ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪

নজরুলের লেখনী নির্যাতিত মানুষকে প্রেরণা জোগাবে: মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ০৯:২৫ পিএম
আপডেট: ২৪ মে ২০২৪, ০৯:২৫ পিএম
নজরুলের লেখনী নির্যাতিত মানুষকে প্রেরণা জোগাবে: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “জাগরণের কবি কাজী নজরুল উপমহাদেশের স্বাধীনতার প্রথম বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। তিনি আমাদের জাতীয় কবি। তার কবিতা ও গান আমাদের মুক্তিসংগ্রাম এবং পরবর্তী সময়ে সব স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামে সাহস জুগিয়েছে। তার ‘চল্ চল্ চল্’ গানটি আমাদের জাতীয় রণসংগীত হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমি বিশ্বাস করি, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ঔপনিবেশিক শৃঙ্খল ছিন্ন করে দেশ থেকে নিপীড়ন-নির্যাতন ও বৈষম্য নির্মূল করতে তার লেখনীর আবেদন চিরদিন নির্যাতিত মানুষকে প্রেরণা জোগাবে। পাশাপাশি সংগীতে তার অবদান চিরকালীন ও চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।”

শুক্রবার (২৪ মে) এক বিবৃতিতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী (২৫ মে) উপলক্ষে তার প্রতি শ্রদ্ধা এবং আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম।

তিনি আরও বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যের এক অবিসংবাদিত কিংবদন্তি। তিনি একাধারে সাহিত্যিক, কবি, সংগীতজ্ঞ, সুরকার, সাংবাদিক, সম্পাদক, রাজনীতিবিদ এবং সৈনিক। তিনি অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সর্বদা ছিলেন উচ্চকণ্ঠ। তার লেখা স্বাধীনতা, মানবতা ও বিপ্লবের কবিতা পাঠে মানুষের হৃদয়ে স্পন্দন জাগে, রক্তে শিহরণ তোলে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, পারিবারিক জীবনের নানা অভিঘাতের মধ্যেও তিনি নিরলসভাবে সাহিত্যচর্চা করেছেন। তার ক্ষুরধার লেখনীতে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মন্ত্র উচ্চারিত হয়। তিনি দেশের স্বাধীনতা ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ঔপনিবেশিক শাসক গোষ্ঠীর অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলমকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে কারাগারে নির্যাতন সহ্য করতেও দ্বিধা করেননি। তার কবিতা ও গানে ভালোবাসা, মানবতা ও সাম্যের বাণী বিধৃত হয়েছে। তার কবিতার মূল উপজীব্য ছিল, মানুষের ওপর মানুষের অত্যাচার, সামাজিক অনাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ।

স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে দেশে ফিরলেন ওবায়দুল কাদের

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৮:৪৬ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৮:৪৬ পিএম
স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে দেশে ফিরলেন ওবায়দুল কাদের
ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) দেশে ফিরেছেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে সন্ধ্যা ৬টায় তিনি ঢাকায় পৌঁছান।

ওবায়দুল কাদের গত ১১ জুন স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সিঙ্গাপুর যান। দেশটির মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান তিনি।

বাজেটে কৃষক, শ্রমিক ও প্রবাসীদের জন্য কিছু নেই : নজরুল ইসলাম খান

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৮:২৬ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৮:২৬ পিএম
বাজেটে কৃষক, শ্রমিক ও প্রবাসীদের জন্য কিছু নেই : নজরুল ইসলাম খান
সেমিনারে বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান

২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষক, শ্রমিক এবং প্রবাসীদের জন্য কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। 

তিনি বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি তিনটি ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। কৃষি, পোশাক এবং প্রবাসী আয়। তারাই অর্থনীতির প্রধান উৎস। কিন্তু এই বাজেটে কৃষক, শ্রমিক এবং প্রবাসীদের জন্য কিছু নেই।’ ‘আমি এবং ডামি’র সংসদ সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের কল্যাণের বাজেট কখনোই করবে না বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ‘নৈতিকতাহীন অর্থনীতির সালতামামি’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। 

