ঢাকা ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, রোববার, ২৬ মে ২০২৪

রাবি ছাত্রলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষ: ৪ নেতা বহিষ্কার

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৪, ১২:২৩ পিএম
রাবি ছাত্রলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষ: ৪ নেতা বহিষ্কার
বহিষ্কৃত চার নেতা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে ছাত্রলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় শাখা ছাত্রলীগের চার নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (১৪ মে) রাতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম পান্থ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

বহিষ্কৃত নেতারা হলেন- রাবি শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি শাহিনুল সরকার ডন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নিয়াজ মোর্শেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান অপু, সাংগঠনিক সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি কাব্বিরুজ্জামান রুহুল। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক সংগঠনের শৃঙ্খলা ও মর্যাদা পরিপন্থি কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে তাদেরকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হলো। তাদের বিরুদ্ধে কেন পরবর্তী সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তার লিখিত জবাব উল্লিখিত ব্যক্তিদের আগামী সাতদিনের মধ্যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দপ্তর সেলে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো।

শাহিনুল সরকার ডন খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমাদের কি দোষ ছিল, কি কারণে আমাদের বহিষ্কার করা হলো আমরা কিছুই জানি না। আমাদের সাতদিনের সময় দেওয়া হয়েছে কারণ দর্শানোর জন্য। আমরা লিখিত জবাব দেব।’ 

আশিকুর রহমান অপু খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে হঠাৎ কেন বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো আমি জানি না। সম্প্রতি এমন কোনো ঘটনার সঙ্গেও আমি সম্পৃক্ত না যেটা কোনো দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে। আমি মনে করছি এটা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাদের নামে মিথ্যা, বানোয়াট তথ্য দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে। আমি লিখিত জবাবের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে সব খুলে বলব।’

তবে এ বিষয়ে বহিষ্কৃত অন্য দুই নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা সাড়া দেননি। 

রাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবু খবরের কাগজকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হলে গত তিন থেকে চারদিন ধরে বহিরাগত ও স্থানীয় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছিল, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করছিল, তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো ছাত্রলীগে অন্যায়কারীর জায়গা নেই, অন্যায়কারীর কোনো দল বা পরিচয় থাকতে পারে না। অন্যায়কারীর পরিচয় শুধুই অন্যায়কারী। ভবিষ্যতে কেউ শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ করার আগে ভাবতে বাধ্য হবে এবং দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখবে।’

দপ্তর সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম পান্থ খবরের কাগজকে বলেন, ‘সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও মর্যাদা পরিপন্থি কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়ার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদেরকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়নি। এই সাতদিন তারা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে পারবে না। লিখিত জবাবের মাধ্যমে যদি তাদের জড়িত না থাকার প্রমাণ দিতে পারে তাহলে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হবে।’

সুমন/পপি/অমিয়/

সেন্ট গ্রেগরিতে বিতর্ক ভাষা চর্চা বিষয়ক সেমিনার

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৪:০২ পিএম
সেন্ট গ্রেগরিতে বিতর্ক ভাষা চর্চা বিষয়ক সেমিনার
খবরের কাগজের কপি এডিটর কবি হাসান হাফিজ। ছবি : খবরের কাগজ

গ্রেগরিয়ান ডিবেটিং ক্লাবের উদ্যোগে সেন্ট গ্রেগরি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে ‘বিতর্কে ভাষা চর্চা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

রবিবার (২৬ মে) সেন্ট গ্রেগরি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অডিটোরিয়ামে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। 

সেন্ট গ্রেগরি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ব্রাদার উজ্জ্বল প্লাসিড পেরেরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের জেষ্ঠ সহসভাপতি ও খবরের কাগজের কপি এডিটর কবি হাসান হাফিজ।

সেমিনারের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন গ্রেগরিয়ান ডিবেটিং ক্লাবের মডারেটর শাহাদাত হোসেন। 

অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রভাষক আব্দুল মান্নান লাভলু। 

বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. সনজিত পাল। 

অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন প্রভাষক রুহুল কাইয়ুম।

শাহাদাত হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, একজন শিক্ষার্থী যদি শিক্ষামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকে তাহলে সে অন্যদের চেয়ে ব্যক্তিক্রম হয়ে থাকে। বির্তকের সঙ্গে যুক্তি ও বৌদ্ধিক চিন্তা এ দুটি বিষয় জড়িত। বিশুদ্ধ ভাষা চর্চার মাধ্যমে আমরা আমাদের যুক্তিকে যৌক্তিকভাবে তুলে ধরতে পারি। এক্ষেত্রে অপ্রাসঙ্গিকভাবে বাংলার সঙ্গে ইংরেজির ও চলিতর সঙ্গে আঞ্চলিক ভাষায় মিশ্রণ দুর করে সঠিক উচ্চারণে কথা বলতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কবি হাসান হাফিজ বলেন, আমাদের বাংলা ভাষার সবাইকে গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলা ভাষার আরবি, ফারসি, বিদেশি, উর্দু অনেক শব্দ এসেছে। সময়ের পালা বদলে নানা শব্দ ও সংস্কৃতি এসেছে আমাদের বাংলা ভাষায়। আমাদের সবার নৃতাত্বিক বৈশিষ্ট্য এক নয়। আমাদের সবাইকে শুদ্ধ ভাষা চর্চা করতে হবে এবং সব ভাষাকে সন্মান করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিতর্কের মাধ্যমে আমরা নিজেকের ভাষাকে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করব, শুদ্ধভাবে উচ্চারণ করব। পড়াশোনা করব এবং নানা বিষয় জানব। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার পাশাপাশি এ ধরনের কার্যক্রম আমাদের এগিয়ে রাখবে। ইংরেজি ও বাংলা ভাষার মিশ্রণ করা যাবে না। আমরা যাচাই বাছাই করে ভাষা শিখব। ইন্টারনেট নির্ভর হব না। অনেক সময় গুগলেও ভুল থাকে। 

সভাপতির বক্তব্যে ব্রাদার উজ্জ্বল প্লাসিড পেরেরা বলেন, নিজেকে আধুনিকভাবে উপস্থাপন করার জন্য বিশুদ্ধ ভাষা চর্চার কোনো বিকল্প নেই। 

তিনি মাতৃভাষা চর্চার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন বৈশ্বিক প্রভাবের কারণে বিদেশি ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু মাতৃভাষার ওপর দক্ষতা ব্যতীত বিদেশি ভাষা শেখা সম্ভব নয়।

মুজাহিদ বিল্লাহ/জোবাইদা/অমিয়/

ঢাবি শিক্ষকদের পদোন্নতি পেতে লাগবে ৭০ শতাংশ নম্বর

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০২:০১ পিএম
ঢাবি শিক্ষকদের পদোন্নতি পেতে লাগবে ৭০ শতাংশ নম্বর
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেছেন, ‘প্রভাষক থেকে পরবর্তী পদোন্নতি পেতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষকদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ নিতে হবে এবং ৭০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। এই শর্ত পূরণ না হলে শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়া হবে না। বছরে দুবার এই প্রশিক্ষণ হবে।’

গত শুক্রবার (২৪ মে) প্রথমবারের মতো ঢাবি শিক্ষকদের ১৪ দিনব্যাপী ‘ফাউন্ডেশন ইন ইউনিভার্সিটি টিচিং অ্যান্ড লার্নিং’ শীর্ষক কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপাচার্য এ কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) উদ্যোগে কুমিল্লা বার্ডের ময়নামতি মিলনায়তনে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮টি বিভাগ ও ইনস্টিটিউট থেকে ৫৮ নবীন শিক্ষক এ প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন।

এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা ও মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে আইকিউএসি প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে চলেছে। শিক্ষকতা একটি শিল্প। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জনে শিক্ষকরা কার্যকর ভূমিকা রাখেন। শিক্ষা ও গবেষণার আধুনিক জ্ঞান এবং পাঠদান কৌশল অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের আরও দক্ষ করে গড়ে তুলতে তরুণ শিক্ষকদের এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষজ্ঞ শিক্ষক ও প্রশিক্ষকদের সঙ্গে পারস্পরিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী তরুণ শিক্ষকরা জ্ঞানে ও পাঠদান কৌশলের ক্ষেত্রে নিজেদের সমৃদ্ধ করতে পারবেন বলে আশা করি।’

এ সময় আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. সাবিতা রিজওয়ানা রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক ড. গুলশান আরা লতিফা এবং বার্ডের মহাপরিচালক সাইফ উদ্দিন আহমেদ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। 

এ ছাড়া এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. হাসিনা খান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। 

গত ২৪ মে থেকে শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণ চলবে ৬ জুন পর্যন্ত। ১৪ দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে শিক্ষকদের পেশাদারত্ব বৃদ্ধি, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের বিকাশ, একাডেমিক প্রোগ্রাম এবং পাঠ্যক্রম, উচ্চশিক্ষায় শিক্ষাদান ও মূল্যায়ন, আইসিটিই এবং আইসিটিভিত্তিক নির্দেশনা, উচ্চশিক্ষায় গুণমান নিশ্চিতকরণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদানের উদীয়মান সমস্যা, ইউজিসির নিয়ম ও নীতি, পিএইচডি ও পোস্ট-ডক্টরাল প্রোগ্রামের জন্য স্কলারশিপ ও ফেলোশিপের সুযোগ, গবেষণা প্রকল্প ও একাডেমিক কার্যক্রমের জন্য বিভিন্ন অনুদানসহ ১৪টি মডিউলের ওপর আলোচনা করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের হামফ্রে ফেলোশিপ

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ১১:৩৯ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের হামফ্রে ফেলোশিপ

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে হিউবার্ট এইচ হামফ্রে ফেলোশিপ কর্মসূচির জন্য আবেদনপত্র আহ্বান করেছে। ৯ মাসের এ কর্মসূচিতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসহ সরকারি ও বেসরকারি খাতে পেশাজীবীরা আবেদন করতে পারবেন। বাংলাদেশিরাও এ ফেলোশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হিউবার্ট এইচ হামফ্রে ফেলোশিপ কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অন্যতম ফুলব্রাইট কার্যক্রম। এর মাধ্যমে মেধাবী তরুণ ও মধ্য পর্যায়ের পেশাজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রে ডিগ্রিবিহীন ৯ মাসের স্নাতক স্তরের শিক্ষা গ্রহণ, নেতৃত্বের উন্নয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজের মাধ্যমে পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ পাবেন। এই কর্মসূচি ভবিষ্যতের নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারকদের যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ, সংস্কৃতি ও পেশাগত ক্ষেত্রগুলোর সঙ্গে পরিচিত করার মাধ্যমে আমেরিকানদের সঙ্গে বিদেশি পেশাজীবীদের একটি স্থায়ী ও ফলপ্রসূ সম্পর্ক গড়ে তোলার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

হামফ্রে কর্মসূচি প্রয়াত মার্কিন সিনেটর ও ভাইস প্রেসিডেন্ট হিউবার্ট এইচ হামফ্রের স্মৃতি ও কৃতিত্বের প্রতি সম্মান জানাতে ১৯৭৮ সাল থেকে এই ফেলোশিপ চালু করা হয়। এই ফেলোশিপের জন্য জনসেবায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকারি কিংবা বেসরকারি খাতে কর্মরত পেশাজীবী প্রার্থীদের প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতিতে বাছাই করা হয়। ফেলোশিপ দেওয়া হচ্ছে মানব ও প্রাতিষ্ঠানিক সামর্থ্য; অধিকার ও স্বাধীনতা; টেকসই ভূমি এবং সমৃদ্ধিশালী সম্প্রদায়, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে জনস্বাস্থ্য, ছোঁয়াচে রোগ ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনায়।

