ঢাকা ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
৯ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি শেরপুরে নিখোঁজ ৫ ছাত্রের ৩ জনকে জীবিত উদ্ধার তনু হত্যা: দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলে রেড নোটিশের নির্দেশ বোয়ালখালীতে ওমান প্রবাসীকে হত্যা: শোকে পাথর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও মা মবতন্ত্র ও উচ্ছৃঙ্খল রাজনীতি বাড়ছে: যুবদল সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ইউনুছ হাওলাদার আর নেই মরিশাসের শ্রমবাজার খুলতে সমঝোতা চুক্তিতে সম্মত টিআইবি প্রকৃত ঘটনা জাজ করে স্টেটমেন্ট দেয় না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর নিরাপত্তা নিয়ে অস্বস্তিকর বাস্তবতা ঈশ্বরগঞ্জে অটোরিকশাচাপায় শ্রমিকের মৃত্যু গণতন্ত্রে হতাশা এবং নেতৃত্বে অসন্তোষ শরীয়তপুরে প্রধান শিক্ষকের ওপর মব হামলা, আদালতে মামলা কন্যাশিশু নির্যাতন: আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক সংকট মনপুরায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে মামলা, ছাত্রলীগ নেতা কারাগারে বাজেট বাস্তবায়নে ছলচাতুরি চলবে না: চরমোনাই পীর আকাশসীমা পুনরায় খুলে দিয়েছে ইরাক ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে: মাহদী আমিন যেকোনো সাফল্যে যে দোয়া পড়তেন বিশ্বনবি (সা.) রৌমারীতে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে নারীর মৃত্যু ইন্টার্ন ও ট্রেইনি চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার ইসরায়েলবিরোধী সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা ইরানের শেরপুরে ১২ দিনে পাঁচ শিক্ষার্থী নিখোঁজ, অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ জঙ্গল সলিমপুরে সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী ভাঙ্গায় বিয়েবাড়িতে খাবার নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৭ হালুয়াঘাটে ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল যুবকের কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে গৃহবধূর মৃত্যু, পাশে মিলল আরেক নারীর মরদেহ ঝিনাইদহে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল জাতীয় মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ঢাবি পবিপ্রবিতে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান পঞ্চগড় সীমান্তে পুশইনের চেষ্টায় ১০ জনকে ফিরিয়ে নিলো বিএসএফ
Nagad desktop

জ্বালানিসংকটে আয়-রোজগারে টান

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৩ এএম
জ্বালানিসংকটে আয়-রোজগারে টান
ছবি: খবরের কাগজ

জ্বালানিসংকটের বিরূপ প্রভাব পড়ছে জীবন-জীবিকায়। জ্বালানি তেলের মাধ্যমে যাদের জীবন-জীবিকা চলে, তারা পড়েছেন চরম বিপাকে। এ সংকটের কারণে তাদের আয়-রোজগারেও টান পড়েছে। কৃষিতে ফসলের সেচ, যানবাহন চলাচল, শিল্প-কারখানার উৎপাদন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সার্বিকভাবে দেখা দিচ্ছে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে প্রায় সব ধরনের জ্বালানির সংকট দেখা দিয়েছে। এতে করে কৃষিপণ্য অর্থাৎ শস্য উৎপাদনে সেচ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পর্যাপ্ত পেট্রল-অকটেন না পাওয়ায় পাঠাও-উবারের মতো রাইডশেয়ারিং সার্ভিস ব্যাহত হচ্ছে, যা তাদের প্রতিদিনের রোজগারে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে ছোট-বড় কারখানার বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত জেনারেটরের ডিজেল ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে কারখানার উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া বাসাবাড়ি বা রেস্টুরেন্টসহ নানা ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এলপিজি বা গ্যাসের সরবরাহের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে এলপিজি গ্যাসের দামও কোথাও কোথাও সংকটের সুযোগে অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়েছেন বিক্রেতারা। পাশাপাশি গতকাল রাজধানীর একাধিক সিএনজি স্টেশনে গ্যাস ছিল না বলেও জানা যায়। 

রাজধানীর মেরুল বাড্ডার সবজি ব্যবসায়ী স্বপন দত্ত গতকাল খবরের কাগজকে বলেন, জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে বাজারসহ সবখানে তার প্রভাব পড়েছে। শাকসবজির দামে আগুন লেগেছে। পটোল, ঢ্যাঁড়স, ঝিঙ্গা, বেগুনসহ সব সবজির পাইকারি দামই এখন ১০০ টাকার কাছাকাছি।

