাতে। কিন্তু ঈদযাত্রার সময় বিষয়টা মানবিকও কিছুটা। কোনো এক যাত্রী ছাদে উঠে নামতে চাইলেন না। আমরা তাকে নির্যাতন করে নামিয়ে দিলাম। তখন তো আপনারাই (সাংবাদিকরা) নিউজ করবেন।
 
এবার ঈদযাত্রায় রেলওয়েতে ৪০টি অতিরিক্ত কোচ বিভিন্ন ট্রেনে সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচ জোড়া ঈদ স্পেশাল ট্রেনও পরিচালনা করা হচ্ছে৷

তবুও রেলযাত্রায় যাত্রীদের অস্বস্তির প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, এবারের ঈদযাত্রা শতভাগ স্বস্তির হয়েছে এ কথা বলা যাবে না। রেলে লোকোমোটিভ নেই, কোচ নেই। তার পরও আমরা ট্রেনের বগির সংখ্যা বাড়িয়েছি। সামনে আমাদের আর কিছু বগি, লোকো আসবে। সামনের ঈদে হয়তো আরও ভাল সেবা দিতে পারবে রেলওয়ে।

জয়ন্ত/পপি/

আদ্-দ্বীন থেকে রেফার করা রোগীদের চিকিৎসা দিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম
আদ্-দ্বীন থেকে রেফার করা রোগীদের চিকিৎসা দিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশ
ছবি: সংগৃহীত

আদ-দ্বীন হাসপাতাল থেকে রেফার করা রোগীদের যথাযথ চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

শুক্রবার (১২ জুন) রাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘আদ-দ্বীন উইমেনস মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ২ বড় মগবাজার, ঢাকা-এর লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। এমতাবস্থায় উক্ত হাসপাতাল হতে রেফারকৃত রোগীকে তাৎক্ষণিকভাবে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হলো।’

এ নির্দেশনা ঢাকার ৬টি হাসপাতালের পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

হাসপাতালগুলো হলো- ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট।

এর আগে, ১১ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় দেওয়া শোকজ নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানায় অধিদপ্তর। 

আমান/

মে মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬২২, আহত ১৬৫২

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০২:৫১ পিএম
মে মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬২২, আহত ১৬৫২
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি

মে মাসে দেশে ৬১৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬২২ জন নিহত এবং ১ হাজার ৬৫২ জন আহত হয়েছেন। এ মাসে রেলপথেই ৪২টি দুর্ঘটনায় ৩৪ জন নিহত, ২৯ জন আহত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে ঢাকা বিভাগে।

শনিবার (১৩ জুন) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নৌপথে ২১টি দুর্ঘটনায় নিহত ১৫ জন, আহত ১৫ জন ও ৭ জন নিখোঁজ রয়েছে।

সড়ক, রেল ও নৌপথে সর্বমোট ৬৭৬টি দুর্ঘটনায় ৬৭১ জন নিহত এবং ১ হাজার ৬৯৬ জন আহত হয়েছে। এই সময়ে ২২১ টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২৩১ জন নিহত, ২১৯ জন আহত হয়েছে; যা মোট দুর্ঘটনার ৩৬.০৫ শতাংশ, নিহতের ৩৭.১৩ শতাংশ ও আহতের ১৩.২৫ শতাংশ।

এই মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে ঢাকা বিভাগে ১৮০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮৫ জন নিহত ও ৫৫৮ জন আহত হয়েছে, সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগে ২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৮ জন নিহত ও ৬৭ জন আহত হয়েছে। 

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণে এই তথ্য পাওয়া গেছে। প্রকৃত হতাহতের ঘটনা আরো বেশ কয়েকগুন বাড়তে পারে। যা সংবাদপত্রে স্থান না পাওয়ায় তুলে আনা সম্ভব হয়নি।

বিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরা হয়, সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে ৬ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১৩৯ জন চালক, ১২১ জন পথচারী, ১১৩ জন পরিবহন শ্রমিক, ৯৬ জন শিক্ষার্থী, ৮ জন শিক্ষক, ৯৩ জন নারী, ৬৮ জন শিশু, ২ জন চিকিৎসক, ৩ জন সাংবাদিক, ১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ১ আইনজীবী এবং ৩ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় মিলেছে।

নিহতদের মধ্যে নিহত হয়েছে ২ জন পুলিশ সদস্য, ২ জন বিজিবি সদস্য, ১ জন চিকিৎসক, ১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ১৩৬ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ১১০ জন পথচারী, ৬৯ জন নারী, ৫৯ জন শিশু, ৭৩ জন শিক্ষার্থী, ৪৯ জন পরিবহন শ্রমিক, ৮ জন শিক্ষক, ১ আইনজীবী ও ৩ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।

