শীতকালের রাতগুলো দীর্ঘ ও আবহাওয়া আরামদায়ক হওয়ায় ঘুমিয়ে তৃপ্তি পাওয়া যায়। শেষ রাতে প্রভুর সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য সহজে ওঠা যায়। তাহাজ্জুদ নামাজ, জিকির আর দোয়ায় আল্লাহর কাছে পৌঁছা যায়। শীতকালে ইবাদতের এ বসন্তকাল ঘুমিয়ে কাটানো উচিত নয়। এশার নামাজ ও খাওয়া-দাওয়া শেষে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ে তাহাজ্জুদের সময় ওঠা প্রয়োজন। তখন নিস্তব্ধ থাকে পৃথিবী। ঘুমের গহিন অতলে ডুবে থাকে আল্লাহভোলা মানুষ। নিশাচর পাখিদের ছোটাছুটিও থাকে না। দিনের বেলায় মানুষ কাজকর্মে ব্যস্ত থাকায় ফরজ ইবাদতের বাইরে নফল ইবাদত করার তেমন একটা সুযোগ হয়ে ওঠে না। কিন্তু রাতে ইবাদত করা সহজ। রাতের ইবাদতে প্রশান্তিও পাওয়া যায় বেশি। একাগ্রতাও আসে। আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘শীতকাল মুমিনের বসন্তকাল’। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১১৬৫৬)।
বসন্ত এলে প্রকৃতি যেমন জেগে ওঠে, সেজে ওঠে; তারুণ্য ফিরে পায়- মহক মোহনে আন্দোলিত করে সবকিছু। ঠিক তেমনি মুমিনজীবনের ইবাদতের বসন্তকাল শীতকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। ইবাদতে নিজেকে বিলিয়ে দিতে হবে। আল্লাহর কাছে সমর্পণ করতে হবে। ইবাদতের জন্য চির উদ্যমী দুর্দান্ত হতে হবে। ইবাদতে রাঙিয়ে দিতে হবে জীবনের সব কিছু। সব আয়োজন।
ইবাদতের এ বসন্তকালকে স্বাগতম জানাতে হবে। নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। রাতগুলোয় প্রভুর কাছাকাছি যাওয়ার আয়োজন বসাতে হবে। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলতেন, ‘শীতকালকে স্বাগতম। কেননা তা বরকত বয়ে আনে। শীতের রাত দীর্ঘ হয়, যা কিয়ামুল লাইলের (তাহাজ্জুদ নামাজ) সহায়ক এবং দিন ছোট হওয়ায় রোজা রাখতে সহজ।’ (শুয়াবুল ঈমান, বাইহাকি: ৩৯৪০)
শীতের রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া সহজ। তাহাজ্জুদ মানুষকে আল্লাহর কাছাকাছি নিয়ে যায়। আল্লাহর নৈকট্য পেতে সাহায্য করে। গুনাহ মিটিয়ে দেয়। আবু উমামা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা কিয়ামুল লাইলের প্রতি যত্নবান হও। কেননা তা তোমাদের পূর্ববর্তী সৎ ব্যক্তিদের অভ্যাস এবং রবের নৈকট্য লাভের বিশেষ মাধ্যম। আর তা গুনাহ মোচনকারী এবং গুনা থেকে বাধা প্রদানকারী।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৪৯)
রাতের ইবাদত সম্পর্কে আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহতায়ালা প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালে পৃথিবীর নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেন- কে আছে এমন, যে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দেব। কে আছে এমন, যে আমার কাছে চাইবে? আমি তাকে তা দেব। কে আছে এমন, যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করব।’ (বুখারি, হাদিস: ১১৪৫)।
শীতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো, নিজের তৌফিক ও সামর্থ্য অনুযায়ী শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। তাদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া। এটি যেমন মুসলমানদের মানবিক ও নৈতিক কর্তব্য, তেমনি ঈমানি দায়িত্বও। তাই গরিব ও অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বান্দা যতক্ষণ পর্যন্ত তার ভাইয়ের সাহায্যে থাকবে আল্লাহ ততক্ষণ পর্যন্ত তার সাহায্য করবেন।’ (মুসলিম, হাদিস: ২৬৯৯)
লেখক: আলেম ও মাদরাসা শিক্ষক
, .