‘হবিগঞ্জ জেলা কাউন্সিল ঘিরে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন একজনই। ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে ফ্যাসিস্টদের নিয়ে পকেট কমিটি গঠন করেছেন, নিজের পছন্দের নির্বাচন কমিশন বানিয়েছেন, আবার সেই কমিশন দিয়ে নিজেই সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন। এমনকি কমিশনের মধ্যেই গাড়িচোর চক্রের সদস্য রাখা হয়েছে’ - এমন অভিযোগ করেছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় সহ-সমবায় বিষয়ক সম্পাদক সাবেক এমপি শাম্মী আক্তার।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছকে উদ্দেশ্য করে শাম্মী আক্তার বলেন, ‘দল শুধু তাকেই গ্রিন সিগন্যাল দেয়, আর কাউকে দেয় না? দল যদি তাকে সভাপতি বানাতেই চায়, তাহলে কাউন্সিলের কী প্রয়োজন? বেডরুমে বসেই কমিটি ঘোষণা করতে পারেন।’
১৬ বছর পর আগামী ৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলন ও কাউন্সিল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার এ আয়োজন ঘিরে একদিকে যেমন উৎসাহ-উদ্দীপনা রয়েছে, অন্যদিকে দ্বন্দ্ব, ক্ষোভ আর বিভাজনও প্রকট হয়ে উঠছে।
সোমবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে কয়েক হাজার নেতা-কর্মীকে নিয়ে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন বিএনপির একাংশ।
এর আগে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর থেকেই পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা জুতা ও ঝাড়ু মিছিল করেন। তাদের অভিযোগ — আওয়ামী সরকারের দমন-জুলুমে যারা দীর্ঘদিন টিকে ছিলেন, তাদের বাদ দিয়ে নতুন ও বিতর্কিতদের নিয়ে পকেট কমিটি করা হয়েছে।
এছাড়া নির্বাচন কমিশন নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। অভিযোগ রয়েছে, আহ্বায়ক কমিটি বা কেন্দ্রীয় অনুমতি ছাড়াই সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক জি কে গউছ এককভাবে মঞ্জুর উদ্দিন আহমদ শাহীনকে প্রধান করে কমিশন গঠন করেছেন। অথচ তিনিই সভাপতি পদপ্রার্থী।
দলের অনেক নেতা-কর্মী মনে করছেন, সুষ্ঠু কাউন্সিলের জন্য একটি নিরপেক্ষ কমিশনই প্রধান শর্ত। কিন্তু এখানে তা নেই।
জি কে গউস বর্তমানে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ)। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় পদে থেকে জেলা সভাপতি হওয়া যায় না। এ অবস্থায় তার প্রার্থিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে।
সভাপতি পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ এনামুল হক বলেন, ‘কেন্দ্রীয় পদে দায়িত্বে থেকে প্রার্থী হওয়া দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করার শামিল।’
অন্যদিকে জি কে গউছ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। কেন্দ্রের সবুজ সংকেত পেয়েই প্রার্থী হয়েছি। কোনো ষড়যন্ত্র আমাকে বিএনপি থেকে দূরে সরাতে পারবে না।’
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সভাপতি প্রার্থী ডা. আহমদুর রহমান আবদাল বলেন, ‘গউছের পছন্দ না হওয়ায় বানিয়াচংয়ের ১১০ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ১২ জনের নাম কেটে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, পুরো জেলাতেই তিনি এরকম পকেট কমিটি গঠন করেছেন।’
জেলা বিএনপির কাউন্সিলে ‘সুপার ফাইভ’ পাঁচটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ৩০ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে সভাপতি পদে রয়েছেন ৫ জন প্রার্থী।
দীর্ঘ দেড় যুগ পর আয়োজিত এ সম্মেলনকে ঘিরে হবিগঞ্জ বিএনপির ভেতরে দ্বন্দ্ব যতটা বেড়েছে, ঠিক ততটাই বাড়ছে নেতা-কর্মীদের উত্তেজনা ও কৌতূহল - কে হচ্ছেন নতুন নেতৃত্বের অভিভাবক।
কাজল/নাঈম/অমিয়/