ঢাকা ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ভয়ভীতি দেখিয়ে নারী-শিশুদের বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে বিএসএফ: ভারতের মানবাধিকার সংগঠন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত ভারত আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করে পুশইন করছে: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল আবারও এশিয়ার শীর্ষ ধনী গৌতম আদানি হবিগঞ্জে বজ্রপাতে ৩ জনের মৃত্যু, আহত ৩ নিয়মের তোয়াক্কা নেই, সড়কে বেপরোয়া ডিএসসিসির ডাম্পট্রাক চার দিনের সফরে বেইজিং গেছেন তথ্যমন্ত্রী কক্সবাজারে মানবপাচার চক্রের মূলহোতা ছৈয়দুল হক আটক ডিক্যাব ও বাংলাদেশ চীন আপন মিডিয়া ক্লাবের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই শরীয়তপুরে মব করে প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা এনসিটিবিসহ চার শিক্ষা বোর্ডে নতুন নেতৃত্ব স্বপ্নে গান শোনা আসলে কীসের ইঙ্গিত? ব্যস্ত সড়কে প্রকাশ্যে ছিনতাই, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জেট ফুয়েলের দাম লিটারে কমল ১৫ টাকা চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স চালক-এনসিপি কর্মীদের মারামারি গ্রীন চট্টগ্রাম গড়তে লাগানো হচ্ছে ১০ লাখ গাছ চসিকের সড়ক ও ফুটপাত থেকে দেড় শতাধিক ভাসমান দোকান উচ্ছেদ মনপুরায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান লেখা নিয়ে উত্তেজনা জ্বালানির মজুদ সম্প্রসারণ, আমদানির উৎস বহুমুখীকরণসহ ১২ দফা সুপারিশ সংসদীয় কমিটির ঢামেক ও চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, ৬ দফা দাবি ভোলায় মিতু হত্যাকাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক, ওসিকে তলব বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবাল কুমিল্লায়  ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল থেকে ৪৫ জন আটক; ৫ বাস-মাইক্রো জব্দ গোয়েন্দারা কেন প্রকাশ্যে আসছেন? শিশুদের নাটক ‘ডাকাত হালুম চিৎপটাং’ মেট্রো স্টেশনগুলোর নিচে দুরবস্থা জন্মদিনে এল লাকী আখান্দের অপ্রকাশিত গান নূরজাহান ট্র্যাজেডির সমাজতাত্ত্বিক পাঠ কিয়ামতের ময়দানে রাসুল (সা.)-এর পাশে থাকার উপায় সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবি
Nagad desktop

ঘুরে আসুন লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৪, ০৫:০০ এএম
ঘুরে আসুন লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান
জীববৈচিত্র্য এ বনের প্রধান আকর্ষণ

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল। সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ শ্রীমঙ্গল (আংশিক) উপজেলায় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান অবস্থিত। বাংলাদেশের যে ৭টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ১০টি জাতীয় উদ্যান আছে তার মধ্যে লাউয়াছড়া অন্যতম। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে এর দূরত্ব মাত্র ১০ কিলোমিটার। হাজার ২৫০ হেক্টর আয়তন বিশিষ্ট উদ্যানকে প্রাকৃতিক জাদুঘর বললেও কম হবে। বিভিন্ন ধরনের গাছগাছালি পশুপাখি বনের শোভা আরও বৃদ্ধি করেছে। জীববৈচিত্র্যে ভরপুর নান্দনিক সৌন্দর্যের অন্যতম স্থান এই জাতীয় উদ্যানটি দেশে ট্রপিক্যাল রেইন ফরেস্ট হিসেবে খ্যাত। লাউয়াছড়া উদ্যান মৌলভীবাজার জেলার অন্যতম দর্শনীয় স্থান।

 

কী দেখবেন

মূলত জীববৈচিত্র্য বনের প্রধান আকর্ষণ। এখানে দেখা মেলে নানা প্রজাতির বিরল পশুপাখির। জাতীয় তথ্যকোষের হিসাবে এই উদ্যানে ৪৬০ প্রজাতির দুর্লভ উদ্ভিদ প্রাণী রয়েছে। তার মধ্যে চাপালিশ, সেগুন, আগর, জারুল, আকাশমণি, লোহাকাঠ, আওয়ালসহ ১৬০ প্রজাতির উদ্ভিদ আছে এখানে। ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ২৪০ প্রজাতির পাখি, প্রজাতির সরীসৃপও রয়েছে। উল্লেখযোগ্য বন্যপ্রাণীর মধ্যে হরিণ, লজ্জাবতী বানর, মুখপোড়া হনুমান, বনরুই, গন্ধগোকুল, বাগডাশ, বনমোরগ, সজারু, অজগর সাপ, গুইসাপ, হনুমান, শেয়াল, মেছোবাঘ, চিতাবিড়াল, বনবিড়াল, কাঠবিড়ালী, বন্য কুকুর উল্লেখযোগ্য। ছাড়া রয়েছে পাহাড়ি ময়না, ধনেশ, মথুরা, সবুজ ঘুঘুসহ নানান ধরনের পাখি। লাউয়াছড়া উদ্যানই বিলুপ্তপ্রায় উল্লুকের সবচেয়ে বড় বিচরণ এলাকা।

