২৪ জানুয়ারি শনিবার। ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক সকাল ১০টা। সিলেট নগরীর কেন্দ্রস্থলের জিতু মিয়ার পয়েন্ট আরও ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। একদিকে বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী জড়ো হয়েছেন। এর কিছুক্ষণ পরই প্রার্থী হাজির। হাতে লিফলেট। সিলেট-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির দিনের প্রচার কর্মসূচির সূচনা করেন জিতু মিয়ার পয়েন্টে। পথ চলতি মানুষের সঙ্গে নিজের পরিচয় দিয়ে হ্যান্ডশেক করেন।
এরপর লিফলেট বিলি করেন। সিএনজিচালিত অটোরিকশা থামলে সেখানে গিয়ে যাত্রীদের মুখোমুখি হন। তাদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেন। আবার কোথাও পরিচিত কারও সঙ্গে দেখা হলে সুখস্মৃতি রোমন্থন করেন।
সুখস্মৃতি হচ্ছে, মুক্তাদিরের বাবা প্রয়াত সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মালিক ১৯৯১ সালে সিলেট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। বয়সে প্রবীণ যারা মুক্তাদিরের মুখোমুখি হয়েছেন, তারা সেই গল্প জুড়ে দেন। রোমন্থন করেন সেই সব স্মৃতি। যেগুলো মুক্তাদিরের কাছেও সুখস্মৃতি। ১৯৯১ সালে সিলেট বিভাগের ১৯টি নির্বাচনি আসনের মধ্যে সিলেট-১ আসনে জিতেছিলেন খন্দকার মালিক।
সকাল ১০টা থেকে শহরের জিতু মিয়ার পয়েন্ট থেকে প্রচার শুরু করেন মুক্তাদির। জিতু মিয়ার পয়েন্টে আগে থেকে অপেক্ষায় থাকা নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মিলিত হয়ে ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন পয়েন্টে গণসংযোগ চালাতে থাকেন। সড়কে পথচারী, দোকানপাট ও বাসাবাড়ির সামনে গিয়ে মানুষের কাছে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান। এ সময় বিভিন্ন পয়েন্টে নেতা-কর্মীদের তার জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। সাধারণ মানুষের মধ্যেও আগ্রহ দেখা যায়। প্রার্থীকে দেখার জন্য, কথা বলার জন্যও এগিয়ে আসেন। বাসাবাড়ি থেকে নারীরাও বেরিয়ে আসেন। অনেকে আবার দরজা-জানালা থেকে প্রার্থীর গণসংযোগ কর্মসূচি অবলোকন করেন।
গণসংযোগের মধ্যভাগে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন মুক্তাদির। তিনি বলেন, ‘আগামী দিনে সিলেটকে সুন্দরভাবে সাজাতে চাই, উন্নয়নের ধারায় নিতে চাই, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জলাবদ্ধতার অবসান, সামাজিক সম্প্রতি বৃদ্ধি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে উন্নয়নের মধ্যে নিয়ে আসা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন–এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে মানুষের কাছে তুলে ধরছি।’
কেমন সাড়া পাচ্ছেন? উত্তরে তিনি বলেন, ‘যেখানেই যাচ্ছি অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি। মানুষ আমার ওপর না, আমি তো নগণ্য প্রার্থী মাত্র। মানুষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ওপর আস্থা রেখেছেন, তাদের মাধ্যমেই এ দেশে একটি সত্যিকার পরিবর্তন সম্ভব–এটি মানুষ বিশ্বাস করেন। এ জন্যই মানুষের এত সাড়া।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাস্তায় উভয় পাশ থেকে প্রায় প্রতিটা মানুষ আমাদের অভিবাদন জানাচ্ছেন, হাত নাড়াচ্ছেন এবং আমরা যখন মুখে কথা বলছি, তখন মানুষ সজোরে উত্তর দিয়ে বলছেন, আমরা আপনাদের সঙ্গে। জনজোয়ার তো এটিই।’
ভোটের রাজনীতিতে প্রচলিত ‘মিথ’ হচ্ছে সিলেট-১ আসন যার, সরকার তার। এই মিথ-মিথস্ক্রিয়াও মাথায় আছে খন্দকার মুক্তাদিরের। সিলেট-১ আসন নিয়ে আলোচিত মিথের ব্যাপারে খন্দকার মুক্তাদির বলেন, ‘আমরা আমাদের কর্মসূচি মানুষের সামনে উপস্থাপন করেছি আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে। আমার বিশ্বাস, মানুষ সেটি গ্রহণ করেছেন। তার প্রতিফলন আমরা ভোটের দিন ইনশাআল্লাহ দেখব।’
সকাল থেকে বিকেল। শনিবারের কর্মসূচির রোডম্যাপ অনুযায়ী, মুক্তাদিরের নির্বাচনি গণসংযোগ নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ড ঘুরে, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের এতিম স্কুল রোড হয়ে নরসিংটিলায় গিয়ে শেষ হয়। প্রথম ভাগের প্রচারের প্রেস রিলিজ সংবাদকর্মীদের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পাঠানো হয়।
তাতে বলা হয়, জিতু মিয়ার পয়েন্ট থেকে দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে গণসংযোগ শুরু করেন তিনি। পরে শেখঘাট, নবাব রোড, এবি পয়েন্ট, কলাপাড়া, লামাপাড়া, ঘাসিটুলা, মজুমদারপাড়া, শামীমাবাদ, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এলাকা, নরসিংটিলা, বর্ণমালা পয়েন্টসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনবহুল এলাকায় গণসংযোগ করেন।
দিনের গণসংযোগে মুক্তাদিরের সঙ্গে ছিলেন সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইন, সহসভাপতি সুদীপ রঞ্জন সেন বাপ্পু, জাহাঙ্গীর আলম, মহানগর যুবদলের সভাপতি নেওয়াজ বখত চৌধুরী তারেক, সাধারণ সম্পাদক মির্জা সম্রাট হোসেন, মহানগর কৃষক দলের আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির শাহীন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব শাকিল মুর্শেদ, মহানগর বিএনপির প্রকাশনা সম্পাদক দেওয়ান আরাফাত চৌধুরী জাকি, মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মির্জা সম্রাট হোসেন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব আফসর খান, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি সুদীপ জ্যোতি এষ, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দিনারসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।