ঢাকা ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, রোববার, ২৬ মে ২০২৪

ছয় তরুণের প্রথম

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৪, ১১:৫০ এএম
ছয় তরুণের প্রথম
ছবি : সংগৃহীত

কয়েক দিন ধরে বিশ্বকাপ দল নিয়ে ডানা মেলেছিল নানা ধরনের গুঞ্জন। শেষ পর্যন্ত সব গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে গতকাল ঘোষণা করা হয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন বিশ্বকাপ দলে ডাক পান ১৫ স্বপ্ন সারথি। সেই দলের ৬ জন প্রথমবারের মতো খেলবেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। বাকি ৯ জনের অভিজ্ঞতা আছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার। খেলেছেন অন্তত একটি করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বিমান ধরছেন তাওহিদ হৃদয়, রিশাদ হোসেন, তানজিম হাসান সাকিব, তানজিদ হাসান তামিম, জাকের আলী অনিক ও তানভীর ইসলাম।

বিশ্বকাপের সবগুলো আসরে খেলার অভিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ সাকিব আল হাসান। ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মার মতো নিজের ৯ম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে নামবেন। অভিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ সাকিব যেমন আছেন বাংলাদেশ দলে তেমনি আছে নতুন মুখও। স্কোয়াডে জায়গা পাওয়া ছয় ক্রিকেটার প্রথমবার খেলতে নামবেন টি-টোয়েন্টির বিশ্ব আসরে। এই ছয় জনের মধ্যে যে কোনো ফরম্যাটে বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতা আছে তাওহিদ হৃদয়, তানজিম হাসান সাকিব ও তানজিদ হাসান তামিমের। এই তিন ক্রিকেটার ছিলেন সবশেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপের দলে। ফলে তাদের জন্য একদমই নতুন অভিজ্ঞতা বলা যায় না। তবে জাকের আলী অনিক, রিশাদ হোসেন ও তানভীর ইসলামের জন্য বিশ্বকাপে খেলাটা হবে নতুন অভিজ্ঞতা।

বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেয়ে বাঁহাতি স্পিনার তানভীর ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘কিছু বলার মতো পাচ্ছি না। চেষ্টা থাকবে একাদশে সুযোগ পেলে ভালো কিছু করার।’ বিশ্বকাপের আগে জিম্বাবুয়ে সিরিজে খেলা দুই ম্যাচে তার শিকার ছিল এক উইকেট। সব মিলিয়ে মাত্র চার আন্তর্জাতিক ম্যাচের খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে বিশ্বকাপে যাচ্ছেন তিনি। বিশ্বকাপের আগে জাকেরের সম্বল ১১ ম্যাচের অভিজ্ঞতা। রিশাদ বিশ্বকাপের বিমান ধরবেন ১৪ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে। জাকের, রিশাদ ও তানভীরের মতো প্রথমবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যাচ্ছেন তাওহিদ হৃদয়, তানজিম হাসান সাকিব ও তানজিদ হাসান তামিম। তিনজন প্রথমবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াডে ডাক পেলেও বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব করার অভিজ্ঞতা তাদের আছে। তিনজনই খেলেছেন সবশেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপে। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৯ ম্যাচ খেলেছেন তাওহিদ হৃদয়। এ ছাড়া তানজিদ তামিম খেলেছেন ৫ ও তানজিম সাকিব খেলেছেন ৪ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ।

তরুণ ছয় ক্রিকেটারের মধ্যে ১০-এর বেশি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে শুধু জাকের, রিশাদ ও তাওহিদ হৃদয়ের। বাকি তিনজন খেলেছেন ১০-এর কম ম্যাচ। সবচেয়ে কম ৪ টি-টোয়েন্টি করে ম্যাচ খেলেছেন তানভীর ইসলাম ও তানজিম সাকিব। তারা বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ডাক পেয়েছেন সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায়। এ ছাড়া তারা নিজ নিজ দলের হয়ে উজ্জ্বল ছিলেন সবশেষ বিপিএলেও।

