রাস্তায় ম্যানহোলের ঢাকনা না থাকলে প্রথমেই আমরা ভাবি কেউ এর ঢাকনা চুরি করে নিয়ে গেছে। কিংবা খোলা দেখলে মনে করি এর ভেতরে ঢুকে ড্রেন পরিষ্কার করা হবে।
যে বিষয়টির দিকে আমরা তেমন মনোযোগ দিই না তা হলো, ম্যানহোলের ঢাকনাগুলো গোলাকার কেন? কেন সেগুলো বর্গাকার বা ত্রিভুজাকার নয়? এর নামই বা ‘ম্যানহোল’ রাখা হলো কেন?
লাইভ সায়েন্স অ্যাটলাস অবসকুরা ওয়েবসাইটকে উদ্ধৃত করে বলেছে, ১৯ শতকে শহরগুলোতে ভূগর্ভস্থ পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা তৈরির করা শুরু হয়। সে যুগের প্রকৌশলীরা বুঝতে পেরেছিলেন, বারবার ভেতরে গিয়ে তাদের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা পরীক্ষা করতে হবে।
পরে শহরগুলোতে গর্ত খোঁড়া শুরু হয় যেন লোকেরা ভেতরে যেতে পারেন। সেই সময়ে এই কাজ শুধু পুরুষরাই করত। তাই এই গর্তগুলোর নাম হয়ে যায় ‘ম্যানহোল’।
এদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার সান জোসে স্টেট ইউনিভার্সিটি ডিজাইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জোশ নেলসন বলেছেন, ম্যানহোল গোল করার জন্য ব্যবহারিক, কার্যকরী, প্রকৌশল এবং অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের মতো অনেক কারণ দায়ী।
ম্যানহোলের গোল ঢাকনাগুলো গোলাকার হওয়ার কারণ সম্পর্কে যা জানা যায় তা হলো-
ব্যতিক্রম বাদ দিয়ে সারাবিশ্বেই ম্যানহোলের ঢাকনা সাধারণত গোল হয়। ঢাকনার এই আকার কিছুটা ঐতিহ্যগত। কারণ যেসব সমস্যার সমাধানের জন্য আগে গোলাকার ঢাকনা ব্যবহার করা হতো, তার অনেকগুলোই এখন খুব সহজেই সমাধান করা সম্ভব। তবু এখনো রীতির ব্যাপারটিই বড়।
তা ছাড়া, বর্গাকার, ত্রিভুজাকার কিংবা আয়তাকার ঢাকনার চেয়ে গোলাকার ঢাকনা তৈরি করা সহজ। ঢাকনাগুলো বেশ ভারী ও গোলাকার হওয়ায় খুব সহজেই রোল করে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়া যায়। তবে অন্য কোনো আকৃতির হলে প্রতিবারই এটিকে কোনো কিছুর সাহায্যে তুলে পরিবহন করতে হতো।
এ ছাড়া ঢাকনা গোল হওয়ার আরেকটি সুবিধা হচ্ছে ম্যানহোলের মুখে এই ঢাকনা লাগানো খুব সহজ। এই কাজে একজনের বেশি মানুষের প্রয়োজন হয় না। চতুষ্কোণ আকৃতির হলে চার কোনায় চারজনকে থেকে ঢাকনাটিকে কোনা বরাবর ফিটিং করতে হতো।
আর সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে, ঢাকনা গোলাকার হওয়াতে এটি কোনো অবস্থাতেই ম্যানহোলের ভেতরে পড়ে যাবে না। সাধারণত ম্যানহোলের মুখের চেয়ে ঢাকনার আকার সামান্য বড় থাকে। তাই মুখে ঠিকমতো ফিটিং না হলেও ঢাকনাটি কোনোভাবে ম্যানহোলের ভেতরে ঢুকে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে অন্য যেকোনো আকৃতির ঢাকনার ক্ষেত্রে তা সম্ভব।
পপি/অমিয়/