ঢাকা ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
শরীয়তপুরে মব করে প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা এনসিটিবিসহ চার শিক্ষা বোর্ডে নতুন নেতৃত্ব স্বপ্নে গান শোনা আসলে কীসের ইঙ্গিত? ব্যস্ত সড়কে প্রকাশ্যে ছিনতাই, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জেট ফুয়েলের দাম লিটারে কমল ১৫ টাকা চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স চালক-এনসিপি কর্মীদের মারামারি গ্রীন চট্টগ্রাম গড়তে লাগানো হচ্ছে ১০ লাখ গাছ চসিকের সড়ক ও ফুটপাত থেকে দেড় শতাধিক ভাসমান দোকান উচ্ছেদ মনপুরায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান লেখা নিয়ে উত্তেজনা জ্বালানির মজুদ সম্প্রসারণ, আমদানির উৎস বহুমুখীকরণসহ ১২ দফা সুপারিশ সংসদীয় কমিটির ঢামেক ও চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, ৬ দফা দাবি ভোলায় মিতু হত্যাকাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক, ওসিকে তলব বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবাল কুমিল্লায়  ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল থেকে ৪৫ জন আটক; ৫ বাস-মাইক্রো জব্দ গোয়েন্দারা কেন প্রকাশ্যে আসছেন? শিশুদের নাটক ‘ডাকাত হালুম চিৎপটাং’ মেট্রো স্টেশনগুলোর নিচে দুরবস্থা জন্মদিনে এল লাকী আখান্দের অপ্রকাশিত গান নূরজাহান ট্র্যাজেডির সমাজতাত্ত্বিক পাঠ কিয়ামতের ময়দানে রাসুল (সা.)-এর পাশে থাকার উপায় সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবি যশোর জেলার দর্শনীয় ও ভ্রমণযোগ্য স্থান সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিসিবির পরিচালক তামিম ইকবাল রামুতে ছেলের গুলিতে বাবার মৃত্যু পঞ্চগড়ে পুকুরে ডুবে দুই মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিশ্বের এই বৃহত্তম যৌথ পরিবারে দৈনিক লাগে ৯০ কেজি চাল প্রতিশ্রুতি প্রদানে মন্ত্রী-এমপিদের দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দিলেন স্পিকার ঝিনাইদহে তেলবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ৯ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক গানে আর ফিরবেন না রিংকু
Nagad desktop

অপরাধী শনাক্তে সিলেট নগরীতে ফেস রিকগনিশন ক্যামেরা বসানো হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম
অপরাধী শনাক্তে সিলেট নগরীতে ফেস রিকগনিশন ক্যামেরা বসানো হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
সিলেট সিটি করপোরেশনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ছবি: খবরের কাগজ

অপরাধী শনাক্তে সিলেট নগরীতে ফেস রিকগনিশন ক্যামেরা (মুখ শনাক্তকরণ ক্যামেরা) বসানো হবে বলে জানিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী এবং সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে- এ বিষয়ে দ্বিমত করার কিছু নেই। যে ঘটনা আপনার-আমার চোখের সামনে ঘটছে তা তো মানতেই হবে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বেশ কিছু অপরাধের বিষয়ে পুলিশ, র‍্যাব ও অন্যান্য বাহিনীর সমন্বয়ে দ্রুতই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী শনাক্তে সিলেট নগরীতে ফেস রিগকনিশন ক্যামেরা (মুখ শনাক্তকরণ ক্যামেরা) বসানো হবে।’

রবিবার (২৪ মে) বিকেলে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখার পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের প্রধানমন্ত্রীর ঈদ অনুদান বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী। 

গত শুক্রবার মাদকসেবীর হাতে র‌্যাব সদস্য নিহতসহ নগরীতে ছিনতাই ও অপরাধমূলক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এসব কথা বলেন তিনি। 

অপরাধের বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘অপরাধীদের ধরতে সরকারের কমিটমেন্টের অভাব নেই। কিন্তু শাস্তি নিশ্চিতে বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। এটি সময়সাপেক্ষ। তবে সাম্প্রতিক ধর্ষণসহ ঘটে যাওয়া ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারিক প্রক্রিয়া মেনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে। এসব ঘটনায় অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’