ছয় তরুণের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারেও ভরপুর বাংলাদেশের স্কোয়াড। ৫০-এর বেশি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে বিশ্বকাপে যাচ্ছেন ৬ ক্রিকেটার। তারা হলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (১২৮), সাকিব আল হাসান (১১৯), মোস্তাফিজুর রহমান (৯০), লিটন দাস (৮০), সৌম্য সরকার (৮০) ও তাসকিন আহমেদ (৬১)। বাকি তিন ক্রিকেটার শেখ মাহেদি, শরিফুল ইসলাম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর অভিজ্ঞতা যথাক্রমে ৪৭, ৩৯ ও ৩৬ ম্যাচ। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে কম ৩৬ ম্যাচ খেলা শান্তর কাঁধে থাকবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব। ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতার এই ভারসাম্য বলে দেয় মোটেও অপ্রস্তুত কোনো দলকে নিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে নামবে না বাংলাদেশ। অভিজ্ঞ ও নতুনত্বে ভরপুর লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা বিশ্বকাপে সমর্থকদের কেমন ফল উপহার দেন সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

ওয়ালটন-বিএসপিএ স্পোর্টস কার্নিভাল বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ মজিবুর রানার আপ চঞ্চল

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৩:৫৯ পিএম
বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ মজিবুর রানার আপ চঞ্চল
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসপিএ) বার্ষিক আন্তঃক্রীড়া উৎসব ‘ওয়ালটন-বিএসপিএ স্পোর্টস কার্নিভাল-২০২৪’ এর সমাপনী অনুষ্ঠান রবিবার বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন ভবনের ডাচ বাংলা ব্যাংক অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এবার ৭টি ডিসিপ্লিনের ১৩টি ইভেন্টে শতাধিক বিএসপিএ সদস্য অংশ নেন। প্রতিবারের মতো এবারও সেরা খেলোয়াড়দের মধ্য থেকে বেছে নেওয়া হয়েছে বিএসপিএ স্পোর্টস ম্যান অব দ্য ইয়ার ২০২৪। এই পুরস্কার জিতেছেন দৈনিক স্পষ্টবাদীর মজিবুর রহমান। তার হাতে তুলে দেওয়া হয় আব্দুল মান্নান লাডু ট্রফি ও অর্থ পুরস্কার। প্রথম রানারআপ হয়েছেন দৈনিক খবরের কাগজের মাহমুদুন্নবী চঞ্চল এবং দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন দৈনিক জনকণ্ঠের রুমেল খান।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন গ্রুপের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এফএম ইকবাল বিন আনোয়ার ডন ও সিনিয়র ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর রবিউল ইসলাম মিল্টন।

এছাড়া জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত ফুটবলার আব্দুল গাফফার ও জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু উপস্থিত ছিলেন। বিএসপিএ সাধারণ সম্পাদক মো. সামন হোসেনের সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসপিএ সভাপতি রেজওয়ান উজ জামান রাজিব।

৭০০ উইকেট ও ১৪০০০ রানের রেকর্ড একমাত্র সাকিবের

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ১১:৩৪ এএম
৭০০ উইকেট ও ১৪০০০ রানের রেকর্ড একমাত্র সাকিবের
ছবি : সংগৃহীত

সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রকে ১০ উইকেটে হারিয়ে হোয়াইটয়াশ এড়িয়েছে বাংলাদেশ দল। সে ম্যাচে অনন্য এক কীর্তি গড়েছেন সাকিব আল হাসান। কাল যুক্তরাষ্ট্রের ওপেনার আন্দ্রেস গাউসের উইকেট নিয়ে ৪৬ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন সাকিব আল হাসান। সেই উইকেট লাভের মাধ্যমে একটি কীর্তিও গড়েছেন তিনি। সেই উইকেট লাভের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শিকার করেছেন ৭০০তম উইকেট।

৭০০ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাকিবের আছে সব সংস্করণ মিলিয়ে ১৪ হাজারেরও বেশি রান। একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে এই ডাবল মাইলফলক স্পর্শ করেছেন এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।

