ঢাকা ১ আষাঢ় ১৪৩১, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪

শর্তসাপেক্ষে আজ থেকে সাদা পাথর পর্যটন কেন্দ্র চালু

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৪, ০১:১২ পিএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৪, ০১:১২ পিএম
শর্তসাপেক্ষে আজ থেকে সাদা পাথর পর্যটন কেন্দ্র চালু
ছবি: খবরের কাগজ

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর পর্যটন কেন্দ্র ৭ দিন বন্ধ থাকার পর শর্তসাপেক্ষে আবারও চালু হচ্ছে। 

বৃহস্পতিবার (৬ জুন) উপজেলার পর্যটন উন্নয়ন কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। 

সভায় শর্তসাপেক্ষে শুক্রবার (৭ জুন) থেকে আবারও পর্যটকদের জন্য সাদা পাথর পর্যটন কেন্দ্র চালু করার সিদ্ধান্ত হয়। 

এর আগে বন্যা পরিস্থিতির কারণে সাদা পাথর তলিয়ে যাওয়ায় গত ৩০ মে পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনজিত কুমার চন্দের সভাপতিত্বে সভায় পর্যটক ও মাঝিসহ সংশ্লিষ্ট সবার জন্য নির্দেশনাগুলো মেনে চলার অনুরোধ করা হয়।

নির্দেশনাগুলো হলো- সব নৌকায় লাইফ জ্যাকেট থাকতে হবে এবং লাইফ জ্যাকেট পরিয়ে নৌকাঘাট থেকে নৌকা ছাড়তে হবে। পর্যটকরা পানিতে নামতে পারবেন না। ভরা বর্ষা মৌসুমে পর্যটকরা শিশু ও বাচ্চাদের নিয়ে না আসার পরামর্শ। নৌকায় উঠে হই-হুল্লুড় করা যাবে না। মাঝিরা পর্যটকদের সঙ্গে সর্বদা ভালো আচরণ করবেন। আবহাওয়া পরিস্থিতির অবনতি হলে পর্যটন কেন্দ্র পুনরায় বন্ধ থাকবে।

নির্দেশনাগুলো না মানার কারণে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না বলে সভায় জানানো হয়।

শাকিলা ববি/ইসরাত চৈতী/

ফল পর্যটন

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৪, ১২:৩৪ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৪, ১২:৪৬ পিএম
ফল পর্যটন
নরসিংদীর লটকন বাগানে

বাংলাদেশ ফলের দেশ। বিভিন্ন ঋতুতে নানান রকম ফল পাওয়া যায় দেশে। বাংলাদেশে ফলের মাস জ্যৈষ্ঠ। এ মাসে যত ফলের সমাহার দেখা যায়, অন্য কোনো মাসে এত ফল পাওয়া যায় না। এ মাসে যেসব ফল পাওয়া যায়, সেগুলোর মধ্যে প্রধান হচ্ছে আম। তারপর কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, লটকন ইত্যাদি।

 দেশের একেক অঞ্চল একেক ফলের জন্য বিখ্যাত। যেমন আমের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরা, রাজশাহী, নাটোর, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, রংপুর, রাঙামাটি, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ইত্যাদি। লিচুর জন্য বিখ্যাত পাবনা, দিনাজপুর, রাজশাহী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, যশোর, পঞ্চগড়।

আর বাণিজ্যিকভাবে কাঁঠাল উৎপাদনে বিখ্যাত জেলাগুলো হলো- গাজীপুর, ঢাকা, টাঙ্গাইল, নরসিংদী, কুষ্টিয়া, রাঙামাটি, চট্টগ্রাম ইত্যাদি। বরিশাল, ঝালকাঠী, পিরোজপুর, যশোর, পাবনা, গাজীপুর, কুমিল্লা, রংপুর, নাটোর, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি হচ্ছে পেয়ারার জন্য প্রসিদ্ধ। এই বর্ষায় টক ও মিষ্টি স্বাদের লটকন না হলে ফলাহার কিন্তু পরিপূর্ণ হয় না। লটকনের জন্য প্রথমেই নরসিংদী জেলার নাম আসে। কলার জন্য বিখ্যাত মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, বগুড়া, রংপুর, জয়পুরহাট, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর। আর আনারস বলতেই সিলেট, টাঙ্গাইল, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও নরসিংদীর নাম আসে।

