ঢাকা ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ভয়ভীতি দেখিয়ে নারী-শিশুদের বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে বিএসএফ: ভারতের মানবাধিকার সংগঠন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত ভারত আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করে পুশইন করছে: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল আবারও এশিয়ার শীর্ষ ধনী গৌতম আদানি হবিগঞ্জে বজ্রপাতে ৩ জনের মৃত্যু, আহত ৩ নিয়মের তোয়াক্কা নেই, সড়কে বেপরোয়া ডিএসসিসির ডাম্পট্রাক চার দিনের সফরে বেইজিং গেছেন তথ্যমন্ত্রী কক্সবাজারে মানবপাচার চক্রের মূলহোতা ছৈয়দুল হক আটক ডিক্যাব ও বাংলাদেশ চীন আপন মিডিয়া ক্লাবের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই শরীয়তপুরে মব করে প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা এনসিটিবিসহ চার শিক্ষা বোর্ডে নতুন নেতৃত্ব স্বপ্নে গান শোনা আসলে কীসের ইঙ্গিত? ব্যস্ত সড়কে প্রকাশ্যে ছিনতাই, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জেট ফুয়েলের দাম লিটারে কমল ১৫ টাকা চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স চালক-এনসিপি কর্মীদের মারামারি গ্রীন চট্টগ্রাম গড়তে লাগানো হচ্ছে ১০ লাখ গাছ চসিকের সড়ক ও ফুটপাত থেকে দেড় শতাধিক ভাসমান দোকান উচ্ছেদ মনপুরায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান লেখা নিয়ে উত্তেজনা জ্বালানির মজুদ সম্প্রসারণ, আমদানির উৎস বহুমুখীকরণসহ ১২ দফা সুপারিশ সংসদীয় কমিটির ঢামেক ও চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, ৬ দফা দাবি ভোলায় মিতু হত্যাকাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক, ওসিকে তলব বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবাল কুমিল্লায়  ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল থেকে ৪৫ জন আটক; ৫ বাস-মাইক্রো জব্দ গোয়েন্দারা কেন প্রকাশ্যে আসছেন? শিশুদের নাটক ‘ডাকাত হালুম চিৎপটাং’ মেট্রো স্টেশনগুলোর নিচে দুরবস্থা জন্মদিনে এল লাকী আখান্দের অপ্রকাশিত গান নূরজাহান ট্র্যাজেডির সমাজতাত্ত্বিক পাঠ কিয়ামতের ময়দানে রাসুল (সা.)-এর পাশে থাকার উপায় সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবি
Nagad desktop

শীত মৌসুমে দর্শনীয় স্থান

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৪, ১১:২১ এএম
আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৪, ০১:৪০ পিএম
শীত মৌসুমে দর্শনীয় স্থান
নিঝুম দ্বীপে হরিণের দেখা মেলে। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে সৌন্দর্য একেক ঋতুতে একেক রকম। তবে পর্যটনের জন্য শীতের সময়টা সবচেয়ে উপযোগী। আর সে কারণে এ সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে পর্যটকদের আনাগোনা বেড়ে যায়। শীতে পর্যটনের কিছু জনপ্রিয় জায়গার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন মোহনা জাহ্নবী

সেন্টমার্টিন

কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার একটি ইউনিয়ন। সাগর পাড়ি দিয়ে এই প্রবাল দ্বীপে যাওয়ার পথ শান্ত থাকে বলে শীতের সময় পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। যদিও বছরের অন্য সময়ও অনেক পর্যটক এ দ্বীপে ঘুরতে আসেন। এখানে ঘুরতে গেলে অদূরের ছেঁড়া দ্বীপও ঘুরে আসা যায়। সেন্টমার্টিনে অনেক আবাসিক হোটেল রয়েছে, এ ছাড়া একটি সরকারি ডাকবাংলোও আছে। পর্যটকদের জন্য এ দ্বীপ যথেষ্ট নিরাপদ।

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। ছবি: সংগৃহীত

নিঝুম দ্বীপ

এর অবস্থান নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলায়। স্থানীয়ভাবে এ চর ইছামতীর চর হিসেবেও পরিচিত। প্রচুর গাছপালা থাকার সুবাদে এ দ্বীপটি জাতীয় উদ্যান হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এখানে প্রচুর কেওড়া গাছ আছে। এ ছাড়া এ দ্বীপটি হরিণের অভয়ারণ্যের জন্যও সুপরিচিত। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে এ দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের খুব আকর্ষণ করে। এখানে পৌঁছানো কিছুটা ঝক্কির ব্যাপার হলেও এর নয়নাভিরাম সৌন্দর্য সভ ক্লান্তি দূর করে দেয়। ক্যাম্পিং করার জন্য এ দ্বীপ উপযুক্ত একটা স্থান।

মনপুরা

মনপুরা ভোলা জেলার একটি দ্বীপ উপজেলা। জেলা সদর থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরত্বে এর অবস্থান। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এ দ্বীপের মাধুর্যতা শীত মৌসুমে আরও বেড়ে যায়। দ্বীপে বসে সূর্যাস্ত উপভোগ করাটা বেশ মনোমুগ্ধকর হয় এই মৌসুমে। এখানে আউশ ও আমন ধানের ফলন হয়। প্রচুর ইলিশ মাছ পাওয়া যায়। ঘন বনাঞ্চল এবং কিছু দিঘির সন্নিবেশ এ দ্বীপটির সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

নয়নাভিরাম মনপুরা দ্বীপ। ছবি: সংগৃহীত

কুয়াকাটা

এটি পটুয়াখালী জেলায় অবস্থিত বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। কুয়াকাটা সমুদ্রকন্যা হিসেবে পরিচিত। এখানের সমুদ্রতীর থেকে সূযোর্দয় এবং সূর্যাস্ত উভয়ই দেখার সুযোগ রয়েছে বলে এটি অধিক জনপ্রিয়। প্রায় সারা বছরই এখানে পর্যটকের আনাগোনা থাকে। শীত মৌসুমে সমুদ্র তুলনামুলক শান্ত থাকে বলে অনেকে সমুদ্র দেখার জন্য এ মৌসুমটাকেই বেছে নেয়। সমুদ্র ছাড়াও এখানে আরো অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে।

সাগরকন্যা কুয়াকাটা। ছবি: সংগৃহীত

হাওর

মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ আর সিলেট জেলা নিয়ে গঠিত সিলেট বিভাগ। এসব জেলাজুড়ে রয়েছে টাঙ্গুয়ার হাওর, হাকালুকি হাওর, হাইল হাওর, শনির হাওর প্রভৃতি। শীত মৌসুমে হাওরগুলোতে অনেক অতিথি পাখির আনাগোনা দেখা যায়। সেসব অতিথি পাখি দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন পর্যটকরা।