তিন সংস্করণ মিলিয়ে বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে ৭০০ উইকেট নেওয়া সাকিব ক্রিকেটবিশ্বে ১৭তম বোলার হিসেবে এই ক্লাবে প্রবেশ করেছেন। স্পিনারদের মধ্যে সপ্তম, তবে বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে সাকিব দ্বিতীয়। বাঁহাতি স্পিনারদে মধ্যে তার আগে এই কীর্তি গড়েছেন শুধুই ড্যানিয়েল ভেট্টরি। তার ঝুলিতে থাকা ৭০৫টি উইকেট টপকে যাওয়া সহজ ব্যাপার এখন সাকিবের জন্য। 

ওয়ানডেতে সাকিবের শিকার ৩১৭ উইকেট, টেস্টে ২৩৭ ও টি-টোয়েন্টিতে ১৪৬। ওয়ানডেতে সাকিবের রান ৭৫৭০, টেস্টে ৪৫০৫ ও টি-টোয়েন্টিতে রান করেছেন ২৪৪০।

বার্নাব্যুতে ক্রুসের আবেগঘন বিদায়

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ১১:০৩ এএম
বার্নাব্যুতে ক্রুসের আবেগঘন বিদায়
ছবি : সংগৃহীত

গত সপ্তাহে টনি ক্রস ঘোষণা দিয়েছিলেন এই মৌসুম শেষে ইতি টানতে যাচ্ছেন রিয়াল মাদ্রিদ অধ্যায়ের আর ইউরো শেষে নিজের গোট ফুটবল ক্যারিয়ারের।। এমন ঘোষণার পর স্বাভাবিকভাবেই রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে মাদ্রিদের ম্যাচ নিয়ে আগ্রহের কমতি ছিল না সমর্থকদের মাঝে। কেননা এটিই হতে যাচ্ছে রিয়ালের জার্সিতে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ক্রুসের শেষ ম্যাচ।

ঘরের মাঠে ক্রুসের বিদায়টা অনেক আবেগপ্রবণ হওয়ার পাশাপাশি তা স্মরণীয় করে রাখতে চাইবে ক্লাব ও ক্লাবের খেলোয়াড়রা এটা ছিল অনুমেয়।

গার্ড অব অনার থেকে শুরু করে শূন্যে ছুড়ে অভিবাদন জানানো সবই পালন করে স্মরণ করে রাখা হয়েছে ক্রুসের বিদায়। গেল এক দশক ধরে রিয়ালের মাঝমাঠের দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে সামলে নিয়েছিলেন এই জার্মান ফুটবলার। ম্যাচ শেষে রিয়াল কোচ কার্লো আনচেলত্তি এই বিদায় নিয়ে বলেন, ‘বার্নাব্যু টনি ক্রুসকে সেভাবে বিদায় দিয়েছে, যা তার প্রাপ্য।’

রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে ম্যাচটিতে গ্যালারিতে সমর্থকরা তার নাম ধরে বারবার চিৎকার করেছে। মাঠে নামার সময় গার্ড অব অনার দিয়েছেন দুই দলের খেলোয়াড়েরা। এ সময় রিয়ালের সব খেলোয়াড়দের গায়ে ছিল ক্রুস লেখা ৮ নম্বর জার্সি। মাঠের দক্ষিণ পাশে লাগানো ছিল ক্রুসের ছবি আঁকা বিশাল এক ব্যানার। যেখানে উল্লেখ করা ছিল রিয়ালের হয়ে ক্রুসের ২২টি ট্রফি জেতার কথাও। তার ঠিক পাশেই আরেকটি ব্যানারে লেখা ছিল, ‘ধন্যবাদ তোমাকে, কিংবদন্তি।’