কোরবানির চামড়া সংগ্রহ না করা নিয়ে সিলেটের কওমি মাদ্রাসাগুলোর ঘোষণার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কোরবানি পশুর চামড়ার সংরক্ষণে যাতে কোনো সমস্যা না হয় সেজন্য মাদ্রাসাসহ স্থানীয় প্রশাসন তথা সরকার সবাই তৎপর।’

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার আগে মন্ত্রী নগর ভবনে সিলেট সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখার ১১৫৮ জন কর্মীকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের প্রায় ৫৮ লাখ টাকা অনুদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। 

অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাই সিটি করপোরেশনের প্রাণ। তাদের অবদানেই সিলেট শহর বাসযোগ্য থাকে। তাই সরকার তাদের সম্মান জানাতে প্রতি ঈদেই বিশেষ উপহার দিচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী সব সময় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কথা ভাবেন। গত ঈদেও উপহার পাঠিয়েছিলেন, এবারও পাঠিয়েছেন। সরকারের সামর্থ্য সীমিত, তারপরও আপনাদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।’

মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো ৪১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে ৮৩১ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর জন্য উপহার নিশ্চিত করা হয়। পরে আরও ৩৩১ জন যাতে উপহার থেকে বাদ না পড়েন, সে জন্য সিসিকের নিজস্ব তহবিল থেকে অতিরিক্ত ১৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা যোগ করা হয়েছে। 

অনুষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন সমস্যার বিষয়ও তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। 

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমি তাদের বাসস্থানের অবস্থা ঘুরে দেখেছি। একটি ছোট কক্ষে আট থেকে ১০ জন পর্যন্ত থাকেন, যা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নতুন আবাসন প্রকল্প নেওয়া হবে।’

ঈদুল আজহায় কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত পরিষ্কার করে সিলেটকে আবার পরিচ্ছন্ন নগরীতে পরিণত করা হবে।’

কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণের ওপরও জোর দেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘চামড়া দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ বছরে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। তাই কোরবানির পর চামড়া যেন নষ্ট না হয়, সে জন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।’

মাদ্রাসার শিক্ষক, মুহতামিম ও কোরবানিদাতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘পশু জবাইয়ের চার ঘণ্টার মধ্যে চামড়ায় লবণ লাগিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হলে সিলেট থেকে চামড়া সংগ্রহ নিশ্চিত করা হবে।’

সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকারসহ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সালমান/

এনসিটিবিসহ চার শিক্ষা বোর্ডে নতুন নেতৃত্ব

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম
এনসিটিবিসহ চার শিক্ষা বোর্ডে নতুন নেতৃত্ব
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ও ঢাকা, বরিশাল, যশোর ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে সরকার। 

রবিবার (৭ জুন) তাদের নিয়োগ দিয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের প্রজ্ঞাপনের তথ্যানুযায়ী, এনসিটিবির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে চট্টগ্রাম কমার্স কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান, যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে খুলনার হাজি মুহাম্মদ মহসিন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফারুখে আযম মু. আব্দুস ছালাম, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

রিফাত/

ব্যস্ত সড়কে প্রকাশ্যে ছিনতাই, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ পিএম
ব্যস্ত সড়কে প্রকাশ্যে ছিনতাই, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
আহত ব্যবসায়ীর লোকমান। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলে প্রকাশ্যে ছিনতাইয়ের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

প্রকাশ্যে গুলি করে এক মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১৭ হাজার মার্কিন ডলার ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা। গুলিবিদ্ধ ওই ব্যবসায়ীর নাম লোকমান।  

রবিবার (৭ জুন) বিকেল ৩টার দিকে মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকায় জনতা ব্যাংকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ী লোকমান হোসেন শাপলা চত্বর এলাকায় হেঁটে যাওয়ার সময় ৩ থেকে ৪টি মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তার গতিরোধ করে। একপর্যায়ে তার সঙ্গে থাকা টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে তারা।