এ সময় সড়ক দুর্ঘটনায় সংগঠিত ৯৭৫ টি যানবাহনের পরিচয় মিলেছে। এতে দেখা যায়, ২৮.৬৯ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৩.১০ শতাংশ ট্রাক-পিকাপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৪.৪৫ শতাংশ বাস, ১২.৯৭ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিক্সা ও ইজিবাইক, ৬.৫৪ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিক্সা, ৭.৪৮ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা, ৬.৭৫ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস সড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।

সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার ৩২.৩০ শতাংশ গাড়ি চাপা বা ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা, ৪২.০৮ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৮.৯২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৫.৫৪ শতাংশ বিবিধ কারণে, ০.৩২ চাকায় ওড়না পেছিয়ে এবং ০.৮১ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটে।
 
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই মাসে সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার ৪৪.৬৯ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩০.৬৬ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ১৮.১০ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। এছাড়াও সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৫.২২ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ০.৪৮ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ০.৮১ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংগঠিত হয়েছে।

আমান/

লাইনে বিড়াল ঢুকে পড়ায় সাময়িক বন্ধ ছিল মেট্রোরেল

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০১:৩৮ পিএম
লাইনে বিড়াল ঢুকে পড়ায় সাময়িক বন্ধ ছিল মেট্রোরেল
প্রতীকী ছবি

শাহবাগ স্টেশনে লাইনে একটি বিড়াল ঢুকে পড়ায় মেট্রোরেল চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বিড়ালটি উদ্ধারের পর মেট্রো চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা হয়।

শনিবার (১৩ জুন) বেলা ১১টা ৪০ মিনিট থেকে এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ এবং যাত্রীদের ধৈর্য ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

তবে স্টেশনের ঠিক কোন পয়েন্টে দিয়ে বিড়ালটি ঢুকেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বর্তমানে যাত্রীসেবা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ।

অমিয়/

গাজীপুর পোশাক কারখানায় আগুন

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০১:৫২ পিএম
গাজীপুর পোশাক কারখানায় আগুন
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ‘মেট্রিক্স স্টাইলস্ সোয়েটার’ নামের একটি পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। 

শনিবার (১৩ জুন) বেলা ১১টার দিকে কারখানার ৬ষ্ঠ তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। 
 
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুন জানান, শনিবার (১৩ জুন) বেলা ১১টার কিছু পরে গাজীপুরের মালেকের বাড়ি এলাকায় ম্যাট্রিক্স স্টাইলস্ লিমিটেড নামের কারখানার ভেতর থেকে ধোঁয়া ও আগুনের শিখা বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তেই শ্রমিক ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। 

আগুনের খবর পেয়ে ভোগড়া মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের ৬ ইউনিটের প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করেই কারখানার ষষ্ঠ তলা থেকে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকলে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়।

পলাশ প্রধান/অন্তরা

গণমাধ্যম সংস্কারে ‘ইউনিফাইড ইনস্টিটিউশন’ গঠনের তাগিদ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১২:৫০ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০১:১০ পিএম
গণমাধ্যম সংস্কারে ‘ইউনিফাইড ইনস্টিটিউশন’ গঠনের তাগিদ
এমআরডিআই আয়োজিত দেশে একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে অংশীজনদের নিয়ে মতবিনিময়। খবরের কাগজ

দেশে সাংবাদিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং গণমাধ্যমের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে একটি কার্যকর ও স্বাধীন ‘ইউনিফাইড ইনস্টিটিউশন’(একীভূত প্রতিষ্ঠান) গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী ব্যারিস্টার সারা হোসেন।

একই সঙ্গে তিনি মিডিয়া রিফর্ম কমিশনের (গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন) ২০২৫ সালের প্রস্তাবনা এবং পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইজেক) ইন্টারভিউ থেকে প্রাপ্ত আইনের খসড়াটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনার আহ্বান জানান। 

শনিবার (১৩ জুন) মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই) আয়োজিত দেশে একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে অংশীজনদের নিয়ে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণার প্রেক্ষিতে এই আলোচনার আয়োজন করেছে সংস্থাটি।

এমআরডিআই জানায়, প্রস্তাবিত স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠন প্রক্রিয়া, এর পরিধি এবং কমিশনের কাছে অংশীজনদের প্রত্যাশার ব্যাপারে সুস্পষ্ট মতামত ও পরামর্শ তুলে আনাই এই সভার মূল উদ্দেশ্য। 

আলোচনা সভায় উপস্থিত রয়েছেন খবরের কাগজের প্রকাশক ও সম্পাদক মোস্তফা কামাল।

সারা হোসেন বলেন, ‘আমাদের বর্তমান আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো অত্যন্ত খণ্ডিত। প্রেস কাউন্সিল প্রায় অকার্যকর। এছাড়া বিটিআরসি, আদালত কিংবা কপিরাইট অফিস- সব আলাদা আলাদা ফোরাম কাজ করছে, যা মোটেও কার্যকর নয়। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ পাকিস্তান কিংবা যুক্তরাজ্যে ওভাররাইডিং রেসপন্সিবিলিটিসহ সুনির্দিষ্ট বডি রয়েছে।’