ফেলোশিপের সুযোগ-সুবিধা
নির্ধারিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পূর্ণ টিউশন ফি দেওয়া হবে;
প্রয়োজন হলে প্রাক-একাডেমিক ইংরেজি ভাষা প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে;
 কম্পিউটার কেনার জন্য এককালীন ভাতা;
বিমান ভ্রমণ ভাতা (প্রোগ্রামের জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ এবং প্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম ইভেন্টে অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ);
ফেলোশিপের জন্য প্রয়োজনীয় পেশাদার উন্নয়ন ভাতা যেমন- ফিল্ড ট্রিপ, পেশাদার পরিদর্শন ও সম্মেলন দেওয়া হবে।

আবেদনের যোগ্যতা
আবেদনকারীকে বাংলাদেশি নাগরিক এবং আবেদন করা ও আবেদনপত্র বাছাই প্রক্রিয়া চলাকালে বাংলাদেশে অবস্থান করতে হবে।

দ্বৈত নাগরিক (বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র) কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া যাবে না।

আবেদনের সময় মেয়াদসহ বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে।

আবেদনকারীকে অবশ্যই তরুণ ও মধ্য পর্যায়ের নেতৃত্বশীল পদে থাকা পেশাজীবী হতে হবে, যার জনসেবায় দৃষ্টান্তমূলক কাজ ও পেশাগত জীবনে অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন, এমন কেউ আবেদন করতে পারবেন না।

পূর্ণকালীন শিক্ষার্থী হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কমপক্ষে চার বছরের শিক্ষা কার্যক্রম শেষ করার সনদ থাকতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জনের পর সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ন্যূনতম পাঁচ বছর পূর্ণকালীন কাজ করার পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকতে হবে (২০২৪ সালের আগস্টের আগে) এবং তাদের শিক্ষা ও কাজসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের নীতিগত দিকগুলোয় আগ্রহ থাকতে হবে।

শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কিংবা একাডেমিক গবেষক এই ফেলোশিপের জন্য বিবেচিত হবেন না। তাদের অবশ্যই ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

২০২৫ সালের আগস্টের আগে সাত বছরের মধ্যে আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রের কোনো স্নাতক স্কুলে এক শিক্ষাবর্ষ বা তার বেশি সময়ের জন্য লেখাপড়ায় অংশ নিয়ে থাকলে তিনি এই ফেলোশিপের জন্য অযোগ্য হবেন।

২০২৫ সালের আগস্টের আগে পাঁচ বছরের মধ্যে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করার অভিজ্ঞতা থাকলে তিনি এই ফেলোশিপের জন্য যোগ্য হবেন না।

ইংরেজি লেখা ও কথা বলা উভয় ক্ষেত্রে দক্ষ হতে হবে এবং টোয়েফল স্কোর ৭১ (ইন্টারনেটভিত্তিক) হতে হবে। প্রার্থীদের যাদের টোয়েফল স্কোরের বৈধ মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাদের নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষে টোয়েফল পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। 

আবেদনকারীকে অবশ্যই ফেলোশিপের জন্য নির্ধারিত প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও প্রতিশ্রুতি দেখানোর পাশাপাশি এ কথাও জানাতে হবে যে তিনি কীভাবে এই ফেলোশিপ থেকে উপকৃত হবেন, যা তিনি আগে কখনো হননি এবং হামফ্রে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ছাড়া এমন অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তার নেই।