এসময় দুর্বৃত্তরা গুলি চালালে লোকমানের হাতে ও পায়ে গুলি লাগে। পরে তার কাছে থাকা ব্যাগটি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে ছিনতাইকারীরা।

ঘটনার পর আশপাশের লোকজন গুলিবিদ্ধ লোকমানকে উদ্ধার করে রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। তদন্তের স্বার্থে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে।

মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) হারুন-অর-রশীদ জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে ছিনতাই হওয়া ব্যাগে ১৭ হাজার মার্কিন ডলার ছিল। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ।

এসএন/

জ্বালানির মজুদ সম্প্রসারণ, আমদানির উৎস বহুমুখীকরণসহ ১২ দফা সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:০০ পিএম
জ্বালানির মজুদ সম্প্রসারণ, আমদানির উৎস বহুমুখীকরণসহ ১২ দফা সুপারিশ সংসদীয় কমিটির
প্রতীকী ছবি

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার ও ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুদ সম্প্রসারণ, আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গ অটোমেশনের মাধ্যমে ডিজিটাল মনিটরিং চালুর সুপারিশ করেছে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটি। কমিটি মোট ১২ দফা সুপারিশ সংসদে উপস্থাপন করেছে।

রবিবার (৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং কমিটির সভাপতি ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুদ কমপক্ষে তিন মাসের চাহিদা মেটানোর সক্ষমতায় উন্নীত করতে হবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলায় আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়াতে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন এবং ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিটির অন্যান্য সুপারিশের মধ্যে রয়েছে অবৈধ মজুদ ও পাচার রোধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, এলএনজি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, ঢাকা-চট্টগ্রাম পাইপলাইন, এসপিএম প্রকল্প এবং ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের দ্বিতীয় ইউনিট দ্রুত বাস্তবায়ন, জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার এবং বেসরকারি খাতের মাধ্যমে জ্বালানি পণ্য আমদানির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় সমীক্ষা পরিচালনা।

এ ছাড়া ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন বাধ্যতামূলক করা এবং এর কার্যকারিতা তদারকির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিতরণে সিস্টেম লস কমানো, তেল, গ্যাস, কয়লা, সৌর ও বায়ু শক্তিসহ বিভিন্ন উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের সুপারিশও করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর সরবরাহ ব্যবস্থা, বহুমুখী জ্বালানি উৎস এবং সমন্বিত জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণকে সময়ের দাবি বলে মনে করছে কমিটি।

কমিটির অভিমত, সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপ, সংসদীয় তদারকি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনগণের সহযোগিতার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

জ্বালানি কমিটি/এলিস

ঢামেক ও চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, ৬ দফা দাবি

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম
ঢামেক ও চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি,  ৬ দফা দাবি
৬ দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিক্ষোভ। ছবি: খবরের কাগজ

এফসিপিএস প্রশিক্ষণ নীতিমালা সংক্রান্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ‘বৈষম্যমূলক’ প্রস্তাব বাতিলসহ ৬ দফা দাবিতে এবার অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে গেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

রবিবার (৭ জুন) সকাল থেকে দুই শীর্ষ সরকারি হাসপাতালের ইন্টার্নরা একযোগে এই কর্মবিরতি শুরু করেন। এতে দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত এই দুই হাসপাতালে সেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ সমন্বিত ইন্টার্ন চিকিৎসক ঐক্য পরিষদের ডাকে এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে স্থানীয় ইন্টার্ন ডক্টরস সংগঠনগুলো। 

ঢামেকে জরুরি বিজ্ঞপ্তির পর কর্মবিরতি

শনিবার রাতে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কর্মবিরতির ডাক দেয় ঢামেক হাসপাতাল ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটি। সংগঠনের সভাপতি ডা. মোস্তফা আমীর ফয়সাল ও সাধারণ সম্পাদক ডা. নাবিল বিন কাশেম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এফসিপিএস প্রশিক্ষণ নীতিমালার অযৌক্তিক প্রস্তাব, ভর্তি পরীক্ষার অতিরিক্ত ফি, ইন্টার্ন ও ট্রেইনি চিকিৎসকদের অপ্রতুল ভাতা, কর্মস্থলে নিরাপত্তাহীনতা এবং বেসরকারি চিকিৎসকদের বেতন কাঠামোর অনিশ্চয়তার প্রতিবাদে তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন। বারবার আশ্বাস সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়ায় দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে সংগঠনটি।