কারওয়ান বাজারের একাধিক আড়তদার বলেছেন, পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। তাই আড়তে আসা ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম চড়াচ্ছেন। এতে খুচরা ক্রেতারা বিপাকে পড়ছেন। তবে সার্বিকভাবে কেনাবেচাও কমে যাচ্ছে। 

অন্যদিকে মোহাম্মদপুরের বছিলা এলাকার বাসিন্দা মোফাজ্জল হোসেন জানান, সাড়ে ১২ কেজির এলপিজির সিলিন্ডার এখন স্থানীয় বাজারের দোকানে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। অথচ গত সপ্তাহে এই সিলিন্ডার পাওয়া গেছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায়। যদিও সরকারি রেট বা নির্ধারিত মূল্য আরও কম। কিন্তু প্রায় বেশির ভাগ দোকানেই সরকারি রেটে সিলিন্ডার বিক্রি করা হয় না। এর মাঝে জ্বালানিসংকট বাড়তে থাকলে বাসাবাড়িতে রান্নাও বন্ধ হতে পারে।

রাজধানীসহ সারা দেশেই জ্বালানির বিরূপ প্রভাবে কমবেশি প্রায় একই রকম চিত্র বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। খবরের কাগজের নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্যুরোপ্রধান ও জেলা-উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর থেকে জানা গেছে প্রায় অভিন্ন তথ্য। 

চট্টগ্রামে রাইডশেয়ারিং খাতে নেমে এসেছে অচলাবস্থা
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানিয়েছে, জাহিদুল ইসলাম দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে চট্টগ্রাম নগরীতে রাইডশেয়ারিংয়ে মোটরসাইকেল চালান। দীর্ঘ সময়ে পথ চলার মধ্যে কখনো এভাবে জ্বালানিসংকটে পড়তে হয়নি। কখনো দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে হয়নি। এবারই চরম ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হলো তাকে। আলাপকালে গতকাল তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘অনেকেই প্রয়োজন ছাড়াই বাইকের ট্যাংকি ভর্তি করে রাখছেন তেল। তাদের কারণে যাদের প্রয়োজন তারা তেল পাচ্ছেন না।’ 

শুধু জাহিদুল ইসলাম নন, তার মতো চট্টগ্রামের হাজারও বাইক রাইডারের চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে জ্বালানিসংকট। দেশজুড়ে চলমান জ্বালানিসংকটের কারণে রাইডশেয়ারিং খাতে নেমে এসেছে অচলাবস্থা। বিশেষ করে মোটরসাইকেলভিত্তিক রাইডশেয়ারিং সেবার সঙ্গে যুক্ত হাজারও চালকের চোখে অন্ধকার। প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা শুধু জ্বালানি সংগ্রহের পেছনে ব্যয় করতে হচ্ছে চালকদের। এতে করে কর্মঘণ্টা কমে যাচ্ছে এবং যাত্রীসেবা দেওয়া ব্যাহত হচ্ছে। 

চালকরা জানিয়েছেন, আগে যেখানে দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা কাজ করে ভালো আয় করা যেত, এখন সেখানে অর্ধেক সময়ই চলে যাচ্ছে জ্বালানি সংগ্রহে। তারা বলছেন, তেলের জন্য ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এতে সময় নষ্ট হচ্ছে ব্যাপক। ফলে আয় করবেন কখন, সেটাই প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশে বেকারত্ব বাড়ার কারণে রাইডশেয়ারিংয়ের চালকদের সংখ্যাও বাড়ছে। তাদের মতে, জ্বালানিসংকট দীর্ঘায়িত হলে এই পেশায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।

রংপুরে ডিজেলসংকটে বোরো উৎপাদন হুমকির মুখে
জ্বালানি তেলের সংকটে রংপুর অঞ্চলে ব্যাহত হচ্ছে বোরো ধানের সেচ কার্যক্রম। ফলে দুশ্চিন্তা বাড়ছে কৃষকদের। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরুর পর থেকেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ডিজেলনির্ভর কৃষিব্যবস্থায়। 
কৃষকদের অভিযোগ, চাহিদা অনুযায়ী সময়মতো ডিজেল না পাওয়া, সীমিত সরবরাহ এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চাষাবাদে অতিরিক্ত খরচের চাপ তৈরি হয়েছে। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। তবে সৌরবিদ্যুৎচালিত পাম্প ব্যবহার করে কৃষি উৎপাদনে মনোযোগী হলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে বলে মনে করেন কৃষকরা।

মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন এলাকার অন্তত ৩০ জন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক একর জমিতে মাটির ধরন অনুযায়ী বোরো চাষে ১৫ থেকে ২০ বার সেচ দিতে হয়। এতে প্রয়োজন হয় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লিটার ডিজেল। কিন্তু মৌসুমের শুরুতেই ডিজেলসংকটের কারণে কৃষকদের সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

গত শুক্রবার রংপুর-পার্বতীপুর সড়কে খালেক তেল পাম্পে কথা হয় নওশাদ আলীর সঙ্গে। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘দুইটা-তিনটা তেলের পাম্প ঘুরলাম শেষে ৩ নম্বর তেল পাম্প এসে দুই লিটার ডিজেল পাইলাম। ২০০ টাকার ডিজেল নিতে আমার যাতায়াত খরচ ১২০ টাকা। এই তেলে ৪ ঘণ্টাও মেশিন চলবে না। এবার যে ধানের কী হবে, তা আল্লাহ ভালো জানেন।’

গত শুক্রবার রংপুর-পার্বতীপুরের সাতটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, এর মধ্যে চারটি পাম্পই বন্ধ। কোনো লোকজন নেই। তেল নিতে এসে লোকজন ফিরে গেছেন।

খালেক পেট্রলপাম্পের ব্যবস্থাপক জানান, যারা ডিজেলের জন্য আসছেন তাদের দুই থেকে পাঁচ লিটার পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে। তেল থাকলে যেকোনো সময়ে এসে নিতে পারবে।

রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, ‘আমরা পাম্প থেকে ঠিকমতো ডিজেল পাচ্ছি না। প্রতি মেশিনে দুই লিটারের বেশি দিচ্ছে না। ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১০০ টাকা হলেও তা সংগ্রহ করতে অতিরিক্ত ৫০ থেকে ১০০ টাকা পরিবহন খরচ লাগছে। এতে আমাদের লাভ তো দূরের কথা, খরচ ওঠানোই কঠিন হয়ে যাবে।’ 

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘রংপুর অঞ্চলে ডিজেলসংকটে কিছুটা সমস্যা হলেও গুরুতর সমস্যা আমাদের চোখে পড়েনি। প্রকৃতি আমাদের কিছুটা ভালো অবস্থায় রেখেছে।’

চুয়াডাঙ্গায় ‘ফুয়েল কার্ড’ থাকার পরও চরম ভোগান্তি 
তেলসংকটে চরম বিপাকে পড়েছেন চুয়াডাঙ্গার মানুষরা। বিভিন্ন পেট্রলপাম্পে তেল নিতে গিয়ে না পেয়ে প্রচণ্ড ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা। প্রবাল কুমার দাস নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আগামীকাল আমার বাড়ি থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অফিসে যেতে হবে, অথচ শুক্র ও শনি এই দুই দিন ঘুরেও আমি তেল পেলাম না।’

আবির হোসেন নামের এক এনজিও কর্মী বলেন, ‘প্রতিদিন অন্তত ৬০ কিলোমিটার ঘুরে ঘুরে আমাকে টাকা কালেকশন করে বেড়াতে হয়। ফুয়েল কার্ড নিয়েও তেল না পাওয়ায় আমি দুই দিন কাজ করতে পারিনি। আজকে ৭ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পেলাম না। এই ফুয়েল কার্ডের মূল্য কোথায়?’

