তুরস্কের প্রায় ছয় হাজার বছরের পুরোনো ইতিহাস আর ঐতিহ্যের একটা বড় প্রভাব রয়েছে তাদের শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে। বর্তমান তুরস্কের শিক্ষাব্যবস্থা ইউরোপের প্রথম সারির দশটি উন্নত দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে স্থান করে নিতে পেরেছে। দেশটির ৫০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় ওয়ার্ল্ড র্যাঙ্কিংয়ের প্রথম সারির দিকে অবস্থান করছে। বিশেষ করে মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরগুলোই বেশি উন্নত তুরস্কের। দেশটিতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ১০৫টি। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ৭১টি। এ দেশের সরকারের বৈদেশিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রতিবছর ১৫ হাজার শিক্ষার্থী আসেন পৃথিবীর ৬১টি দেশ থেকে। বর্তমানে প্রায় ৭৪ হাজার বিদেশি শিক্ষার্থী পড়ছেন তুরস্কে। আর প্রতিবছর এর সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে এ দেশে বাঙালিদের সংখ্যাও গত সাত-আট বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার যোগ্যতা
১. অনার্স আবেদনের সর্বোচ্চ বয়স ২১ বছর, মাস্টার্সের জন্য সর্বোচ্চ ৩০ বছর, পিএইচডির জন্য সর্বোচ্চ ৩৫ বছর।
২. ইংরেজি মাধ্যমে পড়তে চাইলে (IELTS)-এ ৫.৫-৬.৫ স্কোর (শিক্ষাবৃত্তির জন্য আবেদন করতে হলে আপনাকে তুর্কি ভাষায় পড়তে হবে। এ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। সাধারণত তুরস্কের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরুতেই তুর্কি ভাষায় শিক্ষা দেওয়া হয়)।
৩. একাডেমিক পরীক্ষায় কমপক্ষে ৫০% মার্কস।
৪. উচ্চ মাধ্যমিক ডিগ্রি (ব্যাচেলর ডিগ্রিতে আবেদন করার জন্য)।
৫. বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ডিগ্রি (মাস্টার্স ডিগ্রিতে আবেদন করার জন্য)।
৬. বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি (পিএইচডি ডিগ্রিতে আবেদন করার জন্য)।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
আবেদনকারীদের বিভিন্ন নথি বা কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে। এগুলোর মধ্যে আছে:
• পাসপোর্ট সাইজের ছবি (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে তোলা)।
• পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মসনদের স্ক্যান করা কপি।
• সব পরীক্ষার সার্টিফিকেট ও মার্কশিট।
• একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট।
• দুটি রেফারেন্স লেটার।
• একটি মোটিভেশনাল লেটার।
• স্টেটমেন্ট অব পারপাস (এসওপি)।
• একটি রিসার্চ প্রপোজাল (পিএইচডি প্রার্থীদের জন্য)।
• টোফেল, জিআরই ইত্যাদির সার্টিফিকেট (যদি থাকে)।
• এক্সট্রা কারিকুলার সার্টিফিকেট (যেমন- স্কাউট, রচনা প্রতিযোগিতা, বিএনসিসি)।
পড়াশোনার খরচ কেমন?
তুরস্কে পড়ালেখার ক্ষেত্রে হয়তো ভাবনা আসতেই পারে যে টিউশন ফির পরিমাণ কত হবে। তবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই, দেশটির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নামমাত্র টিউশন ফি নেওয়া হয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতিবছরের টিউশন ফি ৫ হাজার টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
থাকা-খাওয়ার খরচ
তুরস্কে থাকা-খাওয়ার খরচ অনেকটা ঢাকার মতোই, ডর্ম ফি প্রতি মাসে ৩ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা হয়ে থাকে। তবে আলাদাভাবে থাকলে মাসপ্রতি ৭-৮ হাজার টাকা পর্যন্ত গুনতে হবে। শহরভেদে এই খরচ কম-বেশি হয়।
পড়ালেখার মাধ্যম
শিক্ষার্থীদের যদি আইইএলটিএস করা না থাকে, তা হলে তাদের তুর্কি ভাষায় পড়তে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর এক বছর তুর্কি ভাষা কোর্স করতে হবে, কোর্স ফি ১৪-১৬ হাজার টাকা হয়ে থাকে। ভাষা কোর্স সম্পন্ন করার পর মূল প্রোগ্রামের পড়ালেখা শুরু করা যাবে। যদি আইইএলটিএস করা থাকে, তা হলে ইংরেজি মিডিয়ামে পড়ার সুযোগ পাওয়া যাবে।
শিক্ষাবৃত্তির সুযোগ কেমন
তুরস্ক সরকার প্রতিবছর পাঁচ হাজারের বেশি বিদেশি শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দিয়ে থাকে। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও সেবামূলক সংস্থা বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের বৃত্তিসহ তুরস্কে পড়ার সুযোগ করে দেয়। বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ণ বা আংশিক বৃত্তি দিয়ে থাকে। তবে এক্ষেত্রে আপনাকে মাথায় রাখতে হবে, শিক্ষাবৃত্তির জন্য আবেদন করলে আপনাকে তুর্কি ভাষায় পড়তে হবে।
খণ্ডকালীন চাকরি
ইউরোপিয়ান অন্য দেশগুলোর মতো তুরস্কে সচরাচর খণ্ডকালীন চাকরি পাওয়া যায় না। তবে তুর্কি ভাষা জানা থাকলে বড় শহরগুলোতে চাকরির সুযোগ হয়ে থাকে। জানিয়ে রাখা ভালো, তুরস্কে পড়ালেখা শেষে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ নেই।
/রিয়াজ