ম্যাচের ৮৭তম মিনিটে তাকে তুলে নেওয়ার সময় আবারও দেখা যায় একই দৃশ্যের। মাঠে ও ডাগআউটে থাকা দুই দলের খেলোয়াড়রা তাকে হাততালি দিয়ে বিদায় জানান। সেই বিদায়ের জবাব ক্রুসও দেন হাততালি দিয়ে। মাঠে ছেড়ে সন্তানদের কাছে যাওয়ার পর সবচেয়ে আবেগপ্রবণ দৃশ্যটি দেখা যায়।  অঝোরে কাঁদতে থাকা মেয়েকে জড়িয়ে ধরে নিজেও কেঁদে দেন ক্রুস। পরে তিনি বলেন, ‘আমার সন্তানদের প্রতিক্রিয়া আমাকে ভেঙেচুরে দিয়েছে। আমি শুধু বলতে পারি, রিয়াল মাদ্রিদ।’

প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ক্রুস আরও বলেছেন, ‘বিদায় বলাটা সহজ নয়। আমি রিয়াল মাদ্রিদকে ধন্যবাদ দিতে চাই। আমি এখানে আমার ১০ বছর উপভোগ করেছি। রিয়াল মাদ্রিদ আমার ঘর।’ 

বার্নাব্যুর যাত্রা শেষ হলেও রিয়ালের জার্সিতে পথচলা শেষ হয়নি ক্রুসের। ওয়েম্বলিতে আগামী ১ জুন রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের মুখোমুখি হবে রিয়াল। সেই ম্যাচ খেলে তুলে রাখবেন তিনি রিয়ালের জার্সি।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৪ দক্ষিণ আফ্রিকার দৌড় ‘সেমিফাইনাল’

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ১০:৩৬ এএম
দক্ষিণ আফ্রিকার দৌড় ‘সেমিফাইনাল’
ছবি : সংগৃহীত

নির্বাসন থেকে ফিরে ১৯৯২ বিশ্বকাপ দিয়ে শুরু। দোর্দণ্ড দাপট দেখিয়ে সেমিফাইনালে উঠে এলেও ফাইনালের মঞ্চ দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য বরাবরই যেন অস্পর্শ। আর সেটি হোক ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। বৈশ্বিক আসরে একাধিকবার সেমিফাইনালে উঠলেও প্রোটিয়াদের চিরকালীন দুঃখ যেন ফাইনালে না উঠতে পারা। সর্বশেষ গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে হট ফেভারিটের চালকের আসনে থেকেও শেষ চারে তাদের থমকে যেতে হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে। সব মিলিয়ে যেকোনো বৈশ্বিক আসরে চোকার্স তকমাটা আপন করে এগিয়ে চলছে আফ্রিকার দেশটি।

ওয়ানডে বিশ্বকাপের কথাই ধরা যাক। এই ফরম্যাটের বিশ্বকাপে পাঁচবার সেমিফাইনালে উঠেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু প্রতিবারই সঙ্গী হয়েছে হারের জ্বালা। এর মধ্যে তিনবারই প্রতিপক্ষ ছিল অস্ট্রেলিয়া। একবার করে নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড। ২০০৭ থেকে শুরু হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রতি আসরেই খেলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দুইবার সেমিফাইনালে উঠলেও ফাইনাল খেলা হয়নি। ২০০৯ সালে প্রথম সেমিফাইনাল। হারতে হয় সে আসরের চ্যাম্পিয়ন দল পাকিস্তানের কাছে। ২০১৪ বিশ্বকাপে আবার সেমিতে পা রাখলেও দক্ষিণ আফ্রিকার পথচলা শেষ হয় ভারতের কাছে হেরে।

এরপর টানা তিন বিশ্বকাপে সেমিতেই উঠতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। সর্বশেষ ২০২২ বিশ্বকাপে সুপার টুয়েলভ পর্বে ৫ ম্যাচে দুটি করে জয় ও হারে (এক ম্যাচ পরিত্যক্ত) ৫ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থাকায় সেমির টিকিট পাওয়া হয়নি। গ্রুপ টু থেকে প্রোটিয়াদের পেছনে ফেলে সেমিতে জায়গা করে নেয় ভারত ও পাকিস্তান। 

