ঢাকা ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
একদিনেই বদলে গেল চবির দুই উপ-উপাচার্য বিদেশি কোচদের চোখে নতুন ইতিহাস শখ থেকে স্বাবলম্বী গৃহবধূ, ঘরের ছাদ যেন ক্যাকটাস রাজ্য ইসরায়েলের সামরিক অভিযান: লেবাননে সাড়ে ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত ইসরায়েলি কারাগারে বন্দিদের ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন বরিশাল বিভাগে ৫ বছরে নদীগর্ভে বিলীন ১২০ বর্গ কিমি ভুট্টা চাষে বিপর্যয়, চাষিদের স্বপ্ন এখন পচে-গলে পড়ে আছে মাঠে বড় বাজেট, বড় ঘাটতি, বড় চ্যালেঞ্জ ১০ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১০ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল সিলেটে নামকরণ-নামহরণ চলছেই! ঢাবি পড়ুয়া জন্মান্ধ রাজিয়ার বেঁচে থাকার সংগ্রাম ১০ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি পটিয়ায় যুবক খুন কাপ্তাই হ্রদে ডুবে চবি শিক্ষার্থীর  মৃত্যু জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁতীদলের আলোচনা সভা সরকারি বাঙলা কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা ১০ জুলাই জবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের প্রকাশ্যে মানববন্ধন পটিয়া প্রেসক্লাব দখলের চেষ্টা, থানায় অভিযোগ অনার্স কোর্স থেকে বাংলা ও ইতিহাস বাদ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই: শিক্ষামন্ত্রী ‘শর্ত সাপেক্ষে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা’ মানিকগঞ্জে পতাকা টাঙাতে গিয়ে ব্রাজিল সমর্থকের মৃত্যু সিংড়ায় তিন কুকুর টেনে তুলল মায়ের বস্তাবন্দি মরদেহ! কোথায় আমাদের সতর্ক থাকা উচিত? ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, জামায়াত ইসলামও ইসলাম নয় শাহরাস্তিতে সরকারি গাছ কাটার ঘটনায় বিএনপি নেতার সাফাই নারায়ণগঞ্জে ময়লার গাড়িরচাপায় ছাত্রদল নেতাসহ নিহত ২ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কারে ৫০ বিলিয়ন ইয়েন ঋণ সহায়তা দেবে জাপান ‘স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসির মাধ্যমে বৈশ্বিক যোগসূত্র স্থাপন করতে চায় বাংলাদেশ’ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়
Nagad desktop

সামরিক শক্তিতে ইউক্রেনের জোর কতদূর?

প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২৪, ০৫:৩৬ পিএম
আপডেট: ২৬ নভেম্বর ২০২৪, ০৮:২৬ এএম
সামরিক শক্তিতে ইউক্রেনের জোর কতদূর?
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর সংগৃহীত ছবি

সমসাময়িক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর তালিকায় নজর দিলে একটা বিষয় লক্ষ্য করা যায়, তা হলো প্রায় প্রতিটি দেশেরই সামরিক শক্তি অভাবনীয়। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে অথবা কথিত সেই দুঃস্বপ্নের মাঝে দাঁড়িয়ে দেখা যায়, বিশ্বমোড়লরা কীভাবে তাদের সামরিক শক্তির ঝুলি দিনদিন আরও ভারী করছে। তৃতীয় বিশ্বের প্রায় অদৃশ্য এক কোণে বসে বৃহত্তর বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের দিকে কিছুটা অর্থপূর্ণ দৃষ্টি রাখার প্রচেষ্টাই ‘সামরিক শক্তির আদ্যোপান্ত’ সিরিজ। এই সিরিজে আজ থাকছে ইউক্রেনের সামরিক শক্তির বিস্তারিত।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
ইউক্রেনের সামরিক খাতের ইতিহাস সোভিয়েত-পরবর্তী সময়ের সঙ্গে ওতোপ্রতোভাবে জড়িত। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীনতা লাভের পর দেশটির সামরিক শক্তিতে ব্যাপক সংযোজন ও পরিমার্জন ঘটে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো তৎকালীন বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্রের বহর। 

এক হাজার ৯০০টি পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পায় ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী। তবে ১৯৯৪ সালে বুদাপেস্ট স্মারকলিপির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে কূটনৈতিক সমর্থনের বিনিময়ে পারমাণবিক শক্তি পরিত্যাগ করে কিয়েভ।

এই ঘটনার পর আর্থিক বরাদ্দ ও আধুনিকায়নের অভাবে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী দুর্বল হয়ে পড়ে। ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া অঞ্চলে রাশিয়ার অনুপ্রবেশের ঘটনায় সবচেয়ে দুর্বল প্রতিপন্ন হয় দেশটির সামরিক বাহিনী। রাশিয়ার আধুনিক সামরিক শক্তির সামনে ইউক্রেনের মাত্র ছয় হাজার সৈন্য টিকতে পারেনি।