প্রায় অভিন্ন দুরবস্থা ও সংকটের অভিযোগ করেন প্রাণীর জরুরি ওষুধ নিয়ে কাজ করা মেহেদী হাসান নামে এক বিক্রয় প্রতিনিধি।

চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বি এম তারিক উজ জামান বলেন, গতকাল কার্ড ছাড়া তেল দেওয়ায় কয়েকটি পাম্পে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হয়েছে। জ্বালানি সরবরাহে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রশাসন কাউকে কোনো ছাড় দেবে না।

গোপালগঞ্জে জ্বালানি তেলের সংকটে সেচ বন্ধের শঙ্কা
গোপালগঞ্জে তীব্র জ্বালানিসংকটে কৃষি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ডিজেলের অভাবে সেচ দিতে না পেরে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন কৃষকরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষা করেও মিলছে না প্রয়োজনীয় তেল। এতে ধানসহ অন্যান্য ফসল চাষাবাদে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না হলে এবং বাজারে কঠোর নজরদারি না বাড়ালে চলতি মৌসুমে বড় ধরনের কৃষি বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে সচেতন মহল।

জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক নেই। ফলে কৃষকরা সময়মতো জমিতে সেচ দিতে পারছেন না। কৃষি কার্ড দেখিয়েও প্রয়োজনমতো তেল মিলছে না। এ ছাড়া বর্তমানে বোরো মৌসুম চলছে। এই সময়ে নিয়মিত সেচ প্রয়োজন। কৃষকরা বলছেন, সেচ না দিতে পারলে ধান নষ্ট হয়ে যাবে। এরই মধ্যে অনেক জমিতে ধানগাছে শিষ এসেছে। কিন্তু পানি না পেলে এসব শিষ থেকে আসা ধান চিটা হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। এদিকে এরই মধ্যে অনেক জমি পানিশূন্য হয়ে পড়ছে, যা পুরো মৌসুমে কৃষিকাজকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

স্থানীয় কৃষক শারফুল শরীফ বলেন, ‘প্রতিদিন আমার কমপক্ষে পাঁচ লিটার তেল দরকার। পাঁচ দিন আগে মাত্র এক লিটার তেল পেয়েছিলাম। এতে তিন-চার দিন জমিতে সেচ দিতে পারিনি। আজ আবার ভোরে পাম্পে এসেছি। ৩ ঘণ্টা পার হলেও তেল পাইনি। যদি এভাবে চলতে থাকে, আমার জমির সব ধান নষ্ট হয়ে যাবে। তাহলে সারা বছর পরিবার নিয়ে চলব কীভাবে?’

অন্য কৃষক শুহিন মোল্যা বলেন, ‘তেলের অভাবে কয়েক দিন ধরে জমিতে পানি দিতে পারছি না। মাটি শুকিয়ে যাচ্ছে। গাছ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। দ্রুত তেলের ব্যবস্থা না হলে বড় ক্ষতির মুখে পড়ব। কৃষি কার্ড দিয়েও তেল পাচ্ছি না।’

কুড়িগ্রামে ডিজেলসংকটে বিপাকে জেলেরা
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, কুড়িগ্রামে জ্বালানি তেলের সংকট চরমে পৌঁছেছে। দৈনন্দিন জীবনে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ঘাটে ইঞ্জিনচালিত নৌকার চলাচল কমে গেছে। অনেক জায়গায় নৌকা বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন চিলমারী উপজেলার জেলেরা। ডিজেলের অভাবে নৌকা চালাতে না পারায় তারা নদীতে মাছ ধরতে যেতে পারছেন না। এতে তাদের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক পরিবারে খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। 

এমন অবস্থায় গত মঙ্গলবার দুপুরে জেলেরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। তারা দীর্ঘ সময় সেখানে বিক্ষোভ করেন। পরে ইউএনও তাদের সঠিক দামে তেল দেওয়ার আশ্বাস দেন। এরপর জেলেরা সেখান থেকে চলে যান। তবে তারা অভিযোগ করেন, ডিলারদের কাছে তেল থাকলেও তারা দিচ্ছেন না। বেশি টাকা দিলেই তেল মিলছে। প্রশাসন এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

বেলাল হোসেন নামে এক জেলে বলেন, ‘তেল না থাকায় কয়েক দিন ধরে নদীতে যেতে পারছি না। মাছ ধরতে না পারায় আয় নেই। পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’ 

মো. আশরাফ নামে আরেক জেলে বলেন, ‘আমাদের তেমন টাকা জমানো থাকে না। যেটুকু জমানো ছিল তাও শেষ। এখন ধারদেনা করে তেল কিনতে হচ্ছে। তবু তেল পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবার নিয়ে চিন্তায় আছি।’

নাগেশ্বরীর আয়নালের ঘাটের ইজারাদার আবু সিদ্দিক বলেন, ‘কয়েক দিন আগে কয়েকটি পাম্প ঘুরে তেল না পেয়ে ইউএনও স্যারের সঙ্গে কথা বলে কিছু তেল নিয়েছি। এখন তাও শেষ হয়ে গেছে। এতে নৌকা চলাচল বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।’

তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান তেলের সংকটের কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার কাছে সব তথ্য আছে। কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ডিজেলসংকটে বিপাকে আনোয়ারা উপকূলের ১৫ হাজার জেলে
প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপকূলে ডিজেলসংকট কাটেনি। জ্বালানি তেল না পাওয়ায় মাছ ধরা কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে উপজেলার অন্তত ১৫ হাজার মৎস্যজীবী ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

স্থানীয় খোলা বাজারগুলোতেও পাওয়া যাচ্ছে না তেল। ফলে উপকূলের শত শত ট্রলার ঘাটে অলস পড়ে আছে।

রায়পুরের জেলে আব্দুল মোনাফ বলেন, ‘আমাদের বাজারে চার থেকে পাঁচ লিটার তেল পাওয়া যাচ্ছে। এই তেল দিয়ে কতক্ষণ চলবে। আমরা এক মাস ধরে ট্রলার তীরে বেঁধে রেখেছি। তেলের সংকটের কারণে যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে আমাদের পথে বসতে হবে।’

পূর্বগহিরা ধলঘাট এলাকার মৎস্যজীবী আবদুল আজিজ বলেন, ‘তেল না থাকায় আমাদের দুটি ট্রলার এক মাস ধরে সাগরে যেতে পারেনি। ধারদেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে।’ 

আরেক জেলে সাইফুল ইসলাম জানান, মাছ শিকারই তাদের একমাত্র জীবিকা। দীর্ঘদিন সাগরে যেতে না পারায় পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।

গহিরা মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি আবদুর রহমান জানান, জ্বালানিসংকট দীর্ঘায়িত হওয়ায় পুরো মৎস্য খাত স্থবির হয়ে পড়েছে।

কলাপাড়া উপকূলে ২০ হাজার জেলে পরিবারে হাহাকার
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা বন্দরসহ মৎস্যবন্দর মহীপুর, আলীপুর ও কুয়াকাটার জেলেরা জ্বালানি তেলের (ডিজেল) ভয়াবহ সংকটে পড়েছেন। সমুদ্রের গভীর-অগভীর এলাকায় শতকরা ৯০ ভাগ জেলে মাছ শিকার করতে পারছেন না। ফলে এসব জেলে পরিবারে চরম দুরবস্থা নেমে এসেছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন গভীর সমুদ্রগামী জেলেরা। কারণ এসব জেলেদের একেক ট্রিপে ৬০০ থেকে ৭০০ থেকে প্রায় এক হাজার লিটার জ্বালানি তেলের প্রয়োজন হয়। জ্বালানি তেলের সংকটে বর্তমানে গভীর সমুদ্রগামী প্রায় ২৫০ ট্রলার মহীপুর-আলীপুর মৎস্য বন্দরসংলগ্ন খাপাড়াভাঙ্গা নদীতে নোঙর করে আছে। অনেক ট্রলারমালিক জেলেদের বরফ, বাজার সওদা, খাবারসামগ্রী কিনে দিলেও সাত-আট দিনেও জ্বালানিসংকটে সাগরে যেতে পারছেন না। উল্টো ঘাটে বসে বসে সব রসদ শেষ হয়ে গেছে। অধিকাংশ জেলে, বোটমালিকদের একই দশা। কবে নাগাদ তারা পর্যাপ্ত জ্বালানি পাবেন, তাও কেউ নিশ্চিত করতে পারেননি। 

মহীপুর মৎস্য আড়ত মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি রাজু আহমেদ রাজা জানান, এখানে দৈনিক ৫৫ থেকে ৬০ হাজার লিটার ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু এর এক-দশমাংশ সরবরাহ নেই। ফলে জেলে পেশায় ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. ইয়াসীন সাদেক জানান, যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি জেলেদের সাগরে যাওয়ার জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ২৭ হাজার লিটার জ্বালানি তেল (ডিজেল) সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

টিআইবি প্রকৃত ঘটনা জাজ করে স্টেটমেন্ট দেয় না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম
টিআইবি প্রকৃত ঘটনা জাজ করে স্টেটমেন্ট দেয় না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত সরকারের প্রথম ১০০ দিনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিবিষয়ক প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্তব্য করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, টিআইবির প্রতিবেদন মূলত সংবাদপত্রের কাটিংয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়, কোনো তদন্তের মাধ্যমে নয়। টিআইবি প্রকৃত ঘটনা যাচাই-বাছাই করে বক্তব্য দেয় না।

সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে গত রবিবার প্রকাশিত টিআইবির এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান সরকারের প্রথম ১০০ দিনে দেশে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২০৯ জন নারী ও শিশু।

প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমার সামনে টিআইবির রিপোর্টটি নেই। আমরা মাসভিত্তিক অপরাধের পরিসংখ্যান সংরক্ষণ করি। ডাকাতি, হত্যা, খুন, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধের তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করা হয়। সম্প্রতি আমি আরেকটি প্রতিবেদন দেখেছি, যেখানে ২০২৫ সালের তুলনায় বর্তমান সময়ে অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে দেখা গেছে।’

টিআইবির মূল্যায়নকে সরকার কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে–এমন প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘টিআইবি কোনো সরকারি সংস্থা নয়। তারা মূলত পত্রিকার কাটিংয়ের ভিত্তিতে রিপোর্ট তৈরি করে, কোনো তদন্ত করে না। টিআইবি প্রকৃত ঘটনা যাচাই-বাছাই করে বক্তব্য দেয় না। আমাদের কাছে পুলিশের সংগ্রহ করা তথ্য রয়েছে, যা জেলা পর্যায় থেকে সংগ্রহ করা হয়। এগুলোই প্রকৃত তথ্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংবাদপত্রে অনেক খবর প্রকাশিত হয়। তবে প্রতিটি সংবাদ শতভাগ সঠিক, এমন বলা যাবে না। আমরা প্রকাশিত সংবাদগুলো পর্যালোচনা করি ও প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বিভাগে তদন্তের জন্য পাঠাই। টিআইবির রিপোর্টও পত্রিকার কাটিংয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তাই এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

পুলিশের তদন্ত ব্যয় প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে একজন তদন্ত কর্মকর্তা একটি মামলায় মাত্র ৬ হাজার টাকা পান, যা পর্যাপ্ত নয়। তিনি বলেন, ‘পুলিশের এ ধরনের আর্থিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ভবিষ্যতে তদন্ত কার্যক্রম, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট ও পুলিশি টহলের জন্য বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়ে আমরা চেষ্টা করব।’

পলাতক পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তদন্ত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে ও অনেক ক্ষেত্রে বিচারিক প্রক্রিয়াও চলমান।

পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশ বাহিনীর মূল্যায়ন জনগণ ও গণমাধ্যমই করবে। আমরা পুলিশকে একটি জনবান্ধব বাহিনীতে রূপান্তরের চেষ্টা করছি। ভালো কাজের স্বীকৃতি ও অনিয়মের জন্য শাস্তি–এই নীতিতেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে: মাহদী আমিন

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম
ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে: মাহদী আমিন
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।ছবি: সংগৃহীত

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী, দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী করতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও উদ্যোক্তা দক্ষতা বিকাশে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, ‘বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে পুনর্গঠন করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা শুধু সনদ নির্ভর না হয়ে বাস্তব জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারে।’

এ সময় শিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন অধিদপ্তরের প্রধান এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য উপস্থিত ছিলেন।

মাহদী আমিন বলেন, ‘বর্তমান সরকার এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, মেধা, মননশীলতা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার বিকাশ ঘটবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষার ফলাফল বা সনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে খেলাধুলা, সংস্কৃতি, নেতৃত্ব, প্রযুক্তি ও কর্মদক্ষতায়ও সমানভাবে এগিয়ে যাক।’ 

শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের অংশ হিসেবে নতুন পাঠ্যক্রমে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্রীড়া শিক্ষা, সংস্কৃতি শিক্ষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে একটি নতুন বিষয়। এই বিষয়গুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ, নাগরিক দায়িত্ববোধ, সামাজিক আচরণ ও বাস্তব জীবনের দক্ষতা গড়ে তোলা হবে।