একটি জায়গায় দক্ষিণ আফ্রিকার বলার মতো কিছু রয়েছে। সেটি হলো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। ১৯৯৮ সাল থেকে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির যাত্রা শুরু। প্রথম আসরেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু পরের চার আসরে সেমিতে উঠলেও ফাইনালে ওঠা হয়নি। বৈশ্বিক সব আসরের হিসাবে দক্ষিণ আফ্রিকার একমাত্র শিরোপা এই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। বাকিগুলোতে শুধুই হতাশার গল্প।

নতুন নেতৃত্বে বিশ্বকাপ

আইসিসির টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে চতুর্থ অবস্থানে থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও উইন্ডিজ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দলে রয়েছে এক ঝাঁক তারকা ক্রিকেটার। সঙ্গে কিছু উদীয়মান। সব মিলিয়ে আশার পারদ বেশ তুঙ্গে। টেম্বা বাভুমার নেতৃত্বে গত বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলেছিল দ. আফ্রিকা। তবে এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বদলেছে নেতা। যেখানে দলকে নেতৃত্ব দেবেন এইডেন মার্করাম। টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর এটিই হবে তার প্রথম বিশ্বকাপ। 

দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপ দলে রয়েছে তরুণ দুই ক্রিকেটার। যাদের এখনো টি-টোয়েন্টিতে অভিষেকই হয়নি। তারা হলেন রায়ান রিকেলটন এবং ওটনিয়েল বার্টম্যান। রায়ান রিকেলটন দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয় এস২০-এর দ্বিতীয় আসরে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন। এমআই কেপটাউনের হয়ে ৫৮.৮৮ গড়ে ৫৩০ রান করেছিলেন তিনি। অন্য দিকে বার্টম্যান সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপের হয়ে ৮ ম্যাচে শিকার করেন ১৮ উইকেট। 

এই দুজন ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রেই অভিজ্ঞতার দাম দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। অভিজ্ঞ ওপেনার কুইন্টন ডি কক, রিজা হেনড্রিকস, হেনরিখ ক্লাসেন, ডেভিড মিলার আছেন অনুমিতভাবে। আইপিএলে দুর্দান্ত পারফর্ম করা ত্রিস্টান স্টাবস অবধারিতভাবেই জায়গা ধরে রেখেছেন দলে। রয়েছেন চার পেসার কাগিসো রাবাদা, মার্কো জানসেন, জেরাল্ড কোয়েটজি এবং আনরিখ নরকিয়া। স্পিনার হিসেবে কেশব মহারাজ এবং তাবরিজ শামসির সঙ্গী বোরন ফরটুইন। রিজার্ভ বেঞ্চে আছেন নান্দ্রে বার্গার এবং লুঙ্গি এনগিডি। 
দল নির্বাচনে বর্ণবাদ ইস্যু 

১৫ সদস্যের দলে একমাত্র কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকান পেসার কাগিসো রাবাদা। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার একাদশ সাজানোর নিয়ম অনুসারে, অন্তত দুজন কৃষ্ণাঙ্গ ক্রিকেটার রাখতে হবে। তবে এবারের বিশ্বকাপে নিয়মটি মানার সুযোগ নেই। দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ক্রীড়ামন্ত্রী ফিকিলে এমবালুলা দল নিয়ে তাই প্রশ্ন তুলেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ড ও আইসিসির সাবেক প্রেসিডেন্ট রে মালি এই দলকে বলেছেন ‘অগ্রহণযোগ্য’।

একাদশ সাজানোর ক্ষেত্রে কৃষ্ণাঙ্গ ও মিশ্রবর্ণের খেলোয়াড়দের উপস্থিতি নিশ্চিতের জন্য অলিখিত একটি নিয়ম মানতেন দক্ষিণ আফ্রিকার নির্বাচকরা। ২০১৬ সাল থেকে ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা (সিএসএ) বিষয়টিকে লিখিত নিয়মের আওতায় নিয়ে আসে। 