শীত মৌসুমে টাঙ্গুয়ার হাওরে অতিথি পাখির দেখা মেলে। ছবি: সংগৃহীত

বিল

সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ১০০ হেক্টর জায়গাজুড়ে বাইক্কা বিল রয়েছে। সেই বিলে প্রতি বছর অনেক অতিথি পাখি আসে।  পাখিদের সঠিক পর্যবেক্ষণের জন্য বিলে তিন তলাবিশিষ্ট একটা পর্যবেক্ষণ টাওয়ারও আছে। সারা বছরই বাইক্কা বিলে পাখি দেখা যায়, তবে শীত মৌসুমে তা যেন পাখিদের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়। এ বিলের উল্লেখযোগ্য পাখি হচ্ছে, পানকৌড়ি, রাঙ্গাবক, শঙ্খচিল, ধলাবক, দলপিপি ইত্যাদি। শীত মৌসুমে অনেক পর্যটক এই বাইক্কা বিলে অতিথি পাখি দেখতে আসেন।

বাইক্কা বিলে অতিথি পাখি। ছবি: সংগৃহীত

সাভার

সাভারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শীতকালে অতিথি পাখি দেখার জন্য প্রতি বছর সেখানে অনেকেই ঘুরতে যায়। এ ছাড়া সাভারের বিরুলিয়ার গোলাপ গ্রাম খুব বিখ্যাত। সেখানে শীত মৌসুমে অনেক দর্শনার্থী ঘুরতে যান। বিরুলিয়াতে ১০-১৫ ঘর পুরনো আমলের বাড়িও আছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি পাখি। ছবি: সংগৃহীত

মানিকগঞ্জ

ঢাকার অদূরে মানিকগঞ্জ জেলা। শহরে থেকে হাঁপিয়ে উঠে অনেকে গ্রামের স্বাদ পেতে সেখানে যায়। শীত মৌসুমে সহজে খেজুর রস খেতে এবং গ্রামের শীত উপভোগ করতে সেখানে ছুটে যায় অনেকে। মানিকগঞ্জে বেশ কিছু পুরনো জমিদার বাড়ি রয়েছে।

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি। ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনা

শীত মৌসুমে সমুদ্র এবং নদী বিধৌত অঞ্চলে শীত তুলনামূলক কম থাকে। তাই পর্যটকরা এ মৌসুমে এসব অঞ্চলে ছুটে যান। নেত্রকোনা জেলায় রয়েছে সোমেশ্বরী নদী, কমলারানীর দিঘি, বিরিসিরি, চিনামাটির পাহাড় প্রভৃতি স্থান। এ ছাড়া এখানে ডিঙ্গাপোতা নামে একটি হাওরও রয়েছে। সারা বছর পর্যটকের আনাগোনা থাকলেও শীতকালে পর্যটকের আনাগোনা আরও বেড়ে যায়।

চিনামাটির পাহাড়। ছবি: সংগৃহীত

শেরপুর

শেরপুরে রয়েছে ঘোরার জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট গজনী অবকাশ কেন্দ্র। প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘেরা এ অবকাশকেন্দ্রে গেলে যেকোনো পর্যটকই মুগ্ধ হবে।

গজনী অবকাশ কেন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত

রংপুর

পায়রাবন্দ, দেবী চৌধুরানীর রাজবাড়ি, তাজহাট জমিদার বাড়ি- রংপুর গেলে এসব স্থান অবশ্যই ঘুরে আসা উচিত। পায়রাবন্দ হচ্ছে মিঠাপুকুর উপজেলার একটি গ্রাম, যেখানে মহিয়সী নারী বেগম রোকেয়া জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার সম্মানার্থে পায়রাবন্দ গ্রামে ৩.১৫ একর জমিতে বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। যার ভেতর রয়েছে নান্দনিক বাগান, ডরমেটরি ভবন, গবেষণা কক্ষ, লাইব্রেরি, গেস্ট হাউস প্রভৃতি। দেবী চৌধুরানীর রাজবাড়িটি রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলায় অবস্থিত। ৩২০ বছর আগে ২৮ একর জায়গার ওপর খাল, পুকুর এবং ফসলি জমি বেষ্টিত এ জমিদার বাড়িটি নির্মাণ করা হয়। ঐতিহাসিকভাবে এ বাড়িটি খুব সমাদৃত। কেননা, ইতিহাসে দেবী চৌধুরানী এক বহুল সুপরিচিত নাম। রংপুর জেলার কথা ভাবলেই প্রথম যে চিত্র চোখে ভেসে ওঠে, তা তাজহাট জমিদার বাড়ি। শ্বেতশুভ্র এই বিশাল বাড়িটি সদর উপজেলাতেই অবস্থিত। রংপুর ভ্রমণে গেলে অবশ্যই এ জায়গাটি ঘুরে আসা উচিত।

তাজহাট জমিদার বাড়ি। ছবি: সংগৃহীত

পঞ্চগড়

শীতের প্রারম্ভ পঞ্চগড় ভ্রমণের উপযুক্ত সময়। অক্টোবর-নভেম্বরে পঞ্চগড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায় বলে এ সময়টায় এখানে পর্যটকদের আনাগোনা বেশি থাকে। উল্লেখ্য যে, পঞ্চগড়ের ডাকবাংলো থেকে কাঞ্চজঙ্ঘার দৃশ্য সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যায়। এ ছাড়া পঞ্চগড়ে আরও আছে কাজী টি এস্টেট, জিরো পয়েন্ট, ভিতরগড় দুর্গনগরী, মহারাজার দিঘি, রকস মিউজিয়াম, আটোয়ারী ইমামবাড়া, জগবন্ধু ঠাকুরবাড়ি, গোলকধাম মন্দির প্রভৃতি স্থান।

পঞ্চগড় থেকে শীত মৌসুমে কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা মেলে। ছবি: সংগৃহীত

লালমনিরহাট

এ জেলার কিছু দর্শনীয় স্থান হচ্ছে- তুষভাণ্ডার জমিদার বাড়ি, কাকিনা জমিদার বাড়ি, শালবন, তিন বিঘা করিডোর, তিস্তা ব্যারেজ, বুড়িমারি স্থলবন্দর ও জিরো পয়েন্ট, ভূমি গবেষণা জাদুঘর ইত্যাদি। তুষভাণ্ডার জমিদার বাড়িটি কালীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। এটি একটি ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি, যা ৪০০ বছরের পুরনো। কালীগঞ্জ উপজেলারই আরেকটি জমিদার বাড়ি হচ্ছে কাকিনা জমিদার বাড়ি। এটি কাকিনা গ্রামে অবস্থিত এবং এটিও ৪০০ বছরের পুরনো। লালমনিরহাটে রয়েছে অনেক শালবন। অনেক পর্যটক শুধুমাত্র শালবন দেখার জন্যেও লালমনিরহাটে যায়। পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্তে রয়েছে একটি স্বতন্ত্রভূমি, যা তিন বিঘা করিডোর নামে পরিচিত। এটি ঠিক পর্যটন স্থান না হলেও অনেকে কৌতূহলবশত এখানে ঘুরতে যায়, স্বচক্ষে দেখে আসে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা।

তুষভাণ্ডার জমিদার বাড়ি। ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রাম

