মব ভায়োলেন্স বা দলবদ্ধ হামলা-নৃশংসতার ঘটনায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সমাজে ক্রমশ বাড়ছে। পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক ধরনের ‘শৈথিল্য’ এর জন্য অনেকাংশে দায়ী বলে অনেকে অভিযোগ তুলছেন। যদিও সরকার, সেনাবাহিনী ও পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, মব সন্ত্রাসের বিষয়ে কোনো ছাড় নেই। কিন্তু তারপরও থামানো যাচ্ছে না মব সন্ত্রাস। প্রতিদিনই নতুন নতুন ঘটনা সামনে আসছে। এতে জনমনে অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়টিও মানুষকে ভাবাচ্ছে।
প্রশ্ন উঠছে, মব ভায়োলেন্স থামানোর ব্যাপারে পুলিশ আসলে কতটা সক্রিয়। পাশাপাশি এ বাহিনীর সক্ষমতা কতখানি এ নিয়েও প্রশ্ন আছে। সরকারের পতনের আন্দোলনে পুলিশের ওপর দিয়ে যে বিপর্যয় গেছে, সেই ট্রমা কতখানি দূর হয়েছে আলোচনা আছে এ নিয়েও। অনেকের মতে, পুলিশ এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। নিরপেক্ষভাবে পুলিশের দায়িত্ব পালনের মতো রাজনৈতিক পরিস্থিতি আছে কি না, তা নিয়েও অনেক বিশ্লেষক কথা বলছেন। তাদের মতে, প্রতিদিনই যেসব মব ভায়োলেন্সের খবর আসছে এতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠছে।
অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোনদিকে যায়, এটি পুলিশের সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয়ে। যদিও প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে তাদের রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করার কথা। কিন্তু কয়েক যুগ ধরে পুলিশ রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিগত হাসিনা সরকারের নির্দেশনায় দায়িত্ব পালন করায় পুলিশের বিরুদ্ধে জনমনে ব্যাপকভাবে ক্ষোভ তৈরি হয়। এরই বিস্ফোরণ ঘটে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে। এখন জনগণের পক্ষে দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও পুলিশের কোনো ভূমিকা বা সিদ্ধান্ত কার বিরুদ্ধে যায়, তা নিয়ে ভেতরে ভেতরে উদ্বেগ রয়েছে। বর্তমান সরকার কত দিন ক্ষমতায় থাকবে এবং ভবিষ্যতে কোন সরকার ক্ষমতায় আসবে এ বিষযটিও তাদের বিবেচনায় রেখে কাজ করতে হয়। দেশের বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি ছাড়াও রাজনীতির মাঠে সক্রিয় আছেন জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বেশ কয়েকটি দল। এই দলগুলোর তৎপরতার দিকেও চোখ রেখে চলতে হচ্ছে পুলিশকে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই বাহিনীর সদস্যরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যাচ্ছেন।
কুমিল্লার মুরাদনগরে একই পরিবারের তিনজনকে হত্যা, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম থানায় হামলা চালিয়ে আসামি ছিনতাই ও পটিয়া থানায় হামলাসহ সম্প্রতি বেশ কিছু মব সন্ত্রাসের ঘটনায় চরম উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে সচেতন মহলে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মব ভায়োলেন্স বা ‘গণপিটুনির’ ঘটনায় কমপক্ষে ৯৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা- আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
অপরাধ বিশ্লেষকরা এসব ঘটনায় অনেক ক্ষেত্রেই পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্বল ভূমিকা বা তৎপরতার অভাবকে দায়ী করছেন। তাদের মতে, মব ভায়োলেন্স ঠেকাতে গিয়ে পুলিশ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করছে। বেশির ভাগ মব ভায়োলেন্সের ঘটনা ঘটছে রাজনৈতিক পক্ষ-বিপক্ষের মধ্যে। ফলে নির্বাচনে কোন দল ক্ষমতায় যাবে, কারা এখন মাঠে শক্তিশালী সেসব হিসাব কষছেন পুলিশের অনেকেই। অনেক ক্ষেত্রে আবার যথাযথ পদক্ষেপ নিতে গিয়ে পুলিশ নিজেরাও মব ভায়োলেন্সের শিকার হচ্ছে। নানা ‘ট্যাগ’ দিয়ে অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে তুলকালাম কাণ্ড ঘটানো হচ্ছে। এসব পরিস্থিতির কারণেও পুলিশ অনেক সময় দ্বিধাগ্রস্ত বা ধূম্রজালের মধ্যে পড়ছেন। ঘটনার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে তাদের কী করা উচিত বা কোনটি সঠিক- অনেক ক্ষেত্রেই তারা সেটি বুঝতে পারছে না।