ফল মৌসুমে আম বাগানে প্রচুর পর্যটন  যায় 

তবে দেশে বাণিজ্যিকভাবে ফল উৎপাদন অনেক গুণে বেড়েছে। বেড়েছে ফলের বাগান। ব্যক্তি উদ্যোগে দেশের অনেক পরিত্যক্ত জায়গায় ফল বাগান করে দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন অনেকেই। কেউ কেউ আবার মিশ্র ফলের বাগান করে তৈরি করছেন ব্যতিক্রম দৃষ্টান্ত।

শারীরিক পুষ্টির পাশাপাশি ফল কিন্তু মানসিক প্রশান্তিও তৈরি করতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফল বাগানভিত্তিক পর্যটন গড়ে উঠেছে। যদিও আমাদের দেশে এটা এখনো নতুন ও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আমাদের দেশে পর্যটন বলতেই আমরা বুঝি দৃষ্টিনন্দন বা ঐতিহাসিক কিংবা বিখ্যাত কোনো স্থানে ঘোরাঘুরি। তবে পরিকল্পিত ফলবাগানও হতে পারে সুন্দর পর্যটনকেন্দ্র। ফল বাগান পর্যটনে টাটকা ফলের স্বাদ যেমন পাওয়া যায়, তেমনি পর্যটনের মাধ্যমে মানসিক প্রশান্তিও হয়।

ফল পর্যটনে গিয়ে নিজের হাতে গাছ থেকে টাটকা ফল পেড়ে খাওয়ার যে আনন্দ ও তৃপ্তি, সেটা কি বাজার থেকে কিনে নিয়ে ফল খাওয়ার মধ্যে আছে? নেই। আর নেই বলেই বাংলাদেশেও দিন দিন ফল পর্যটন জনপ্রিয় হচ্ছে। যদিও দেশে ফল পর্যটন এখন অবধি প্রাতিষ্ঠানিক সে রূপ এখনো পায়নি। তবে যেভাবে ফল বাগানে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ছে, তাতে বাংলাদেশে পর্যটনের নতুন দিগন্ত তৈরি হচ্ছে নিশ্চিত।

সিলেটে চান মিয়ার আনারস বাগানে পর্যটন ভিড় লেগেই থাকে 

বাংলাদেশে ফল পর্যটনের সম্ভাবনা ব্যাপক। উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও ফল পর্যটনের কিছু উদাহরণ এর মধ্যেই তৈরি হয়েছে। যেমন- নরসিংদীর কিছু কিছু লটকন বাগানে এরকম সুযোগ পাওয়া যায়। নির্দিষ্ট টাকা দিয়ে যে কেউ বাগানে ঢুকে যত ইচ্ছে লটকন খাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। একইভাবে সিলেটের কয়েকটি আনারস বাগান, ঝালকাঠির পেয়ারাবাগানে এরকম পর্যটন শুরু হয়ে গেছে। তবে দেশের কোনো আমবাগানে এরকম পর্যটনের সুযোগ এখনো তৈরি হয়েছে বলে জানা নেই। আবার কিছু মিশ্র ফলের বাগানেও এরকম ফল পর্যটন শুরু হয়েছে।