বনের সৌন্দর্যকে কাছ থেকে দেখার জন্য আছে ৩টি ট্রেইল। আধা ঘণ্টা, এক ঘণ্টা তিন ঘণ্টার ভিন্ন এই ট্রেইলগুলোয় ট্রেকিং করে খুব কাছ থেকে এই বনের রূপ উপভোগ করতে পারবেন। ট্রেকিংয়ের সহায়তার জন্য আছে গাইড। চাইলে সঙ্গে করে গাইড নিতে পারবেন। উঁচু-নিচু আলো-আঁধারের চোখধাঁধানো খেলা, পাখির কিচিরমিচির, ঝিঝি পোকার গান সবকিছু মিলিয়ে অদ্ভুত জাদুতে আপনাকে বিমোহিত করে রাখবে ঘুরে বেড়ানোর সময়টুকু। ছাড়া লাউয়াছড়া উদ্যানের ভেতরেই আছে খাসিয়াপুঞ্জি, পানের বরজ, চা বাগান ঝিরি। লাউয়াছড়ার বনের মাঝ দিয়ে চলে গেছে ঢাকা-সিলেট রেললাইন। রেললাইনের দুই পাশে গাছগাছালি। এই জায়গাটিও দর্শনার্থীদের কাছে খুব প্রিয়। রেললাইনের পাশ দিয়ে কিছুক্ষণ হেঁটে বেড়াতে পারেন। ছাড়া লাউয়াছড়া যাওয়ার পথে চোখে পড়বে চা-বাগান, উঁচু-নিচু টিলা, আনারস, লিচু লেবু বাগান। রাস্তার দুই পাশে সবুজের ছড়াছড়ি, মনে হবে যেন সবুজের একটি স্বর্গরাজ্য।

 

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে যেতে ট্রেন হচ্ছে সবচেয়ে ভালো মাধ্যম। ঢাকা থেকে ট্রেনে করে শ্রীমঙ্গল যেতে কমলাপুর কিংবা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে উপবন, জয়ন্তিকা, পারাবত অথবা কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনকে বেছে নিতে পারেন। শ্রেণি ভেদে জনপ্রতি ট্রেনে যেতে ভাড়া ২৪০ থেকে ৮২৮ টাকা। ট্রেনে যেতে সময় লাগে সাত থেকে সাড়ে সাত ঘণ্টা।

বাসে করে ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গল যেতে ফকিরাপুল অথবা সায়েদাবাদ থেকে ৫৭০ থেকে ৭০০ টাকা ভাড়ায় হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, সিলেট এক্সপ্রেস, এনা ইত্যাদি এসি-নন এসি বাস পাওয়া যায়। বাসে যেতে সময় লাগে ঘণ্টার মতো।

চট্টগ্রাম থেকে বাসে বা ট্রেনে শ্রীমঙ্গল যেতে পারবেন। চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে শ্রীমঙ্গল যেতে পাহাড়িকা এবং উদয়ন এক্সপ্রেস নামের দুটি ট্রেন সপ্তাহে ছয় দিন চলাচল করে। ট্রেন ভাড়া ক্লাস অনুযায়ী ৩০০ থেকে ৬৮৫ টাকা।

শ্রীমঙ্গল পৌঁছে সেখান থেকে আপনার চাহিদা অনুযায়ী কোনো গাড়ি নিয়ে যেতে পারবেন লাউয়াছড়া উদ্যানে। ইজিবাইক, সিএনজি, জিপ অথবা মাইক্রোবাস যেকোনো কিছুতেই যাওয়া যায়। যাওয়া আসা সেখানে ঘুরে বেড়ানোর সময়সহ রিজার্ভ নিলে সিএনজি ৪০০-৫০০ টাকা নেবে।

 

টিকিট

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ছাত্র অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রবেশ মূল্য ২০ টাকা (জনপ্রতি), প্রাপ্তবয়স্ক পর্যটক (দেশি) এর প্রবেশ মূল্য ৫০ টাকা। আর বিদেশি পর্যটকদের ক্ষেত্রে প্রবেশ মূল্য ৫০০ টাকা। গাড়ি, জিপ মাইক্রোবাস পার্কিংয়ের জন্য আপনাকে গুনতে হবে ২৫ টাকা। যদি গাইড নিতে চান তবে এখানে তিন ক্যাটাগরির গাইড পাওয়া যায়, যাদের ২০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে সঙ্গে নিতে পারবেন।

 

এক দিনের ভ্রমণ পরিকল্পনা

লাউয়াছড়া ঘুরে দেখার জন্য হয়তো - ঘণ্টা সময়ই যথেষ্ট মনে হতে পারে। বাকি সময় চাইলে ঘুরে দেখতে পারবেন শ্রীমঙ্গলের আশপাশের অন্যান্য দর্শনীয় স্থান। তার মধ্যে মাধবপুর লেক, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা, নীলকণ্ঠ চা কেবিন, বাইক্কাবিল সুন্দর সুন্দর চা বাগানগুলো। আপনার সময় এবং আগ্রহ অনুযায়ী সাজিয়ে নিতে পারেন পরিকল্পনা। এক দিনে ঘুরে দেখার জন্য আপনি একটি অটোরিকশা রিজার্ভ করে নিতে পারেন। চা বাগানের ভেতর সুন্দর করে সাজানো মাধবপুর লেক দেখার জন্য সকাল বা বিকেলের সময়টাই ভালো। ভোরে চলে যান মাধবপুর লেক, সেখান ঘণ্টাখানেক সময় ঘুরে দেখার পর দুপুরের আগেই চলে আসেন লাউয়াছড়া উদ্যানে। আপনার পছন্দমতো ট্রেইলে ঘুরে ফিরে যেতে পারেন শ্রীমঙ্গল শহরে। দুপুরের খাওয়া-দাওয়া পর্ব শেষ করে বিকেলে চলে যান বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটে। বিকেল ৫টার আগেই বের হয়ে পড়ুন সেখান থেকে। তারপর চলে যান বিখ্যাত সাত রঙের চায়ের দোকান নীলকণ্ঠ চা কেবিনে। সন্ধ্যায় চা খেয়ে আবার চলে আসুন শ্রীমঙ্গলে। সারা দিনের জন্য সিএনজি রিজার্ভ নেবে হাজার ২০০ থেকে হাজার ৫০০ টাকা। তবে ঠিক করার আগে অবশ্যই কোথায় যাবেন, কতক্ষণ থাকবেন, কী দেখবেন এসব ভালো করে আলাপ করে নিন।

 

খাওয়ার ব্যবস্থা

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ভেতরে কিংবা আশপাশে খাবারের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই প্রয়োজনে নিজ দায়িত্বে কিছু হালকা খাবার সঙ্গে নিতে পারেন। ছাড়া শ্রীমঙ্গল ফিরে খেতে হবে। নানা ধরনের রেস্তোরাঁ আছে। আছে সবার প্রিয় পানশী রেস্টুরেন্ট। ভর্তা-ভাজিসহ নানা পদের খাবার খেতে পারবেন ১০০-৫০০ টাকায়।

