পঁচিশ বছর বয়সে পা রাখতে যাচ্ছেন, এখনো বিয়ে করেননি? আপনি যদি ডেনমার্কের নাগরিক হয়ে থাকেন তাহলে কিন্তু খবর আছে! কারণ, যেকোনো সময় আপনি হয়তো এমন এক বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে যাচ্ছেন, যা এড়ানোর কোনো উপায় নেই। দারুচিনির গুঁড়া ছিটিয়ে ঢেকে দেওয়া হবে আপনার মাথা থেকে পা পর্যন্ত। আপনাকে ঘিরে হয়তো সে পরিকল্পনাই হচ্ছে!
আর যদি ৩০ বছর বয়সেও বিয়ে না করে থাকেন তাহলে আপনার মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢেকে দেওয়া হবে কালো গোলমরিচের গুঁড়ায়। ভাবছেন মসলার গুঁড়া, ছিটাচ্ছে ছিটাক, এক ঝাড়া দিলেই সব দূর হয়ে যাবে! না, আপনার জন্য সে উপায়ও রাখা হচ্ছে না। দারুচিনি বা গোলমরিচের গুঁড়া ছিটানোর পর পানি এবং ডিম ভেঙে ছুড়ে মারা হচ্ছে, যাতে মসলার গুঁড়া আপনার পোশাক ও শরীরে ভালো করেই লেপ্টে থাকে। অবাক হচ্ছেন? হ্যাঁ, ডেনিশরা এই বিচিত্র সামাজিক ঐতিহ্য পালন করে আসছে শত শত বছর ধরে।
কেউ বিয়ে করে সংসার না পাতলে তার ২৫তম জন্মদিন উদযাপন করার সময় পরিবারের সদস্যরা এবং বন্ধুবান্ধবরা এসে তার মাথা থেকে পা পর্যন্ত দারুচিনির গুঁড়া ছিটিয়ে একেবারে সয়লাব করে দেয়। দারুচিনির গুঁড়া ভালোভাবে লেগে থাকার জন্য পানি ছিটানো হয়, আবার কখনো কখনো ডিমের সঙ্গে দারুচিনির গুঁড়া মিশিয়ে ছুড়ে মারা হয়, যাতে তা শরীরে ও পোশাকে লেপ্টে থাকে। এই ঐতিহ্য শত শত বছরের পুরোনো, যখন মসলা বিক্রেতারা এক শহর থেকে অন্য শহরে যাতায়াত করতেন। এই যাতায়াতের ওপরে থাকতে হতো বলে তারা বিয়ের জন্য সঙ্গী খুঁজে পেতেন না এবং দীর্ঘকাল অবিবাহিত থাকতেন। এই ধরনের পুরুষ মসলা বিক্রেতাদের বলা হতো পিপার ডুড (পিবারসভেন্ডস), অন্যদিকে নারী মসলা বিক্রেতাদের বলা হতো পিপার মেইডেন (পেবারমো)। সামাজিক এ রীতিটি ডেনমার্কে প্রচলিত হয়েছে মূলত হাসিঠাট্টায় মেতে উঠে বিয়েতে লোকজনকে উদ্বুদ্ধ করতে।
.png)
ডেনমার্ক উত্তর ইউরোপের একটি নর্ডিক দেশ। এটি স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর সবচেয়ে দক্ষিণে, উত্তর আমেরিকার উত্তর-পূর্বে, নরওয়ের দক্ষিণে এবং সুইডেনের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। এর দক্ষিণ সীমান্ত জার্মানির সঙ্গে এবং উত্তর-পূর্ব সীমান্ত কানাডার সঙ্গে। ডেনমার্কের মানুষ খুব সুখী। ধারাবাহিকভাবে বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশগুলোর শীর্ষে অবস্থান করছে দেশটি। বিশ্বের সুখী দেশগুলোর তালিকায় বর্তমানে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকলেও ২০১৭ সালে প্রথম অবস্থানে ছিল। ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস ইনডেক্স অনুসারে সুখ ও সামাজিক সমতা এবং সম্প্রদায়গত চেতনার নিরিখে ডেনমার্ক শীর্ষে অবস্থান করছে।
ডেনিশরা বিশ্বজনীন, সুশিক্ষিত এবং মুক্তমনা মানুষ হিসেবে পরিচিত। ডেনিশ সংস্কৃতিতে সমতা একটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ। এখানকার অধিকাংশ মানুষ মধ্যবিত্ত শ্রেণির এবং গরিব মানুষের সংখ্যা কম। ডেনিশদের ভেতর উচ্চ স্তরের সমতা এবং সামাজিক কল্যাণের জন্য সাধারণ দায়িত্বের এক শক্তিশালী অনুভূতি রয়েছে। তারা সব সময় হাসিখুশি ও প্রাণোচ্ছল থাকতে পছন্দ করে।
তারেক/
.jpg)
.jpg)