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘স্বাস্থ্য, শিল্প, খাদ্য সব ক্ষেত্রে বৈষম্য বাড়ছে। ধনীরা আরও ধনী হচ্ছে। একটি রিপোর্টে দেখা গেছে, বাংলাদেশে অতি ধনীর পরিমাণ চীনের চেয়ে বেশি। এই সরকার কৃষক, শ্রমিক, উৎপাদক, ভোক্তা কারও না। সংখ্যাগরিষ্ঠকে এই সরকার সন্তুষ্ট করার কোনো প্রয়োজন মনে করে না। কারণ তাদের ভোটের কোনো দরকার নেই।’

সভাপতির বক্তব্যে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী বলেছেন ছয় মাসের মধ্যে জিনিসপত্রের দাম কমিয়ে আনবেন। কিন্তু এই বাজেটের মধ্য দিয়ে জিনিসপত্রের দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। রিজার্ভ এখন ১২ বিলিয়নের নিচে। এর মধ্যে সরকার আমদানির ওপর নানা নিষেধ জারি করেছে। করলেই বা কি? কয়েক দিন পর আর আমদানির অবস্থাই থাকবে না। এর মধ্যে ব্যাংকগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত, সরকারের অলিগার্করা লুটপাটে ব্যস্ত।’

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি বলেন, ‘সরকার এই বাজেটে গত ১৬ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে দেশে একটা অর্থনৈতিকসংকট তৈরি হয়েছে। বাজেটে অর্থাভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ন্যূনতম ভিত্তির ওপর দাঁড়াচ্ছে না। অন্যদিকে মেগা প্রজেক্ট করতে পুরো জাতিকে ঋণের জালে আটকে ফেলা হয়েছে।’ 

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘পুরো অর্থনীতি একটা দুর্বৃত্ত, লুটেরা, মাফিয়া নির্ভর। এই বাজেট দেশকে আরও গভীর বিপদের দিকে নিয়ে যাবে। এতে মানুষের উদ্বেগ কমানোর কোনো উদ্যোগ নেই। এই সরকার যতদিন থাকবে ততদিন এই লুটেরাদের পক্ষেই বাজেট প্রণয়ন করবে।’ 

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, আমার বাংলাদেশ পার্টির সদস্যসচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্যের সমন্বয়ক হারুন চৌধুরী প্রমুখ।

‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা ব্যবস্থা নিলেও বিএনপিতে নজির নেই’

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৭:৩৮ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৭:৪০ পিএম
‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা ব্যবস্থা নিলেও বিএনপিতে নজির নেই’
আলোচনা সভায় কথা বলছেন জাহাঙ্গীর কবির নানক। ছবি : খবরের কাগজ

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, ‘যেই দুর্নীতি করুক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নজির সৃষ্টি করতে পারেনি।’

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আয়োজিত ‘ইতিহাসের গতিধারায় বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা’ শীর্ষক সংবাদচিত্র প্রদর্শন ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য বাস্তবায়নের যারা লক্ষ্য বিচ্যুত হয়ে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন- যেই দুর্নীতি করবেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শেখ হাসিনা কোনো আপস করবেন না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। দুর্নীতিকে না বলে এগিয়ে যেতে হবে। যিনি দুর্নীতি করেছেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন।’

নানক বলেন, ‘হাওয়া ভবনের তারেক রহমান হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছেন। লন্ডনে বসে রাজপ্রাসাদ থেকে দেশের টাকা লুটপাট করে উপভোগ করছেন। আর বিএনপি নেতা-কর্মীদের ভুলভ্রান্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।’ এ সময় তিনি তারেক রহমানকে তালাক দিয়ে বিএনপিকে রাজনীতিতে ফিরে আসার আহ্বান জানান। 

