কিশোরগঞ্জের সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের গ্রামের বাড়ি মিঠামইনের ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে ভোট দিচ্ছেন। সকাল থেকেই ভোটাররা সুশৃঙ্খলভাবে ৫৭নং কামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিতে আসছেন। দুপুর ১ টায় কেন্দ্রে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে ভোটাররা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট প্রদান করছেন।
কেন্দ্রটিতে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ হাজার ৬২৯ জন। নারী ভোটারের সংখ্যা ১৮৫০ ও পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১৭৭৯ জন।এছাড়াও ভোটকেন্দ্রটিতে সাতটি বুথ রয়েছে। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার নজরুল ইসলাম জানান, সকাল ৭:৩০ মিনিট থেকে ১ টা পর্যন্ত ১৩০০ ভোট কাস্ট হয়েছে। এছাড়াও নতুন ভোটাররা তাদের প্রথম ভোট প্রদানের উচ্ছ্বাস ব্যক্ত করেছেন। কামালপুর, কালিপুর, খিদিরপুর, মৌলভী পাড়া, গিরিশপুর গ্রামের ভোটাররা এই কেন্দ্রে ভোট দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
কেন্দ্রটিতে ভোট দিতে এসেছেন তাবাসসুম তাসনুভা (১৯) মিঠামইনের গিরিশপুর ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি প্রথমবারের মতো ভোট দিতে কেন্দ্রে এসেছেন। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, নিরাপত্তা ভালো ছিল, আমি সহ আমার পরিবারের সবাই নিরাপদে ভোট দিতে পেরেছি।
মনিরা ও দুলাল মিয়া দম্পত্তি এসেছেন কামালপুর ৩নং ওয়ার্ড থেকে। তারা খবরের কাগজকে জানায়, উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট হচ্ছে। ভোটারদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো। ভোট দিতে পেরে আমরা আনন্দিত।
আল মামুন, মায়ারানি বনিক, সুলেখা এসেছেন ভোট দিতে। তারা খবরের কাগজকে জানায়, ভোটারদের প্রত্যাশা তারা সংসদে গিয়ে মানুষের অধিকার নিয়ে, নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করবে। আমরা যাকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে মনে করেছি তাঁকেই ভোট দিয়েছি।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে আবদুল হামিদ ও তার পরিবার আত্মগোপনে রয়েছেন। তবে নিজ বাড়ির কেন্দ্রটিতে বিএনপির প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানকে হারাতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রোকন রেজা শেখকে মৌন সমর্থন দিয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
এছাড়াও বিভিন্ন কেন্দ্রে সূত্র জানিয়েছে, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে আবদুল হামিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তারা রাজনৈতিকভাবে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদ্বন্দ্বী, তাই তাদের লড়াইও সেই বড় রাজনীতির অংশ ছিল। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ইন্ধনে ২০১৪ সালে ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের হয়।
তাসলিমা আক্তার মিতু/এসএন