বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন। লন্ডনে তাকে নিয়ে সর্বশেষ সমাবেশ হয়েছে ১৬ ডিসেম্বর। সমাবেশে সভাপতিত্ব করার কথা ছিল যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি ও সিলেট-৩ আসনে দলীয় মনোনীত প্রার্থী এম এ মালিকের। পরিচালনার কথা ছিল যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সুনামগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী কয়সর এম আহমদের। ভোটের মাঠ থেকে তারা দুজন তড়িঘড়ি করে লন্ডন যান। কিন্তু সেখানে পা দিয়েই পদহারা হওয়ার খবর পান তারা। একটানা পাঁচ বছর মালিক ও কয়সর যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন।
গত সোমবার বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মালিক ও কয়সরকে বাদ দিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) যুক্তরাজ্য শাখা কমিটি বিলুপ্ত করে আংশিক আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ এবং সদস্যসচিব খসরুজ্জামান খসরু। প্রায় পাঁচ বছর পর কমিটি পুনর্গঠন হলো। ঘোষিত কমিটি শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করবে বলে জানানো হয়।
জানা গেছে, যুক্তরাজ্য বিএনপি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত এম এ মলিক বাংলাদেশে তার নিজ এলাকা সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন। কয়সর এম আহমদ পেয়েছেন সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনে। দুই নির্বাচনি এলাকাতেই তাদের মনোনয়ন নিয়ে দলের তৃণমূল ও স্থানীয় নেতৃত্বে অসন্তোষ রয়েছে। এম এ মালিকের আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এ সালাম ও জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ কাইয়ুম।
এম এ মালিক দেশে ও বিদেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ পরিচিত। দীর্ঘ ১৯ বছর পর গত বছর ১৩ অক্টোবর দেশে ফেরেন। ফিরেই তিনি নিয়মিত সভা-সমাবেশে অংশ নেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের এনেও সমাবেশ করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকায় এম এ মালিক তুলনামূলকভাবে জনবিচ্ছিন্ন। তার বলয়ে নেতা-কর্মীর সংখ্যাও অনেক কম।
ভোটার ও বিএনপির রাজনীতিসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির মনোনীত বর্তমান প্রার্থী এম এ মালিক নির্বাচন করলে এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী অনায়াসে জিতবেন। জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হচ্ছেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের সাবেক সভাপতি লোকমান আহমদ। তিনি আওয়ামী লীগের সময়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে কয়সরের বিপরীতে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি নাদীর আহমদ, ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেনসহ ডজনখানেক নেতা। সম্প্রতি আসনটিতে জমিয়তের রাজনীতি ছেড়ে তালহা আলম এবি পার্টিতে যোগ দেওয়ায় তাকে নিয়ে আরেক মেরূকরণ তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে দুটি আসনে বিএনপিবিরোধী নানা সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। ৮-দলীয় জোট হলে জামায়াত দুটি আসনে প্রার্থিতা বদল করার তৎপরতায় রয়েছে।
ভোটের মাঠে এ রকম টালমাটাল অবস্থায় হঠাৎ মালিক-কয়সরের লন্ডনযাত্রা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
লন্ডন পা দিয়েই পদহারা হওয়ার বিষয়টি তাদের নির্বাচনি এলাকায় নানা আলোচনা ছড়িয়েছে। বলা হচ্ছে, দলের শীর্ষ নেতাদের না জানিয়ে দুজনই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সর্বশেষ সভায় সভাপতিত্ব ও পরিচালনা করতে লন্ডন যান ১৫ ডিসেম্বর। ওই দিনই, অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে তাদের পদহারা হওয়ার বিষয়টি সাংগঠনিকভাবে প্রকাশ হয়। এতে করে ভোটের মাঠে দুজনের সাংগঠনিক ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।
মালিক-কয়সরের পদহারার বিষয়টি সাংগঠনিক স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বলে জানিয়েছেন সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী। জানতে চাইলে বুধবার সন্ধ্যায় তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘যুক্তরাজ্য বিএনপির নতুন নেতৃত্বের বিষয়টি আমার জানামতে সাংগঠনিক স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এর মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু নেই। বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক (মালিক-কয়সর) যেহেতু বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী, সেহেতু তাদের বিকল্প নেতৃত্ব তৈরি করা হয়েছে।’