এ জেলার দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- উলিপুর মুন্সিবাড়ি, নাওডাঙ্গা জমিদার বাড়ি, চান্দামারী মসজিদ, পাঙ্গা জমিদার বাড়ি, ভেতরবন্দ জমিদার বাড়ি, জয়মনিরহাট জমিদার বাড়ি প্রভৃতি। কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার উলিপুর মুন্সিবাড়িটির নান্দনিক স্থাপত্যশৈলী পর্যটকদের আকর্ষণ করে। নাওডাঙ্গা জমিদার বাড়ির অবস্থান ফুলবাড়ি উপজেলায়। এ বাড়িটিও বড় পরিসরে নির্মিত। রাজারহাট উপজেলার চান্দামারী মসজিদটি মোগল ও সুলতানী স্থাপত্যকলার আদলে নির্মিত অনন্য এক স্থাপনা।

উলিপুর মুন্সিবাড়ি। ছবি: সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁও

বালিয়া মসজিদ, লোকায়ন জীবন বৈচিত্র জাদুঘর, রাজা টংনাথের বাড়ি এসব হচ্ছে ঠাকুরগাঁও জেলার দর্শনীয় কিছু স্থান। লোকায়ন জীবন বৈচিত্র জাদুঘরটি ঠাকুরগাঁও জেলা সদর থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। প্রান্তিক মানুষের জীবনবৈচিত্র ও গ্রামীণ লোকজ সংস্কৃতি তুলে ধরা এবং সংরক্ষণ করা হয়েছে এখানে।

লোকায়ন জীবন বৈচিত্র জাদুঘর। ছবি: সংগৃহীত

দিনাজপুর

জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানগুলো হচ্ছে- দিনাজপুর রাজবাড়ি, রামসাগর, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, স্বপ্নপুরী ইত্যাদি। দিনাজপুর রাজবাড়ির অবস্থান দিনাজপুর সদরেই। জেলা সদর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রামসাগর মানবসৃষ্ট দিঘী। স্বপ্নপুরী দিনাজপুর উপজেলার নবাবগঞ্জ উপজেলায় একটি বিনোদন পার্ক। শীত মৌসুমে এখানে বেশ ভিড় হয়।

দিনাজপুর রাজবাড়ি। ছবি: সংগৃহীত

নীলফামারী

চিনি মসজিদ, ক্যাথলিক গীর্জা, হরিশ্চন্দ্রের পাঠ, ধর্মপালের গড় নীলফামারী জেলার উল্লেখযোগ্য স্থান। কলকাতা থেকে মর্মর পাথর ও চিনামাটি এনে নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীতে এ মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। হরিশ্চন্দ্রের পাঠ মূলত একটি রাজবাড়ির ধ্বংসাবশেষ, যা জলঢাকা উপজেলায় অবস্থিত।

চিনি মসজিদ। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী

রাজশাহী হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি শহর। শহরের উল্লেখযোগ্য কিছু দর্শনীয় স্থান হচ্ছে- বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর, রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, পদ্মা গার্ডেন, মুক্তমঞ্চ, টি বাঁধ, সেন্ট্রাল পার্ক, চিড়িয়াখানা ইত্যাদি। এছাড়া রাজশাহীর অন্যান্য উপজেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আরো অনেক দর্শনীয় স্থান। শহরের বিভিন্ন জায়গায় সময় কাটানো এবং দেখার জন্য পর্যাপ্ত স্থান রয়েছে। পুঠিয়া উপজেলায় রয়েছে পুঠিয়া রাজবাড়ি, বাগমারা উপজেলাতে আছে হাজারদুয়ারী জমিদার বাড়ি। বাঘা উপজেলায় আছে ঐতিহাসিক বাঘা শাহী মসজিদ।

পুঠিয়া রাজবাড়ি। ছবি: সংগৃহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

এই জেলা আমের জন্য বিখ্যাত হলেও বিগত কিছু বছর ধরে আলপনা গ্রামের কারণে নতুন করে জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং পর্যটকদের আনাগোনাও বেড়েছে। এ জেলায় ঘুরতে গেলে দেখে নিতে পারেন- বাবু ডাইং, আলপনা গ্রাম, নাচোল রাজবাড়ি, কোতোয়ালী দরওয়াজা, ছোট সোনা মসজিদ, তোহাখানা কমপ্লেক্স, দারাসবাড়ি মসজিদ প্রভৃতি। এখানকার বেশ কিছু টিলায় আদিবাসীরাও বসবাস করে। অবারিত গাছপালা, পাখপাখালির ডাকাডাকি, আদিবাসীদের জীবনবৈচিত্র দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। আলপনা গ্রামটি নাচোল উপজেলায় অবস্থিত। গ্রামের প্রতিটি বাড়ি আলপনা দিয়ে সাজানো বলে এটি আলপনা গ্রাম হিসেবে সুপরিচিতি পেয়েছে। এ গ্রামের সৌন্দর্যের টানে সারা দেশ থেকে ছুটে আসেন ভ্রমণপিপাসু মানুষেরা।

আলপনা গ্রাম। ছবি: সংগৃহীত

নাটোর

নাটোরের কিছু দর্শনীয় স্থান হচ্ছে- রানী ভবানীর রাজবাড়ি, উত্তরা গণভবন, চলনবিল ইত্যাদি। রানী ভবানীর রাজবাড়ি নাটোর রাজবাড়ি হিসেবেও পরিচিত। দিঘাপাতিয়া রাজবাড়িটি বর্তমানে উত্তরা গণভবন নামে পরিচিত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এটিকে উত্তরা গণভবন নামকরণ করেন। নাটোরের আরো একটি উল্লেখযোগ্য জায়গা হচ্ছে চলনবিল। শীত মৌসুমে চলনবিল জুড়ে আদিগন্ত বিস্তৃত সরিষা ফুল ফুটে থাকে। চলনবিলের এই মোহনীয় রূপের টানে পর্যটকরা এ মৌসুমে চলনবিল দেখতে আসে।

উত্তরা গণভবন। ছবি: সংগৃহীত

বগুড়া

বগুড়া জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান হচ্ছে মহাস্থানগড়, খেরুয়া মসজিদ, রানী ভবানীর পৈতৃক নিবাস, ভীমের জাঙ্গাল, ভাসু বিহার, গোকুল মেধ প্রভৃতি। বগুড়া জেলার সবচেয়ে আইকনিক জায়গা হচ্ছে মহাস্থানগড়। করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে মহাস্থানগড়ের অবস্থান। এই মহাস্থানগড়ই ছিলো প্রাচীন বাংলার রাজধানী। এর ভেতর রয়েছে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন বিভিন্ন শাসনকালের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। ২০১৬ সালে মহাস্থানগড়কে সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

মহাস্থানগড়। ছবি: সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জ জেলায় ঘুরে আসতে পারেন রবীন্দ্র কাছারি বাড়ি, নবরত্ন মন্দির, বঙ্গবন্ধু যমুনা ইকোপার্ক, যমুনা সেতু ইত্যাদি। উল্লাপাড়া উপজেলায় রয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় নবরত্ন মন্দির।

