দেশের কৃষি উন্নয়ন ও গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি দিতে বিদ্যমান ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার’-এর নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
প্রস্তাবিত ‘জাতীয় কৃষি পুরস্কার ট্রাস্ট আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর মাধ্যমে পুরস্কারের নাম থেকে ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটি বাদ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এই অধ্যাদেশের খসড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মতামত দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
গত বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে পতিত সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গের নামে যেসব রাষ্ট্রীয় সংস্থা, প্রতিষ্ঠান বা পুরস্কারসমূহ রয়েছে, তার নাম পরিবর্তন করতে হবে।
উপদেষ্টা পরিষদের সেই সিদ্ধান্তের আলোকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় কৃষি মন্ত্রণালয়কে ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার’-এর পরিবর্তে ‘জাতীয় কৃষি পুরস্কার’ নামকরণের নির্দেশনা দেয়।
প্রস্তাবিত ‘জাতীয় কৃষি পুরস্কার ট্রাস্ট আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর সংশোধনী খসড়ায় বলা হয়েছে- বিদ্যমান ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ট্রাস্ট আইন, ২০১৬’ থেকে ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটি সম্পূর্ণরূপে বাদ দেওয়া হবে।
পুরস্কারের নাম, ট্রাস্টের নাম, তহবিলের নামসহ সব সরকারি নথি ও আদেশে এই পরিবর্তন কার্যকর হবে। অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পূর্ববর্তী আইনের অধীন সব নিয়ম, বিজ্ঞপ্তি ও নথিতে ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটি বিলুপ্ত গণ্য হবে। পুরস্কার প্রদানের কাঠামো ও উদ্দেশ্য অপরিবর্তিত থাকবে, অর্থাৎ কৃষিতে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সমবায় সংগঠনকে স্বীকৃতি দেওয়া অব্যাহত থাকবে।
খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বর্তমানে জাতীয় সংসদ ভেঙে যাওয়ায় এবং কৃষি খাতে পুরস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায়, রাষ্ট্রপতির কাছে বিষয়টি জরুরি ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বলে প্রতীয়মান হয়েছে। ফলে সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে অধ্যাদেশ জারি করবেন।
গত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে কৃষিতে অবদান রাখার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ট্রাস্ট আইন, ২০১৬’-এর আওতায় কৃষি গবেষণা, উৎপাদন, উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণে অসাধারণ অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়ে আসছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত অধ্যাদেশ চূড়ান্ত অনুমোদন শেষে পরে যেকোনো উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। এরপর রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর শেষে অধ্যাদেশ হিসেবে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে প্রস্তাবিত অধ্যাদেশ কার্যকর হবে।
এর আগে ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ট্রাস্ট আইন, ২০১৬’ জারি হওয়ার পর থেকে ২০১৭ সালের জুলাইয়ে যৌথভাবে মোট ৬৪ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫৫ ব্যক্তি এবং ৯টি প্রতিষ্ঠান/সংগঠনকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। পরে ২০২১ সালের জুনে ৩২ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে যৌথভাবে এই পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করেছে সরকার। তা ছাড়া ২০২২ সালের অক্টোবরে মোট ৪৪ জনকে যৌথভাবে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১৫ জন ব্যক্তি ও ২৯টি প্রতিষ্ঠান/সংগঠনকে এই পুরস্কার দিয়েছে সরকার।
কৃষিক্ষেত্রে বিশেষ অবদান যেমন- কৃষি গবেষণা ও সম্প্রসারণ, সমবায় অনুপ্রেরণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন, বাণিজ্যিক খামার, বনায়ন, পশুসম্পদ ও মৎস্য চাষসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য প্রদান করা হয়।
এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নির্বাচিত ব্যক্তি ও সংস্থাগুলোকে স্বর্ণ, ব্রোঞ্জ ও রৌপ্যপদক বিতরণ করা হয়।
স্বর্ণপদক বিজয়ী প্রত্যেকে ২৫ গ্রাম ওজনের ১৮ ক্যারেট স্বর্ণপদকসহ ১ লাখ টাকা করে, রৌপ্যপদক বিজয়ী ২৫ গ্রাম খাঁটি রৌপ্যপদকসহ ৫০ হাজার টাকা করে এবং ব্রোঞ্জ বিজয়ী প্রত্যেকে একটি করে ব্রোঞ্জপদকসহ ২৫ হাজার টাকা করে পান।
স্বাধীনতার পর পরই ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সদ্য স্বাধীন দেশের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে এই পুরস্কার প্রবর্তন করেন, যা ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর গঠিত সরকার বাতিল করে।