ফল পর্যটন কেবল পর্যটন খাতই নয়, সমৃদ্ধ করতে পারে কৃষি খাতকেও। সিলেটে প্রায় ৮০০ পাহাড় ও টিলা রয়েছে। এসব পাহাড় বা টিলার বেশির ভাগই পতিত বা অনাবাদি হয়ে পড়ে রয়েছে। এসব পাহাড় ও টিলা কমলা এবং আনারস চাষের জন্য ভীষণ উপযোগী। এসব টিলা ও পাহাড়কে চাষের আওতায় এনে প্রচুর পরিমাণে ফল উৎপাদনের পাশাপাশি, ফল পর্যটনের সম্ভাবনাও তৈরি করা সম্ভব। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে ফল বাগান- দুয়ে মিলে পর্যটনের নতুন দৃষ্টান্ত হবে অবশ্যই। বিশেষজ্ঞদের মতে টিলায় চাষাবাদ প্রাণ ও প্রকৃতিবিরোধী নয়। টিলাধস ও ভূমিক্ষয়ের শঙ্কাও থাকে না। বরং সেখানকার মাটি আরও দৃঢ় ও মজবুত হয়।

পরিকল্পিত ফলের বাগান হতে পারে টিলা বাঁচানোর দারুণতম উদ্যোগ। কেবল সিলেট নয়, এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে দেশের তিন পার্বত্য জেলাও। ২০২৩ সালে শুধু রাঙামাটিতেই আম, কলা, আনারস, লিচু ও কাঁঠাল- এই পাঁচটি ফলের উৎপাদন হয়েছে ৪ লাখ ৭০ হাজার টন। যার বাজারমূল্য ছিল ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। শুধু মৌসুমি ফলের চাষ করেই এই তিন পার্বত্য জেলা থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। আর এর সঙ্গে পর্যটনের সম্ভাবনাও তৈরি হবে ফলের মৌসুমে।

এ জন্য প্রয়োজন সরকারি নীতিমালা ও উদ্যোগ। কিছু কিছু উদ্যোগ এর মধ্যে নেওয়া হয়েছে। তবে প্রয়োজন পরিকল্পিত উদ্যোগ, যাতে ফলের উৎপাদনের সঙ্গে পর্যটনের উন্নতি ঘটানো যায়। পর্যটন মৌসুমে শুধু নয়, তখন ওই পার্বত্য জেলাগুলোয় ফলের মৌসুমও হতে পারে পর্যটন মৌসুম।

 কলি

আমেরিকার রাস্তাঘাটে আছে চলার ভাও?

প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৪, ০১:৫০ পিএম
আপডেট: ৩১ মে ২০২৪, ০১:৫০ পিএম
আমেরিকার রাস্তাঘাটে আছে চলার ভাও?

আমেরিকার নাম শুনলেই কারেন্ট যে কই পাও!
আমেরিকার রাস্তাঘাটে আছে চলার ভাও? 
যাওয়ার দিকে আসার দিকে সাতটা করে লেন!
ধান্ধাটা কী? এইটার ওপর নামাইব নি প্লেন!
এক দৌড়ে ওপার যামু! চিন্তা করন যায়!
গাড়ির তলায় পড়তে বুঝি পাঠাইছে বাপ-মায়!
হাত তুললেই থামব গাড়ি, রাস্তা হমু পার
বাংলাদেশের মতন নিয়ম করবে কবে আর!

আমেরিকার সুনাম কইয়া মুখে ফুটাও খই!
রাস্তাঘাটে ছাত্তি মাথায় ট্রাফিক পুলিশ কই?
কী বুইঝ্যা যে আমেরিকায় আসার করো প্ল্যান!
রিকশা আছে? টেম্পো আছে? এইগুলা নাই ক্যান!
এরা কি আর বুঝতে পারে আমজনতার নিড!
এক্সেলেটর চাইপ্যা ধইরা বাড়ায় শুধু স্পিড!
উল্টা দিকে বইসা গাড়ি চালাইতেছে দেশ!
তোমরা থাকো কারেন্ট লইয়া, আমার কারেন্ট শেষ!