 

কোথায় থাকবেন

শ্রীমঙ্গলে থাকার জন্য রয়েছে বেশ কিছু সুন্দর মনোরম রিসোর্ট। আছে চা বাগান ঘেঁষা অনেক কটেজ সরকারি-বেসরকারি গেস্ট হাউজ। শ্রীমঙ্গল শহরেও রয়েছে বিভিন্ন মানের হোটেল। আপনার চাহিদামতো যেকোনো জায়গায় থাকতে পারবেন। লাউয়াছড়ার খুব কাছে গ্র্যান্ড সুলতান গলফ রিসোর্ট নামে পাঁচ তারকা মানের রিসোর্ট রয়েছে। চা বাগান ঘেঁষা সুন্দর পরিবেশের রিসোর্টগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য টি রিসোর্ট মিউজিয়াম, নভেম ইকো রিসোর্ট, নিসর্গ ইকো কটেজ, নিসর্গ লিচিবাড়ি কটেজ, লেমন গার্ডেন রিসোর্ট, শান্তি বাড়ি রিসোর্ট ইত্যাদি। অনলাইনে এদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। সিজন উপলক্ষ অনুযায়ী রিসোর্ট কটেজগুলোর ভাড়া পরিবর্তন হতে পারে। বিভিন্ন সময় অনেক রকম ডিসকাউন্ট থাকে। কোথায় থাকবেন ঠিক করার আগে তাদের সঙ্গে কথা বলে নেবেন, প্রয়োজনে ভাড়ার ক্ষেত্রে একটু দরদাম করে নেবেন। ছাড়া আরও কম খরচে শ্রীমঙ্গল থাকতে চাইলে শহরে নানা মানের হোটেল আছে, একটু খুঁজে দেখলেই পেয়ে যাবেন আপনার মনমতো হোটেল।

 

উদ্যানে ভ্রমণের সময় যেসব বিষয় মনে রাখবেন

বনের যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলবেন না। এতে বনের জীববৈচিত্র্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। খুব বেশি হইচই করবেন না। কারণ এতে বন্যপ্রাণীদের স্বাভাবিক চলাফেরা ব্যাহত হয়। শীতকাল ছাড়া অন্য সময়ে ভ্রমণের ক্ষেত্রে জোঁক সাপ থেকে সতর্ক থাকুন। অপরিচিত কারও সঙ্গে একা একা বনের গভীরে যাবেন না। রেললাইন ধরে হাঁটার সময় ট্রেনের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। কম খরচে ভ্রমণ করতে চাইলে রিজার্ভ গাড়ি না করে শ্রীমঙ্গল-ভানুগাছ রোডের লোকাল সিএনজি অথবা বাস দিয়ে যাতায়াত করতে পারেন।

 

মেহেদী আল মাহমুদ

যশোর জেলার দর্শনীয় ও ভ্রমণযোগ্য স্থান

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম
যশোর জেলার দর্শনীয় ও ভ্রমণযোগ্য স্থান
গদখালী ফুলের গ্রাম বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ফুলচাষ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। ছবি এআই

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জেলা যশোর ইতিহাস, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত। এই জেলায় রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থান, শতবর্ষী স্থাপনা, ধর্মীয় নিদর্শন, সবুজ উদ্যান এবং বিনোদনকেন্দ্র। পরিবার, বন্ধু বা একক ভ্রমণ—সব ধরনের পর্যটকের জন্যই যশোরে রয়েছে আকর্ষণীয় অনেক গন্তব্য। চলুন জেনে নেওয়া যাক যশোর জেলার কয়েকটি ভ্রমণযোগ্য স্থানের কথা।

মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মস্থান, সাগরদাঁড়ি
বাংলা সাহিত্যের অমর কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মস্থান। এখানে তাঁর স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি, জাদুঘর এবং কপোতাক্ষ নদের মনোরম দৃশ্য দেখা যায়।

কপোতাক্ষ নদ
যশোরের ঐতিহাসিক নদীগুলোর অন্যতম। নদীর তীরবর্তী প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

যশোর আইটি পার্ক
আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্র। প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য আকর্ষণীয় স্থান।

যশোর কালেক্টরেট পার্ক
শহরের মাঝখানে অবস্থিত পরিচ্ছন্ন ও সবুজ পার্ক। পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর জন্য উপযোগী।

যশোর পৌর পার্ক
শিশু ও পরিবারকেন্দ্রিক বিনোদনের জন্য জনপ্রিয় একটি পার্ক।

যশোর ইনস্টিটিউট
ঔপনিবেশিক আমলের ঐতিহাসিক স্থাপনা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য আকর্ষণীয়।

মনিরামপুর জমিদার বাড়ি
প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন। অতীতের জমিদারি ঐতিহ্যের সাক্ষী এই ভবন।

নওয়াপাড়া নদীবন্দর
ভৈরব নদের তীরে অবস্থিত ব্যস্ত নদীবন্দর। নদীকেন্দ্রিক জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখার সুযোগ মেলে।

ভৈরব নদ
যশোরের অন্যতম প্রধান নদী। নদীতীরের প্রাকৃতিক পরিবেশ ভ্রমণকারীদের আকর্ষণ করে।

চাঁচড়া শিব মন্দির
প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপনা। এর ঐতিহাসিক ও স্থাপত্যিক গুরুত্ব রয়েছে।

বেনাপোল জিরো পয়েন্ট
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। সীমান্ত এলাকার ব্যস্ততা ও পরিবেশ দেখার সুযোগ রয়েছে।

বেনাপোল স্থলবন্দর এলাকা
দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

গদখালী ফুলের গ্রাম
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ফুলচাষ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। ফুলে ভরা ক্ষেতের সৌন্দর্য দর্শকদের মুগ্ধ করে।

ঝিকরগাছা ফুলবাগান এলাকা
বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের চাষ ও রঙিন প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য জনপ্রিয়।