এই প্রসঙ্গে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ নুরুল হুদা খবরের কাগজকে বলেন, ‘মব ভায়োলেন্স বেড়ে যাওয়ার নেপথ্যে মূলত পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্বল ব্যবস্থাপনা অনেকাংশে দায়ী। মব ভায়োলেন্স বা এই জাতীয় বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে যে ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা, সেটা আমরা দেখতে পাচ্ছি না। যারা কমান্ড বা নির্দেশনা দিয়ে থাকেন তারাও ঠিকমতো সেটা দিচ্ছেন না। আবার যারা নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেন, তারাও মাঠপর্যায়ে যথাযথ দায়িত্ব পালন করছেন না। ফলে মব ভায়োলেন্সের প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে। পুলিশকে আইন অনুসারে চলতে হবে। এসব বিষয়ে কঠোর অ্যাকশনের কোনো বিকল্প নেই।’
মব ভায়োলেন্সের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সম্পৃক্ততা বা যোগসূত্র টানছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করছেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে এই ধরনের পথ বেছে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি এসব বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল ভূমিকা দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা।
এই প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী খবরের কাগজকে বলেন, ‘এখন যা হচ্ছে সেগুলোকে আমি ব্যক্তিগতভাবে মব ভায়োলেন্স বলবো না। এগুলো মব ভায়োলেন্সের সংজ্ঞায় পড়ে না। এগুলো এক ধরনের রাজনৈতিক মব। এই মব অপরাধ ঠেকাতে বা রুখতে সরকারের মধ্যে আন্তরিকতার যথেষ্ট অভাব দেখা যাচ্ছে। যেটা সরকারের সংশ্লিষ্ট অনেকের বক্তব্যেও ফুটে উঠছে। পুলিশকে আগের সরকারও ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করতে দেয়নি, এখনো তেমনই অবস্থা রয়ে গেছে। এই মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকারকে এখনই কঠোর হতে হবে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিতে হবে বা আলোচনায় বসতে হবে। কঠোর বার্তা ও যথাযথ আইন প্রয়োগ ছাড়া এই পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব নয়।’
এদিকে মব ঠেকানো বা বড় সংকট নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ কতটুকু সক্ষম বা তাদের মনোবল কোন পর্যায়ে রয়েছে সে প্রশ্নও দাঁড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান কাঠামো বাংলাদেশ পুলিশ এখনো সেভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, পুলিশও হরহামেশা প্রতিনিয়ত মব ভায়োলেন্সের শিকার হচ্ছে। তারাও মব সন্ত্রাস থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। গত ছয় মাসে পুলিশের ওপর দুই শতাধিক হামলা বা মব ভায়োলেন্সের ঘটনা ঘটেছে।
এই প্রসঙ্গে সামাজিক অপরাধ বিশেষজ্ঞ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক খবরের কাগজকে বলেন, ‘৫ আগস্ট পরবর্তী যেসব মব ভায়োলেন্সের ঘটনা ঘটেছে তার বেশির ভাগই রাজনৈতিক যোগসাজশে বা পূর্ব বিরোধের সূত্র ধরে। মব ভায়োলেন্সের মাধ্যমে সামাজিক অস্থিরতা যেমন বাড়ে, তেমনি মানুষের মৌলিক অধিকার, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ে। এই অবস্থায় বর্তমানে যা দেখা যাচ্ছে, সেখানে পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও এই জাতীয় পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পারছে না। পুলিশও কোনো কোনো সময় বিষয়গুলো রাজনৈতিক বিবেচনায় নিচ্ছে। অনেক সময় কী করবে সেটা নিয়েও দ্বিধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই পুলিশ শক্তভাবে ঘুরে না দাঁড়ালে সাধারণ মানুষের আস্থা আরও নষ্ট হয়ে যাবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা রাষ্ট্রকেই মানুষের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’
এ প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (গণমাধ্যম) ইনামুল হক সাগর খবরের কাগজকে বলেন, ‘মব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে পুলিশ সব সময়ই সজাগ ও সোচ্চার রয়েছে। যখনই অভিযোগ পাওয়া যায় তখনই পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে সবাইকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। পুলিশকে সহযোগিতা করাও নাগরিকের সামাজিক দায়িত্ব। কেউ কোনো বিষয়ে অপরাধী হয়ে থাকলে সেটা পুলিশকে জানান, পুলিশ যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু কোনোভাবেই আইনকে নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