রবীন্দ্র কাছারিবাড়ি। ছবি: সংগৃহীত

জয়পুরহাট

জয়পুরহাটে গেলে যেসব স্থান ঘুরে দেখা যেতে পারে, সেগুলো হচ্ছে লাকমা রাজবাড়ি, পাগলা দেওয়ান বধ্যভূমি, নান্দাইল দীঘি ইত্যাদি। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী উপজেলা পাঁচবিবি। সেই উপজেলাতেই লকমা রাজবাড়ির অবস্থান। ৩০০ বছর পূর্বে এই রাজবাড়িটি নির্মাণ করা হয়েছিলো। জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলায় নান্দাইল দীঘির অবস্থান, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ১ কিলোমিটার। ১৬১০ সালে এ দিঘিট খনন করা হয়েছিলো।

লাকমা রাজবাড়ি। ছবি: সংগৃহীত

নওগাঁ

নওগাঁ জেলার দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বলিহার রাজবাড়ি, দুবলহাটি জমিদারবাড়ি, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার, কুসুম্বা মসজিদ, রবি ঠাকুরের কুঠিবাড়ি, ভবানীপুর জমিদার বাড়ি ইত্যাদি। পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার নওগাঁ জেলার সবচেয়ে দর্শনীয় একটি স্থান। এটি একটি প্রাচীন বৌদ্ধবিহার, যা সোমপুর বিহার হিসেবেও পরিচিত এবং এর অবস্থান বদলগাছি উপজেলায়। ১৯৮৫ সালে এটি বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ইউনেস্কো থেকে স্বীকৃতি লাভ করে।

বলিহার রাজবাড়ি। ছবি: সংগৃহীত

যশোর

যশোর রোড, বেনাপোল স্থলবন্দর, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের সমাধিক্ষেত্র, মধুসূদন দত্তের বাড়ি, কালেক্টরেট পার্ক এসব হচ্ছে যশোর জেলার অন্যতম দর্শনীয় স্থান। মাইকেল মধুসূদন দত্তের সম্মানার্থে সেখানে জাদুঘর, লাইব্রেরি এবং পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে, যা মধুপল্লী নামেও পরিচিত। যশোর রোড ১২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ঐতিহাসিক সড়ক, যা পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ উভয়ের মধ্যে বিরাজমান। বেনাপোল স্থলবন্দর বাংলাদেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর। এছাড়া শীত মৌসুমে খেজুর রস খাওয়ার জন্য অনেক দর্শনার্থী যশোরে গিয়ে থাকেন। যশোরের খেজুর রস এবং গুড় সারা দেশে বিখ্যাত।

বিখ্যাত যশোর রোড। ছবি: সংগৃহীত

জাহ্নবী

যশোর জেলার দর্শনীয় ও ভ্রমণযোগ্য স্থান

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম
যশোর জেলার দর্শনীয় ও ভ্রমণযোগ্য স্থান
গদখালী ফুলের গ্রাম বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ফুলচাষ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। ছবি এআই

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জেলা যশোর ইতিহাস, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত। এই জেলায় রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থান, শতবর্ষী স্থাপনা, ধর্মীয় নিদর্শন, সবুজ উদ্যান এবং বিনোদনকেন্দ্র। পরিবার, বন্ধু বা একক ভ্রমণ—সব ধরনের পর্যটকের জন্যই যশোরে রয়েছে আকর্ষণীয় অনেক গন্তব্য। চলুন জেনে নেওয়া যাক যশোর জেলার কয়েকটি ভ্রমণযোগ্য স্থানের কথা।

মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মস্থান, সাগরদাঁড়ি
বাংলা সাহিত্যের অমর কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মস্থান। এখানে তাঁর স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি, জাদুঘর এবং কপোতাক্ষ নদের মনোরম দৃশ্য দেখা যায়।

কপোতাক্ষ নদ
যশোরের ঐতিহাসিক নদীগুলোর অন্যতম। নদীর তীরবর্তী প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

যশোর আইটি পার্ক
আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্র। প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য আকর্ষণীয় স্থান।

যশোর কালেক্টরেট পার্ক
শহরের মাঝখানে অবস্থিত পরিচ্ছন্ন ও সবুজ পার্ক। পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর জন্য উপযোগী।

যশোর পৌর পার্ক
শিশু ও পরিবারকেন্দ্রিক বিনোদনের জন্য জনপ্রিয় একটি পার্ক।

যশোর ইনস্টিটিউট
ঔপনিবেশিক আমলের ঐতিহাসিক স্থাপনা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য আকর্ষণীয়।

মনিরামপুর জমিদার বাড়ি
প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন। অতীতের জমিদারি ঐতিহ্যের সাক্ষী এই ভবন।

নওয়াপাড়া নদীবন্দর
ভৈরব নদের তীরে অবস্থিত ব্যস্ত নদীবন্দর। নদীকেন্দ্রিক জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখার সুযোগ মেলে।

ভৈরব নদ
যশোরের অন্যতম প্রধান নদী। নদীতীরের প্রাকৃতিক পরিবেশ ভ্রমণকারীদের আকর্ষণ করে।

চাঁচড়া শিব মন্দির
প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপনা। এর ঐতিহাসিক ও স্থাপত্যিক গুরুত্ব রয়েছে।

বেনাপোল জিরো পয়েন্ট
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। সীমান্ত এলাকার ব্যস্ততা ও পরিবেশ দেখার সুযোগ রয়েছে।

বেনাপোল স্থলবন্দর এলাকা
দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

গদখালী ফুলের গ্রাম
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ফুলচাষ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। ফুলে ভরা ক্ষেতের সৌন্দর্য দর্শকদের মুগ্ধ করে।

ঝিকরগাছা ফুলবাগান এলাকা
বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের চাষ ও রঙিন প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য জনপ্রিয়।

বকচরা ইকো পার্ক
প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য উপযুক্ত একটি বিনোদনকেন্দ্র। সবুজ পরিবেশে সময় কাটানোর সুযোগ রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ, যশোর
মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ। ইতিহাস সম্পর্কে জানার সুযোগ দেয়।

শামস-উল-হুদা স্টেডিয়াম
যশোরের প্রধান ক্রীড়া ভেন্যু। ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে পরিচিত স্থান।

চৌগাছা রাজবাড়ির ধ্বংসাবশেষ
অতীতের জমিদারি ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

কেশবপুরের প্রাচীন মন্দিরসমূহ
ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্বসম্পন্ন কয়েকটি মন্দির নিয়ে গড়ে উঠেছে এই এলাকা।

খাজুরা গ্রামাঞ্চল
গ্রামীণ জীবন, সবুজ প্রকৃতি এবং শান্ত পরিবেশ উপভোগের জন্য আদর্শ স্থান।

দিনে দিনেই ঘুরে আসুন মৈনট ঘাট থেকে

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম
দিনে দিনেই ঘুরে আসুন মৈনট ঘাট থেকে
ঢাকার দোহার উপজেলায় অবস্থিত মৈনট ঘাটটি রাজধানী থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরে।

