প্রতিদিন নিয়ম করে অন্তত চার ঘণ্টার জন্য যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় ডিজিটাল মিডিয়ার সঙ্গে। ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়াতে ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ।
এই উদ্যোগটি নিয়েছেন ভারতের মহারাষ্ট্রের অগ্রণ ধুলগাঁও গ্রামের গ্রামপ্রধান শিবদাস ভোসলে।
তিনি লক্ষ্য করেন, ডিজিটাল ডিভাইসে অতিরিক্ত আসক্তির কারণে পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে তিনি গ্রামজুড়ে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ‘ডিজিটাল সাইলেন্স’ পালনের সিদ্ধান্ত নেন।
সরপঞ্চ শিবদাস খেয়াল করেন, শুধু বাচ্চারা নয়; বড়রাও স্মার্টফোনে এতটাই বুঁদ থাকেন যে বাড়িতে পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। এই আসক্তি কাটাতে তিনি ঠিক করেন, দিনে দুবার- ভোর এবং সন্ধ্যায় দু’ঘণ্টা করে মোট চার ঘণ্টা সময় পড়াশোনার জন্য নির্দিষ্ট থাকবে। এই সময়ে বাড়িতে টিভি চালানো যাবে না এবং মোবাইল রাখা থাকবে সাইলেন্ট মোডে।
এই সিদ্ধান্তে প্রথম দিকে বড়রা আপত্তি জানিয়েছিলেন, কারণ তাদেরও প্রিয় সিরিয়াল বা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকতে হচ্ছিল। কিন্তু সরপঞ্চ (পঞ্চায়েত প্রধান) দমে যাননি। তিনি নিজে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সবাইকে বোঝান এবং তদারকি শুরু করেন।
তার এই কঠোর অনুশাসনের ফলও মিলেছে। গত কয়েক বছরে এই গ্রামের ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষার ফলাফল আমূল বদলে গেছে। অনেক পড়ুয়া জাতীয় স্তরে বৃত্তিও পেয়েছে।
অভিভাবকরা যখন দেখলেন, তাদের সামান্য ত্যাগের বিনিময়ে ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হচ্ছে, তখন তারা নিজেরাই এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
অগ্রণ ধুলগাঁও গ্রামের এই সফলতা দেখে মুগ্ধ আশেপাশের গ্রামগুলোও। স্মার্টফোনের যুগেও যে বইয়ের পাতায় ডুব দিয়ে সার্থকতা পাওয়া যায়, তার প্রকৃত উদাহরণ এই গ্রাম।
অমিয়/