তারা সবাই ভিন্ন পেশার। কেউ শিক্ষক, কেউ ব্যবসায়ী, কেউ উদ্যোক্তা, কেউ গৃহিণী। কিন্তু চা-প্রেমী হিসেবে তাদের পরিচয় অভিন্ন। আনন্দ, বেদনা, উৎসব, আড্ডা- সবকিছুতেই চা সবার আগে রাখেন তারা। তাই চা-প্রেমী সবাই মিলে করেছেন ‘চা না খাইলে জুইত পাই না’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপ। এ গ্রুপের সদস্যরা প্রতি বছরই গেটটুগেদারের আয়োজন করেন।
শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) সিলেটের লাক্কাতুরা চা-বাগানে চতুর্থবারের মতো আয়োজন করা হয় চা-প্রেমীদের মিলনমেলা। সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় নাম দিয়েছেন ‘চা না খাইলে জুইত পাই না!’

‘জুইত’ শব্দটি বাংলা জুতসই থেকে এসেছে। সিলেটের আঞ্চলিক উচ্চারণে ‘জুইত’ মানে সুবিধা না পাওয়া। চায়ের পেয়ালায় সবাই সুবিধা পেতে ফেসবুক গ্রুপে একাত্ম। ফেসবুক গ্রুপের অ্যাডমিন সিলেট কোতোয়ালি থানার পুলিশ সদস্য সোলেমান খান।
তিনি খবরের কাগজকে বলেন, এই গ্রুপের যারা সদস্য, সবাই রক্তদান করেন এবং রক্ত সংগ্রহে কাজ করেন। সিলেটের চৌহাট্টার রেডক্রিসেন্টে রক্তদান করে সবাই একসঙ্গে বসে চা খেতেন। এর পর ২০১৮ সালে সোলেমান খান চা-প্রেমীদের নিয়ে ফেসবুকে একটি প্রাইভেট গ্রুপ খোলেন। এই গ্রুপে সারা দেশের প্রায় ৪ হাজারের বেশি সদস্য আছেন। এই গ্রুপের সিলেটের সদস্যরাই মিলনমেলার আয়োজন করেন।
গেটটুগেদারে আসা সিলেট নগরীর লামাবাজার এলাকার বাসিন্দা ও অনলাইন ব্যবসায়ী অভিজিৎ রায় খবরের কাগজকে বলেন, ‘এখানে যারা এসেছেন সবাই চা-প্রেমী। যেকোনো সিচুয়েশনে আমাদের চা লাগে। তাই চায়ের দেশ সিলেটে বছরে একবার আমরা একত্রিত হই। রক্তদান নিয়ে কাজ করতে গিয়েই আমরা সব চা-প্রেমী এক হয়েছি। তাই এই গ্রুপের মাধ্যমে আমরা নিজেদের সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নেওয়ার পাশাপাশি সারা দেশে রক্তদানের বিষয়টি নিয়েও কাজ করি।’
গেটটুগেদারে আসা সাংস্কৃতিক কর্মী মো. জাহাঙ্গীর আলম খবরের কাগজকে বলেন, ‘চা আমাদের সিলেটের ঐতিহ্য। আমি তো দিনে রাতে বেশ কয়েকবার চা পান করি। প্রতিদিন তো ৮ থেকে ৯ কাপ চা পান করতেই হয়। চা-প্রেমীদের এই মিলনমেলায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এসেছেন। কিন্তু এই চা-প্রেমীদের বিশেষ আরেকটি গুণ হলো তারা সবাই স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা।’

শহিদ ক্যাডেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক জহির পাটোয়ারি খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমার বাড়ি কুমিল্লা। সিলেটে এসেছি কয়েক দিন হলো। আমার কয়েকজন বন্ধুর মাধ্যমে এই গ্রুপে যুক্ত হয়েছি। পানীয়ের মধ্যে আমি চা পান করতে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করি। তাই সব চা-প্রেমীদের সঙ্গে আনন্দ করতে আজকে এসেছি।’
গেটটুগেদারে আসা বেশ কয়েকজন নারী খবরের কাগজকে জানান, তারা সবাই চা-প্রেমী। সবাই দিনে অন্তত তিনবার চা পান করেন। অনেক সময় চার থেকে ছয়বারও চা পান করেন।
এক নারী বলেন, ‘আমরা দুঃখে আছি- চা খেতে হবে, সুখে আছি- চা খেতে হবে, ঠাণ্ডা লেগেছে- চা খেতে হবে, গরম লেগেছে- চা খেতে হবে। মোট কথা, আমরা যেকোনো কারণে চা খাই।’
‘জুইত পাই না’ বলে নিছক হাস্যরসে তারা মিলিত হলেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও নিয়ে সরব ছিলেন সবাই। বিষয়টি হচ্ছে রক্তদান। ‘রক্ত দিন জীবন বাঁচান’, ‘তুচ্ছ নয় রক্ত দান, বাঁচতে পারে একটি প্রাণ’ স্লোগানে দিনব্যাপী এই আয়োজন শুরু হয় শুক্রবার বেলা ১১টায়। এর পর চা-প্রেমীরা বিভিন্ন খেলায় অংশ নেন। চা পানের সঙ্গে চলে ফটোশুট, কুইজ, ফটো কনটেস্ট, আলোচনা সভা, খেলাধুলা ও পুরস্কার বিতরণ। র্যাফেল ড্র ও লটারির মাধ্যমে বিকেল ৫টায় শেষ হয় এ আয়োজন।
পপি/