বকচরা ইকো পার্ক
প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য উপযুক্ত একটি বিনোদনকেন্দ্র। সবুজ পরিবেশে সময় কাটানোর সুযোগ রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ, যশোর
মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ। ইতিহাস সম্পর্কে জানার সুযোগ দেয়।

শামস-উল-হুদা স্টেডিয়াম
যশোরের প্রধান ক্রীড়া ভেন্যু। ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে পরিচিত স্থান।

চৌগাছা রাজবাড়ির ধ্বংসাবশেষ
অতীতের জমিদারি ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

কেশবপুরের প্রাচীন মন্দিরসমূহ
ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্বসম্পন্ন কয়েকটি মন্দির নিয়ে গড়ে উঠেছে এই এলাকা।

খাজুরা গ্রামাঞ্চল
গ্রামীণ জীবন, সবুজ প্রকৃতি এবং শান্ত পরিবেশ উপভোগের জন্য আদর্শ স্থান।

দিনে দিনেই ঘুরে আসুন মৈনট ঘাট থেকে

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম
দিনে দিনেই ঘুরে আসুন মৈনট ঘাট থেকে
ঢাকার দোহার উপজেলায় অবস্থিত মৈনট ঘাটটি রাজধানী থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরে।

ঢাকার কাছে একদিনের ছুটিতে ঘুরে আসার মতো দারুণ এক আকর্ষণীয় জায়গা মৈনট ঘাট, যা অনেকের কাছে ‘মিনি কক্সবাজার’ নামে পরিচিত। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করতে পরিবার, বন্ধুবান্ধব কিংবা প্রিয়জনদের নিয়ে ঢাকার বাইরে পুরো দিন কাটানোর জন্য এটি হতে পারে এক চমৎকার গন্তব্য।
ঢাকার দোহার উপজেলায় অবস্থিত এ ঘাটটি রাজধানী থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরে। ফলে খুব সহজেই সকাল সকাল রওনা হয়ে সারা দিন ঘুরে সন্ধ্যার মধ্যেই আবার ঘরে ফিরে আসা সম্ভব। 
এখানে এসে যখন আপনি দাঁড়াবেন, তখন চোখের সামনে ভেসে উঠবে পদ্মা নদীর এক অন্তহীন ও সুবিশাল জলরাশি। পদ্মার বুকে হেলেদুলে ভেসে চলা জেলেদের নৌকা, মৃদু বাতাস আর নদীর পাড় ধরে হেঁটে বেড়ানোর অনুভূতি আপনাকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও শহরের কোলাহল ভুলিয়ে দেবে। এই চমৎকার পরিবেশের কারণেই ভ্রমণপিয়াসীদের কাছে এটি মিনি কক্সবাজার হিসেবে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

 

মৈনট ঘাট যাওয়ার উপায়

ঢাকা শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকেই আপনি খুব সহজে দোহারে আসতে পারবেন। যাতায়াতের জন্য নিচে কয়েকটি সহজ ও সুবিধাজনক বিকল্প মাধ্যম তুলে ধরা হলো–
১. সরাসরি বাস সার্ভিস: গুলিস্তান মাজারের সামনে থেকে সরাসরি মৈনট ঘাটের উদ্দেশে ‘যমুনা ডিলাক্স’ বাস ছেড়ে যায়। এই রুটে এটিই একমাত্র বাস যা আপনাকে একেবারে ঘাটের কাছাকাছি নামিয়ে দেবে। রাস্তা ফাঁকা থাকলে সাধারণত দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে যাওয়া যায়। তবে মনে রাখবেন, মৈনট ঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশে শেষ বাসটি ছেড়ে আসে সন্ধ্যা ৬টায়। তাই ফেরার তাড়া থাকলে অবশ্যই ৬টার আগেই বাসস্ট্যান্ডে উপস্থিত হতে হবে।
২. মুন্সীগঞ্জ হয়ে যাতায়াত: গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া এলাকা থেকে আপনি ‘নগর পরিবহন’-এর বাসেও আসতে পারেন। নগর পরিবহন নবাবগঞ্জের রাস্তা ব্যবহার না করে মুন্সীগঞ্জ হয়ে যাতায়াত করে। এই বাসে এলে আপনাকে নামতে হবে কার্তিকপুর বাজারে। সেখান থেকে সহজে ঘাটে যাওয়া যায়।
৩. সিএনজি: ঢাকার বাবুবাজার ব্রিজ পার হয়ে কদমতলী থেকে কার্তিকপুর বাজার পর্যন্ত লোকাল সিএনজি পাওয়া যায়। জনপ্রতি ভাড়া সাধারণত ১৮০ থেকে ২০০ টাকার মতো। কার্তিকপুর বাজারে নেমে সেখান থেকে যেকোনো অটোরিকশায় চড়ে আপনি অনায়াসেই মৈনট ঘাট চলে যেতে পারবেন।

 

ভ্রমণের উপযুক্ত সময়

প্রকৃতির ভিন্ন ভিন্ন রূপ দেখতে এখানে সারা বছরই পর্যটকদের আনাগোনা থাকে। তবে একেক ঋতুতে মৈনট ঘাটের সৌন্দর্য একেক রকম রূপ ধারণ করে–
• বর্ষাকাল: আপনি যদি পদ্মার উত্তাল রূপ, বিশাল ঢেউ আর চারপাশের সতেজ সবুজ প্রকৃতি দেখতে চান, তবে বর্ষাকাল আপনার জন্য সেরা সময়।
• শরৎকাল: সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের দিকে এই অঞ্চলের নদীর চারপাশ কাশফুলে ছেয়ে যায়। মনোরম নীল আকাশ আর সাদা কাশফুলের এই কম্বিনেশন ছবি তোলার জন্য দারুণ এক পরিবেশ তৈরি করে।
• শীতকাল: শীতের সময়ে পদ্মা নদী থাকে একদম শান্ত। এই সময়ে মৈনট ঘাট যাওয়ার পথে রাস্তার দুপাশে মাইলের পর মাইল সোনালি সরিষাখেতের দেখা মেলে। এছাড়া শীতকালে নদীর বুকে ছোট-বড় অসংখ্য চর জেগে ওঠে। স্পিডবোট বা নৌকা ভাড়া করে সেই নির্জন চরে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দই আলাদা।