সেই নিয়ম অনুসারে দলে ছয়জন মিশ্রবর্ণের ক্রিকেটার থাকবেন, যার মধ্যে দুজনকে হতে হবে কৃষ্ণাঙ্গ। বাকি পাঁচ ক্রিকেটার হবেন শ্বেতাঙ্গ। দক্ষিণ আফ্রিকার এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে মিশ্রবর্ণের ক্রিকেটার আছেন ৬ জন- কাগিসো রাবাদা, রিজা হেনড্রিকস, বোরন ফরটুইন, কেশব মহারাজ, তাবারিজ শামসি, ওটনিল বার্টম্যান। এর মধ্যে রাবাদাই শুধু কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকান। রিজার্ভ হিসেবে আছেন আরেক কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকান লুঙ্গি এনগিডি। অর্থাৎ একাদশে দুই কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকান খেলার কোনো সুযোগ নেই।

৩ জুন মিশন শুরু

আসন্ন বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার অবস্থান ডি গ্রুপে। যেখানে বাকি প্রতিপক্ষ হলো শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, নেপাল ও নেদারল্যান্ডস। প্রতি গ্রুপ থেকে দুটি করে দল যাবে সুপার এইটে। সে ক্ষেত্রে গ্রুপ পর্ব পার হতে প্রোটিয়াদের তেমন বেগ পেতে হবে না। চ্যালেঞ্জ জমা থাকবে সুপার এইটের জন্য। ডি গ্রুপের উদ্বোধনী ম্যাচেই ৩ জুন নিউইয়র্কে দক্ষিণ আফ্রিকা মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কার। এরপর ৮ জুন নেদারল্যান্ডস, ১০ জুন বাংলাদেশ ও ১৪ জুন নেপালের বিপক্ষে মাঠে নামবে মার্করাম শিবির।  

প্রথম টি-টোয়েন্টি: ২১ অক্টোবর ২০০৫, প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড

ম্যাচ: ১৭৪

জয়: ৯৬

হার: ৭৪

টাই: ১

পরিত্যক্ত: ৩

র্যাঙ্কিং: ৪

এইডেন মার্করাম: অধিনায়ক 

তরুণ-অভিজ্ঞ মিলে আমাদের বিশ্বকাপ স্কোয়াড বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। বিশ্বকাপে আমাদের লক্ষ্য বড়। তবে আমরা ধাপে ধাপে এগোতে চাই। গ্রুপ পর্বটা দাপটের সঙ্গে পার হতে পারলে আত্মবিশ্বাসটা বাড়বে। দারুণ একটা মিশনের অপেক্ষায় আছি।  


বিশ্বকাপ স্কোয়াড : এইডেন মার্করাম (অধিনায়ক), ওটনিয়েল বার্টমেন, জেরাল্ড কোয়েটজে, কুইন্টন ডি কক, বোরন ফরটুইন, রেজা হেনড্রিকস, মার্কো জানসেন, হেইনরিখ ক্লাসেন, কেশভ মহারাজ, ডেভিড মিলার, এনরিখ নরকিয়া, কাগিসো রাবাদা, রায়ান রিকেলটন, তাবারিজ শামসি, ত্রিস্টান স্টাবস।
ট্রাভেলিং রিজার্ভ: নান্দ্রে বার্গার, লুঙ্গি এনগিডি।

মোস্তাফিজ কৃতিত্বে বাংলাদেশের নতুন রেকর্ড

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০১:২০ এএম
মোস্তাফিজ কৃতিত্বে বাংলাদেশের নতুন রেকর্ড
ছবি : সংগৃহীত

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে ৬ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন মোস্তাফিজুর রহমান। তার রেকর্ডের দিনে রেকর্ড বুকে নতুন করে নাম লেখায় বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে ১০ উইকেটের জয় তুলে নেয় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচ হারের লজ্জা পাওয়া টাইগাররা যেন ছিল ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া। তারই স্পষ্ট প্রমাণ যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ব্যাটে-বলে সমান দাপট দেখানো। বল হাতে স্বাগতিক মার্কিনিদের ১০৪ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৫০ বল ও ১০ উইকেট হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

