পৃথিবীতে রয়েছে লাখ লাখ প্রজাতির গাছ। জীবজগতের জীবন ধারণের জন্য এসব গাছ গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়, যা আমাদের শ্বাস গ্রহণের জন্য জরুরি। কিন্তু এর মধ্যে কিছু বিপজ্জনক গাছও রয়েছে, যেগুলো মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে। এমনই একটি গাছ হলো ম্যানচিনিল। এর বিপজ্জনকতার জন্য এটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস দ্বারা ‘বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক গাছ’ হিসেবে স্বীকৃত। এর বৈজ্ঞানিক নাম Hippomane mancinella। এই গাছটি অত্যন্ত বিষাক্ত এবং প্রাণঘাতী হতে পারে।
প্রাচীনকালে শত্রুদের ধ্বংস করতে এই গাছ ব্যবহৃত হতো। স্প্যানিশ অভিযাত্রীরা এই গাছকে ‘manzanilla de la muerte’ নামে আখ্যায়িত করেছিল। যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায়- মৃত্যুর আপেল।
গাছটি ফ্লোরিডা, ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ, মধ্য আমেরিকা এবং উত্তর দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলীয় অঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায়। এ গাছে আপেলের মতো ফল হয়। ফলসহ গাছটি থেকে নিঃসৃত তরল মানুষের শরীরে তীব্র বিষক্রিয়ার সৃষ্টি করে। গাছটির পাতা, ছাল, ফল এবং রস সবই অত্যন্ত বিপজ্জনক।
ম্যানচিনিলের পাতার রসে থাকা ফোরবোল ত্বকে ফোসকা পড়ায়। এর ছালে থাকা ডাইফেনলস ত্বকে তীব্র জ্বালা সৃষ্টি করে। ফল খেলে গলার ভেতরে জ্বালা ও বমি হতে পারে। আর রস চোখে পড়লে অন্ধত্বও হতে পারে।
সাদা বাকল আর আপেলের মতো সরেস ফলের কারণে গাছটিকে আকর্ষণীয় মনে হয়। আর তাই অনেকে ভুলে এর ফলে কামড় বসান আর মৃত্যু ডেকে আনেন। বৃষ্টির সময় গাছের পাতা থেকে ধুয়ে আসা কষযুক্ত জল যদি গায়ে পড়ে, তাহলে ত্বকে তীব্র জ্বালা এবং ফোসকা হয়। এজন্য ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের অনেক ম্যানচিনিল গাছের গায়ে লেখা রয়েছে বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ—বৃষ্টির সময়ে এই গাছের নিচে দাঁড়ানোও নিষিদ্ধ।
এই গাছের ফলে একটি কামড় দিলেই গলা আর মুখজুড়ে অস্বস্তি শুরু হয়। যা পেটে চলে গেলে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।
যদি গাছটি পোড়ানো হয় বা কাটা হয়, তাহলে এর বিষাক্ত কষযুক্ত ধোঁয়া বাতাসে মিশে যায়। এই ধোঁয়ার সংস্পর্শে চোখ এলে সাময়িক বা স্থায়ী অন্ধত্ব হতে পারে এবং শ্বাস নিলে শ্বাসতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি হয়।
দেখতে সুন্দর হলেও গাছটি আসলে মরণফাঁদ।
তারেক/
.jpg)
.jpg)