তবে এই সংকটই যেন ঘুরে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা পূর্ব ইউরোপের দেশটির জন্য। সেনাবাহিনীতে ব্যাপক সংস্কারের পাশাপাশি জাতীয় এবং আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর গঠনের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত হয়ে ওঠে দেশটির সামরিক শক্তির ভাণ্ডার।

২০১৪ পরবর্তী পুনরুত্থান:
ক্রিমিয়া ও দনবাস অঞ্চলে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর ইউক্রেনের সেনাবাহিনী নিজেদেরকে শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তুলেছে। ২০১৪ সালে দেশটির প্রতিরক্ষা খাতে বার্ষিক ব্যয় ছিল মাত্র ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। ২০২২ সালে এই বরাদ্দ প্রায় তিনগুণ বেড়ে দাঁড়ায় ৫ দশমিক ৯ বিলিয়নে। এ ছাড়া সোভিয়েত আমলের পুরোনো অস্ত্র থেকে সরে এসে ন্যাটোর দেওয়া আধুনিক প্রযুক্তির অস্ত্রের ব্যবহার শুরু করে ইউক্রেন।

অতীতে দেশটিতে বাধ্যতামূলক সেনাশ্রম দিতে হতো তরুণদের। তবে এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আরও পেশাদারিত্ব অবলম্বন করেছেন তারা।

এদিকে ন্যাটোর সহায়তায় উন্নত প্রশিক্ষণ পেয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। ২০২২ সাল নাগাদ জয়েন্ট মাল্টিন্যাশনাল এক্সটেনসিভ ট্রেনিংয়ের অধীনে প্রায় ১০ হাজার ইউক্রেনীয় সৈন্য আধুনিক যুদ্ধপরিস্থিতির কার্যকরী প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

এ ছাড়া দেশটির প্রতিরক্ষা খাতকে শক্তিশালী করতে নেপচুন অ্যান্টি শিপ মিসাইল সিস্টেম এবং মাল্টিপল রকেট লঞ্চ সিস্টেমের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে তাদের সামরিক বাহিনী।

২০২৪ সালে ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতা:
গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার ইন্ডেক্সের (জিএফপিআই) তথ্যমতে, ১৪৫টি দেশের মধ্যে সামরিক শক্তিতে ১৮তম অবস্থানে রয়েছে ইউক্রেন। দেশটির সরাসরি সেনাবাহিনীর সদস্য প্রায় ৯ লাখ। তাছাড়া ১২ লাখ সেনা রাখা হয়েছে সংকটাপন্ন পরস্থিতি মোকাবিলায়। এ ছাড়া আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা বাহিনীতে কাজ করছেন দুই লাখ সেনা।

সামরিক বাহিনীর এই শক্তিশালী ও বৃহৎ গঠন প্রতিরক্ষার বিষয়ে দেশটির ছাড় না দেওয়ার মানসিকতার প্রতিফলন। এই নীতির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে সামরিক বাহিনীকে সমর্থন দিচ্ছেন দেশের বেসামরিক নাগরিকরা।

সেনাবাহিনী: 
ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর অস্ত্রবহরে এক হাজার ৭০০টি শক্তিশালী ট্যাংক রয়েছে। এরমধ্যে নিজেদের তৈরি টি-৬৪বিভিএস ট্যাংকের পাশাপাশি রয়েছে পশ্চিমা রাষ্ট্র থেকে সংগৃহীত লেপার্ড-২ ও এম-১ আব্রামস ট্যাংক।

সম্মুখযুদ্ধের পরিস্থিতি সামলাতে ২২ হাজারেরও বেশি সাঁজোয়া যান রয়েছে তাদের। এ ছাড়া শক্তিশালী ‘হিমার্স রকেট লঞ্চার’ দিয়ে ইউক্রনের সেনাবাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে ভয়াবহ আঘাত হানতে সক্ষম। 

বিমান বাহিনী:
ইউক্রেন বিমান বাহিনীর অস্ত্রবহরে ৩০০টি যুদ্ধ বিমানের মধ্যে সোভিয়েত আমলের এমআইজি-২৯এস ও এসইউ-২৭এস-এর পাশাপাশি রয়েছে তুর্কির তৈরি আধুনিক প্রযুক্তি বেরাক্তার টিবি-২ ড্রোন।

সাম্প্রতিক সামরিক সহায়তার ফলে শক্তিশালী এফ-১৬ যুদ্ধবিমানও যুক্ত হয়েছে এই বহরে। ২০২৪ সালেই এই ফাইটার জেট ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি।  

এ ছাড়া প্রতিরক্ষাখাতে বিমান বাহিনী কয়েক স্তরের আকাশ-নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাস্তবায়ন করেছে। রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় নাসামস, প্যাট্রিয়ট মিসাইল এবং জার্মান আইরিস-টি ইউনিট ব্যবহারে বেশ সফলতা পেয়েছে তারা।