 

দর্শনীয় স্থান ও আশপাশের পুরাকীর্তি

মৈনট ঘাটের মূল সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি আপনি এর কাছাকাছি এলাকার কিছু ঐতিহাসিক স্থাপনা ও জমিদার বাড়ি ঘুরে দেখতে পারেন। ঘাট এলাকায় পৌঁছানোর আগেই বান্দুরা নামক স্থানে চোখে পড়বে প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো ইতিহাস জড়ানো ‘কোকিল প্যারি জমিদার বাড়ি’। স্থানীয় মানুষ একে ‘কালাকোপা জমিদার বাড়ি’ নামেও ডাকেন। ভাগ্যকুলের তৎকালীন বিখ্যাত জমিদার যদুনাথ রায় তার সন্তানদের বসবাসের জন্য এই দৃষ্টিনন্দন বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন।
এই বাড়ির ঠিক কাছাকাছি এলাকাতেই রয়েছে আরও কয়েকটি ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন, যার মধ্যে জজবাড়ি, উকিলবাড়ি এবং আন্ধারকোঠা অন্যতম। প্রতিটি স্থাপনাই জমিদার যদুনাথ রায়ের কীর্তি। আপনি যদি ইতিহাসপ্রেমী হয়ে থাকেন কিংবা পুরোনো দিনের স্থাপত্যশৈলী ও পুরাকীর্তি দেখতে ভালোবাসেন, তবে মৈনট ঘাট যাওয়ার পথে এই ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোয় একবার ঢুঁ মারতে ভুলবেন না।

খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা

ভ্রমণের সময় খাওয়া-দাওয়ার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মৈনট ঘাটে ঋতুভেদে খাবারের ভিন্ন ভিন্ন ব্যবস্থা থাকে–
• শুকনো ও শীতকালীন মৌসুম: এই সময়ে নদীর পাড়ে অসংখ্য অস্থায়ী খাবারের হোটেল ও দোকান গড়ে ওঠে। পদ্মার একদম টাটকা ইলিশ মাছ ভাজা দিয়ে দুপুরের খাবার শেষ করার মজাই আলাদা। 
• বর্ষাকাল: বর্ষার সময়ে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ার কারণে ঘাটের সব অস্থায়ী দোকানপাট বন্ধ থাকে। তখন দুপুরের খাবারের জন্য আপনাকে কাছেই অবস্থিত কার্তিকপুর বাজারে যেতে হবে। এই বাজারে চলনসই ও মাঝারি মানের বেশ কিছু ভাতের হোটেল রয়েছে।
• মিষ্টির স্বাদ: কার্তিকপুর বাজারে এলে বিখ্যাত ‘রণজিৎ মোদক’ এবং ‘নিরঞ্জন মিষ্টান্ন ভাণ্ডার’-এর রসগোল্লা চেখে দেখতে একদম ভুলবেন না। মিষ্টির পাশাপাশি এখানকার সুস্বাদু টক ও মিষ্টি দইও বেশ জনপ্রিয়।

 

রাতযাপনের সুবিধা

পর্যটকদের রাতে থাকার জন্য মৈনট ঘাট বা এর আশপাশে ভালো মানের কোনো হোটেল, গেস্টহাউস, বোর্ডিং কিংবা আধুনিক রিসোর্ট গড়ে ওঠেনি। এরপরও যদি আপনি বিশেষ প্রয়োজনে সেখানে রাত কাটাতে চান, তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে কোনো বাসা বা থাকার জায়গা ম্যানেজ করতে হবে। অন্যথায়, ডে ট্যুর বা দিনের আলো থাকতেই ঘুরে ঢাকায় ফিরে আসাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

ভ্রমণকালীন সতর্কতা

যেকোনো ট্যুর সুন্দর ও নিরাপদ করতে কিছু নিয়মকানুন মেনে চলা উচিত। মৈনট ঘাট ভ্রমণের সময় নিচের বিষয়গুলো বিশেষভাবে খেয়াল রাখুন–
• সাঁতার ও গোসল: আপনি যদি ভালো সাঁতার না জানেন, তবে পদ্মা নদীতে গোসল করার সময় একদমই বেশি গভীরে যাবেন না। পদ্মার স্রোত অত্যন্ত তীব্র ও বিপজ্জনক হতে পারে।
• পরিবেশ রক্ষা: চিপসের প্যাকেট, সিগারেটের ফিল্টার, প্লাস্টিকের পানির বোতল কিংবা যেকোনো ধরনের বর্জ্য নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলুন। নদীর পানি বা ঘাটের পরিবেশ নোংরা করবেন না।
• বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ: নদী বা চরের আশপাশে পাখি শিকার করা অথবা পাখিদের বিরক্ত করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন।
• সামাজিক শিষ্টাচার: জনসমক্ষে বা অপরিচিত মানুষের সামনে ধূমপান করা থেকে বিরত থাকুন। স্থানীয় দোকানদার, অটোরিকশাচালক ও ট্রলারের মাঝিসহ সবার সঙ্গে সব সময় মার্জিত ও বিনয়ী ব্যবহার করুন। কাউকে কখনো ছোট করে দেখবেন না।
• নারীদের প্রতি সম্মান: আপনার কোনো আচরণ বা কথায় যেন একক বা দলবদ্ধভাবে ঘুরতে আসা কোনো নারী পর্যটক কিংবা স্থানীয় নারীরা বিন্দুমাত্র অস্বস্তি বা বিরক্তিবোধ না করেন, সেদিকে সর্বোচ্চ খেয়াল রাখুন।

সিনচিয়াং ঘুরে এলেন বাংলাদেশি সাংবাদিক

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম
সিনচিয়াং ঘুরে এলেন বাংলাদেশি সাংবাদিক
আল মামুন হারুন উর রশিদ

