পৃথিবীতে এমন দেশও রয়েছে যেখানে দরিদ্র থাকাকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইউরোপের অন্যতম সমৃদ্ধ দেশ সুইজারল্যান্ডে রাস্তায় ভিক্ষুক বা গৃহহীন ব্যক্তিকে দেখা প্রায় অসম্ভব।
দেশটির সরকার এত কঠোরভাবে দারিদ্র্য নিয়ন্ত্রণ করে যে এই দৃশ্য আর দেখা যায় না।
তবে পুরোপুরি নেই বললেই চলে না - শহরগুলোর কেন্দ্রীয় জায়গায় মাঝে মাঝে বিদেশি বা অভিবাসী ভিক্ষুক দেখা যেতে পারে, কিন্তু সংখ্যাটি অত্যন্ত কম।
বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সালে সুইজারল্যান্ডে প্রায় ৩ হাজার ৮১০ জন গৃহহীন ব্যক্তি ছিলেন, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ০.০৪ শতাংশ। এই সংখ্যায় জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র ও অস্থায়ী আবাসস্থলে বসবাসরত ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত।
বিশেষ করে জেনেভা ও লুসান শহরে গৃহহীনতার হার তুলনামূলক বেশি। জেনেভায় প্রতি এক লাখে ২১০ জন গৃহহীন, এবং লুসানে এই হার ১৫০ জন।
প্রতিবেদন অনুসারে, এই দেশে ন্যূনতম মজুরি চার হাজার ইউরো (প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা)। বেকারত্ব ভাতা হলো একজনের শেষ বেতনের ৮০ শতাংশ।
এই দেশে রাস্তায় সিগারেটের টুকরো ফেললে তাৎক্ষণিকভাবে ৩০০ ইউরো জরিমানা হতে পারে!
সুইজারল্যান্ডে দরিদ্র হিসেবে যারা বিবেচিত হন, তারা সাধারণত একটি বাড়ির মালিক হন, দিনে তিনবার খাবার পান এবং চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সুযোগ পান। অনেকেই স্মার্টফোন ব্যবহার করেন, সরকারি পরিবহনে ভ্রমণ করেন এবং মাঝে মাঝে ক্যাফেতে ক্যাপুচিনো উপভোগ করেন।
এই ব্যবস্থা রাতারাতি হয়নি। ১৯ শতক থেকে সুইজারল্যান্ড সামাজিক নিরাপত্তার একটি শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করেছে। যদি কোনো ব্যক্তি তার বাড়ি হারান, তাহলে সরকার তাকে নতুন বাড়ি দেয়।
ফেডারেল হাউজিং পলিসির অধীনে, জনসংখ্যার ৬০ শতাংশ ভর্তুকিযুক্ত অ্যাপার্টমেন্ট পান। স্বাস্থ্যসেবা প্রায় বিনামূল্যে এবং বেকারদের বিনামূল্যে ক্যারিয়ার বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
অমিয়/