ঢামেক হাসপাতাল ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির সহ-সাধারণ সম্পাদক ডা. আশরাফ সিদ্দিকী খবরের কাগজকে বলেন, ‘আজ (রবিবার) সকাল থেকে আমাদের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। চিকিৎসক সমাজের ন্যায্য দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মবিরতি চলমান থাকবে। আমরা দ্রুত কার্যকর আলোচনার মাধ্যমে দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

আল্টিমেটাম শেষে চমেক হাসপাতালেও ধর্মঘট, ক্লাস বর্জন

একই দাবিতে রবিবার সকাল ৮টা থেকে চমেক হাসপাতালেও কর্মবিরতি শুরু করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এর আগে গত ৪ জুন মানববন্ধন ও বিক্ষোভ শেষে হাসপাতাল পরিচালকের মাধ্যমে সরকারকে শুক্রবার (৫ জুন) রাত পর্যন্ত আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের‌ নেতারা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ বা কার্যকর উদ্যোগ না আসায় শনিবার রাতে সারাদেশের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে রবিবার সকাল ১১টার পর থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। বেলা সাড়ে ১১টায় চমেক হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করেন আন্দোলনকারীরা।

চমেক ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাকিব হোসেন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলমান থাকবে। প্রয়োজন হলে সারাদেশে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

কী আছে ৬ দফা দাবিতে

আন্দোলনরত চিকিৎসকদের প্রধান দাবিগুলো হল-
# এফসিপিএস পার্ট-১ উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীদের পদায়নের বিতর্কিত ও বৈষম্যমূলক নীতিমালা সংক্রান্ত কমিটির প্রস্তাবনা (স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত) বাতিল করা।

# বিএমইউ এবং বিসিপিএস-এর ভর্তি পরীক্ষার ফি কমিয়ে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে আনা।

# নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী ইন্টার্নদের ভাতা ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা এবং ট্রেইনিদের ৯ম গ্রেডে নির্ধারণ করা।

# কর্মস্থলে চিকিৎসকদের সুরক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন’ বা ‘স্বাস্থ্যকর্মী নিরাপত্তা আইন’ প্রণয়ন করা।

# বিসিএস স্বাস্থ্য চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর করা।

# বেসরকারি চিকিৎসকদের জন্য শ্রম আইন ২০০৬ মেনে সুস্পষ্ট বেতন কাঠামো নির্ধারণ এবং বিএমডিসি আইনের সংস্কার।
সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত না এলে এই কর্মবিরতি দেশের অন্যান্য সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছেন আন্দোলনরত চিকিৎসক নেতারা।

জয়ন্ত সাহা/এসএন

সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবি

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম
সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবি
ছবি: সংগৃহীত

সরকারের প্রথম ১০০ দিনে দেশে হত্যা-অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ উদ্বেগজনক হারে ঘটেছে বলে দাবি করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এ সময়ে দেশে ৬০৫টি খুন এবং ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

রবিবার (৭ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে দেওয়া পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মার্চ ও এপ্রিল মাসে মোট ৬০৫টি খুন, ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি এবং ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে ১২৯টি এবং চুরির ঘটনা ঘটেছে ২ হাজার ২১৪টি। এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ছিল ৩ হাজার ৪৯৬টি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আলোচিত সময়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৭৮ থেকে ১০২ জন, গণধর্ষণের শিকার ৩০ থেকে ৩৬ জন এবং ধর্ষণের শিকার শিশু ৪৯ থেকে ৭১ জন।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বর্তমান সরকারের ১০০ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটা নাজুক ছিল। খুন, ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, লুটপাট ও অরাজকতার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসএন/