ঢাকা ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, রোববার, ২৬ মে ২০২৪

যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান বদলায়নি : মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৪, ০৯:২৭ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান বদলায়নি : মির্জা ফখরুল
ছবি : খবরের কাগজ

কূটনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র বর্তমান সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘দেশের নির্বাচন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের আগের অবস্থানেই আছে। সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান অব্যাহত রেখেছে। তারা নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষেই কথা বলছেন। তারা তাদের যেগুলো প্রয়োজনীয়-উপকারী বিষয়গুলো নিয়েই কাজ করে যাচ্ছেন। তবে তারা এ দেশের জনগণের বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো কাজ করছেন না।’ 

বুধবার (১৫ মে) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক গণফোরাম (একাংশ) ও বাংলাদেশ পিপলস পাটির সঙ্গে বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, ‘সরকার একটা ভয়ের আবহ সৃষ্টি করেছে। তারা নতুন নতুন নির্বাচন কৌশল বের করে। ডামি ইলেকশন, নিশিরাতের ভোট করে। দেশের জনগণ নির্বাচন বর্জন করেছে। তারা সেখানে ভোট দিতে যায়নি। মানুষ চায় নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হোক।’ 

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সরকার সব ধরনের অপকৌশল অবলম্বন করেছে। সমস্ত রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে গোটা দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনতেই কাজ করছে বিএনপি ও যুগপতের শরিকরা।’ 

যুগপৎ আন্দোলনের নতুন কর্মকৌশল চূড়ান্ত করতে প্রথম দফার বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব ছাড়াও অংশ নেন ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু। অপরদিকে গণফোরামের পক্ষে অংশ নেন সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী, নির্বাহী সভাপতি জগলুল হায়দার আফ্রিক, মহিউদ্দিন আবদুল কাদের, ফজলুল হক সরকার, তথ্য ও গণমাধ্যম সম্পাদক মুহাম্মদ উল্লাহ মধু, পিপলস পার্টি চেয়ারম্যান বাবুল সরদার চাখারি, কো-চেয়ারম্যান পারভীন নাসের খান ভাসানী, এ আর জাফর উল্লাহ চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হারুনুর রশিদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য আলমগীর হোসেন, খাদিজা আক্তার।

এরপর দ্বিতীয় দফায় গণতন্ত্র মঞ্চে থাকা আরও ছয়টি দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন লিয়াজোঁ কমিটির সদস্যরা। গণতন্ত্র মঞ্চের পক্ষে অংশ নেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম, জেএসডি সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ্ কায়সার প্রমুখ। 

শফিকুল/সালমান/

সরকারের চাপে স্বাধীন সাংবাদিকতা আর নেই : রিজভী

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৫:১৫ পিএম
সরকারের চাপে স্বাধীন সাংবাদিকতা আর নেই : রিজভী
ডিআরইউয়ের অনুষ্ঠানে কথা বলছেন রুহুল কবির রিজভী। ছবি : খবরের কাগজ

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বা সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না বলে মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকারের চাপে এখন আর দেশে স্বাধীন সাংবাদিকতা নাই। দেশে যখন মানুষের ভোটাধিকার থাকে না, মানুষের কথা বলার অধিকার থাকে না এমন সময়ে সাংবাদিকদের ভয়ের মধ্যে কাজ করতে হয়। আর বর্তমানে দেশে সেই অবস্থা বিরাজমান। 

রবিবার (২৬ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) তিন দশক পূর্তি অনুষ্ঠানে বিএনপির পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সাংবাদিকদের জন্য সুখকর বিষয় নয়। সাংবাদিকদের জন্য এই আইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এমন একটি আইন, যে আইন থেকে সহজেই রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না।’ 

তিনি বলেন, ‘যারা মুক্ত চিন্তার মানুষ, তারা তাদের মতামত ব্যক্ত করতে গিয়ে কারাবন্দি হয়েছেন। এমন একটি আইন দেশে বিদ্যমান। এমন পরিস্থিতিতে সংবাদপত্রের পথচলা দুঃসাধ্যের বিষয়।’

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির তিন দশক পূর্তি উপলক্ষে দুপুর ১২টার দিকে সেগুনবাগিচায় সংগঠনের প্রধান কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে আবার একই স্থানে এসে শেষ হয়। 

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সৈয়দ শুক্কুর আলী শুভ, সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন, বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ডিইউজের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, ডিআরইউর সাবেক সভাপতি ইলিয়াস হোসেন, রফিকুল ইসলাম আজাদ, ডিইউজের সহসভাপতি রাশেদুল হক, রফিক মোহাম্মদ, ডিআরইউ বহুমুখী সমিতির সভাপতি আবুল হোসেনসহ সংগঠনের সাবেক নেতা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শফিকুল ইসলাম/সালমান/

ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবিলায় নেতা-কর্মীদের ৬ নির্দেশনা ছাত্রদলের

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৪:০১ পিএম
ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবিলায় নেতা-কর্মীদের ৬ নির্দেশনা ছাত্রদলের
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল

ঘূর্ণিঝড় রেমালের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি রোধে ও জানমালের নিরাপত্তায় নেতা-কর্মীদের ৬টি নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

রবিবার (২৬ মে) দলটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ নির্দেশনা দেন।

নির্দেশনাগুলো হলো- উপকূলীয় এলাকার সাধারণ মানুষকে রেমালের ধ্বংসাত্মক প্রবণতা সম্পর্কে জরুরিভাবে সতর্ক করার প্রয়োজনে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনার কাজে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে হবে, গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করতে হবে এবং বাঁধ সংস্কারের কাজে সহযোগিতা করতে হবে। শুকনো কিংবা রান্না করা খাবার, খাবার স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রস্তুত রাখতে হবে। ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী উদ্ধারকাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে প্রতিটি ইউনিটে অন্তত এক‌টি রেসকিউ টিম প্রস্তুত রাখতে হবে। ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে হবে। নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।

ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের যেকোনো দুর্যোগ-দুর্বিপাকে কিংবা সংকটে এক‌টি দায়িত্বশীল সংগঠন হিসেবে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সবসময়ই সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। রেমালের বিধ্বংসী প্রবণতা থেকে উপকূলের মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের প্রতি এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

ক্রমান্বয়ে আরও শক্তি সঞ্চয় করে উপকূলের দিক ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় রেমাল। মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া উপকূলীয় জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী এবং তাদের কাছের দ্বীপ ও চরগুলো ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৯ নম্বর বিপৎসংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শফিকুল ইসলাম/সালমান/

হাসপাতালে ভর্তি বিএনপি নেতা দুলু

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০২:২৮ পিএম
হাসপাতালে ভর্তি বিএনপি নেতা দুলু
অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু

হার্ট অ্যাটাক হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। 

শনিবার (২৫ মে) রাতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। 

দুলুর ব্যক্তিগত সহকারী শামসুল আলম রনি জানান, শনিবার রাতে বাসায় হার্ট অ্যাটাক করলে তাৎক্ষণিক তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
 
দুলুর রোগমুক্তির জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তার পরিবার।

শফিকুল ইসলাম/অমিয়/

ফেনীর ৩ উপজেলায় প্রচার আছে আমেজ নেই

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৯:৫১ এএম
ফেনীর ৩ উপজেলায় প্রচার আছে আমেজ নেই

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে ফেনীর তিনটি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাই প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ভোট চেয়ে প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা নিজেকে বিজয়ী করতে ভোটারদের দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতি। শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় নির্বাচনি মাঠে ভোটের আমেজ নেই। তবে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে নির্বাচন অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ফেনী সদর, দাগনভূঞা ও সোনাগাজী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আগামী ২৯ মে অনুষ্ঠিত হবে। তিন উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আটজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছয়জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে শক্তিশালী কেউ না থাকায় নির্বাচনে মাঠে শুধু দোয়াত-কলমের প্রার্থীরা ফুরফুরে মেজাজে আছেন। তারা বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ইউনিটের বর্ধিত সভা, মহিলা সমাবেশ ও পথসভা করে নির্বাচনকে সরগরম রাখার চেষ্টা করছেন। এ জন্য অনেকে বলছে নামমাত্র ভোট। মাঠপর্যায়ে নেতা-কর্মীদের মাঝে ভোটের আমেজ নেই।

তবু শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণায় প্রার্থীরা হাটবাজার থেকে শুরু করে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। প্রার্থীদের ব্যানার-ফেস্টুন ছেয়ে গেছে শহর ও গ্রাম। চলছে মাইকিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা। তবে নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের তেমন আগ্রহ নেই। সরকারদলীয় প্রার্থী ছাড়া অন্য প্রার্থীদের কোথাও গণসংযোগ বা নির্বাচনি প্রচার করতে দেখা যায়নি। শুধু শহরকেন্দ্রিক সামান্য কিছু পোস্টার ছাড়া আর কিছু নেই তাদের।

ফেনী সদর উপজেলার ভোটার আবুল কাশেম বলেন, ‘ভোট হলেও কি, না হলেও কি। এখানে সবাই জানে কে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন। নির্বাচন তো নামমাত্র। ভোট করে এত টাকা-পয়সা খরচ না করলেও হয়।’

দাগনভূঞা পৌরসভার ভোটার নুরুল আলম বলেন, ‘পুরো উপজেলায় বর্তমান চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতনের আধিপত্য। এখানে নির্বাচন করে অন্য কোনো প্রার্থী জয়ী হবে এটি কল্পনা ছাড়া আর কিছু না। তার সঙ্গে যে প্রার্থী রয়েছে তিনি ডামি প্রার্থী। এটি লোক দেখানো নির্বাচন ছাড়া আর কিছু না।’