ফেলোশিপ শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশে ফিরে আসতে হবে।

অনলাইনে আবেদন করা 
হামফ্রে ফেলোশিপ কর্মসূচির জন্য একটি অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। আগ্রহী প্রার্থীদের এই লিংকে (https://www.humphreyfellowship.org) গিয়ে আবেদন করতে হবে। এই কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এই ওয়েবসাইট থেকে জানা যাবে।

হিউবার্ট এইচ হামফ্রে ফেলোশিপ প্রোগ্রামের আবেদনপত্র ব্যবহারের অনুমতি পেতে একজন আবেদনকারীকে অবশ্যই প্রথমে একটি আইআইই (IIE) অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। আবেদনকারীকে আবেদনপত্র পূরণের সব নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে। ফেলোশিপ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে [email protected] ই-মেইলে যোগাযোগ করতে পারেন।

আবেদনের শেষ তারিখ 
১৫ জুলাই ২০২৪, রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত।

ফেলোশিপের বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ 
https://bd.usembassy.gov/2025-2026-hubert-h-humphrey-fellowship-program/

কলি

পাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের সাদা-খয়েরি বাস

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ১১:৩২ এএম
পাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের সাদা-খয়েরি বাস

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসগুলো আমাদের কাছে সবসময়ই আবেগের জায়গা। শিক্ষার্থীদের আনন্দ-বেদনার নীরব সাক্ষী হয়ে থাকা এই বাসগুলোর বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে আছে নিজস্ব রং ও পরিচয়। তেমনি পাবনায় অবস্থিত পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) বাসে রয়েছে সাদা ও খয়েরি রঙের পৃথক মিশ্রণ। যেখানে সাদা রং দ্বারা শান্তি, বিশুদ্ধতা ও পূর্ণতাকে বোঝানো হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগোর রংকে প্রাধান্য দিয়ে রাখা হয়েছে খয়েরি রং। 

কলেজের গণ্ডি পার করে উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু অনেক শিক্ষার্থীর প্রাথমিক অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে এই বাহন। নগরীর কোলাহলপূর্ণ রাস্তা দিয়ে স্বপ্নবাজদের নিয়ে স্বপ্ন ফেরি করে বেড়ানো এই বাসগুলোকে চলাচল করতে দেখে শিক্ষার্থীরা মনে মনে স্বপ্নে বুনতে শুরু করে একদিন তারাও এ বাহনের যাত্রী হবেন।

ভর্তিচ্ছুদের কাছে যেমন অনুপ্রেরণা, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক-বর্তমানদের কাছে বাসগুলো গল্প-স্মৃতির জন্ম দেওয়া আবেগের বাহন। পাবিপ্রবিতে আবাসিক সংকটের কারণে বেশির ভাগ অনাবাসিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ক্যাম্পাস জীবনের যোগসূত্র তৈরির প্রথম মাধ্যম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা-খয়েরি এ বাসগুলো।

শিক্ষার্থী সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, ‘ইন্টারে এডওয়ার্ড কলেজে পড়ার সময় প্রায়ই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস দেখতাম। তখন একটা জিনিস খেয়াল, করতাম এই বাস আমাদের কলেজের সামনে এসে দাঁড়ালে বাকি যানবাহনগুলো এই বাসের জন্য জায়গা ছেড়ে দিত এবং যারা এ বাসে উঠত বা নামত সাধারণ মানুষ তাদের খুব সম্মান করত। সেই থেকে মনে একটা স্বপ্ন দেখতাম আমি একদিন এই বাসের যাত্রী হব।’

শিক্ষার্থী সানজিদা সুলতানা বলেন, ‘আমরা যারা পাবনা শহরের থেকে একটু দূরে বা শহরের বিপরীত থেকে ক্যাম্পাসে যাতায়াত করি তাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে চলাচল করা সুবিধাজনক। এ ছাড়া নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে যাতায়াত করলে একটা আলাদা ভালো লাগা কাজ করে এবং নিজেকে নিরাপদ বোধ করি। সেজন্য কষ্ট হলেও ক্যাম্পাসের বাসেই যাতায়াত করতে চেষ্টা করি।’

পাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী রাজীব চন্দ্র সাহা ক্যাম্পাস বাস বলেন, ‘আমার বাড়ি রাজশাহী হলেও জীবিকার তাগিদে এখনো পাবনাতেই থাকছি। প্রতিদিন সকালে যখন অফিসে যাই প্রায়ই গোল চত্বরে ক্যাম্পাসের বাস দেখি। এই বাসে আমাদের কত যে স্মৃতি আছে তা হয়তো বলে শেষ করা যাবে না। পুরোনো দিনের সেসব কথা ভেবে আবেগের আপ্লুত হয়ে যাই। মাঝে মাঝে নিজের অজান্তেই চোখ জল চলে আসে।’

কলি

বিসিএস লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ১১:২৯ এএম
বিসিএস লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি
ছবি: সংগৃহীত

বিসিএস লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য আপনি এখন থেকেই রুটিন করে নিয়মিত পড়ালেখা শুরু করে দিন। একটা সময় দেখবেন, সিলেবাসের সব বিষয়ের প্রস্তুতি হয়ে গেছে। সিলেবাসের তুলনায় বিসিএসে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য আপনাদের হাতে সময় কম থাকে। বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অনেকের জন্য চ্যালেঞ্জ। তবে পরিকল্পনামতো রুটিন করে গুছিয়ে পড়ালেখা করলে পরীক্ষা শুরুর আগেই আপনি সব বিষয়ের প্রস্তুতি নেওয়া শেষ করতে পারবেন। আজ বিসিএস লিখিত পরীক্ষার বাংলা ও বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির প্রস্তুতি নিয়ে লিখেছেন মোশাররফ হোসেন

বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় ৫০ শতাংশ নম্বর পেলেই পাস। মানে ৯০০ নম্বরের মধ্যে আপনি ৪৫০ পেলেই পাস। কোনো একটি বিষয়ে আপনি ১০০-তে ৪০ পেয়েছেন। মানে ৫০ শতাংশের চেয়ে ১০ নম্বর কম পেয়েছেন। আবার কোনো একটি বিষয়ে আপনি ১০০-তে ৬০ নম্বর পেয়েছেন। মানে ৫০ শতাংশের চেয়ে ১০ নম্বর বেশি পেয়েছেন। এখন এ দুই বিষয়ের নম্বর যোগ করে আপনি ৫০ শতাংশ নম্বর পেয়েছেন; সুতরাং আপনি পাস। তবে কোনো বিষয়ে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৩০-এর কম নম্বর পেলে সে বিষয়ে আপনি কোনো নম্বর পাননি বলে গণ্য হবে। উদাহরণস্বরূপ কোনো একটি বিষয়ে আপনি ১০০-তে ২৯ নম্বর পেয়েছেন, তাহলে আপনার এই ২৯ নম্বর যোগ হবে না। তবে এই ২৯ নম্বর বাদ দিয়েও যদি আপনি অন্য বিষয়গুলোর নম্বর যোগ করে ৯০০-তে মোট ৪৫০ নম্বর পান, তবে আপনি লিখিত পরীক্ষায় পাস করবেন। 
বিসিএস লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষার নম্বর যোগ করে ফাইনাল রেজাল্ট তৈরি করা হয়। আপনি ক্যাডার নাকি নন-ক্যাডার চাকরি পাবেন, নাকি আপনার পছন্দের ক্যাডারটিই পাবেন– সেটি লিখিত পরীক্ষার নম্বরের ওপরই নির্ভর করে। তাই লিখিত পরীক্ষার জন্য আপনার প্রস্তুতি হতে হবে সিলেবাস ও সাজেশনভিত্তিক এবং গোছানো। আজ বাংলা ও বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি প্রস্তুতি নিয়ে নিচে আলোচনা করা হলো-