‘অনুমানের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং তথ্য ও বাস্তবতার আলোকেই সত্যকে সন্ধান করা উচিত। এটাই চীনের মূল দর্শন এবং যেকোনো বিভ্রান্তি দূর করার সবচেয়ে বড় উপায়’। চীনের উইগুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সিনচিয়াং প্রথমবার সফর করে এসে সিনচিয়াং ডেইলিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এভাবেই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করলেন বাংলাদেশের সাংবাদিক আল মামুন হারুন উর রশিদ। 
দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ও বিশেষ করে পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোতে সিনচিয়াংকে নিয়ে একপাক্ষিক ও নেতিবাচক প্রচারণাই দেখে এসেছেন বাংলাদেশের মানুষ। তবে ঢাকার ইংরেজি দৈনিক 'দ্য নিউ নেশন'-এর এই সাংবাদিকের সাম্প্রতিক সিনচিয়াং সফর সেই চেনা বৃত্ত ভেঙে দিয়েছে। পশ্চিমা চশমা সরিয়ে সরাসরি সিনচিয়াংয়ের স্থিতিশীলতা, দ্রুত বিকাশমান পর্যটন শিল্প এবং স্থানীয় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত জীবনযাত্রা দেখে তিনি মুগ্ধ।   
এবারের সফরটি হারুন উর রশিদের চতুর্থ চীন সফর হলেও, সিনচিয়াংয়ে এটিই ছিল তার প্রথম পদার্পণ। এই অঞ্চলের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ভূগোল নিয়ে আগে থেকেই তার প্রবল আগ্রহ ছিল। তবে সেখানে গিয়ে তার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।  
তিনি জানান, পশ্চিমা মিডিয়া সিনচিয়াংয়ের যে চিত্র দেখায়, বাস্তবতার সাথে তার আকাশ-পাতাল তফাত। এখানকার স্থানীয় মানুষ অত্যন্ত অতিথিপরায়ণ, প্রাণবন্ত ও হাসিখুশি।  
সিনচিয়াংয়ের জাদুঘরগুলো ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ কোনো সমাজ বা মানবতা মেনে নিতে পারে না। অতীতে এই অঞ্চলে যে সহিংসতার চ্যালেঞ্জ ছিল, তা মোকাবিলা করে সব স্তরের মানুষকে এক ছাতার নিচে এনে শান্তি ফিরিয়েছে প্রশাসন। যার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো বর্তমানে চীন এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ পর্যটক ভয়হীনভাবে সিনচিয়াংয়ে ঘুরতে আসছেন। 
বাংলাদেশি পাঠকরা কেন সিনচিয়াং নিয়ে পশ্চিমা সংবাদ সহজেই বিশ্বাস করে— সাক্ষাৎকারে এমন এক প্রশ্নের জবাবে হারুন উর রশিদ অত্যন্ত বাস্তবসম্মত একটি ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘যদি আমাদের চোখের সামনে ২০টি নিউজ পোর্টাল বা মিডিয়া একটি নির্দিষ্ট সুরেই কথা বলে, আর তার বিপরীতে মাত্র একটি মিডিয়া ভিন্ন কিছু বলে, তবে মানুষ ওই ২০টি মিডিয়ার কথাই বিশ্বাস করবে। বাংলাদেশসহ অনেক উন্নয়নশীল দেশেই দীর্ঘ সময় ধরে পশ্চিমা মিডিয়ার একচেটিয়া আধিপত্য রয়েছে’।  
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভাষার একটি বড় বাধা রয়েছে। চীন তাদের সত্য গল্পগুলো নিজেদের ভাষায় লিখলেও তা সাধারণ বাংলাদেশি পাঠকদের কাছে পৌঁছায় না। কারণ সবাই ইংরেজি বা চীনা ভাষা পড়তে পারেন না। তাই এই শূন্যতা পূরণ করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মূলধারার গণমাধ্যমে বাংলা ভাষায় সিনচিয়াংয়ের আসল তথ্য ও উপাত্ত তুলে ধরা জরুরি। যখন মানুষ দুই পক্ষের তথ্যই হাতে পাবে, তখন তারা নিজেরাই সত্য-মিথ্যা বিচার করতে পারবেন। 
'বেল্ট অ্যান্ড রোড' উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশ এবং সিনচিয়াংয়ের মধ্যে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনা দেখছেন এই সাংবাদিক। ভৌগোলিকভাবে সিনচিয়াং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল, যার সাথে আটটি দেশের সীমান্ত রয়েছে। ফলে এটি ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার সাথে যোগাযোগের একটি অন্যতম প্রধান হাব।  
সিনচিয়াংয়ের কৃষি ও পশুপালন খাত পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সভ্যতার মূলে রয়েছে কৃষি ও ধান চাষ। সিনচিয়াং যেভাবে আধুনিক প্রযুক্তিতে চাল এবং নানারকম শাকসবজি উৎপাদন করছে, তা থেকে বাংলাদেশের অনেক কিছু শেখার আছে।  
পাশাপাশি, সিনচিয়াংয়ের উন্নত ডেইরি শিল্প ও অর্গানিক মিল্ক প্রোডাক্টের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ গুঁড়োদুধ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করে। চীন আমাদের অনেক কাছাকাছি দেশ এবং সিনচিয়াং দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য একটি বিশাল কেন্দ্র। ফলে এই খাতে বাংলাদেশ ও সিনচিয়াংয়ের মধ্যে চমৎকার বাণিজ্যিক সহযোগিতা গড়ে উঠতে পারে’।   
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে দুই দেশের গণমাধ্যমের এই মেলবন্ধন আরও জোরালো হবে। বাংলাদেশি সাংবাদিকরা আরও বেশি সংখ্যায় সিনচিয়াং সফর করবেন এবং কোনো অন্ধবিশ্বাস বা চাপিয়ে দেওয়া মতবাদে কান না দিয়ে বাস্তব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সত্য গল্পগুলো বাংলাদেশের মানুষের সামনে তুলে ধরবেন।


সূত্র: সিএমজি

পর্যটকে মুখর রাঙামাটি

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৯:০৩ এএম
আপডেট: ০২ জুন ২০২৬, ১০:৩২ এএম
পর্যটকে মুখর রাঙামাটি
‘সিম্বল অব রাঙামাটি’ খ্যাত ঝুলন্ত সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড়। ছবি: সংগৃহীত