ঢাকার কাছে একদিনের ছুটিতে ঘুরে আসার মতো দারুণ এক আকর্ষণীয় জায়গা মৈনট ঘাট, যা অনেকের কাছে ‘মিনি কক্সবাজার’ নামে পরিচিত। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করতে পরিবার, বন্ধুবান্ধব কিংবা প্রিয়জনদের নিয়ে ঢাকার বাইরে পুরো দিন কাটানোর জন্য এটি হতে পারে এক চমৎকার গন্তব্য।
ঢাকার দোহার উপজেলায় অবস্থিত এ ঘাটটি রাজধানী থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরে। ফলে খুব সহজেই সকাল সকাল রওনা হয়ে সারা দিন ঘুরে সন্ধ্যার মধ্যেই আবার ঘরে ফিরে আসা সম্ভব। 
এখানে এসে যখন আপনি দাঁড়াবেন, তখন চোখের সামনে ভেসে উঠবে পদ্মা নদীর এক অন্তহীন ও সুবিশাল জলরাশি। পদ্মার বুকে হেলেদুলে ভেসে চলা জেলেদের নৌকা, মৃদু বাতাস আর নদীর পাড় ধরে হেঁটে বেড়ানোর অনুভূতি আপনাকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও শহরের কোলাহল ভুলিয়ে দেবে। এই চমৎকার পরিবেশের কারণেই ভ্রমণপিয়াসীদের কাছে এটি মিনি কক্সবাজার হিসেবে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

 

মৈনট ঘাট যাওয়ার উপায়

ঢাকা শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকেই আপনি খুব সহজে দোহারে আসতে পারবেন। যাতায়াতের জন্য নিচে কয়েকটি সহজ ও সুবিধাজনক বিকল্প মাধ্যম তুলে ধরা হলো–
১. সরাসরি বাস সার্ভিস: গুলিস্তান মাজারের সামনে থেকে সরাসরি মৈনট ঘাটের উদ্দেশে ‘যমুনা ডিলাক্স’ বাস ছেড়ে যায়। এই রুটে এটিই একমাত্র বাস যা আপনাকে একেবারে ঘাটের কাছাকাছি নামিয়ে দেবে। রাস্তা ফাঁকা থাকলে সাধারণত দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে যাওয়া যায়। তবে মনে রাখবেন, মৈনট ঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশে শেষ বাসটি ছেড়ে আসে সন্ধ্যা ৬টায়। তাই ফেরার তাড়া থাকলে অবশ্যই ৬টার আগেই বাসস্ট্যান্ডে উপস্থিত হতে হবে।
২. মুন্সীগঞ্জ হয়ে যাতায়াত: গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া এলাকা থেকে আপনি ‘নগর পরিবহন’-এর বাসেও আসতে পারেন। নগর পরিবহন নবাবগঞ্জের রাস্তা ব্যবহার না করে মুন্সীগঞ্জ হয়ে যাতায়াত করে। এই বাসে এলে আপনাকে নামতে হবে কার্তিকপুর বাজারে। সেখান থেকে সহজে ঘাটে যাওয়া যায়।
৩. সিএনজি: ঢাকার বাবুবাজার ব্রিজ পার হয়ে কদমতলী থেকে কার্তিকপুর বাজার পর্যন্ত লোকাল সিএনজি পাওয়া যায়। জনপ্রতি ভাড়া সাধারণত ১৮০ থেকে ২০০ টাকার মতো। কার্তিকপুর বাজারে নেমে সেখান থেকে যেকোনো অটোরিকশায় চড়ে আপনি অনায়াসেই মৈনট ঘাট চলে যেতে পারবেন।

 

ভ্রমণের উপযুক্ত সময়

প্রকৃতির ভিন্ন ভিন্ন রূপ দেখতে এখানে সারা বছরই পর্যটকদের আনাগোনা থাকে। তবে একেক ঋতুতে মৈনট ঘাটের সৌন্দর্য একেক রকম রূপ ধারণ করে–
• বর্ষাকাল: আপনি যদি পদ্মার উত্তাল রূপ, বিশাল ঢেউ আর চারপাশের সতেজ সবুজ প্রকৃতি দেখতে চান, তবে বর্ষাকাল আপনার জন্য সেরা সময়।
• শরৎকাল: সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের দিকে এই অঞ্চলের নদীর চারপাশ কাশফুলে ছেয়ে যায়। মনোরম নীল আকাশ আর সাদা কাশফুলের এই কম্বিনেশন ছবি তোলার জন্য দারুণ এক পরিবেশ তৈরি করে।
• শীতকাল: শীতের সময়ে পদ্মা নদী থাকে একদম শান্ত। এই সময়ে মৈনট ঘাট যাওয়ার পথে রাস্তার দুপাশে মাইলের পর মাইল সোনালি সরিষাখেতের দেখা মেলে। এছাড়া শীতকালে নদীর বুকে ছোট-বড় অসংখ্য চর জেগে ওঠে। স্পিডবোট বা নৌকা ভাড়া করে সেই নির্জন চরে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দই আলাদা।

 

দর্শনীয় স্থান ও আশপাশের পুরাকীর্তি

মৈনট ঘাটের মূল সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি আপনি এর কাছাকাছি এলাকার কিছু ঐতিহাসিক স্থাপনা ও জমিদার বাড়ি ঘুরে দেখতে পারেন। ঘাট এলাকায় পৌঁছানোর আগেই বান্দুরা নামক স্থানে চোখে পড়বে প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো ইতিহাস জড়ানো ‘কোকিল প্যারি জমিদার বাড়ি’। স্থানীয় মানুষ একে ‘কালাকোপা জমিদার বাড়ি’ নামেও ডাকেন। ভাগ্যকুলের তৎকালীন বিখ্যাত জমিদার যদুনাথ রায় তার সন্তানদের বসবাসের জন্য এই দৃষ্টিনন্দন বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন।
এই বাড়ির ঠিক কাছাকাছি এলাকাতেই রয়েছে আরও কয়েকটি ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন, যার মধ্যে জজবাড়ি, উকিলবাড়ি এবং আন্ধারকোঠা অন্যতম। প্রতিটি স্থাপনাই জমিদার যদুনাথ রায়ের কীর্তি। আপনি যদি ইতিহাসপ্রেমী হয়ে থাকেন কিংবা পুরোনো দিনের স্থাপত্যশৈলী ও পুরাকীর্তি দেখতে ভালোবাসেন, তবে মৈনট ঘাট যাওয়ার পথে এই ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোয় একবার ঢুঁ মারতে ভুলবেন না।

খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা

ভ্রমণের সময় খাওয়া-দাওয়ার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মৈনট ঘাটে ঋতুভেদে খাবারের ভিন্ন ভিন্ন ব্যবস্থা থাকে–
• শুকনো ও শীতকালীন মৌসুম: এই সময়ে নদীর পাড়ে অসংখ্য অস্থায়ী খাবারের হোটেল ও দোকান গড়ে ওঠে। পদ্মার একদম টাটকা ইলিশ মাছ ভাজা দিয়ে দুপুরের খাবার শেষ করার মজাই আলাদা। 
• বর্ষাকাল: বর্ষার সময়ে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ার কারণে ঘাটের সব অস্থায়ী দোকানপাট বন্ধ থাকে। তখন দুপুরের খাবারের জন্য আপনাকে কাছেই অবস্থিত কার্তিকপুর বাজারে যেতে হবে। এই বাজারে চলনসই ও মাঝারি মানের বেশ কিছু ভাতের হোটেল রয়েছে।
• মিষ্টির স্বাদ: কার্তিকপুর বাজারে এলে বিখ্যাত ‘রণজিৎ মোদক’ এবং ‘নিরঞ্জন মিষ্টান্ন ভাণ্ডার’-এর রসগোল্লা চেখে দেখতে একদম ভুলবেন না। মিষ্টির পাশাপাশি এখানকার সুস্বাদু টক ও মিষ্টি দইও বেশ জনপ্রিয়।