বাংলা বিষয়ের প্রস্তুতি
(১) ব্যাকরণ থেকে ৫টি প্রশ্ন থাকবে। ব্যাকরণ থেকে যেসব বিষয়ের ওপর প্রশ্ন হবে তা হলো (ক) শব্দগঠন, (খ) বানানের শুদ্ধরূপ/বানানের নিয়ম, (গ) বাক্যশুদ্ধি/বাক্যের প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ, (ঘ) প্রবাদ-প্রবচনের নিহিতার্থ প্রকাশ, (ঙ) বাক্য গঠন।
বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে ব্যাকরণ অংশের জন্য যা পড়বেন তা হলো-

শব্দ গঠন থেকে যা পড়বেন
(ক) শব্দ কী? বাংলা ভাষায় শব্দ গঠনের পাঁচটি প্রক্রিয়া উদাহরণসহ লিখুন।
(খ) অর্থগতভাবে বাংলা ভাষার শব্দগুলোকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়? উদাহরণসহ আলোচনা করুন। 
(গ) উপসর্গযোগে শব্দ গঠন করুন।

বানান থেকে যা পড়বেন
(ক) বানানের শুদ্ধরূপ, (খ) বাংলা বানানে শ, স, ষ ব্যবহারের নিয়ম।
(গ) বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে তৎসম শব্দের বানানের সূত্রগুলো লিখুন।
(ঘ) বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে অ-তৎসম শব্দের বানানের সূত্রগুলো লিখুন।

বাক্য থেকে যা পড়বেন
(ক) বাক্য কত প্রকার ও কী কী? উদাহরণসহ ব্যাখ্যা লিখুন, (খ) কোন কোন বৈশিষ্ট্যের ওপর বাক্যের সার্থকতা নির্ভর করে লিখুন।
(গ) বাক্য শুদ্ধ করে লিখুন।
(ঘ) বাক্যে রূপান্তর করুন (সরল থেকে জটিল, জটিল থেকে সরল এমন)।

প্রবাদ প্রবচন থেকে যা পড়বেন 
(ক) প্রবাদ প্রবচন ব্যবহার করে অর্থপূর্ণ বাক্য গঠন করুন।
(খ) বাগধারার অর্থ উল্লেখ করে বাক্যে প্রয়োগ দেখান।
(গ) সাহিত্য অংশ থেকে ১০টি প্রশ্ন থাকবে। সাহিত্য থেকে সাধারণত কয়েকটি টপিকস থেকে প্রতি বছর প্রশ্ন থাকে। সেগুলো হলো- চর্যাপদ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ইত্যাদি।

সাহিত্য অংশ থেকে যা পড়বেন
চর্যাপদ কে, কবে, কোথায় আবিষ্কার করেন?
চর্যাপদের ভাষা সম্পর্কে লিখুন।
বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের গুরুত্ব আলোচনা করুন।
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের পরিচয় ও বিষয়বস্তু লিখুন।
মনসামঙ্গল কাব্যের বেহুলার চরিত্রটির বৈশিষ্ট্য লিখুন।

বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির প্রস্তুতি
বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য বিভিন্ন রেফারেন্স বই, যেমন- মোজাম্মেল হকের উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশের সংবিধান নিয়ে বই, মুক্তিযুদ্ধের বই, আব্দুল হাইয়ের বাংলাদেশ বিষয়াবলি ইত্যাদি বই পড়তে পারেন।

বাংলাদেশ বিষয়াবলিতে সংবিধান, বাংলাদেশের ম্যাপ ও অর্থনৈতিক সমীক্ষার ওপর পড়ায় মনোযোগ দিন। এ বিষয়ে সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই সময়ানুযায়ী প্রশ্নের উত্তর লিখবেন। লেখার মাঝে ছোট ছোট ম্যাপ, ইনফোগ্রাফ, টেবিল, ডেটা দিলে ব্র্যাকেটে সোর্স, বাংলা অথবা শুদ্ধ ইংরেজিতে কোটেশন দেবেন।

