‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’ এই অমোঘ মন্ত্রকে বুকে ধারণ করে নতুন বঙ্গাব্দ ১৪৩৩ বরণে প্রস্তুত হচ্ছে ছায়ানট। সংস্কৃতিবিরোধী সব অপশক্তিকে তুচ্ছ করে ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি নির্বিশেষে বাঙালির এই সর্ববৃহৎ উৎসবে এবারও ভোরের প্রথম আলোয় মুখরিত হবে রমনার বটমূল।
রবিবার (২৯ চৈত্র) বিকেলে ধানমন্ডির ছায়ানট সংস্কৃতি-ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন বর্ষবরণের বিস্তারিত কর্মসূচি তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ছায়ানটের সভাপতি ডা. সারওয়ার আলী বলেন, ‘আমরা নির্বিঘ্নে সংস্কৃতি চর্চা করতে চাই।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- ছায়ানটের সহ-সভাপতি খায়রুল আনাম শাকিল ও পার্থ তানভীর নভেদ এবং যুগ্ম সম্পাদক জয়ন্ত রায়।
সংবাদ সম্মেলনে ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা বলেন, ‘বিগত বছরের সব প্রতিকূলতা ও আবর্জনা দূর করে আমরা আরও মানবমুখী হতে চাই। নতুন বছর বাঙালিকে সেই শক্তি জোগাবে।’
বাঙালির উৎসবের আবহেও বিশ্বজুড়ে চলমান অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ছায়ানট। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, যখন বাঙালি বর্ষবরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধবাজদের কারণে পারস্য সভ্যতায় ধ্বংসলীলা চলছে। এই শঙ্কা ও বিপর্যয়ের অবসান ঘটিয়ে বিশ্বজুড়ে শান্তি, সাম্য ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়। ছায়ানটের এবারের সংকল্প- মিলিত পথের সাথী হয়ে অন্ধকারের অর্গল খুলে আলোর ভুবনে যাত্রা করা।
ভোরের আয়োজনে যা থাকছে
পহেলা বৈশাখের ভোর সোয়া ৬টায় নবীন আলোর সঙ্গে শুরু হবে ছায়ানটের সুরবাণী। দুই ঘণ্টার এই বিশেষ আয়োজনে থাকবে ৮টি সম্মেলক গান এবং ১৪টি একক গান। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের গণসংগীতজ্ঞ সলিল চৌধুরী এবং পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলনের গীতিকার-সুরকার মতলুব আলীর প্রতি জানানো হবে বিশেষ শ্রদ্ধা। প্রায় ২০০ শিল্পী এই আয়োজনে অংশ নেবেন।
প্রকৃতি, মানবপ্রেম, দেশপ্রেম ও লোকজীবনের সুরে সাজানো হয়েছে পুরো অনুষ্ঠান।
বরাবরের মতোই অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গণপূর্ত অধিদপ্তর সহযোগিতা দিচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে থাকছে থার্টিনথ হুসার্স ওপেন রোভার গ্রুপ ও এজিস সার্ভিসেস লিমিটেড। এবারের মঞ্চসজ্জায় কাজ করছেন শিল্পী মমিনুল হক দুলু ও রণজিত রায়।
জয়ন্ত/রিফাত/