‘এ সরকার আমাদের প্রধান শত্রু’ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘ফখরুল সাহেবের ভেতরের কথা বের হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপির প্রধান শত্রু। কারণ এই সরকার জনগণের সরকার, এই সরকার অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের সরকার, এ সরকার দেশের উন্নয়নের সরকার, কারণ এই সরকার আপনাদের (বিএনপি) বন্ধু একাত্তরের মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছে।’

দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের শুধু ঢেঁকুর দিলে চলবে না। আমরা পঞ্চমবারের মতো সরকার গঠন করেছি। সতর্ক থাকতে হবে। বিএনপি-জামায়াত জনগণের সমর্থন না পেয়ে আন্দোলনে ব্যর্থ হয়েছে। এখন তারা নতুন করে ষড়যন্ত্রের পথ খুঁজছে।’ 

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, ‘ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো থেমে নেই। বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা পর্যন্ত- সেই পরাজিত শক্তি দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তাদের মোকাবিলা করতে গেলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’ 

ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ। এ সময় ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

হরিজনদের অধিকার নিয়ে অনেকে ব্যবসা ফেঁদে বসছেন: জি এম কাদের

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৫:৪৭ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৫:৪৭ পিএম
হরিজনদের অধিকার নিয়ে অনেকে ব্যবসা ফেঁদে বসছেন: জি এম কাদের
বিরোধী দলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জি এম কাদের। ছবি : সংগৃহীত

সমাজের দলিত সম্প্রদায় বলে পরিচিত হরিজনদের অধিকার নিয়ে অনেকে ব্যবসা ফেঁদে বসছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) রাজধানীর বংশালের মিরনজিল্লার হরিজন কলোনি পরিদর্শনে যান জি এম কাদের। এসময় জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

জি এম কাদের বলেন, ‘আজ হরিজনদের পাশে থাকার লোক নেই, এদের দিয়ে ব্যবসা করা বা ভালো থাকার লোকের অভাব নেই। এটা দেশের জন্য ও সরকারের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। এই গরীব মানুষদের উচ্ছেদ করে বিল্ডিং করে ভাগবাটোয়ারা করলে তা হবে সবচেয়ে অন্যায় এবং লজ্জার। হরিজনদের উচ্ছেদ করা হবে সবচেয়ে বড় ডাকাতি। এটা যেকোনো মূল্যে বন্ধ করতে হবে।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৩নং ওয়ার্ডের অন্তর্ভূক্ত বংশালের মিরনজিল্লায় নতুন করে কাঁচাবাজার নির্মাণ করার উদ্যোগে গত ৩ জুন থেকে হরিজন কলোনিতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছে ডিএসসিসি। এতে ২ শতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করছেন বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদের নেতারা। সংখ্যালঘু অধিকার বিষয়ক সংগঠনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোও এখন এই ইস্যুতে সোচ্চার হয়েছে।

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জি এম কাদের বৃহস্পতিবার দুপুরে এ এলাকায় এসে হরিজনদের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সংহতি জানান। এসময় তিনি বলেন, ‘সরকার এখন অনেক শক্তিশালী, তাদের সঙ্গে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আছে। তাদের পেশিশক্তি, অর্থশক্তি ও মাস্তানদের সামনে সাধারণ মানুষ অসহায়। সাধারণ মানুষ সংখ্যায় বেশি হলেও দানবীয় শক্তির কাছে পরাজিত হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

হরিজনদের উচ্ছেদের হুমকির সমালোচনায় জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই মানুষগুলোকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ৫ থেকে ৬ হাজার মানুষকে রাস্তায় ফেলে দিয়ে কিসের উন্নয়ন? কিছু মানুষ হয়তো দোকান-পাট করে বা ইজারা নিয়ে লাভবান হবে। এই মানুষগুলো অত্যন্ত অসহায়। তারা দোকান দিতে পারে না, তাদের হাতে কিছু খেতে চায় না... অথচ তাদের সার্ভিস ছাড়া আমাদের জীবন অচল। মানবিক দৃষ্টি দিয়ে বিষয়টি দেখা উচিত।’