০৫/০৭/২০২৩
হিউস্টন, টেক্সাস

জাহ্নবী

সাইকেল পর্যটক

প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৪, ০১:৪৮ পিএম
আপডেট: ৩১ মে ২০২৪, ০১:৪৮ পিএম
সাইকেল পর্যটক
হেইঞ্জ স্টাক

সাইকেলে করে কি বিশ্ব ঘুরে দেখা সম্ভব? অবশ্যই সম্ভব। আর এই অসম্ভবকে অনেক দেশের অনেক মানুষই সম্ভব করেছেন। সাইকেলে পৃথিবী ঘুরে বেড়ানো তিন পর্যটকের গল্প শোনাচ্ছেন আহমেদ রিয়াজ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সোমেন দেবনাথ। তিনি সাইকেলে করেই চষে বেড়িয়েছেন পৃথিবীর দুই লাখ কিলোমিটার পথ। এই সুদীর্ঘ পথে প্রায় দুই কোটি মানুষের সঙ্গে তার দেখা হয়েছে।

সোমেনের বাড়ি ভারতের সুন্দরবনের বাসন্তি গ্রামে। এইচআইভি ভাইরাস সম্পর্কে বিশ্বের মানুষকে সতর্ক করার জন্য সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। দিনটা ছিল ২০০৪ সালের ২৭ মে। এর মাত্র দুই দিন আগে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণিবিদ্যায় ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ওদিকে সর্বভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও ফাইন আর্টসের ওপর একটা কোর্সও শেষ করেছেন।

পুষ্কর শাহ

শুরুতে ভারতীয় উপমহাদেশের দেশগুলো, এরপর এশিয়া হয়ে ইউরোপে যান সোমেন। এশিয়ার পর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য তারপর উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং অ্যান্টার্কটিকা ঘুরে অস্ট্রেলিয়া ও আসিয়ান দেশ ভ্রমণ শেষ করেন। এর মধ্যে তালেবানদের হাতে বন্দি হয়ে ১৫ দিন আটকও ছিলেন।
ঠিক ২২ বছর বয়সে ১৯৬২ সালে সাইকেলে চড়ে বিশ্ব ভ্রমণে বেরিয়ে যান জার্মানির হেইঞ্জ স্টাক। পৃথিবীর প্রত্যেকটা দেশ দেখার ইচ্ছে ছিল তার। সে কারণে ১৯৬২ সাল থেকে তিনি সাইকেলে করে ছুটেছেন দেশ থেকে দেশে। এর মধ্যে ১৯৬টা দেশ দেখেছেন। আর সাইকেল চালিয়েছেন ৬ লাখ নয় হাজার কিলোমিটারেরও বেশি। যে কারণে গিনিস বুক অব রেকর্ডেসে সবচেয়ে বেশি সাইকেল ভ্রমণকারী হিসেবে নাম লিখিয়েছেন। আর এই সুদীর্ঘ পথে নানান বিপদেও পড়তে হয়েছিল তাকে। চিলির আতাকামা মরুভূমিতে ট্রাকের ধাক্কায় ছিটকে পড়েছিলেন। হাইতিতে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে তাড়া করেছিল। মিসরে সৈন্যরা তাকে পিটিয়ে অজ্ঞান করে দিয়েছিল। ক্যামেরুণে গুপ্তচরবৃত্তির কারণে সেনাবাহিনী তাকে আটক করেছিল। মোজাম্বিকে একটি নদীতে গোসল করার সময় মৌমাছিরা আক্রমণ করেছিল। ১৯৯৭ সালে সাইবেরিয়ায় তার সাইকেলটি পঞ্চমবারের মতো চুরি হয়। যদিও সেগুলো পরে উদ্ধারও হয়েছিল।

সোমেন দেবনাথ

একটি সাইকেল, ৬০ কেজি ওজনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আর মায়ের কাছ থেকে পাওয়া ১০০ নেপালি রুপি নিয়ে যাত্রা শুরু করেন পুষ্কর শাহ। সময়টা ছিল ১৯৯৮ সালের নভেম্বর। শাহ দোলাখা জেলার ছোট্ট গ্রাম মাকাইবাড়ি থেকে পৃথিবী ঘুরতে বেরিয়ে পড়েন। তিনি নেপাল থেকে শান্তির বার্তা নিয়ে দেশে দেশে ঘুরতে শুরু করেন। আর যে দেশেই যেতেন, সে দেশের জাতীয় পতাকা সংগ্রহ করতেন।

