গত দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে নিয়মিত উপাচার্য শূন্য রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)। তাই আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে নিয়মিত উপাচার্য নিয়োগের দাবি জানিয়েছে রুয়েটের শিক্ষার্থীরা। তানাহলে কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে রুয়েটের শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে রুয়েটের ক্যাফেটেরিয়ায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান রুয়েট শিক্ষার্থীরা। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রুয়েটের শিক্ষার্থী মো. মাঈন উদ্দিন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশে অবিলম্বে রুয়েটে সৎ, যোগ্য, দেশপ্রেমিক, শিক্ষার্থীবান্ধব ও যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষককে রুয়েট এর ভিসি হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। জুলাই বিপ্লবের পর গত ৩১ আগস্ট থেকে রুয়েটের ভাইস চ্যান্সেলর (উপাচার্য) পদটি শূন্য আছে। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় উন্নয়নমূলক কার্যক্রম স্থবির রয়েছে। এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রুয়েটিয়ানরা যেই গণজোয়ার সৃষ্টি করেছিল, সেসব শিক্ষার্থীদের উপর সরাসরি অস্ত্রহাতে হামলাকারী ও হামলার পরিকল্পনাকারী অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছে না। দুর্নীতি ও অবৈধ নিয়োগ সংক্রান্ত যেকোনো মীমাংসামূলক সিদ্ধান্ত আটকে রয়েছে। বিপ্লব পরবর্তী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের যেসব দাবি-দাওয়া ছিল, ভাইস চ্যান্সেলর শূণ্যতায় সেগুলোও পূরণ হচ্ছে না। পাশাপাশি রুয়েটে মাদকাসক্ত ও বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে গিয়েছে। স্থায়ী ভিসি না থাকার কারণে এদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছে না। ফলে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে নিরাপত্তাহীনতা।’
তিনি আরও বলেন, ‘পতিত স্বৈরাচারের ছাত্রবাহিনীর দ্বারা অবৈধভাবে দখলকৃত হলের সিটগুলোরও পুনরুদ্ধার ও বণ্টন কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। ইতোপুর্বে সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্থায়ী ভিসি নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন করলেও সংশ্লিষ্ট মহল এ ব্যাপারে যথেষ্ট উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছেন বলে আমরা মনে করছি। তাই আমরা রুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা আগামী সর্বোচ্চ পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে রুয়েট থেকে সৎ, দক্ষ, দেশপ্রমিক, শিক্ষার্থীবান্ধব, যোগ্যতাসম্পন্ন এবং বিপ্লবে আমাদের সহযোগিতা করেছেন এমন একজন শিক্ষককে রুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। এ সময় তারা ৫ দিনের মধ্যে উপাচার্য নিয়োগ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচীর হুঁশিয়ারি দেন।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য নিয়োগ দিলে তিনি এখানকার প্রশাসনিক কাঠামো বোঝেন না। ফলে একটা সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। আগের উপাচার্যও রুয়েটের একাডেমিক সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত না হওয়ায় আওয়ামী সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রশাসন কাঠামো চালিয়েছেন।
এনায়েত করিম/এমএ/