 

রাতযাপনের সুবিধা

পর্যটকদের রাতে থাকার জন্য মৈনট ঘাট বা এর আশপাশে ভালো মানের কোনো হোটেল, গেস্টহাউস, বোর্ডিং কিংবা আধুনিক রিসোর্ট গড়ে ওঠেনি। এরপরও যদি আপনি বিশেষ প্রয়োজনে সেখানে রাত কাটাতে চান, তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে কোনো বাসা বা থাকার জায়গা ম্যানেজ করতে হবে। অন্যথায়, ডে ট্যুর বা দিনের আলো থাকতেই ঘুরে ঢাকায় ফিরে আসাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

ভ্রমণকালীন সতর্কতা

যেকোনো ট্যুর সুন্দর ও নিরাপদ করতে কিছু নিয়মকানুন মেনে চলা উচিত। মৈনট ঘাট ভ্রমণের সময় নিচের বিষয়গুলো বিশেষভাবে খেয়াল রাখুন–
• সাঁতার ও গোসল: আপনি যদি ভালো সাঁতার না জানেন, তবে পদ্মা নদীতে গোসল করার সময় একদমই বেশি গভীরে যাবেন না। পদ্মার স্রোত অত্যন্ত তীব্র ও বিপজ্জনক হতে পারে।
• পরিবেশ রক্ষা: চিপসের প্যাকেট, সিগারেটের ফিল্টার, প্লাস্টিকের পানির বোতল কিংবা যেকোনো ধরনের বর্জ্য নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলুন। নদীর পানি বা ঘাটের পরিবেশ নোংরা করবেন না।
• বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ: নদী বা চরের আশপাশে পাখি শিকার করা অথবা পাখিদের বিরক্ত করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন।
• সামাজিক শিষ্টাচার: জনসমক্ষে বা অপরিচিত মানুষের সামনে ধূমপান করা থেকে বিরত থাকুন। স্থানীয় দোকানদার, অটোরিকশাচালক ও ট্রলারের মাঝিসহ সবার সঙ্গে সব সময় মার্জিত ও বিনয়ী ব্যবহার করুন। কাউকে কখনো ছোট করে দেখবেন না।
• নারীদের প্রতি সম্মান: আপনার কোনো আচরণ বা কথায় যেন একক বা দলবদ্ধভাবে ঘুরতে আসা কোনো নারী পর্যটক কিংবা স্থানীয় নারীরা বিন্দুমাত্র অস্বস্তি বা বিরক্তিবোধ না করেন, সেদিকে সর্বোচ্চ খেয়াল রাখুন।

সিনচিয়াং ঘুরে এলেন বাংলাদেশি সাংবাদিক

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম
সিনচিয়াং ঘুরে এলেন বাংলাদেশি সাংবাদিক
আল মামুন হারুন উর রশিদ

‘অনুমানের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং তথ্য ও বাস্তবতার আলোকেই সত্যকে সন্ধান করা উচিত। এটাই চীনের মূল দর্শন এবং যেকোনো বিভ্রান্তি দূর করার সবচেয়ে বড় উপায়’। চীনের উইগুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সিনচিয়াং প্রথমবার সফর করে এসে সিনচিয়াং ডেইলিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এভাবেই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করলেন বাংলাদেশের সাংবাদিক আল মামুন হারুন উর রশিদ। 
দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ও বিশেষ করে পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোতে সিনচিয়াংকে নিয়ে একপাক্ষিক ও নেতিবাচক প্রচারণাই দেখে এসেছেন বাংলাদেশের মানুষ। তবে ঢাকার ইংরেজি দৈনিক 'দ্য নিউ নেশন'-এর এই সাংবাদিকের সাম্প্রতিক সিনচিয়াং সফর সেই চেনা বৃত্ত ভেঙে দিয়েছে। পশ্চিমা চশমা সরিয়ে সরাসরি সিনচিয়াংয়ের স্থিতিশীলতা, দ্রুত বিকাশমান পর্যটন শিল্প এবং স্থানীয় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত জীবনযাত্রা দেখে তিনি মুগ্ধ।   
এবারের সফরটি হারুন উর রশিদের চতুর্থ চীন সফর হলেও, সিনচিয়াংয়ে এটিই ছিল তার প্রথম পদার্পণ। এই অঞ্চলের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ভূগোল নিয়ে আগে থেকেই তার প্রবল আগ্রহ ছিল। তবে সেখানে গিয়ে তার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।  
তিনি জানান, পশ্চিমা মিডিয়া সিনচিয়াংয়ের যে চিত্র দেখায়, বাস্তবতার সাথে তার আকাশ-পাতাল তফাত। এখানকার স্থানীয় মানুষ অত্যন্ত অতিথিপরায়ণ, প্রাণবন্ত ও হাসিখুশি।  
সিনচিয়াংয়ের জাদুঘরগুলো ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ কোনো সমাজ বা মানবতা মেনে নিতে পারে না। অতীতে এই অঞ্চলে যে সহিংসতার চ্যালেঞ্জ ছিল, তা মোকাবিলা করে সব স্তরের মানুষকে এক ছাতার নিচে এনে শান্তি ফিরিয়েছে প্রশাসন। যার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো বর্তমানে চীন এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ পর্যটক ভয়হীনভাবে সিনচিয়াংয়ে ঘুরতে আসছেন। 
বাংলাদেশি পাঠকরা কেন সিনচিয়াং নিয়ে পশ্চিমা সংবাদ সহজেই বিশ্বাস করে— সাক্ষাৎকারে এমন এক প্রশ্নের জবাবে হারুন উর রশিদ অত্যন্ত বাস্তবসম্মত একটি ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘যদি আমাদের চোখের সামনে ২০টি নিউজ পোর্টাল বা মিডিয়া একটি নির্দিষ্ট সুরেই কথা বলে, আর তার বিপরীতে মাত্র একটি মিডিয়া ভিন্ন কিছু বলে, তবে মানুষ ওই ২০টি মিডিয়ার কথাই বিশ্বাস করবে। বাংলাদেশসহ অনেক উন্নয়নশীল দেশেই দীর্ঘ সময় ধরে পশ্চিমা মিডিয়ার একচেটিয়া আধিপত্য রয়েছে’।  
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভাষার একটি বড় বাধা রয়েছে। চীন তাদের সত্য গল্পগুলো নিজেদের ভাষায় লিখলেও তা সাধারণ বাংলাদেশি পাঠকদের কাছে পৌঁছায় না। কারণ সবাই ইংরেজি বা চীনা ভাষা পড়তে পারেন না। তাই এই শূন্যতা পূরণ করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মূলধারার গণমাধ্যমে বাংলা ভাষায় সিনচিয়াংয়ের আসল তথ্য ও উপাত্ত তুলে ধরা জরুরি। যখন মানুষ দুই পক্ষের তথ্যই হাতে পাবে, তখন তারা নিজেরাই সত্য-মিথ্যা বিচার করতে পারবেন। 
'বেল্ট অ্যান্ড রোড' উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশ এবং সিনচিয়াংয়ের মধ্যে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনা দেখছেন এই সাংবাদিক। ভৌগোলিকভাবে সিনচিয়াং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল, যার সাথে আটটি দেশের সীমান্ত রয়েছে। ফলে এটি ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার সাথে যোগাযোগের একটি অন্যতম প্রধান হাব।  
সিনচিয়াংয়ের কৃষি ও পশুপালন খাত পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সভ্যতার মূলে রয়েছে কৃষি ও ধান চাষ। সিনচিয়াং যেভাবে আধুনিক প্রযুক্তিতে চাল এবং নানারকম শাকসবজি উৎপাদন করছে, তা থেকে বাংলাদেশের অনেক কিছু শেখার আছে।  
পাশাপাশি, সিনচিয়াংয়ের উন্নত ডেইরি শিল্প ও অর্গানিক মিল্ক প্রোডাক্টের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ গুঁড়োদুধ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করে। চীন আমাদের অনেক কাছাকাছি দেশ এবং সিনচিয়াং দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য একটি বিশাল কেন্দ্র। ফলে এই খাতে বাংলাদেশ ও সিনচিয়াংয়ের মধ্যে চমৎকার বাণিজ্যিক সহযোগিতা গড়ে উঠতে পারে’।   
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে দুই দেশের গণমাধ্যমের এই মেলবন্ধন আরও জোরালো হবে। বাংলাদেশি সাংবাদিকরা আরও বেশি সংখ্যায় সিনচিয়াং সফর করবেন এবং কোনো অন্ধবিশ্বাস বা চাপিয়ে দেওয়া মতবাদে কান না দিয়ে বাস্তব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সত্য গল্পগুলো বাংলাদেশের মানুষের সামনে তুলে ধরবেন।