ঘুরতে ঘুরতে নিউজিল্যান্ড গিয়ে স্যার এডমন্ড হিলারির সঙ্গে দেখা করেন পুষ্কর। এই সময় তার সাইকেলটি চুরি হয়ে যায়। বিষয়টা জেনে এডমন্ড হিলারি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং একটি নতুন সাইকেল কিনে দেন তাকে। ওদিকে বারবাডোসে গিয়ে আরেক দুর্ঘটনায় পড়েন। ঘুমন্ত পুষ্করের ওপর ছুরি হাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে এক ডাকাত। আর মেক্সিকোতে গিয়ে আরও বড় দুর্ঘটনায় পড়েছিলেন। তাকে অপহরণ করে ১৮০ কিলোমিটার দূরে জঙ্গলের গভীরে তাকে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। কিন্তু সহজে হার মানেননি পুষ্কর। অপহরণকারীদেরই আক্রমণ করে বসেন এবং সুযোগ বুঝে পালিয়ে আসেন।

যাই হোক, ১৫০টি দেশ ঘুরে ২০১০ সালে নেপাল ফিরে আসেন। ওই বছরের ৭ এপ্রিল তিনি ১৫০টি দেশের জাতীয় পতাকা নিয়ে মাউন্ট এভারেস্টে উঠতে শুরু করেন। ২০১০ সালের ১৭ মে মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় ওঠেন পুষ্কর।

জাহ্নবী

এভারেস্ট জয়ের চেয়েও কঠিন তহবিল জোগাড়: বাবর আলী

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ০৩:৩২ পিএম
আপডেট: ২৯ মে ২০২৪, ০৩:৩২ পিএম
এভারেস্ট জয়ের চেয়েও কঠিন তহবিল জোগাড়: বাবর আলী
ছবি : খবরের কাগজ

এভারেস্ট ও লুৎসে পর্বত জয়ী বাবর আলী বলেছেন, এভারেস্ট জয় করার চেয়ে কঠিন হলো এর জন্য তহবিল জোগাড় করা। পৃষ্ঠপোষক পাওয়া। 

বুধবার (২৯ মে) চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার এলাকায় আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

বাবর আলী বলেন, আগে নিজের সঞ্চয়ের অর্থ দিয়ে পর্বতারোহনের নেশা পূরণ করতাম। এভারেস্টে যাওয়া আমাদের মতো মানুষের জন্য অনেক ব্যয়বহুল। নিজের সঞ্চয়ে থাকা অর্থের পাশাপাশি আমি এবার স্পন্সরের কাছে গেছি। আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বাংলাদেশের অনেক তরুণ এভারেস্ট জয় করতে পারবে বলে আমি মনেকরি। 

তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশ থেকে যাত্রা শুরু করেছিলাম ১ এপ্রিল। এটা ছিল দুমাসের অভিযান। এক অভিযানে দুইটা পর্বত জয় করা অনেক কঠিন আর চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমি সুস্থভাবে ফিরে আসতে পেরেছি, এতেই খুশি।

পর্বত জয়ের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বাবর আলী বলেন, এবার অভিযানে প্রথম থেকেই অনেক বাধা ছিল। আমি ১ এপ্রিল যাত্রা শুরু করে ১০ এপ্রিল বেস ক্যাম্পে পৌঁছাই। বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে এবার সবচেয়ে কম তুষারপাত হয়েছে। কুমু আইসফলের (বরফের প্রপাত) রাস্তা তখনো ওপেন হয়নি। এ সড়কটি অ্যালুমিনিয়ামের সিঁড়ি দিয়ে পার হতে হয়। প্রচুর দুর্ঘটনা ঘটে। নেপালি একজনকে হেলিকপ্টারে উদ্ধার করতে হয়েছিল। এবার ব্লু আইস বেড়ে যায়। ফলে নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি।