নৌ বাহিনী:
ভূমধ্যসাগরীয় কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার আধিপত্য সত্ত্বেও ইউক্রেনের নৌবাহিনী সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। চালকবিহীন ড্রোন এবং দেশে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র ‘নেপচুন মিসাইল’ ব্যবহার করে ২০২২ সালে রাশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ মক্সভা ডুবিয়ে দেয় তারা।

ইউক্রেনের সামরিক নীতি:
দেশটির সামরিক নীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা। এই উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ শহর, স্থাপনা এবং সীমান্তঅঞ্চলে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রণয়ন করা হয়েছে।

ইউক্রেনের সামরিক নীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো- দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন। এই উদ্দশ্যে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পশ্চিমের বিভিন্ন শক্তিশালী প্রতিরক্ষা খাতের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ফলস্বরূপ অস্ত্রবহরের নিয়মিত আধুনিকায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।

বাধার মুখে ইউক্রেন:
উল্লেখযোগ্য উন্নতি সত্ত্বেও বেশ কিছু বাধার সম্মুখীন হচ্ছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী। রাশিয়ার বিরুদ্ধে দুই বছরের বেশি সময় ধরে সশস্ত্র যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি। দীর্ঘমেয়াদি এই যুদ্ধে সামরিক ব্যয় সামলাতে গিয়ে ইউক্রেনের অর্থনীতিতে চাপ পড়ছে। যুদ্ধের দুই বছরে দেশটির অর্থনীতিতে প্রায় ৩০ শতাংশ ঘাটতি হয়েছে।

দেশটির আধুনিক সামরিক প্রযুক্তির প্রায় ৭০ শতাংশই ন্যাটোর সহায়তায় পাওয়া। ফলে মিত্র রাষ্ট্রগুলো সহায়তা বন্ধ করে দিলে চরম সংকটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া রাশিয়ার তুলনায় পারমাণবিক খাতে ইউক্রেনের অবস্থান খুবই দুর্বল। ক্ষেপণাস্ত্র হামলায়ও রাশিয়ার চেয়ে বেশ খানিকটা পিছিয়ে আশে দেশটি। 

আক্রমণ মোকাবিলায় দৃঢ় পদক্ষেপ:
আধুনিক অস্ত্র বহরের পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর দৃঢ়তার ওপর ভর করেই টিকে আছে ইউক্রেন। বেসামরিক প্রতিরোধ সংগঠন, ড্রোন প্রযুক্তির বিপুল ব্যবহার এবং পশ্চিমা মিত্রশক্তির সঙ্গে গোপন তথ্যের সমন্বিত আদান-প্রদানের মাধ্যমে রাশিয়ার আগ্রাসন বেশ কার্যকর ভাবেই প্রতিহত করছে দেশটি।

এ ছাড়া রাশিয়ার সাইবার হামলা মোকাবিলা করতে ইউক্রেনের সাইবার প্রতিরক্ষা ইউনিট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট:
বৃহত্তর বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ইউক্রেনের প্রতিরোধ অত্যন্ত গুরুত্ববহ। বিশ্বের অন্যতম সামরিক শক্তিধর দেশটিকে ঠেকিয়ে রাখার মাধ্যমে আধুনিক যুদ্ধনীতিতে ব্যাপক রদবদল ঘটাতে সক্ষম হয়েছে আপাতদৃষ্টিতে ছোট এই দেশটি। বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক সংহতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে নিজেদের স্থাপন করেছে ইউক্রেন।

পারমাণবিক প্রেক্ষাপট:
১৯৯৪ সালে পারমাণবিক শক্তি ও গবেষণা পরিত্যাগের মাধ্যমে ইতিহাস রচনা করে ইউক্রেন। আন্তর্জাতিকভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইউক্রেন স্বাক্ষরিত এই চুক্তি উদাহরণ হয়ে থাকবে। তবে পরবর্তী সময়ে দেশের প্রতিরক্ষা খাতের পতন এ ধরণের চুক্তির দুর্বলতাই প্রকাশ করে।

ভবিষ্যত:
কার্যকর ভূমিকা রাখা সত্ত্বেও ইউক্রেনের সামরিক সংস্কার সম্পূর্ণ হয়েছে বলে এখনো বলা যাবে না। আধুনিক যুদ্ধবিমান, উন্নত প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত অস্ত্রপ্রযুক্তির উদ্ভাবনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে দেশটির সামরিক খাতের আরও শক্তিশালী অবস্থান অর্জনের সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে তাদের সামরিক খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন বর্হিবিশ্বের সহায়তার ওপর নির্ভর করায় যেকোনো সময় নৈরাজ্য ভর করতে পারে অঞ্চলটিতে। 