প্রতিদিন ১ ঘণ্টা করে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি পড়বেন।

আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে কনসেপচুয়াল প্রশ্ন থাকে। এর মধ্যে প্রশ্ন কমন পাওয়া কঠিন। লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্নের উত্তরে মনীষীদের উক্তি, উদাহরণ দিলে বেশি নম্বর পাবেন।

প্রতিদিন অনলাইনে ৪-৫টা সংবাদপত্র খুব দ্রুত পড়বেন। সংবাদপত্র পড়ার সময় সংবাদপত্রের কলামগুলো পড়ে পড়ে বুঝে নেবেন কোন কোন টপিক থেকে পরীক্ষায় প্রশ্ন হতে পারে। সাধারণ জ্ঞানে সময়ের প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিকতা অনুসারে প্রশ্নের ধরন বদলাতে পারে।

উত্তর লেখার সময় প্রয়োজনীয় চিহ্নিত চিত্র ও ম্যাপ আঁকুন। যথাস্থানে বিভিন্ন ডেটা, টেবিল, চার্ট, রেফারেন্স দিন। সংবাদপত্র থেকে কোনো উদ্ধৃতি দিলে উদ্ধৃতির নিচে সোর্স এবং তারিখ উল্লেখ করে দেবেন। উইকিপিডিয়া কিংবা বাংলাপিডিয়া থেকে উদ্ধৃত দিতে পারেন। দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা কে, কী বললেন, সেটা প্রশ্নের উত্তরে প্রাসঙ্গিকভাবে লিখতে পারেন।

বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় কোনোভাবেই কোনো প্রশ্ন ছেড়ে আসবেন না। উত্তর জানা না থাকলে ধারণা থেকে কিছু না কিছু লিখবেন।

মাঝে মাঝে বিভিন্ন টপিক নিয়ে লেখার অনুশীলন করুন। পড়ার অভ্যাস বাড়ান। এতে আপনার লেখা মানসম্মত হবে। কোনো উত্তরই মুখস্থ করার দরকার নেই। ধারণা থেকে লেখার অভ্যাস গড়ে তুলুন। লিখিত পরীক্ষায় সবাই বানিয়ে লেখে। ঠিকভাবে বানিয়ে লেখাটাও একটা আর্ট।

লিখিত পরীক্ষায় বেশির ভাগ প্রশ্নই কমন পড়ে না। এসব বই পড়া থাকলে উত্তর করাটা সহজ হয়। প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় বিভিন্ন লেখকের রচনা, পত্রিকার কলাম ও সম্পাদকীয়, ইন্টারনেট, বিভিন্ন সোর্স থেকে উদ্ধৃতি দিলে বেশি নম্বর পাবেন। পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তরে রেফারেন্স দিলে বেশি নম্বর পাবেন।

বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে প্রশ্ন আসলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক এবং আপনার নিজের মতামত সহকারে পয়েন্ট আকারে লিখলে বেশি নম্বর পাবেন।

যা মনে রাখবেন
লিখিত পরীক্ষায় ভালো করার উপায় হলো, ‘যত পড়া, তত লেখা’।
একজন প্রার্থী কতটুকু জানল, এটা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সে কতটুকু লিখতে সক্ষম; সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই পড়ার ফাঁকে ফাঁকে লেখার চর্চাও করবেন।
প্রতি সপ্তাহে মডেল টেস্ট পরীক্ষা দেবেন। 
নিজেদের সুবিধামতো রুটিন সাজিয়ে নিন। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাঁচটি বিষয়ের (বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বাংলাদেশ বিষয়াবলি ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি) যেকোনো একটি এবং প্রতিদিন রাতে গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা এবং অনুবাদ অনুশীলন (ইংরেজি ও বাংলা) করতে পারেন।
গণিতের ওপর আলাদাভাবে প্রস্তুতি নিন।