সূত্র: সিএমজি

পর্যটকে মুখর রাঙামাটি

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৯:০৩ এএম
আপডেট: ০২ জুন ২০২৬, ১০:৩২ এএম
পর্যটকে মুখর রাঙামাটি
‘সিম্বল অব রাঙামাটি’ খ্যাত ঝুলন্ত সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড়। ছবি: সংগৃহীত

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি পাহাড়ি কন্যা পর্যটন শহর রাঙামাটি এখন পর্যটকদের পদভারে মুখরিত। টানা দীর্ঘ ছুটির কারণে ঈদের আগে থেকেই পাহাড়ে পর্যটকের আগমন বাড়তে শুরু করলেও বর্তমানে পর্যটকের আগমন আরও বেড়েছে। কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়েছে পাহাড়ের প্রতিটি পর্যটন স্পট।

পাহাড়, হ্রদ আর সবুজ প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের টানে পর্যটকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে পাহাড়ের এপার থেকে ওপারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ঈদের আগে থেকেই এখানকার হোটেল-মোটেলসহ পাহাড়ের বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রের রিসোর্টগুলো ৭০-৮০ ভাগই বুকিং হয়ে গেছে। সাজেক ভ্যালিও এখন পর্যটকে ভরপুর। 

রাঙামাটি শহরে ৫৬টি আবাসিক হোটেল, ১৭টি রিসোর্ট ও সাজেকে ১১৬টি হোটেল, রিসোর্ট এবং রেস্তোরাঁ আছে ১৪টির বেশি। সবগুলোই পর্যটকদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো পর্যটকের পদচারণায় জমে উঠেছে ঝুলন্ত সেতু, কাপ্তাই হ্রদ, সুবলং ঝরনাসহ জেলার বিনোদন কেন্দ্রগুলো। পর্যটকের আগমনে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে স্থানীয় পর্যটন খাতও।

শহুরে ব্যস্ততা আর যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি ভুলে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটাতে ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের প্রথম পছন্দের তালিকায় রয়েছে পাহাড়-হ্রদের শহর রাঙামাটি। কয়েক মাসের স্থবিরতা কাটিয়ে এখন আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলো।

‘সিম্বল অব রাঙামাটি’ খ্যাত ঝুলন্ত সেতুতে সকাল থেকে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। কেউ ছবি তুলছেন, কেউবা পরিবার-পরিজন নিয়ে উপভোগ করছেন পাহাড় আর হ্রদের মেলবন্ধনের মনোরম দৃশ্য। প্রকৃতির শান্ত পরিবেশে সময় কাটিয়ে স্বস্তির কথা জানালেন পর্যটকরা।

চট্টগ্রামের মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, রাঙামাটিতে এসে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য দেখে আমরা অভিভূত। এখানে কাপ্তাই হ্রদ ও পাহাড়ের যে মিতালি, সেটা অন্য কোথাও দেখা সম্ভব না। পর্যটন শহরটি আরও আধুনিকায়ন করা গেলে এখানে সারা বছরই পর্যটকরা তাদের পরিবার নিয়ে ছুটে আসবে।

রাঙামাটিতে হ্রদ-পাহাড়ের মিতালি দেখে আগত পর্যটকরা খুবই খুশি। জেলায় বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় সরকারি ও ব্যক্তিপর্যায়ে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন পর্যটন স্পট। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা রাঙামাটি জেলার পর্যটন শিল্পের বিকাশে সরকারি উদ্যোগে পরিকল্পিতভাবে নতুন নতুন পর্যটন স্পট গড়ে তোলাসহ কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে পর্যটন খাতে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকেই অনেক রাজস্ব আদায় সম্ভব।

পাশাপাশি এই অঞ্চল দেশি-বিদেশি পর্যটকের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান হতে পারে বলে মনে করেন পর্যটকরা।

রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের ঝুলন্ত সেতুর টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে নিয়োজিত মো. ইউসুফ বাসসকে বলেন, ঈদের আগে থেকে কিছু পর্যটক আসতে শুরু করলেও বর্তমানে তা অনেক বেড়েছে। শুধু ঝুলন্ত সেতু দেখতে দৈনিক ২-৩ হাজার মানুষ আসছেন।
এখানে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ কাপ্তাই হ্রদে নৌ-ভ্রমণ। তাই সকাল থেকেই পর্যটকরা ট্যুরিস্ট বোট ভাড়া করে ঘুরে দেখছেন সুবলং ঝরনাসহ হ্রদের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। 

এ বছর ঈদ উপলক্ষে পর্যটকদের জন্য বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে স্থানীয় হোটেল মালিক সমিতি। রাঙামাটি হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ চৌধুরী জানান, রাঙামাটিতে ঈদের আগে থেকেই পর্যটক আসতে শুরু করেছে। বর্তমানে তা আরও বেড়েছে। 

তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে আমরা পুরো মাসজুড়েই পর্যটকদের বিশেষ প্যাকেজ সুবিধা দিচ্ছি। এ ছাড়া পর্যটকদের নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয়ে আমরা হোটেল মালিক সমিতি বিশেষভাবে নজর দিচ্ছি।