একবিংশ শতাব্দীতে এসে আরেকটি বিশ্বযুদ্ধের বিভবশক্তি ধারণ করছে ইউক্রেন। ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি এড়িয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব ও সংস্কৃতি সুরক্ষায় ইউক্রেন নিজেদের দৃঢ়তা বজায় রাখবে এই আশা রাখছে খবরের কাগজ। 

সূত্র: স্ট্যাটিস্টা মিলিটারি কম্পারিজন, ন্যাটো পার্লামেন্টারি অ্যাসেম্বলি রিপোর্টস, কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস, গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইন্ডেক্স।

নাইমুর/পপি/অমিয়/

এইচআইভি চিকিৎসায় বড় সাফল্য

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০১:১৩ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০২:০১ পিএম
এইচআইভি চিকিৎসায় বড় সাফল্য
ছবি: প্রতীকী

বিখ্যাত ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গিলিয়াড সায়েন্সেস এবং মের্ক-এর তৈরি এইচআইভির নতুন ওষুধ তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে।

এই চিকিৎসাপদ্ধতির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো- এটি প্রতিদিন সেবন করতে হবে না; সপ্তাহে মাত্র এক বার খেলেই চলবে।

ওষুধটি কীভাবে কাজ করে?

নতুন ট্যাবলেটটিতে মের্কের তৈরি আইসল্যাট্রাভির এবং গিলিয়াডের তৈরি লেনাক্যাপাভিরের উপাদানকে সমন্বয় রয়েছে। এটি এইচআইভি ভাইরাসের বংশবৃদ্ধির বিভিন্ন ধাপকে একযোগে লক্ষ্যবস্তু করে। ফলে শরীরে ভাইরাসের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ভাইরোলজিক্যালি সাপ্রেসড’ হিসেবে পরিচিত।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, টানা ৪৮ সপ্তাহ ধরে সপ্তাহে এক বার সেবনযোগ্য এই ট্যাবলেট রোগীদের শরীরে এইচআইভি ভাইরাসকে সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে। বর্তমানে বাজারে থাকা প্রতিদিন সেবনযোগ্য জনপ্রিয় ওষুধগুলো শরীরকে যতটুকু সুরক্ষা দেয়, সপ্তাহে মাত্র একটি ট্যাবলেটও ঠিক ততটুকুই কার্যকর ও শক্তিশালী বলে প্রমাণিত হয়েছে।

এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতিদিন নিয়ম করে ওষুধ সেবন করতে হয়। অনেক সময় ওষুধ খাওয়ার কথা ভুলে যাওয়া বা প্রতিদিন ওষুধ সেবনের কারণে মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

গিলিয়াড সায়েন্সেসের কর্মকর্তা ড. জ্যারেড বেটেন বলেন, সপ্তাহে মাত্র এক বার ওষুধ সেবনের এই সুবিধা এইচআইভি আক্রান্ত মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। এটি তাদের জীবনযাত্রায় আরও বেশি স্বাধীনতা ও গোপনীয়তা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।

ওষুধটি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ট্রায়ালের সব তথ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে। অনুমোদন পেলে এটিই হবে এইচআইভি চিকিৎসায় বিশ্বের প্রথম সপ্তাহে এক বার সেবনযোগ্য ওষুধ। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/অমিয়/

ওজন কমানোর অনুমোদনহীন ওষুধের নতুন ক্রেজ

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০১:০১ পিএম
ওজন কমানোর অনুমোদনহীন ওষুধের নতুন ক্রেজ
প্রতীকী ছবি

নতুন পরীক্ষামূলক ওজন কমানোর ওষুধ ‘রেটাট্রুটাইড’ এখনও যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) অনুমোদন পায়নি। নিয়ম অনুযায়ী, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বাইরে এটি বিক্রি করা অবৈধ। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের অনেক লাইসেন্সপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও ক্লিনিক আইন অমান্য করেই রোগীদের এই ওষুধ দিতে শুরু করেন।

রেটাট্রুটাইড এলি লিলি কোম্পানির তৈরি একটি ওষুধ। ট্রায়ালে দেখা গেছে, এটি ওজেম্পিক বা মাউঞ্জারোর চেয়েও দ্রুত এবং বেশি (প্রায় ২৮ শতাংশ) ওজন কমাতে সাহায্য করে।

সমস্যা হলো, এফডিএ এখনও যাচাই করে দেখেনি যে, ওষুধটি মানবদেহের জন্য কতটা নিরাপদ ও কার্যকর। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক প্ল্যাটফর্মে এই ওষুধের ফলাফল নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষকে এটি ব্যবহারে উৎসাহিত করছে।

চিকিৎসকদের মতে, ওষুধটি অনুমোদন পাবেই। তাই রোগীদের দ্রুত উপকার করার উদ্দেশ্যে তারা এখনই এটির পরামর্শ দিচ্ছেন।