বিশ্বের সবচেয়ে উচু পর্বত এভারেস্টের চূড়ায় এক ঘণ্টা ১০ মিনিট ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, এভারেস্টের উচ্চতা বেশি হলেও লোৎসে আরোহন তুলনামূলক কঠিন। লোৎসে আরোহন আমার কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এভারেস্ট ও লোৎসের চূড়া থেকে দেখা নিচের পৃথিবীর দৃশ্য এ জীবদ্দশায় ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। তবে কাজটা কঠিন ছিল, আমার চার কেজি ওজন কমেছে। তবে পর্বতে উচ্চতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানো অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তার উপর আবহাওয়া বিবেচনা করতে হয়। আমি এটা অনুসরণ করতাম। বাংলাদেশের একজন আবহাওয়াবিদ আমাকে দারুণ সহযোগিতা করেছেন।

এ সময় অভিযানের প্রধান সমন্বয়ক ফরহান জামান, ভার্টিকাল ড্রিমস ক্লাবের সদস্য ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। 

এর আগে মঙ্গলবার (২৮ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন বাবর আলী। এরপর রাত ৯টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে চট্টগ্রামে ফেরেন।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সেরে রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স টিমের সদস্যরা। 

গত ১৯ মে বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে বিশ্বের উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় ওঠেন বাবর আলী। হিমালয়ের শীতিধার চূড়াটি পর্বতের ১৫ হাজার ৫০০ ফুট ওপরে। 

এরপর ২১ মে নেপালের স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে লোৎসে পর্বত শিখর স্পর্শ করেন ৩৩ বছর বয়সী এই যুবক। পৃথিবীর চতুর্থ শীর্ষ পর্বত ২৭ হাজার ৯৪০ ফুট উচ্চতার মাউন্ট লোৎসের শীর্ষে লাল-সবুজের অলংকার এঁকে করলেন নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

পঞ্চম বাংলাদেশি হিসেবে ১১ বছর পর এমন সফলতা বয়ে আনেন তিনি। 

নেপালের স্নোয়ি হরাইজন নামক প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই সামিটে বাবরের সঙ্গে ছিলেন তার দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং পর্বতারোহণ গাইড বীর বাহাদুর তামাং।

তারেক মাহমুদ/অমিয়/

বাংলাদেশে নজরুল পর্যটন

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ১২:৩৩ পিএম
আপডেট: ২৪ মে ২০২৪, ১২:৩৩ পিএম
বাংলাদেশে নজরুল পর্যটন
মানিকগঞ্জের তেওতা জমিদারবাড়ি। এ প্রাসাদে নজরুল প্রমীলা দেবীর প্রেমে পড়েছিলেন

বাংলাদেশের সঙ্গে কাজী নজরুল ইসলামের সম্পর্ক ছিল গভীর। জীবদ্দশায় বর্তমান বাংলাদেশের ২৬টি জেলায় গিয়েছিলেন নজরুল। এবং সেখানে রেখে এসেছেন কিছু না কিছু স্মৃতি। সেসব স্মৃতির সবকিছুই এখন আর নেই।