বর্তমানে জেলার সাজেক ভ্যালি, ঝুলন্ত সেতু, কাপ্তাই হ্রদ, পলওয়েল পার্ক, মায়াবী দ্বীপ, আরণ্যক ও সুবলং ঝরনা, রাঙা দ্বীপ, লেকভিউ আইল্যান্ড, কাপ্তাই পট হাউসসহ মনোমুগ্ধকর সব পর্যটন স্পটগুলো এখন মুখরিত হয়ে উঠেছে পর্যটকদের উপস্থিতিতে। রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন উপজেলার পর্যটন স্পটসহ সাজেকের ১১২টি রিসোর্ট-কটেজের মধ্যে প্রায় সব রিসোর্টই শতভাগ পর্যটকে পরিপূর্ণ। 

রাঙামাটি পর্যটন ও হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, এবার ঈদের ছুটিতে রাঙামাটিতে আশানুরূপ পর্যটকের সমাগম ঘটেছে এবং তা দিন দিন আরও বাড়ছে। পর্যটকরা অনলাইন বা অফলাইনে আমাদের হলিডে কমপ্লেক্সের প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ রুম বুকিং করেছেন। 

তিনি বলেন, শুধু পর্যটন কমপ্লেক্স নয়, রাঙামাটির সব হোটেল-মোটেলই এখন পর্যটকে পরিপূর্ণ। কোথাও কোনো রুম খালি নেই। পর্যটকের আগমন আরও বাড়বে বলে আশা করছি। বর্তমানে পর্যটন কমপ্লেক্সে গড়ে ২-৩ হাজার পর্যটক আসছেন। এবার পর্যটন ব্যবসায় আশানুরূপ সরকারি রাজস্ব আদায় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশন এলাকার বোট ইজারাদার সমিতির সহ-সভাপতি মো. রজমান আলী বলেন, পর্যটকের আগমন বৃদ্ধি পাওয়ায় বোটের ব্যবসা অনেক ভালো হচ্ছে। বোট সমিতির পক্ষ থেকে আগত পর্যটকদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কোনো পর্যটক যেন হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বসানো হয়েছে হেল্প ডেস্ক। পর্যটকরা যাতে নিরাপদে জেলার সব স্পটে ঘুরে বেড়াতে পারেন তার জন্য আমাদের প্রস্তুতি আছে। এবারের ঈদের ছুটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকরা নিরাপদে সর্বত্র ভ্রমণ করতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সূত্র: বাসস

ঈদে দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখর চাঁদপুরের তিন নদীর মোহনা

প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম
ঈদে দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখর চাঁদপুরের তিন নদীর মোহনা
ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুর জেলার প্রায় ২৮ লাখ মানুষের জন্য কোন ধরণের বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় ঈদসহ অন্যান্য উৎসবে ভ্রমন প্রিয় লোকজন ভিড় জমায় শহরের তিন নদীর মোহনা বড় স্টেশন মোলহেডে।

এবারের ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে গত তিনদিন সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে এই স্থানে ছুটে আসছে বিভিন্ন বয়সী লোকজন। যার ফলে তিন নদীর মোহনা এখন দর্শনার্থীদের পদাচরণায় মুখর হয়ে উঠেছে।

শনিবার (৩০ মে) সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা দর্শনার্থীদের পদচারণায় জমে ওঠে পুরো এলাকা। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়ে মানুষ উপভোগ করছেন মোহনার নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তিন নদীর মোহনা বিভিন্ন রূপ ধারণ করে। বিশেষ করে বিকেলে সূর্যাস্তের সময় এই স্থানটি খুবই চমৎকার দৃশ্য ধারণ করে। আর ওই মুহুর্তটি অনেকেই প্রিয়জনদের নিয়ে উপভোগ করেন।

এদিকে তিন নদীর মোহনা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌ থানা ও সদর মডেল থানা পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। সাদা পোষাকেও রয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।

মোহনা এলাকা ঘুরে ও দর্শনার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে চাঁদপুর ছাড়াও কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ আশপাশের এলাকা থেকে লোকজন সময় কাটাতে এসেছেন। কেউ নদীর পাড়ে বসে গল্প-আড্ডায় মেতে উঠেছেন, কেউবা মোবাইল ক্যামেরায় স্মৃতিবন্দি করছেন আনন্দঘন মুহূর্ত। অনেকে আবার ট্রলার ও নৌকায় করে ঘুরে আসছেন মেঘনার বুকে জেগে ওঠা বালুচরে। যা স্থানীয়দের কাছে ‘মিনি কক্সবাজার’ নামে পরিচিত।

তবে মোহনার এই মনোরম পরিবেশে বিকেলের দিকে দর্শনার্থীদের ভিড় আরও বাড়তে থাকে। শিশুদের হাসি, তরুণ-তরুণীদের ছবি তোলার ব্যস্ততা এবং নদীর ঢেউয়ের মৃদু শব্দ মিলিয়ে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।  

চাঁদপুর সদরের চান্দ্রা এলাকার বাসিন্দা মোফাজ্জল হোসেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসেছেন সময় কাটাতে। তিনি বলেন, এই স্থান ছাড়া আমাদের সময় কাটানোর আর ভালো বিনোদন কেন্দ্র নেই। যে কারণে বারবার এখানে সময় কাটাতে আসি।

পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মানিকগঞ্জের বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম বলেন, ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে একটু ভিন্ন পরিবেশে সময় কাটাতে চাঁদপুরে এসেছি। তিন নদীর মোহনার সৌন্দর্য সত্যিই অসাধারণ। এখানে এসে মনটা অনেক ভালো হয়ে গেছে। ভবিষ্যতে ঈদের ছুটিতে আবারো পরিবার নিয়ে আসার চেষ্টা করবো।

লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর থেকে বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে এসেছেন পাঁচ বন্ধু। তাদের একজন মিনহাজ উদ্দিন বলেন, সময় পেলে এই স্থানে ঘুরতে আসি। ঈদে সময় কাটানোর জন্য বন্ধুরা মিলে এসেছি। এই স্থানে আসলে কিছু সময় হলেও আনন্দ উপভোগ করা যায়। বিশেষ করে তিন নদীর মিলনস্থলের ঢেউ সকলের নজর কাড়ে।

কুমিল্লা থেকে বন্ধুদের নিয়ে আসা কলেজ শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান বলেন, অনেকদিন ধরেই বড় স্টেশন মোলহেডে আসার ইচ্ছা ছিল। ঈদের ছুটিতে সুযোগ পেয়ে চলে এসেছি। নদীর মাঝখানে ট্রলারে ঘোরাঘুরি আর বালুচরে সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা দারুণ।

চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, ঈদ উৎসব কেন্দ্রিক মানুষের সার্বিক নিরাপত্তায় তিনটি টহল টিম কাজ করছে। এছাড়া বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত তিন নদীর মোহনায় আলাদা একটি টিম রয়েছে। এছাড়া সড়কের প্রতিটি মোড়ে আলাদা ট্রাফিক টিম রয়েছে। মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারে এবং ঘুরতে পারে এজন্য পুলিশ সর্বদা সজাগ রয়েছে।

এসএন/