অনেক ওষুধের দোকান ও ক্লিনিক এটিকে ‘গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য’ বলে লেবেল লাগিয়ে বিক্রি করছে, যাতে আইন এড়িয়ে যাওয়া যায়। সঠিক নিয়ম ও তদারকি ছাড়া ইন্টারনেট বা অননুমোদিত ক্লিনিক থেকে এই ওষুধ কিনে ব্যবহার করায় মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। বিষক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রগুলোতে এই ওষুধ-সংক্রান্ত অভিযোগের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। 

ভুক্তভোগীদের মধ্যে অনেকেই মারাত্মক বমি, তীব্র ডায়রিয়া, পেটে শক্ত চাকা তৈরি হওয়া এবং হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা নিয়ে জরুরি বিভাগে ভর্তি হয়েছেন।

এফডিএ এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের মেডিকেল বোর্ড ইতোমধ্যে এই অবৈধ বিক্রির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে।

নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এলি লিলি জানায়, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বাইরে এই ওষুধ বিক্রি করা বেআইনি। সূত্র: সিবিএস নিউজ

তামান্না রুপা/অমিয়/

মানসিক রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:০১ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:০১ এএম
মানসিক রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন
প্রতীকী ছবি

মানসিক রোগ ও মাদকাসক্তি নির্ণয়ের সবচেয়ে প্রচলিত মাধ্যম হলো ডায়াগনস্টিক ইন্টারভিউ বা রোগ নির্ণয়ের সাক্ষাৎকার। বিষণ্নতা, উদ্বেগ, বাইপোলার বা পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডারের মতো জটিল রোগগুলো সাধারণত এই পদ্ধতির মাধ্যমেই চিহ্নিত করা হয়। তবে জামা নেটওয়ার্ক ওপেন জার্নালে প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণা বলছে, রোগভেদে এই সাক্ষাৎকারগুলোর নির্ভরযোগ্যতায় বেশ তারতম্য রয়েছে।

কানাডার ওন্টারিওর ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটির মনোরোগবিদ্যার অধ্যাপক ও এই গবেষণার অন্যতম লেখক লরা ডানকান বলেন, ক্লিনিক্যাল ক্ষেত্র এবং গবেষণা—উভয় জায়গাতেই এই ডায়াগনস্টিক সাক্ষাৎকারগুলোকে মানসিক রোগ মূল্যায়নের ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ বা স্বর্ণমান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে তিনি উল্লেখ করেন, চমৎকার বৈধতা ও নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণের ক্ষেত্রে এই সাক্ষাৎকারগুলো একটি ‘চূড়ান্ত মানদণ্ড’ বা ডেফিনিটিভ বেঞ্চমার্ক দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

এই সাক্ষাৎকারগুলোর নির্ভরযোগ্যতার প্রমাণ দীর্ঘদিন ধরেই মিশ্র। তা সত্ত্বেও ডানকান বলেন, ‘উন্নত কোনো বিকল্প না থাকার কারণেই সম্ভবত এগুলোকে এখনো সেরা লভ্য পদ্ধতি হিসেবে ব্যাপকভাবে দেখা হয়।’ এই পর্যালোচনা সমীক্ষায় ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পর্যালোচনা করা ডায়াগনস্টিক সাক্ষাৎকারগুলোর ‘টেস্ট-রিস্টেস্ট রিলায়্যাবিলিটি’ বা পুনঃপরীক্ষার নির্ভরযোগ্যতার প্রমাণগুলো একসঙ্গে আনা হয়েছে।

বিভিন্ন মানসিক স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতিতে ডায়াগনস্টিক সাক্ষাৎকারগুলো কতটা নির্ভরযোগ্য, তা অনুমান করতে গবেষকরা ‘কোহেনস কাপ্পা কোফিসিয়েন্ট’ ব্যবহার করেছেন। এর মাধ্যমে তারা দেখতে চেয়েছেন, একই ডায়াগনস্টিক সাক্ষাৎকার দুবার নেওয়া হলে রোগীরা কতবার একই রোগ নির্ণয়ের ফল পান। এতে আকস্মিক বা ভাগ্যের জোরে মিলে যাওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

দেখা গেছে, মাদক ব্যবহারের ব্যাধির (সাবস্ট্যান্স ইউজ ডিজঅর্ডার) ক্ষেত্রে গড় নির্ভরযোগ্যতা সাধারণত ভালো ছিল। এর মধ্যে ওপিওড ব্যবহারের ব্যাধির ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্যতা ছিল সবচেয়ে বেশি। ডানকান জানান, এর কারণ হলো মাদক ব্যবহারের ব্যাধির মানদণ্ডগুলো মূলত আচরণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। উদাহরণস্বরূপ, আপনি এক সপ্তাহে কতবার বিষণ্ন বা উদ্বিগ্ন বোধ করেছেন, তার চেয়ে আপনি সপ্তাহে কতবার মদ্যপান করেছেন—তা হিসাব করা অনেক সহজ।

কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির মনোরোগবিদ্যার অধ্যাপক ও ‘স্ট্রাকচার্ড ক্লিনিক্যাল ইন্টারভিউ ফর ডিএসএম ৫’-এর রচয়িতা ড. মাইকেল ফার্স্ট এই গবেষণার কিছু উপাদান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি একমত হয়েছেন, ডায়াগনস্টিক সাক্ষাৎকারগুলোর নির্ভরযোগ্যতায় তারতম্য থাকে ও এগুলো প্রায়শই মানুষকে সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় করতে ব্যর্থ হয়। তবে কোন নির্দিষ্ট সরঞ্জামগুলো সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য, সে সম্পর্কে আরও তথ্য দেখতে চেয়েছিলেন তিনি।

ড. ফার্স্ট বলেন, এই গবেষণাপত্রটি দেখে যদি বলা যেত—‘ওহ, এই পেপারের ওপর ভিত্তি করে এ কারণে আমার এটি বেছে নেওয়া উচিত’, তবে সেটি এ ক্ষেত্রের জন্য একটি প্রকৃত সেবা হতো। তিনি আরও যোগ করেন, ‘কিন্তু এখানে পর্যাপ্ত তথ্য নেই।’ এর জবাবে ডানকান বলেন, ‘গবেষণার সময়কালে যে সীমিত পরিমাণ প্রাসঙ্গিক গবেষণা পাওয়া গিয়েছিল, তার ওপর ভিত্তি করেই এই তথ্য দেওয়া হয়েছে।’

এই পর্যালোচনায় এসসিআইডি এবং মিনি ইন্টারন্যাশনাল নিউরোসাইকিয়াট্রিক ইন্টারভিউর মতো ডায়াগনস্টিক টুলের গবেষণাপত্র অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা একাধিক মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পরীক্ষা করে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট রোগের জন্য তৈরি টুল, যেমন ক্লিনিক্যালি অ্যাডমিনিস্টার্ড পিটিএসডি স্কেলও এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ড. ফার্স্ট এই গবেষণায় ‘সম্পূর্ণ কাঠামোগত’ (ফুললি স্ট্রাকচার্ড) এবং ‘অর্ধ-কাঠামোগত’ (সেমি-স্ট্রাকচার্ড) সাক্ষাৎকারগুলোকে একসঙ্গে মিলিয়ে ফেলার বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সম্পূর্ণ কাঠামোগত সাক্ষাৎকারগুলোর ক্ষেত্রে একাধিকবার একই ফলাফল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে, ‘কারণ আপনি স্ক্রিপ্ট বা নির্ধারিত খসড়া কঠোরভাবে মেনে চলেন ও এটি থেকে মোটেও বিচ্যুত হতে পারেন না।’

ফার্স্ট বলেন, ‘ব্যক্তি যদি কোনো পরস্পরবিরোধী কথাও বলেন, তবুও আপনি সেটি ধরিয়ে দেওয়ার অনুমতি পাবেন না।’ এই ধরনের সাক্ষাৎকার সাধারণত বিশাল জনসংখ্যার ওপর মহামারিসংক্রান্ত (এপিডেমিওলজিক্যাল) গবেষণার জন্য ব্যবহৃত হয়। তাই খুব কম প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা যেন এটি পরিচালনা করতে পারেন, সেভাবেই এটি ডিজাইন করা হয়।

অন্যদিকে, অর্ধ-কাঠামোগত সাক্ষাৎকারগুলো তৈরি করা হয় প্রশিক্ষিত চিকিৎসকদের রোগীদের রোগ নির্ণয় করার জন্য। ফার্স্ট বলেন, এই পদ্ধতিতে চিকিৎসকদের ‘প্রয়োজন অনুযায়ী নিজস্ব প্রশ্ন করার’ স্বাধীনতা থাকে। এর মানে হলো, রোগীর উত্তর যদি অস্পষ্ট বা পরস্পরবিরোধী হয়, তবে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী বিষয়টি পরিষ্কার করতে ফলো-আপ প্রশ্ন করতে পারেন। এতে আরও সঠিক রোগ নির্ণয় সম্ভব হয়, তবে সেশন থেকে সেশনে রোগীর উত্তরের মধ্যেও তারতম্য আসতে পারে।

ডানকান অবশ্য উল্লেখ করেছেন, ফার্স্টের সব উদ্বেগ মোকাবিলা করা দরকারি হলেও এর জন্য যে ডেটা প্রয়োজন, তা এখনো উপলব্ধ নয়। অন্তর্ভুক্ত পেপারগুলো থেকে তারা সাক্ষাৎকারের বিন্যাস বা ফরম্যাটের তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ডানকান বলেন, ‘এটি প্রায়শই অস্পষ্ট ছিল বা প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল না।’ সাক্ষাৎকার ডিজাইনের একের সঙ্গে অপরের তুলনা করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যের এই অভাবটি মনোরোগের রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে আরও কঠোরতা বা সূক্ষ্মতার প্রয়োজনীয়তারই আরেকটি লক্ষণ।