গণমাধ্যম সংস্কারে দুই খসড়ার তুলনামূলক বিশ্লেষণ ও সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তুলে ধরে তিনি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট উল্লেখ করেন। আইজেকের খসড়া অনুযায়ী ৯ সদস্যের একটি ‘জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের প্রস্তাব রয়েছে, যার অধিকাংশ সদস্যই আসবেন মিডিয়া সেক্টর থেকে। এই কমিশন গণমাধ্যমের স্ট্যান্ডার্ড সেট করা ও সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। 

তবে সারা হোসেন জোর দিয়ে বলেন, ‘‘কমিশন যেন নিজেই সব নিয়ন্ত্রণ না করে, বরং মিডিয়ার নিজস্ব স্ট্যান্ডার্ড সেটিংয়ে ‘ফ্যাসিলিটেটর’ বা সহায়ক হিসেবে ভূমিকা রাখে। এখানে সেলফ-রেগুলেশন (আত্ম-নিয়ন্ত্রণ) অত্যন্ত জরুরি।’’

সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবে প্রেস কাউন্সিল বিলুপ্ত করার কথা বলা হলেও ২৬-এর আইজেক খসড়ায় প্রেস কাউন্সিলকে রেখে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সারা হোসেন একে একটি ‘রিস্ক’ বা ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন। 

তিনি বলেন, একদিকে গণমাধ্যম কমিশনকে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে, আবার ৫০ বছরের পুরনো প্রেস কাউন্সিলকেও রাখা হচ্ছে। এতে কাজের ওভারল্যাপিং হবে। একটি ‘ইউনিফাইড ইনস্টিটিউশন’ বা একীভূত প্রতিষ্ঠান হওয়াই সবচেয়ে যৌক্তিক।

প্রস্তাবিত কমিশনের আর্থিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে রিফর্ম কমিশনের ১ শতাংশ কন্ট্রিবিউশন মডেলের প্রশংসা করেন তিনি, যেখানে মিডিয়া হাউসগুলোর নিজস্ব কন্ট্রিবিউশনের পাশাপাশি সরকারের গ্রান্ট ও বিদেশি অনুদান গ্রহণের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া কমিশনে দেশের বৈচিত্র্য রক্ষায় মাইনরিটি রেপ্রেজেন্টেশন (সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব) রাখার প্রস্তাবকে স্বাগত জানান তিনি।

আইজেক খসড়ায় সিলেকশন কমিটিতে কেবল একজন সরকারি প্রতিনিধি (ক্যাবিনেট সেক্রেটারি) রাখার ইতিবাচক দিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের অভিজ্ঞতার আলোকে এই সিলেকশন প্রক্রিয়া যেন অত্যন্ত স্বচ্ছ, উন্মুক্ত ও আন্তর্জাতিক মানের হয়, তা বিধিমালায় স্পষ্ট করতে হবে। এছাড়া ফৌজদারি অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি যেন দুই বছর পার হলেই নিয়োগ না পান, সেই ডিসকোয়ালিফিকেশন বা অযোগ্যতার ধারাটি কঠোর করার তাগিদ দেন তিনি।

মোবাইল জার্নালিজমের এই যুগে সাংবাদিকদের জন্য সুনির্দিষ্ট শিক্ষাগত বা প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা বাধ্যতামূলক করার বিরোধিতা করেন সারা হোসেন। তিনি বলেন, যোগ্যতা নির্ধারণ যেন কোনোভাবেই লাইসেন্সিং-এর মতো না হয়ে দাঁড়ায়। এটি বাধ্যতামূলক না করে বরং প্রশিক্ষণ, প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট ও অ্যাক্রেডিটেশনের সুযোগ রাখা উচিত।

আইজেকের খসড়ায় কমিশনকে জরিমানা করার ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। দেশের অতীত প্রেক্ষাপট ও সাংবাদিকদের ওপর জুলুম-হয়রানির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সারা হোসেন বলেন, ফাইন বা জরিমানা করাকে নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই, কারণ এটি অন্য কোনো বড় সাজা বা হয়রানির চেয়ে ভালো। তবে জরিমানা করার আগে নোটিশ দেওয়া, জবাব দেওয়া এবং আপিল করার একটি অত্যন্ত স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়া (ডিউ প্রসেস) থাকতে হবে, যা রুলসের ওপর ছেড়ে না দিয়ে মূলেই রাখা দরকার।

এছাড়া আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘কনফিডেনশিয়ালিটি অব সোর্সেস’ বা সোর্সের গোপনীয়তা সুরক্ষার ওপর কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ যেন না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

ব্যারিস্টার সারা হোসেন মনে করেন, সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনা এবং পরবর্তী খসড়া দুটি গণমাধ্যম সংস্কারের আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য একটি চমৎকার ভিত্তি তৈরি করেছে এবং নির্বাচিত সরকারের উচিত এই সুযোগটি কাজে লাগানো।

জয়ন্ত সাহা/অন্তরা/