ফেনী সদর উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দোয়াত-কলম প্রতীকের প্রার্থী শুসেন চন্দ্র শীল বলেন, ‘আমরা ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনার জন্য গণসংযোগ, পথসভা ও মহিলা সমাবেশ করছি। আমি মনে করি ভোট একটি গণতন্ত্রের উৎসব। এই উৎসব আমরা সবাইকে নিয়ে করতে চাই। আমি গণসংযোগ ও পথসভায় ভোটারদের ব্যাপক সাড়া দেখছি। আমার বিশ্বাস আগামী ২৯ মে ফেনী সদর উপজেলায় একটি ভোটবিপ্লব ঘটবে। সেই ভোটবিপ্লবে আমার প্রতীক দোয়াত কলমে সর্বোচ্চ ভোট পড়বে।

ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সোনাগাজী উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান দোয়াত-কলম প্রতীকের প্রার্থী জহির উদ্দিন মাহমুদ লিটন জানান, বিগত পাঁচ বছর এই উপজেলার মানুষের সুখে দুঃখে বিপদে-আপদে সব সময় মানুষের পাশে থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছি। উপজেলা পরিষদের বরাদ্দের বাইরেও এই উপজেলায় সরকারের অনেক বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। আমার প্রতি মানুষের আস্থা, বিশ্বাস তৈরি হয়েছে। সেই আস্থা এবং বিশ্বাস থেকে মানুষ আগামী ২৯ মে নির্বাচনে আমার প্রতীক দোয়াত-কলমে সর্বোচ্চ ভোট দেবে।

জেলা যুবলীগের সভাপতি ও বর্তমান দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দোয়াত-কলম প্রতীকে প্রার্থী দিদারুল কবির রতন জানান, বিগত ১৫ বছর এই উপজেলার মানুষের সেবা করছি। এই উপজেলার অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন যেমন রাস্তাঘাট ব্রিজ-কালভার্ট করছি। উপজেলার প্রতিটি মানুষের বাড়ির দরজায় আমার শ্রম-ঘাম রয়েছে। এ জন্য উপজেলার মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে আগামীতেও পাশে থাকার সুযোগ দেবে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান নির্বাচনের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও কোনো ধরনের সমস্যা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থী অন্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে আমাদের কাছে অভিযোগ করেনি। এতে বোঝা যাচ্ছে নির্বাচনি মাঠ ভালো রয়েছে।

জানা গেছে, ফেনী সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দোয়াত-কলম প্রতীকে বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল, মোটরসাইকেল প্রতীকে মনজুর আলম, ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুজন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

অন্যদিকে দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দোয়াত-কলম প্রতীকে বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগ সভাপতি দিদারুল কবির রতন, চিংড়ি মাছ প্রতীকে বিজন ভৌমিক, ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এ ছাড়া সোনাগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দোয়াত-কলম প্রতীকে বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপ্টন, ঘোড়া প্রতীকে পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নূর আলম মিস্টার, লাঙ্গল প্রতীকে উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মজিবুল হক, আনারস প্রতীকে মজলিশপুর ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ছাড়া দাগনভূঞা ও সোনাগাজীতে দুজন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে।

সেতুমন্ত্রীর ছোট ভাইয়ের দাবি : এই পরিবারে জন্ম হওয়াটাই ভুল

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৯:২৪ এএম
সেতুমন্ত্রীর ছোট ভাইয়ের দাবি : এই পরিবারে জন্ম হওয়াটাই ভুল
শাহাদাত হোসেন

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই শাহাদাত হোসেন ভাইদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ‘এই পরিবারে জন্ম হওয়াটাই আমার ভুল হয়েছে। আমি যদি এটা জানতাম, তাহলে আমার মাকে বলতাম, আমাকে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলো।’

গত শুক্রবার রাতে কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাটে নির্বাচনি প্রচারের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি তৃতীয় ধাপে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে টেলিফোন প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ওবায়দুল কাদেরের আরেক ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বসুরহাট পৌরসভার মেয়র। তিনি এ নির্বাচনে গোলাম শরীফ চৌধুরী পিপুলকে আনারস প্রতীকে প্রার্থী দিয়ে আপন ভাইয়ের বিরুদ্ধে নেমেছেন।

শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমার প্রার্থিতা বাতিল করতে গোলাম শরীফকে দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টে আপিল করিয়েছেন আমার ভাই আবদুল কাদের মির্জা। আদালত তাদের নাকচ করে দিয়ে আমার প্রার্থিতা ফিরিয়ে দিয়েছেন। এরপর তারা এখন নতুন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।’

শাহাদাত অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে পুলিশ। আমি হাইকোর্ট থেকে আটজনের জামিন এনেছি। এখন অজ্ঞাত আসামি বলে আমার লোকদের হয়রানি করা হচ্ছে। প্রতিরাতে পিপুলের হেলমেট বাহিনী আমার নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে। আমার টেলিফোন প্রতীকের কোনো কর্মী বা এজেন্ট বাড়িতে ঘুমাতে পারছে না। মেয়রের নির্দেশে এসবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কাউন্সিলর রাসেল।’