মাহদী আমিন বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্রীড়া বিষয়টি নতুন সাবজেক্ট হিসেবে চালু করা হবে। সংস্কৃতি বিষয়টিও পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা সকল শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক করা হবে। পাশাপাশি ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে একটি বিষয় থাকবে, যেখানে নৈতিকতা, মূল্যবোধ, দায়িত্বশীলতা এবং একজন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার বিষয়গুলো শেখানো হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিদ্যমান শিক্ষাকাঠামোর মধ্যেই একটি বিস্তৃত অধ্যায়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করা হবে।’

শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, দীর্ঘ ১৬ বছরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় অনেক সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এসব সমস্যা একদিনে কিংবা এক বছরে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সরকার ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে কাজ করছে।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষা ব্যবস্থার যেসব জায়গায় সংযোজন, বিয়োজন ও পরিমার্জন প্রয়োজন, আমরা তা বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবীদের মতামতের ভিত্তিতে করব। আমাদের লক্ষ্য হলো এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে নৈতিক শিক্ষা, পারিবারিক মূল্যবোধ, দক্ষতা ও শিল্পখাতের সঙ্গে সংযোগ থাকবে।’

নতুন কারিকুলাম প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, ‘সম্পূর্ণ নতুন পাঠ্যক্রম চালু করা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন বই প্রণয়ন ও ছাপানোর জন্য সরকারের হাতে মাত্র তিন থেকে চার মাস সময় ছিল। ফলে সব পরিবর্তন একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। তবে চলমান সংস্কার কার্যক্রম আগামী বছর আরও বিস্তৃত হবে।’

তনি আরও বলেন, ‘আমরা বাস্তবতাকে মাথায় রেখে কাজ করছি। তিন-চার মাসে শতভাগ পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে আগামী বছর আরও ব্যাপক পরিবর্তন আনা হবে এবং ধীরে ধীরে একটি আধুনিক, দক্ষতাভিত্তিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা খাতে প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি জানান, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য বিপুলসংখ্যক ট্যাব সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমাদের প্রায় ১৪ লাখ ট্যাব প্রয়োজন হবে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি বড় প্রকল্প। আগামী অর্থবছরের বাজেটে এ বিষয়ে পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’

মাহদী আমিন দেশের শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিকাশে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে এ বছর ২২ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। বালক ও বালিকা মিলিয়ে এই অংশগ্রহণ দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে একটি বড় অর্জন।

তিনি বলেন, ‘ফুটবল টুর্নামেন্টের মাধ্যমে আমরা শিশুদের মধ্যে শৃঙ্খলা, দলগত কাজ, নেতৃত্ব এবং আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে চাই। ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত প্রতিযোগিতা চলছে। আগামী ২০ জুন জাতীয় পর্যায়ের ফাইনাল আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।’

শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা বিকাশে ‘স্টার্ট-আপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ নামে একটি জাতীয় কর্মসূচি চালুর কথাও জানান তিনি। এ কর্মসূচির মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা স্থানীয় ও জাতীয় সমস্যার সমাধানে উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপনের সুযোগ পাবে।

তিনি আরও বলেন, ‘যেসব শিক্ষার্থী ভালো উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে আসবে, তাদের জন্য সিড ফান্ডিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। আমরা চাই তরুণরা উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠুক এবং দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখুক।’

কারিগরি শিক্ষার প্রসার নিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশে কারিগরি শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হবে। এ লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে স্কিলস কম্পিটিশন, ক্যারিয়ার ফেয়ার এবং সরাসরি চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।’

তার ভাষায়, ‘আমরা চাই কারিগরি শিক্ষা একটি সম্মানজনক শিক্ষাধারা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই যেন শিক্ষার্থীরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়, সেই ব্যবস্থা তৈরি করা হবে।’

এছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণে ‘ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে একটি করে গাছের চারা তুলে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত করা হবে।

রিফাত/

ইন্টার্ন ও ট্রেইনি চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম
ইন্টার্ন ও ট্রেইনি চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার
ফাইল ছবি

ছয় দফা দাবিতে আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসক, প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো কতটা যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য, তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। 

সোমবার (৮ জুন) সকালে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। পরে বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে আলোচনায় বসেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। 

এ আলোচনা শেষে জানানো হয়, আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবি-দাওয়া পূরণে সচেষ্ট হবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ আশ্বাসের পর চলমান কর্মবিরতি ও ক্লাস বর্জন কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