রেকর্ড জয়ের দিনে ব্যাটিংয়ে সামান্য ভুলও করেনি বাংলাদেশ। দুই পরিবর্তন নিয়ে সাজানো টাইগার একাদশে ছিলেন তিন ওপেনার। জাকের আলী অনিকের জায়গায় লিটন দাসকে ফেরানো হলেও নামানো হয়নি ওপেনিংয়ে। আগের ম্যাচের ওপেনিং জুটি সৌম্য সরকার ও তানজিদ তামিমই ইনিংসের গোড়াপত্তন করেন। শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলা সৌম্য-তানজিদ ছিলেন সাবধানী। ছোট লক্ষ্যে খেলতে থাকা দুই ওপেনার দলের জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন। তানজিদ ক্যারিয়ারের তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরির দেখা পান। অপরাজিত থাকেন ৫৮ রানে। আরেক ওপেনার সৌম্য খেলেন ২৮ বলে ৪৩ রানের ইনিংস। তার ১৫৩.৫৭ স্ট্রাইক রেটের ইনিংসে ছিল চার ৪ ও ২ ছক্কা। অন্য দিকে তানজিদ হাঁকান পাঁচ ৪ ও ৩ ছক্কা।

ব্যাটিংয়ের দাপটের আগে বল হাতে স্বাগতিকদের ওপর ছড়ি ঘোরায় বাংলাদেশ। চার পরিবর্তন নিয়ে একাদশ সাজানো যুক্তরাষ্ট্র টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকে ছিল আগ্রাসী। অধিনায়ক মোনাঙ্ক প্যাটেল সাইড বেঞ্চে বসায় এদিন অধিনায়কের দায়িত্ব ছিল অ্যারন জোন্সের হাতে। পাশাপাশি পরিবর্তন আসে ওপেনিং জুটিতেও। নতুন ওপেনিং জুটিতে নামা আন্দ্রিস গোয়েস ও শায়ান জাহাঙ্গীর প্রথম ২৯ বলে স্কোর বোর্ডে যোগ করেন ৪৬। এর পরই ধসের শুরু। ৫ম ওভারের শেষ বলে সাকিব আল হাসানের বলে গোয়েস ফিরলে ভাঙে এই জুটি। পরের ওভারে ফেরেন আরেক ওপেনার শায়ান জাহাঙ্গীর। তাকে ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান। এরপর আর বড় কোনো জুটি গড়তে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। মোস্তাফিজের বোলিং তোপে একের পর এক মার্কিন ব্যাটার ফেরেন প্যাভিলিয়নে। জাহাঙ্গীরের পর ফেরান নীতিশ কুমাল, শ্যাডলি ফন স্কয়কয়ক, কোরি অ্যান্ডারসন, জাসদ্বীপ সিং ও নিসর্গ প্যাটেল। তাতে এই বাঁহাতি পেসারের বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৪-১-৯-৬। মোস্তাফিজের বোলিং তোপে যুক্তরাষ্ট্র থামে ১০৪ রানে। দলীয় সর্বোচ্চ ২৭ রান আসে আন্দ্রিস গোয়েসের ব্যাটে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮ রান করেন শায়ান জাহাঙ্গীর ও কোরি অ্যান্ডারসন।

ম্যাচে ৬ উইকেট নেওয়া মোস্তাফিজ করেন নিজের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। শুধু তাই নয়, টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে এটাই সেরা বোলিং ফিগার। মোস্তাফিজের আগে এই রেকর্ড ছিল বাঁহাতি স্পিনার ইলিয়াস সানির দখলে। ২০১২ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে ১৩ রানে ৫ উইকেট নেন ইলিয়াস। এ ছাড়া কিপটে বোলিংয়ে রেকর্ড গড়েন রিশাদ হোসেন। ৪ ওভারে ৭ রান খরচায় নেন ১ উইকেট। তার ইকোনমি ছিল ১.৭৫। এর আগে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে কম ইকোনমি ছিল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। ২০১৪ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে রিয়াদ ৪ ওভারে দেন ৮ রান।