নিজে এই কাঠামোগত সাক্ষাৎকারগুলো ডিজাইনে সাহায্য করলেও ফার্স্ট অকপটে স্বীকার করেন যে এগুলো আদর্শ কোনো হাতিয়ার নয়। তিনি বলেন, কয়েক দশক ধরে মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, একদিন মানসিক অবস্থার জন্য আরও বস্তুনিষ্ঠ ল্যাবরেটরি পরীক্ষা উপলব্ধ হবে।

ফার্স্ট বলেন, ‘আমরা ৫০ বছর ধরে এই কথা বলে আসছি।’ ডানকান অবশ্য একটি বিকল্প ভবিষ্যৎ পদ্ধতির দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যেখানে চিকিৎসকরা ‘কঠোর রোগ নির্ণয়ের বিভাগ–যেখানে একটি রোগ হয় আছে নয়তো নেই–তা থেকে সরে আসবেন ও লক্ষণগুলোকে একটি স্পেকট্রাম বা ধারাবাহিকতার মধ্যে রেখে চিন্তা করবেন।’ সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

হাজার বছরের রহস্য, উত্তর মিলল পায়রার যকৃতে!

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
হাজার বছরের রহস্য, উত্তর মিলল পায়রার যকৃতে!
ছবি: সংগৃহীত

এক আশ্চর্যজনক সহজাত অনুভূতি পায়রাদের বাড়ি ফেরার পথ খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

প্রাণীরা দিকনির্ণয়ের জন্য বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে। কেউ নক্ষত্র অনুসরণ করে, কেউ গুরুত্বপূর্ণ স্থানচিহ্ন মনে রাখে। পাখি, মাছ ও কচ্ছপ পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রকে এক ধরনের কম্পাস হিসেবে ব্যবহার করে নিজেদের অবস্থান ও দিক নির্ধারণ করে। তবে তারা ঠিক কীভাবে এটি করে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

পায়রা এমন একটি সুপরিচিত পাখি, যা এক দিনে শত শত কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পারে। হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ সংবাদ, বার্তা ও সামরিক তথ্য আদান-প্রদানের জন্য এদের ব্যবহার করে আসছেন।

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে এই রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছেন যে, পায়রা কীভাবে পথ না হারিয়ে নির্ভুলভাবে চলাচল করে। কেউ মনে করেন, তাদের চোখের আলোক-সংবেদনশীল অণুগুলো চৌম্বকীয় সংকেত শনাক্ত করতে সাহায্য করে। আবার অন্যদের মতে, এই প্রক্রিয়া ঘটে ঠোঁট বা অন্তঃকর্ণে।

জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট অব অ্যানিমেল বিহেভিয়রের গবেষক মার্টিন উইকেলস্কি বলেছেন, ‘চৌম্বকীয় অনুভূতি প্রায় ১০০ বছর ধরে একটি রহস্য হয়ে রয়েছে’।

নতুন এক গবেষণায় উইকেলস্কি ও তার সহকর্মীরা পায়রার দিকনির্ণয়ের রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা করেন। তারা পাখিটির শরীরে চৌম্বকীয় সংকেতের উৎস খুঁজতে গিয়ে একটি অপ্রত্যাশিত স্থানে- যকৃতে শক্তিশালী সংকেতের সন্ধান পান।

গবেষকদের মতে, পায়রার যকৃতে থাকা বিশেষায়িত রোগপ্রতিরোধী কোষ লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে ফেলে এবং লোহা সঞ্চয় করে।

জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ক্রিশ্চিয়ান কার্টস জানান, বিজ্ঞানীরা যখন সাময়িকভাবে ওই কোষগুলো নিষ্ক্রিয় করে পায়রাগুলোকে উড়তে দেন, তখন তারা কার্যত পথ খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়।

কার্টস বলেন, ‘পাখিগুলো কোনোভাবেই পথ খুঁজে পাচ্ছিল না’।

এ পর্যবেক্ষণ থেকে গবেষকদের ধারণা, লোহাসমৃদ্ধ যকৃতের এসব কোষ পায়রার দিকনির্ণয় ক্ষমতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

তবে পাখিদের এই চৌম্বকীয় কম্পাস সব সময় সমানভাবে কাজ করে না। মেঘলা দিনে তা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। 

গবেষকদের মতে, এর কারণ হলো পাখিরা দিকনির্ণয়ের জন্য সূর্যের অবস্থানকেও ব্যবহার করে।

বিজ্ঞানীরা আগেও ধারণা করেছিলেন যে, রোগপ্রতিরোধী কোষ চৌম্বকীয় সংবেদনের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। গত ৪ জুন (বৃহস্পতিবার) বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী সায়েন্স-এ প্রকাশিত নতুন গবেষণাটি এ বিষয়ে প্রথম পূর্ণাঙ্গ তত্ত্ব উপস্থাপন করেছে।

