রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অপরাধে ছয় শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিষ্কারসহ ৩২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এদের মধ্যে ২৫ জনের সঙ্গে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তবে বাকি সাত শিক্ষার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া যায়নি।
রবিবার (২২ ডিসেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নাম-পরিচয় জানায়।
তালিকায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক রয়েছেন। তবে কোন অপরাধে তাদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করেনি প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলা ও র্যাগিংসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে অপরাধের ধরণ ও মাত্রাভেদে ছয় শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিষ্কার (তবে ছাত্রত্ব না থাকলে সনদ বাতিল), পাঁচ শিক্ষার্থীকে দুই বছর, চার শিক্ষার্থীকে এক বছর, দুই শিক্ষার্থীকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ ছাড়াও এক শিক্ষার্থীকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অন্য এক শিক্ষার্থীকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা এবং ১৩ জন শিক্ষার্থীর আবাসিক ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা উপ-কমিটির সুপারিশের প্রেক্ষিতে গত ১২ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩৫তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তালিকা থেকে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কৃতরা নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। তারা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ, বর্তমান সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবু, সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লা-হিল-গালিব, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখ্শ হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত কুমার রায় ও হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মিশকাত হাসান।
এদিকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করা পাঁচজনের মধ্যে চারজনই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী ছিলেন। তারা হলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম, নবাব আব্দুল লতিফ হলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম রেজা, ছাত্রলীগের কর্মী আব্দুল্লাহ আত তাসরিফ ও মুজাহিদ আল হাসান।
এ ছাড়া আরবি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের আরিফুল ইসলামকেও দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
এক বছরের জন্য বহিষ্কৃত চারজনের তিনজনই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। তারা হলেন, রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলফি শাহরিন আরিয়ানা, মাদার বখ্শ হলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কিশোর পাল ও ছাত্রলীগ কর্মী জারিফা আহনাফ ইলমা। অপর শিক্ষার্থী হলেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের আহসানুল হক মিলন।
ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে ছাত্রলীগের কর্মী আনিকা আলম ঊষা ও মরিয়ম আক্তার শান্তাকে। এ ছাড়া ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অন্তর বিশ্বাসকে। একই বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুল হোসেন নাবিলকে পাঁচ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ১৩ শিক্ষার্থীর হলের আবাসিক ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০ জনই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। তারা হলেন- বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হল ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তাজরীন আহমেদ খান মেধা, সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আশা খাতুন ও নবনীতা বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক সম্পাদক নুসরাত জাহান পাপড়ি, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক নূর-ই-জান্নাত কথা, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ফারিনা জামান মিম, সহ-সম্পাদক লিমা খাতুন, উপ-প্রচার সম্পাদক বাবলি আক্তার, দপ্তর সম্পাদক জাফরিন খান প্রিয়া ও সাংগঠনিক সম্পাদক রাইতাহ ইসলাম।
এ ছাড়া চারুকলা অনুষদের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বাবলী ইসলাম নিঝুম, সমাজকর্ম বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের কাজী উর্বি ইয়াসমিন রুপ এবং ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের আফরিদা বিনতে ইকবালের আবাসিকতাও বাতিল করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব খবরের কাগজকে বলেন, ‘শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের। তবে, তাদেরকে রাজনৈতিক বিবেচনায় কোনো শাস্তি প্রদান করা হয়নি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকায় তদন্তের প্রেক্ষিতে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে কেউ যুক্ত থাকলে তাকে দল-মত নির্বিশেষে শাস্তি পেতে হবে।’
সুমন/তাওফিক/অমিয়/