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি পাহাড়ি কন্যা পর্যটন শহর রাঙামাটি এখন পর্যটকদের পদভারে মুখরিত। টানা দীর্ঘ ছুটির কারণে ঈদের আগে থেকেই পাহাড়ে পর্যটকের আগমন বাড়তে শুরু করলেও বর্তমানে পর্যটকের আগমন আরও বেড়েছে। কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়েছে পাহাড়ের প্রতিটি পর্যটন স্পট।

পাহাড়, হ্রদ আর সবুজ প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের টানে পর্যটকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে পাহাড়ের এপার থেকে ওপারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ঈদের আগে থেকেই এখানকার হোটেল-মোটেলসহ পাহাড়ের বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রের রিসোর্টগুলো ৭০-৮০ ভাগই বুকিং হয়ে গেছে। সাজেক ভ্যালিও এখন পর্যটকে ভরপুর। 

রাঙামাটি শহরে ৫৬টি আবাসিক হোটেল, ১৭টি রিসোর্ট ও সাজেকে ১১৬টি হোটেল, রিসোর্ট এবং রেস্তোরাঁ আছে ১৪টির বেশি। সবগুলোই পর্যটকদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো পর্যটকের পদচারণায় জমে উঠেছে ঝুলন্ত সেতু, কাপ্তাই হ্রদ, সুবলং ঝরনাসহ জেলার বিনোদন কেন্দ্রগুলো। পর্যটকের আগমনে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে স্থানীয় পর্যটন খাতও।

শহুরে ব্যস্ততা আর যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি ভুলে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটাতে ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের প্রথম পছন্দের তালিকায় রয়েছে পাহাড়-হ্রদের শহর রাঙামাটি। কয়েক মাসের স্থবিরতা কাটিয়ে এখন আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলো।

‘সিম্বল অব রাঙামাটি’ খ্যাত ঝুলন্ত সেতুতে সকাল থেকে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। কেউ ছবি তুলছেন, কেউবা পরিবার-পরিজন নিয়ে উপভোগ করছেন পাহাড় আর হ্রদের মেলবন্ধনের মনোরম দৃশ্য। প্রকৃতির শান্ত পরিবেশে সময় কাটিয়ে স্বস্তির কথা জানালেন পর্যটকরা।

চট্টগ্রামের মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, রাঙামাটিতে এসে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য দেখে আমরা অভিভূত। এখানে কাপ্তাই হ্রদ ও পাহাড়ের যে মিতালি, সেটা অন্য কোথাও দেখা সম্ভব না। পর্যটন শহরটি আরও আধুনিকায়ন করা গেলে এখানে সারা বছরই পর্যটকরা তাদের পরিবার নিয়ে ছুটে আসবে।

রাঙামাটিতে হ্রদ-পাহাড়ের মিতালি দেখে আগত পর্যটকরা খুবই খুশি। জেলায় বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় সরকারি ও ব্যক্তিপর্যায়ে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন পর্যটন স্পট। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা রাঙামাটি জেলার পর্যটন শিল্পের বিকাশে সরকারি উদ্যোগে পরিকল্পিতভাবে নতুন নতুন পর্যটন স্পট গড়ে তোলাসহ কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে পর্যটন খাতে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকেই অনেক রাজস্ব আদায় সম্ভব।

পাশাপাশি এই অঞ্চল দেশি-বিদেশি পর্যটকের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান হতে পারে বলে মনে করেন পর্যটকরা।

রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের ঝুলন্ত সেতুর টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে নিয়োজিত মো. ইউসুফ বাসসকে বলেন, ঈদের আগে থেকে কিছু পর্যটক আসতে শুরু করলেও বর্তমানে তা অনেক বেড়েছে। শুধু ঝুলন্ত সেতু দেখতে দৈনিক ২-৩ হাজার মানুষ আসছেন।
এখানে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ কাপ্তাই হ্রদে নৌ-ভ্রমণ। তাই সকাল থেকেই পর্যটকরা ট্যুরিস্ট বোট ভাড়া করে ঘুরে দেখছেন সুবলং ঝরনাসহ হ্রদের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। 

এ বছর ঈদ উপলক্ষে পর্যটকদের জন্য বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে স্থানীয় হোটেল মালিক সমিতি। রাঙামাটি হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ চৌধুরী জানান, রাঙামাটিতে ঈদের আগে থেকেই পর্যটক আসতে শুরু করেছে। বর্তমানে তা আরও বেড়েছে। 

তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে আমরা পুরো মাসজুড়েই পর্যটকদের বিশেষ প্যাকেজ সুবিধা দিচ্ছি। এ ছাড়া পর্যটকদের নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয়ে আমরা হোটেল মালিক সমিতি বিশেষভাবে নজর দিচ্ছি।

বর্তমানে জেলার সাজেক ভ্যালি, ঝুলন্ত সেতু, কাপ্তাই হ্রদ, পলওয়েল পার্ক, মায়াবী দ্বীপ, আরণ্যক ও সুবলং ঝরনা, রাঙা দ্বীপ, লেকভিউ আইল্যান্ড, কাপ্তাই পট হাউসসহ মনোমুগ্ধকর সব পর্যটন স্পটগুলো এখন মুখরিত হয়ে উঠেছে পর্যটকদের উপস্থিতিতে। রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন উপজেলার পর্যটন স্পটসহ সাজেকের ১১২টি রিসোর্ট-কটেজের মধ্যে প্রায় সব রিসোর্টই শতভাগ পর্যটকে পরিপূর্ণ। 

রাঙামাটি পর্যটন ও হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, এবার ঈদের ছুটিতে রাঙামাটিতে আশানুরূপ পর্যটকের সমাগম ঘটেছে এবং তা দিন দিন আরও বাড়ছে। পর্যটকরা অনলাইন বা অফলাইনে আমাদের হলিডে কমপ্লেক্সের প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ রুম বুকিং করেছেন। 