গবেষণায় অংশ না নেওয়া ম্যাসাচুসেটস বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচরণগত বাস্তুবিদ আলবার্ট কাও বলেন, ‘আমি কখনোই এটি অনুমান করতে পারতাম না। কিন্তু ব্যাখ্যাটি শোনার পর তা যথেষ্ট যৌক্তিক মনে হয়েছে।’

গবেষকদের মতে, যকৃতের এসব রোগপ্রতিরোধী কোষ স্নায়ুতন্তুর খুব কাছাকাছি অবস্থান করে। বন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-লেখক ক্লিভিয়া লিসোস্কি বলেন, ‘‘সম্ভবত এভাবেই তারা তাদের ‘চৌম্বকীয় অনুভূতি’ মস্তিষ্কে প্রেরণ করে এবং পায়রাদের দিকনির্ণয়ে সহায়তা করে”।

গবেষকরা মনে করছেন, পাখি ছাড়াও ইঁদুরের মতো অন্যান্য প্রাণীও একই ধরনের চৌম্বকীয় ‘জিপিএস’ ব্যবহার করতে পারে। 

তবে বাইরের বিশেষজ্ঞদের মতে, পায়রারা সত্যিই এভাবেই দিকনির্ণয় করে কি না এবং সংকেতগুলো কীভাবে মস্তিষ্কে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

গবেষণায় পায়রার যকৃতে সবচেয়ে শক্তিশালী চৌম্বকীয় সংকেত পাওয়া গেলেও একই ধরনের রোগপ্রতিরোধী কোষ ঠোঁট, প্লীহাসহ শরীরের অন্যান্য অংশেও রয়েছে।

পশুচিকিৎসাবিষয়ক রোগ বিশেষজ্ঞ সাইমন স্পিরো এবং জীববিজ্ঞানী হ্যাল ড্রেকস্মিথ এক সম্পাদকীয় নিবন্ধে লিখেছেন, এই চৌম্বকীয় ধাঁধার সম্ভবত একক কোনো উত্তর নেই। 

তাদের মতে, পাখিরা কাজের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন পদ্ধতিতে চৌম্বক ক্ষেত্র শনাক্ত করতে পারে- সেটি দীর্ঘ দূরত্বের ভ্রমণ হোক কিংবা নির্দিষ্ট কোনো গন্তব্য খুঁজে বের করার প্রয়োজন হোক।

তারা লিখেছেন, ‘প্রকৃতপক্ষে, অন্ধকারে বাড়ি ফেরার একাধিক উপায় থাকা বিচক্ষণতার পরিচায়ক হতে পারে’। সূত্র: এপি

অমিয়/

বিশ্ব সমুদ্র দিবস আজ

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:০৮ এএম
বিশ্ব সমুদ্র দিবস আজ
ছবি: সংগৃহীত

রি-ইমাজিন’ বা ‘নতুন করে ভাবো’–প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ ৮ জুন বাংলাদেশেও পালিত হতে যাচ্ছে বিশ্ব সমুদ্র দিবস-২০২৬। বৈশ্বিক জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি সমুদ্রের সুরক্ষায় এবার মানুষের সঙ্গে সাগরের বিদ্যমান সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এবারের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে– ‘নতুন করে ভাবো: আমাদের চেনা জগতের বাইরে, সমুদ্রের সঙ্গে এক নতুন সম্পর্ক।’ 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৬ সালের শুরুতেই আন্তর্জাতিক জলসীমার জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ঐতিহাসিক ‘হাই সিস ট্রিটি’ (বিবিএনজে চুক্তি) কার্যকর হওয়ার পর এবারের সমুদ্র দিবসটি বিশ্বজুড়ে বাড়তি তাৎপর্য বহন করছে। পরিবেশবাদীরা বলছেন, দীর্ঘ সাড়ে ৭ হাজার কিলোমিটারের বেশি উপকূলরেখা থাকা এই অঞ্চলে সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি সরাসরি প্রভাব ফেলছে মৌসুমি বায়ু ও কৃষিতে। ক্রমাগত বাড়ছে তীব্র ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের প্রকোপ, যা উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকাকে ঝুঁকিতে ফেলছে।

দিবসটি উদযাপনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন, বিশ্ববিদ্যালয় ও কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সচেতনতামূলক র‌্যালি, সেমিনার, সমুদ্র উপকূল পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও শিশুদের চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতা।

১৯৯২ সালে রিও ডি জেনিরোতে ধরিত্রী সম্মেলনে প্রথম সমুদ্র দিবসের প্রস্তাব করা হয়। পরবর্তী সময়, ২০০৮ সালে জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে ৮ জুনকে ‘বিশ্ব সমুদ্র দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।