জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দলের খসড়া গঠনতন্ত্র চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করেছে। এতে বলা হয়েছে, দুইবারের বেশি কেউ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদ পাবেন না।
শুক্রবার (২০ জুন) রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে সাধারণ সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে সভার সিদ্ধান্তের বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, উত্তরাঞ্চলের সংগঠক সারজিস আলম প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে আখতার হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো অভ্যন্তরীণভাবে (দলের ভেতরে) গণতন্ত্র চর্চায় পিছিয়ে আছে। এ ক্ষেত্রে তারা সর্বোচ্চ গাফিলতির পরিচয় দেয়। গণতন্ত্রের কথা বলে স্বৈরতন্ত্র কায়েম করে দলে। এনসিপি সে জায়গায় পরিবর্তন আনতে চায়। এনসিপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত হবেন। সারা দেশের কাউন্সিলরদের ভোটে নির্বাচিত হবেন। কোনো ব্যক্তি তার জীবদ্দশায় দুইবারের বেশি সাধারণ সম্পাদক এবং দুইবারের বেশি সভাপতি থাকতে পারবেন না। তিনি সর্বোচ্চ দুইবার এসব পদে থাকতে পারবেন। কমিটি হবে তিন বছরের। তারপরেই কাউন্সিলের আয়োজন করতে হবে। মেয়াদ শেষের ৯০ দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচনের আয়োজন করবে।’
তিনি বলেন, ‘জাতীয় নাগরিক পার্টির ন্যাশনাল কাউন্সিল গঠিত হবে। ন্যাশনাল কাউন্সিলের সদস্য সংখ্যা দুই থেকে আড়াই হাজার হবে। থানা পর্যায় পর্যন্ত সদস্য থাকবেন। তাদের ভোটে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্যরা নির্বাচিত হবেন। সেই পর্ষদে ১১ থেকে ১৫ জন সদস্য থাকবেন, এতে ন্যূনতম ৩ জন থাকবেন নারী সদস্য। এটা সর্বোচ্চ পরিষদ হিসেবে বিবেচিত হবে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক রাজনৈতিক পরিষদের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন।’
দলের নিবন্ধন নিয়ে আখতার বলেন, ‘দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার জন্য আবেদন দাখিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করবেন। আগামী ২২ জুন নির্বাচন কমিশনে দলের নিবন্ধনের জন্য আবেদন দাখিল করা হবে। সেদিন দলের গঠনতন্ত্র প্রকাশ করা হবে।’
দলের নারী সদস্যদের নিয়ে নোংরামির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানের কথা জানিয়ে আখতার হোসেন বলেন, ‘নারী সদস্যদের বিরুদ্ধে কিছু গণমাধ্যম, সোশ্যাল মিডিয়ায় নোংরা ভাষায় আক্রমণ এবং মিথ্যাচার করা হচ্ছে। এনসিপি এর বিরুদ্ধে জনসমাজকে সচেতন থাকার আহ্বান জানাচ্ছে। ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি, গল্প বানিয়ে নারী সদস্যদের বিরুদ্ধে হওয়া নোংরামির বিরুদ্ধে আমরা বিভিন্ন স্তরে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। যেসব মিডিয়া দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে সংবাদ প্রকাশ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ দায়ের করবে এনসিপি। বিদেশে বসে যারা এসব করছেন তাদের বিরুদ্ধে দূতাবাসে অভিযোগ দায়ের করবে এনসিপি।’
নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দলের উত্তরাঞ্চলের সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ‘তাদের নিরপেক্ষতা সম্পর্কে আমাদের অবস্থান নিতে বাধ্য করছে। আগামীতে আরও পর্যবেক্ষণ করব। তাদের আচরণের বিষয়ে আমাদের প্রশ্ন আছে। নিবন্ধনের প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণ করে সেখানে যাব।’