পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থা জেঁকে বসলে, নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হন নিম্নবর্গের মানুষ। মানবতার এই সংকট উত্তরণে সামাজিক বিপ্লবের বিকল্প দেখেননি আহমদ রফিক। আর সেই সমাজবিপ্লবের লক্ষ্যে প্রধান করণীয় হিসেবে তিনি সংস্কৃতি চর্চাকে প্রাধান্য দিয়েছেন জীবনভর।
প্রয়াত ভাষাসংগ্রামী, লেখক আহমদ রফিকের স্মরণে এসব কথা বলেছেন নাগরিক সমাজের শীর্ষ ব্যক্তিরা।
ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক শোকসভা জাতীয় কমিটি শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে এই শোকসভার আয়োজন করে।
এ আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ও লেখক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক, রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ, বাসদের (মাহবুব) সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশিদ ভূঁইয়া, বাংলাদেশ সাম্যবাদী আন্দোলনের সমন্বয়ক ও ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চার অন্যতম নেতা শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, বাসদের (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান লাল্টু, ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক ফাউন্ডেশনের সভাপতি মুনীর সিরাজসহ আরও অনেকে আহমদ রফিককে নিয়ে স্মৃতিচারণা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘আহমদ রফিকের আসল পরিচয় তিনি সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করতেন। তিনি জানতেন, সাংস্কৃতিক প্রস্তুতি না থাকলে সামাজিক বিপ্লব সম্ভব হবে না। তাই আজীবন বাংলা সংস্কৃতিকে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ করে গেছেন তিনি। তার সংস্কৃতি চর্চা উদ্দেশ্যহীন ছিল না। তিনি সংস্কৃতি চর্চা করেছেন সামাজিক বিপ্লবকে সম্ভব করে তোলার জন্য। এই ছিল তার নিজস্বতা।’
আহমদ রফিকের ভাষাসংগ্রামী পরিচয়ের তাৎপর্য তুলে ধরে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের রাজনৈতিক তাৎপর্য বুঝেছিলেন তিনি। এ আন্দোলনের সাংস্কৃতিক ভিত্তি ছিল; সম্ভাবনা ছিল নতুন সমাজ গড়ার। সেই লক্ষ্যে তিনি নিজেকে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। বাঙালি জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি বাংলা ভাষাকে আরও সমৃদ্ধ করতে, বাঙালির সাংস্কৃতিক চেতনাকে উন্নত করতে সদা নিযুক্ত ছিলেন।’
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘আজীবন সাম্যবাদ আর সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী আহমদ রফিক আমাদের নতুন সভ্যতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। ভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে তিনি সোজাসাপটা ভাষায় কথা বলতেন। অন্তরে যা ধারণ করতেন, তাই বলতেন। তার দেখানো সমাজতন্ত্রের পথ ধরে আমরা (বামপন্থিরা) অবশ্যই একটি রেইনবো কোয়ালিয়েশন গড়ে তুলব।’
অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক বলেন, ‘পতিসর-পর্ব থেকে রবীন্দ্রনাথকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছেন আহমদ রফিক। সাহিত্যিক রবীন্দ্রনাথের বাইরে মানবিক-সামাজিক রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্কার করেছেন আহমদ রফিক।’
অনুষ্ঠানের শুরুতে অসীম দত্ত দুটি রবীন্দ্রসংগীত গেয়ে শোনান। পরে আহমদ রফিকের প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। আহমদ রফিকের স্মরণে অতিথিরা দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।