‘স্টার্ট রেভল্যুশন ব্যাক টু বাইক’ স্লোগানকে ধারণ করে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে সাইকেল নিয়ে যাত্রা শুরু করেছেন ১০ তরুণ। ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং’ নিয়ে দেশের ৬৪ জেলার মানুষকে সচেতনতামূলক বার্তা দিতে ৩০ দিনের এই ভ্রমণ শুরু করেছেন তারা। তাদের এই ভ্রমণে প্রতিটি জেলার জন্য থাকবে আলাদা বার্তার প্ল্যাকার্ড। চলতি পথে চলবে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়।
গ্রুপের অ্যাডমিন শামীম মাশুক আলম খবরের কাগজকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম শাহ আমানত সেতু এলাকা থেকে গত শুক্রবার রাত ১২টায় তারা বান্দরবানের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। দেশের সব জেলা ঘুরে কক্সবাজার এসে ভ্রমণ শেষ করবেন তারা। ভ্রমণে অংশ নেওয়া সবাই ইউনিয়ন সাইক্লিস্ট অব বাংলাদেশের সদস্য। সাইকেল একটি পরিবেশবান্ধব বাহন। তাই তারা সাইকেল নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচার চালাতে চান।’
তিনি জানান, সবার জন্য উদ্বেগের বিষয় হলো গ্লোবাল ওয়ার্মিং। মূলত গ্রিনহাউস গ্যাসের অধিক নিঃসরণের কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি। পৃথিবীতে অতিবৃষ্টি, মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রের উচ্চতা বেড়ে যাওয়া, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়া, নদী-নালা, খাল-বিল পলিথিন, প্লাস্টিকে ভরে বন্যার তীব্রতা বেড়ে যাওয়াসহ নানা জটিল সমস্যায় পড়ছে বিশ্ব। এ থেকে বাঁচতে হলে আমাদের গাছ লাগাতে হবে, পরিবেশবান্ধব যানবাহন ও কলকারখানা গড়ে তুলতে হবে। ভ্রমণের সময় ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণ ও প্রতিকার’ নিয়ে মানুষকে সচেতন করবেন তারা। এই ভ্রমণ ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী মানুষকে উৎসর্গ করবেন তারা।
দলের অন্য সদস্যরা হলেন রিদওয়ানুল রিদু, মিউ নাই মং, বোরহান উদ্দিন রাফি, মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন, মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, অর্ণব কুমার রায়, সাগর নাথ, সুমিত নাথ ও মুহাম্মদ।
এই ১০ তরুণ তাদের ভ্রমণে বেশ কয়েকটি বার্তার কথা বলেছেন। এর মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য হলো কৃষি ট্রেনের ব্যবস্থা করুন, অভিভাবকহীন বয়স্কদের জন্য বয়স্ক ভাতা চালু করুন, চা-শ্রমিকদের মজুরি ও জীবনমান বৃদ্ধি করুন, সুদকে না বলুন, সৎ ও হালাল জীবন গড়ুন, স্ট্যান্ড ফর হিউম্যানিটি-স্ট্যান্ড ফর ফিলিস্তিন, পরিবেশবান্ধব কলকারখানা ও মোটরগাড়ি ব্যবহার করুন, রক্ত দিন জীবন বাঁচান, একমাত্র প্রবাল দ্বীপ রক্ষা করুন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি ও জীবনমান বৃদ্ধি করুন ইত্যাদি।