এর আগে সোমবার সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘এটি একটি গণতান্ত্রিক দেশ। আন্দোলন করার অধিকার সবার রয়েছে। তাদের দাবিগুলো কতটা যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য, তা আমরা পর্যালোচনা করব।’

এরপর সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সভাকক্ষে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ইন্টার্ন ও পোস্টগ্রাজুয়েট চিকিৎসকদের ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বসেন।

বৈঠকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা বর্তমান ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে নবম গ্রেডের বেসিক অর্থাৎ ২২ হাজার টাকা নির্ধারণের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। একইসঙ্গে এফসিপিএস ডাক্তারদের কোনো ইনক্রিমেন্ট ছাড়াই নবম গ্রেডের সব সুযোগ-সুবিধা প্রদানের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, এই সিদ্ধান্ত এখনই কার্যকর না হলেও আগামী বাজেটে এটি বিবেচনা করা হবে মর্মে সচিব ও মহাপরিচালক আশ্বাস দিয়েছেন।

ছয় দফা দাবির বিপরীতে উভয় পক্ষ যৌথ বিবৃতিও দিয়েছে গতকাল। এই সিদ্ধান্তগুলো হলো-

১. এফসিপিএস পার্ট-১ এবং এমডি/এমএস (ফেজ-১) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থী প্রতি মাসে নিয়মিত ভাতা পাবেন।

২. সরকারের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইন্টার্ন ও পোস্টগ্রাজুয়েট ডাক্তারদের বর্তমান ভাতা আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি করা হবে।

৩. সংশ্লিষ্ট সব পদ্ধতি অনুসরণ করে এবং স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে পরামর্শ করে স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়নের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

৪. বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠানো হবে।

৫. বিসিপিএস এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ করা হবে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে সহযোগিতা করবে।

৬. বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও মেডিকেল কলেজে এন্ট্রি লেভেলে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সম্মানজনক বেতন কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

১২ সদস্যের ইন্টার্ন চিকিৎসক প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির (আইডিএস) সভাপতি ডা. মোস্তফা আমির ফয়সল ও সাধারণ সম্পাদক ডা. নাবিল বিন কাশেম, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (এসএসএমসি) হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) সদস্য সচিব ডা. আল মায়ান শেখ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ (এসএইচএসএমসি) হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস কমিটির (আইডিসি) সমন্বয়ক ডা. মো. ফজলে এলাহী তরুণ ও ডা. সাব্বির হোসাইনসহ অন্যরা।

এর আগে ছয় দফা দাবিতে গত শনিবার প্রতিটি ক্যাম্পাসে মানববন্ধন এবং রবিবার থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছিলেন। সোমবার থেকে পোস্টগ্রাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকরাও এই কর্মবিরতিতে যোগ দিলে স্বাস্থ্যখাতে অচলাবস্থার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

জয়ন্ত সাহা/রিফাত/

বছরে ৮ বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ রুমিন ফারহানার

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম
বছরে ৮ বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ রুমিন ফারহানার
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।ছবি: সংগৃহীত

আমদানি-রপ্তানির আড়ালে বছরে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

সোমবার (৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ অভিযোগ করেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘দীর্ঘ এক ঘণ্টা হাত উঁচিয়ে ছিলাম, এরপর সংসদে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। এজন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আমার প্রশ্ন হলো, টাকা পাচারের বিরুদ্ধে বাণিজ্যমন্ত্রী কোনো পদক্ষেপ নেবেন কি না।’ 

জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘আমদানি-রপ্তানির আড়ালে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তবে অর্থ পাচারের বিষয়টি প্রমাণ করা সহজ নয়।’ 

তিনি বলেন, ‘১৩০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হচ্ছে। কিন্তু নির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন, কোন পণ্যের মাধ্যমে কত অর্থ পাচার হচ্ছে। এটি গবেষণা ও যাচাইয়ের বিষয়।’ 

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘রপ্তানির আড়ালে অর্থ পাচারের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে সরকার।’ 

রিফাত/

২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৬:১০ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৬:১৩ পিএম
২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু
মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল। ছবি: মাসুদ মিলন

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম এবং উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১৮৫ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে।
 
সোমবার (৮ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা  এক হাজার ৯২ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৮০ হাজার ১০৪ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৯৩ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা নয় হাজার ৭৭৯ জন।

গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৫ হাজার ২৩৭ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬১ হাজার ২৭৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে সাত জনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৫৩৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

রিফাত/