ঢাকা
১৯৪০ সালে অল ইন্ডিয়া রেডিওর অনুষ্ঠানে ঢাকায় এসেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। তৎকালীন বর্ধমান হাউসে থাকার কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে রয়েছে কবির নানা স্মৃতি। ঢাকায় থাকাকালে কবির নিবাস ছিল বর্ধমান হাউসের দোতলার কক্ষটি। বরাবর সেখানেই থাকতেন তিনি। বর্তমানে বাংলা একাডেমির ‘নজরুল কক্ষ’ নামে পরিচিত সেই ঘর। তবে নিচতলায় লেখক ও সাহিত্য জাদুঘরে রয়েছে নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত নানা সংগ্রহ। কাজী নজরুল ইসলামের কিশোর বয়সের ছবি, ধ্রুব চলচ্চিত্রে তার অভিনেতা হিসেবে ছবি। চুরুলিয়া গ্রামের জন্মস্থানের সেই কুটির। নজরুল সম্পাদিত অগ্নিবীণা, লাঙল, বাঁধনহারা পত্রিকার প্রচ্ছদ। ধূমকেতুতে প্রকাশিত রবিঠাকুরের শুভেচ্ছা বাণী। নিষিদ্ধ বইগুলোর নিষেধাজ্ঞা অপসারণের জন্য বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হককে লেখা চিঠি। এ ছাড়া বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে রয়েছে নজরুল মঞ্চ। ২০০৩ সালে ভাস্কর হামিদুজ্জামান খান নির্মিত নজরুলের আবক্ষ মূর্তিটিকে ঘিরে নির্মাণ করা হয়েছে এই মঞ্চটি। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদসংলগ্ন স্থানে রয়েছে কবির সমাধি। 

কাজীর শিমলা, ত্রিশাল
কাজী রফিজ উল্লাহ্ দারোগা ১৯১৪ সালে আসানসোলের রুটির দোকান থেকে কিশোর কবি নজরুলকে ময়মনসিংহের ত্রিশালের কাজীর শিমলায় নিজ গ্রামে নিয়ে আসেন। নজরুলকে ভর্তি করিয়ে দেন ত্রিশাল উপজেলা সদরের দরিরামপুর স্কুলে (বর্তমান নজরুল একাডেমি) সপ্তম শ্রেণিতে। কবি নজরুলের সেই বাল্যস্মৃতিকে ধরে রাখতে এই গ্রামেরই বটতলা নামক স্থানে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। 

কাজীর শিমলা দারোগাবাড়ি
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশাল কাজীর শিমলা মোড় থেকে মাত্র ১ কিলোমিটার পশ্চিমে দারোগাবাড়ি। এখানে রয়েছে দুই তলাবিশিষ্ট নজরুল পাঠাগার ভবন।

দৌলতপুর 


জাতীয় কবি কাজী নজরুল ও তার স্ত্রী নার্গিসের স্মৃতিবিজড়িত স্থান কবিতীর্থ দৌলতপুর। ১৯২১ সালে (বাংলা ২৩ চৈত্র ১৩২৭) নজরুল ইসলাম কুমিল্লা হয়ে মুরাদনগরের দৌলতপুরে আসেন এবং ৭১ দিন অবস্থান করেন। নজরুল দৌলতপুরে বসেই ১৬০টি গান এবং ১২০টি কবিতা রচনা করেন। উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলোর মধ্যে- ‘বেদনা-অভিমান’, ‘অবেলা’, ‘অনাদৃতা’, ‘পথিক প্রিয়া’, ‘বিদায় বেলা’ প্রভৃতি।

বিচুতিয়া ব্যাপারীবাড়ি নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র


ত্রিশালের কাজীর শিমলা থেকে দরিরামপুর স্কুলের (ত্রিশাল সরকারি নজরুল একাডেমি) দূরত্ব ছিল বেশ। রোজ সেই স্কুলে আসা-যাওয়া করা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্য কঠিন ছিল। তাই স্কুলের কাছাকাছি একাধিক বাড়িতে জায়গির থাকতে হয়েছিল তাকে। সেখানে বিচুতিয়া ব্যাপারী নামের এক ব্যক্তির বাসায় জায়গির থাকতেন কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। ১৯১৪ সালের শেষে ত্রিশাল ছেড়ে বর্ধমান চলে যান কবি। 

কার্পাসডাঙ্গা 


চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের ভৈরব নদীর তীরে কবির স্মৃতিঘেরা কার্পাসডাঙ্গা। ১৯২৬ সালে বিপ্লবী হেমন্ত কুমার ও মহিম সরকারের আমন্ত্রণে কবি কাজী নজরুল ইসলাম কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিট থেকে সপরিবারে এই কার্পাসডাঙ্গায় আসেন এবং টানা দুই মাস অবস্থান করেন।

জাহ্নবী