কয়েক দিন আগেও ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের জন্য যানবাহনের কিলোমিটার দীর্ঘ সারি ছিল। দিন-রাত অপেক্ষা করেও মিলত না তেল। এখন ওই চিত্র বদলেছে। ঢাকার পাম্পগুলোতে সরবরাহ বাড়ায় দীর্ঘ লাইনের চাপ কমতে শুরু করেছে। তবে জ্বালানির দাম ও পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে চালকদের ক্ষোভ কাটেনি।
বর্তমানে রাজধানীর অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে ২০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে তেল পাওয়া যাচ্ছে। আগে হাজারের বেশি যানবাহনের সারি দেখা গেলেও এখন তা শতাধিকে নেমেছে। গতকাল শুক্রবার নগরীর বিভিন্ন পাম্প ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। যেসব পাম্পে ‘ফুয়েল পাস’ বাধ্যতামূলক, সেখানে মোটরসাইকেলচালকদের অপেক্ষার সময় বেশি। অনেক ক্ষেত্রে তাদের এক ঘণ্টারও বেশি দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।
তেলের তীব্র সংকটের সময় রাজধানীর যেসব ফিলিং স্টেশন বন্ধ ছিল, দাম বাড়ার পর সেগুলো পুনরায় তেল বিক্রি শুরু করেছে। এতে পাম্পগুলোতে গ্রাহকের চাপ কমেছে। নীলক্ষেত মোড়ের পথের বন্ধু ফিলিং স্টেশন সংকটের সময় বন্ধ থাকলেও এখন সচল হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে অনেক চালক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, সংকটের সময় তেল থাকা সত্ত্বেও পাম্পগুলো বন্ধ রাখা হয়েছিল। দাম বাড়ার পর সেগুলো চালু করা সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা। এক চালক বলেন, ‘সংকটের সময় তেল ছিল, কিন্তু দেয়নি। এখন দাম বাড়ার পর বিক্রি করছে। এসব সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
রাজধানীর পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারি কমেছে। তেজগাঁও ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে আগে গাড়ির লাইন মহাখালী রেলগেট ছাড়িয়ে যেত। এখন তা জাহাঙ্গীরগেটের কাছে সীমাবদ্ধ। রাজারবাগ ফিলিং স্টেশনেও একই চিত্র। আগে লাইন শান্তিনগর পৌঁছালেও এখন তা পাম্পের আশপাশেই থাকছে। গত গত বৃহস্পতিবার সেখানে ২২৩টি মোটরসাইকেল ও ১৬৬টি প্রাইভেট কার লাইনে ছিল, গতকাল তা কমে ১০২টি মোটরসাইকেল ও ৯২টি প্রাইভেট কারে দাঁড়িয়েছে।
মোটরসাইকেলচালক রিপন মিয়া বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি। আগে চার-পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো, এখন দুই ঘণ্টার মধ্যে তেল পাচ্ছি। তবে অল্প তেল দেওয়ায় দ্রুত পাম্পে ফিরতে হচ্ছে।’
আরামবাগের এইচকে ফিলিং স্টেশনেও লাইনের চাপ কমেছে। আগে মোটরসাইকেলের লাইন ফকিরাপুল মোড় ছাড়িয়ে যেত, এখন তা অর্ধেকে নেমেছে। চালক হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘লাইন কমেছে ঠিকই, কিন্তু এখনো কিছু অনিয়ম আছে। লাইনের বাইরে থেকেও কিছু গাড়ি তেল নিয়ে যাচ্ছে।’
মতিঝিলের করিম অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। রাইড শেয়ারচালক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আগের তুলনায় এখন অনেক কম সময় লাগছে। আগে কয়েকটি পাম্প ঘুরে তেল নিতে হতো, এখন সহজে পাওয়া যাচ্ছে। তবে দাম বাড়ায় আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে গেছে।’
কিছু পাম্পে এখনো ফুয়েল পাস ব্যবস্থা চালু রয়েছে। তেজগাঁও সিটি ফিলিং স্টেশনে ফুয়েল পাসধারীরা ১ হাজার টাকার এবং পাস ছাড়া ৫০০ টাকার তেল পাচ্ছেন। পরীবাগের মেঘনা মডেল পাম্পে কেবল ফুয়েল পাসধারীরাই তেল পাচ্ছেন। আসাদগেটের সোনার বাংলা ও তালুকদার ফিলিং স্টেশনেও মোটরসাইকেলের জন্য ফুয়েল পাস বাধ্যতামূলক। সেখানে এক ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। চলতি মাসে ডিজেল ও পেট্রোলের সরবরাহ ১০ শতাংশ ও অকটেন ২০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে। লিটারে ১৫ টাকা বেড়ে ডিজেল ১১৫ টাকা হয়েছে। অকটেন ১৪০ টাকা ও পেট্রল ১৩৫ টাকা হয়েছে। এতে অকটেনে ২০ টাকা ও পেট্রলে ১৯ টাকা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়ানো হয়েছে।