তিনি বলেন, শুধু পর্যটন কমপ্লেক্স নয়, রাঙামাটির সব হোটেল-মোটেলই এখন পর্যটকে পরিপূর্ণ। কোথাও কোনো রুম খালি নেই। পর্যটকের আগমন আরও বাড়বে বলে আশা করছি। বর্তমানে পর্যটন কমপ্লেক্সে গড়ে ২-৩ হাজার পর্যটক আসছেন। এবার পর্যটন ব্যবসায় আশানুরূপ সরকারি রাজস্ব আদায় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশন এলাকার বোট ইজারাদার সমিতির সহ-সভাপতি মো. রজমান আলী বলেন, পর্যটকের আগমন বৃদ্ধি পাওয়ায় বোটের ব্যবসা অনেক ভালো হচ্ছে। বোট সমিতির পক্ষ থেকে আগত পর্যটকদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কোনো পর্যটক যেন হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বসানো হয়েছে হেল্প ডেস্ক। পর্যটকরা যাতে নিরাপদে জেলার সব স্পটে ঘুরে বেড়াতে পারেন তার জন্য আমাদের প্রস্তুতি আছে। এবারের ঈদের ছুটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকরা নিরাপদে সর্বত্র ভ্রমণ করতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সূত্র: বাসস

ঈদে দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখর চাঁদপুরের তিন নদীর মোহনা

প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম
ঈদে দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখর চাঁদপুরের তিন নদীর মোহনা
ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুর জেলার প্রায় ২৮ লাখ মানুষের জন্য কোন ধরণের বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় ঈদসহ অন্যান্য উৎসবে ভ্রমন প্রিয় লোকজন ভিড় জমায় শহরের তিন নদীর মোহনা বড় স্টেশন মোলহেডে।

এবারের ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে গত তিনদিন সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে এই স্থানে ছুটে আসছে বিভিন্ন বয়সী লোকজন। যার ফলে তিন নদীর মোহনা এখন দর্শনার্থীদের পদাচরণায় মুখর হয়ে উঠেছে।

শনিবার (৩০ মে) সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা দর্শনার্থীদের পদচারণায় জমে ওঠে পুরো এলাকা। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়ে মানুষ উপভোগ করছেন মোহনার নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তিন নদীর মোহনা বিভিন্ন রূপ ধারণ করে। বিশেষ করে বিকেলে সূর্যাস্তের সময় এই স্থানটি খুবই চমৎকার দৃশ্য ধারণ করে। আর ওই মুহুর্তটি অনেকেই প্রিয়জনদের নিয়ে উপভোগ করেন।

এদিকে তিন নদীর মোহনা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌ থানা ও সদর মডেল থানা পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। সাদা পোষাকেও রয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।

মোহনা এলাকা ঘুরে ও দর্শনার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে চাঁদপুর ছাড়াও কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ আশপাশের এলাকা থেকে লোকজন সময় কাটাতে এসেছেন। কেউ নদীর পাড়ে বসে গল্প-আড্ডায় মেতে উঠেছেন, কেউবা মোবাইল ক্যামেরায় স্মৃতিবন্দি করছেন আনন্দঘন মুহূর্ত। অনেকে আবার ট্রলার ও নৌকায় করে ঘুরে আসছেন মেঘনার বুকে জেগে ওঠা বালুচরে। যা স্থানীয়দের কাছে ‘মিনি কক্সবাজার’ নামে পরিচিত।

তবে মোহনার এই মনোরম পরিবেশে বিকেলের দিকে দর্শনার্থীদের ভিড় আরও বাড়তে থাকে। শিশুদের হাসি, তরুণ-তরুণীদের ছবি তোলার ব্যস্ততা এবং নদীর ঢেউয়ের মৃদু শব্দ মিলিয়ে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।  

চাঁদপুর সদরের চান্দ্রা এলাকার বাসিন্দা মোফাজ্জল হোসেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসেছেন সময় কাটাতে। তিনি বলেন, এই স্থান ছাড়া আমাদের সময় কাটানোর আর ভালো বিনোদন কেন্দ্র নেই। যে কারণে বারবার এখানে সময় কাটাতে আসি।

পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মানিকগঞ্জের বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম বলেন, ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে একটু ভিন্ন পরিবেশে সময় কাটাতে চাঁদপুরে এসেছি। তিন নদীর মোহনার সৌন্দর্য সত্যিই অসাধারণ। এখানে এসে মনটা অনেক ভালো হয়ে গেছে। ভবিষ্যতে ঈদের ছুটিতে আবারো পরিবার নিয়ে আসার চেষ্টা করবো।

লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর থেকে বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে এসেছেন পাঁচ বন্ধু। তাদের একজন মিনহাজ উদ্দিন বলেন, সময় পেলে এই স্থানে ঘুরতে আসি। ঈদে সময় কাটানোর জন্য বন্ধুরা মিলে এসেছি। এই স্থানে আসলে কিছু সময় হলেও আনন্দ উপভোগ করা যায়। বিশেষ করে তিন নদীর মিলনস্থলের ঢেউ সকলের নজর কাড়ে।

কুমিল্লা থেকে বন্ধুদের নিয়ে আসা কলেজ শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান বলেন, অনেকদিন ধরেই বড় স্টেশন মোলহেডে আসার ইচ্ছা ছিল। ঈদের ছুটিতে সুযোগ পেয়ে চলে এসেছি। নদীর মাঝখানে ট্রলারে ঘোরাঘুরি আর বালুচরে সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা দারুণ।

চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, ঈদ উৎসব কেন্দ্রিক মানুষের সার্বিক নিরাপত্তায় তিনটি টহল টিম কাজ করছে। এছাড়া বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত তিন নদীর মোহনায় আলাদা একটি টিম রয়েছে। এছাড়া সড়কের প্রতিটি মোড়ে আলাদা ট্রাফিক টিম রয়েছে। মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারে এবং ঘুরতে পারে এজন্য পুলিশ সর্বদা সজাগ রয়েছে।

এসএন/