মানবাধিকার সংস্থা- আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায়, ‘চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত গণপিটুনির ঘটনায় কমপক্ষে ৯৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। “গণপিটুনি বা ‘মব সন্ত্রাস’ একটি রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। রাষ্ট্র যদি এই ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ না করে তাহলে নিশ্চিতভাবেই এ দায় রাষ্ট্রের ওপর বর্তায় এবং উচ্ছৃঙ্খল ও বর্বরতাকে আশ্রয় দেয় বলে বিবেচিত হয়। চলমান এই সহিংসতা রুখতে রাষ্ট্রকে এখনই কার্যকর, কঠোর এবং দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে।”
এদিকে পটিয়া থানা, পাটগ্রাম থানা, ফরিদপুরে ব্যবসায়ী এ কে আজাদের বাসভবনে হামলা, কুমিল্লার মুরাদনগরে বাড়ি ঘেরাও করে পিটিয়ে মা-ছেলেসহ অনেককে হত্যাসহ নারী-শিশু নিপীড়নের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। গত শুক্রবার বাম জোটের নেতারা যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘সরকারের প্রেস সচিব যেভাবে মবকে প্রেশার গ্রুপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং তথ্য উপদেষ্টা যেভাবে মবকে গণআদালত, গণজাগরণ মঞ্চসহ অন্যান্য গণআন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করেছেন এতে করে জনমনে প্রশ্ন উঠতে পারে যে, তাহলে সরকার কি মবকে প্রশ্রয় দিচ্ছে?’
তথ্য বিশ্লেষণে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার কুমিল্লার মুরাদনগরের কড়ইবাড়ি গ্রামে একদল লোক মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে রোকসানা আক্তার রুবি, তার ছেলে রাসেল মিয়া ও মেয়ে জোনাকি আক্তারকে নিজ বাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে রাস্তায় ফেলে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। এই ঘটনায় র্যাব গতকাল পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তার আগে গত ২৬ জুন রাতে মুরাদনগরে একটি গ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ফজর আলী নামে এক ব্যক্তি আটক ও পিটুনির শিকার হয়। কিছু ব্যক্তি ওই ভুক্তভোগীর ভিডিও ধারণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়। এ ঘটনাতেও জড়িত একাধিক আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে।
অপরদিকে গত ১ জুলাই রাতে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে পটিয়ার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার এলাকায় ছাত্রলীগের এক কর্মীকে আটক করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যরা। পরে তাকে থানায় নিয়ে গেলে কোনো মামলা না থাকায় পুলিশ শুরুতে গ্রেপ্তার করতে অস্বীকৃতি জানায়। এ নিয়ে বিপুল লোকজন জড়ো হয়ে থানা ঘেরাওসহ ওসিকে অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। একপর্যায়ে ২ জুলাই রাতে রাতে ওসিকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়।
গত বুধবার রাতে পাটগ্রাম থানায় হামলা চালিয়ে সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামিকে থানা থেকে জোর করে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার আগের রাতে মঙ্গলবার রাজধানীর মহাখালীর জাকারিয়া হোটেলে দল বেঁধে ঢুকে দুই নারীর ওপর হামলা করেন যুবদলের নেতা-কর্মীরা। বনানী থানা যুবদলের আহ্বায়ক মনির হোসেনের নেতৃত্বে এই হামলার ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার ভিডিও প্রকাশ হলে দল থেকে মনির হোসেনকে বহিষ্কারসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতেও অনুরোধ জানায় বিএনপি।
এর আগে সাবেক সিইসি কে এম নূরুল হুদার গলায় জুতার মালা পরানো এবং লালমনিরহাটে সংখ্যালঘু বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে হেনস্তা, ধানমন্ডিতে হাক্কানী পাবলিশার্সের মালিককে মব সৃষ্টির মাধ্যমে হেনস্তার ঘটনাগুলোয় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।