ফ্যাসিবাদী আওয়ামী শাসনের অবসান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে বিজয় র্যালি করেছে জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে র্যালিটি শুরু করেন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। পরে সেটি রাজু ভাস্কর্য ঘুরে ভিসি চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এর আগে, জুলাই অভ্যুত্থান ও মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুর্ঘটনায় শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সমাবেশে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ.বি.এম. ওবাইদুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর ৫ আগস্ট দীর্ঘ ১৭ বছরের দুঃশাসনের পর শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের আন্দোলনের মুখে পালাতে বাধ্য হয়েছিল। সেদিন কারফিউ উপেক্ষা করে ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে নতুন ইতিহাস রচনা করেছে। এর পেছনে রয়েছে জুলাই আন্দোলন ও গত ১৬ বছরের শহিদদের রক্ত, নিপীড়ন ও গুম-খুনের ইতিহাস। তাই বিজয়ের দিন হিসেবে উদযাপনের পাশপাশি স্মরণ করছি, আন্দোলনের শহিদদের। আমাদের আনন্দের মধ্যেই রয়েছে তাদের ত্যাগের ইতিহাস।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, ‘শহিদদের স্বপ্ন পূরণের অংশ হিসেবেই আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অতীতের মত ভবিষ্যতেও এই অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। আমরা আশা করছি, অচিরেই একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। তারাই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি রুখে দেবে।’
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান বলেন, ‘গত বছরের আন্দোলন ছিল বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণের প্রত্যাশার প্রতিফলন। সেই লক্ষ্যে আমরা ঐক্যবদ্ধ ছিলাম, আছি এবং থাকব।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা রাস্তায় নেমেছিলাম একটি বৈষম্যহীন ও ইনক্লুসিভ বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে। আমরা আশা করছি এখন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ পাবো। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের মালিকানা চলে গিয়েছিল অল্প কয়েকজন মানুষের হাতে। ফলে মুক্তিযুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হয়নি। আমরা চাই, ২০২৪ সালের আন্দোলনেও যেন একই ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয়।’
সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ, সাদা দলের সাবেক আহ্বায়ক অধ্যাপক আখতার হোসেন খান, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম খানসহ শতাধিক শিক্ষক অংশ নেন।
আরিফ/রিফাত/