এসময় বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদের সভাপতি কৃষ্ণলাল, পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি কৃষ্ণচরণ কুঞ্জমাল, হরিজন নেতা বায়জুলাল, জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্মল দাস, জাতীয় পার্টি নেতা সাধন কুমার মিশ্র, হুমায়ুন কবির কালা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

জয়ন্ত/এমএ/  

বাজেটের এক তৃতীয়াংশ সুদ দিতেই চলে যাবে: ফয়জুল করীম

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৫:৩৩ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৫:৩৩ পিএম
বাজেটের এক তৃতীয়াংশ সুদ দিতেই চলে যাবে: ফয়জুল করীম
মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই

বাজেটে রাজস্ব আয়ের প্রায় এক তৃতীয়াংশ ঋণের সুদ পরিশোধ করতেই চলে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই।

তিনি বলেন, ‘এবারের বাজেটের সবচেয়ে বড় ব্যয়ের খাত হচ্ছে ঋণের সুদ পরিশোধ। ঋণনির্ভর বাজেটের সর্বোচ্চ বরাদ্দ ঋণের সুদ প্রদানেই চলে যাবে। অর্থাৎ এ বছর আগের ১২ বিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধ করতে হবে, যা মোট রাজস্ব আয়ের প্রায় এক তৃতীয়াংশ।’

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ফয়জুল করিম বলেন, ‘দেশ আজ ভয়াবহ সংকটে নিপতিত। ঋণ করে ঋণ পরিশোধ করার পরিকল্পনাকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের বড় দুর্বলতা। ঋণ করে মেগা প্রকল্প চালু এবং দফায় দফায় তার খরচ বাড়িয়ে দেশকে ঋণগ্রস্ত করে ফেলেছে সরকার।’

তিনি বলেন, ‘দেশ যে একটা বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটের মুখে, তা প্রস্তাবিত বাজেটে সরকার প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে। এ সংকট আসলে এ বছর বা এক দিনে তৈরি হয়নি, বহুদিন থেকেই এ সংকট তৈরি হচ্ছে। সেই সংকট অস্বীকার করে যেভাবে অর্থনীতি চালানো হয়েছে, তার পরিণামে সংকট আরও গভীর হয়েছে।’

ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমীর বলেন, ‘অর্থনৈতিক সংকোচনের কথা বলে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণপত্র খোলায় যত বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে, তাতে অর্থনীতির গতি কমবে। আর সরকার যে হারে ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ করার পরিকল্পনা করেছে, তাতে বেসরকারি খাত, বিশেষ করে ক্ষুদ্র-মাঝারি উদ্যোক্তারা ঋণ পাবে না। সরকার বিদেশ থেকে ঋণ করে যেভাবে রিজার্ভ সংকট কাটানোর চেষ্টা করছে, তা নতুন ঋণের ফাঁদে ফেলে দেশকে আরও গভীর সংকটের দিকে নিয়ে যাবে।’

মুফতী ফয়জুল করীম বলেন, ‘১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালোটাকা সাদা করার বিধান রাখার কারণে দুর্নীতিবাজরা আরও উৎসাহিত হবে। এই শর্ত না থাকা প্রমাণ করে সরকার অবৈধ অর্থ উপার্জনকে উৎসাহিত করছে এবং তাদের বিশেষ সুযোগ দিচ্ছে। এভাবে দেশ আরও দুর্নীতিগ্রস্ত দেশে পরিণত হবে। যা জাতি হিসেবে আমাদেরকে ভাবিয়ে তুলেছে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক কেএম আতিকুর রহমান, প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম, দপ্তর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, আলহাজ্ব আব্দুর রহমান, মুফতী মোস্তফা কামাল।

শফিকুল ইসলাম/অমিয়/