ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন বিতরণ শেষ হয়েছে। যার ফলে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রায় ১০টি প্যানেল প্রকাশ্যে এসেছে। আজ সোমবার (১৮ আগস্ট) মনোনয়ন বিতরণের শেষ দিনে ৪৪২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এছাড়া এখন পর্যন্ত ডাকসু নির্বাচনে বিভিন্ন পদে ৫৬৫ জন এবং ১৮ হলের হল সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন পদে ১ হাজার ২২৬ জন প্রার্থী মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন।
সোমবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত চিফ রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের সামনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।
তিনি বলেন, ‘সপ্তম দিনে ডাকসুর বিভিন্ন পদে জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে ৪৪২টি। এখন পর্যন্ত ৭ দিনে ডাকসুতে মোট মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ৫৬৫ জন এবং হল সংসদে মোট মনোনয়ন সংগ্রহ করেছে ১ হাজার ২২৬ জন। এর মধ্যে ভিপি, জিএস, এজিএস, সম্পাদক এবং সদস্য পদে কতজন তা এখনো নির্ণয় করা হয়নি।’
প্রার্থী ও ভোটার তালিকায় অপরাধী থাকলে বাদ পড়বেন এমন প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘এখানে কেউ কোনো দলীয় পরিচয়ে মনোনয়ন নেয়নি। ভোট গ্রহণের আগের দিন পর্যন্ত কোনো প্রার্থীর নাম অপরাধীর তালিকায় পাওয়া গেলে তাকে প্রার্থিতা থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ আছে।’
প্রকাশ্যে এলো ১০ প্যানেল, শেষ দিনে মনোনয়ন নিতে ভিড়
মনোনয়ন সংগ্রহের শেষ দিনে বামপন্থী ছাত্রসংগঠন জোটসহ ৮টি ছাত্র সংগঠন এবং স্বতন্ত্র মিলিয়ে ১০টি প্যানেল প্রকাশ্যে এসেছে। মনোনয়ন বিতরণের শেষদিন সোমবার ইসলামী ছাত্রশিবির ২৮ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করে মনোনয়ন সংগ্রহ করেন। এছাড়া ছাত্রদল, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ, বাম ছাত্রজোট, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংসদ, উমামা ফাতেমার নেতৃত্বে স্বতন্ত্র প্যানেল এবং জুবায়ের-মুসাদ্দেকের আংশিক প্যানেল থেকে মনোনয়ন সংগ্রহের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে। তবে চূড়ান্ত ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে ছাত্রদল, বামপন্থী ছাত্রজোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও অন্যান্য সংগঠন। সংগঠনগুলো বলছে, আগামীকাল মঙ্গলবারের মধ্যে সবকিছু চূড়ান্ত ঘোষণা চলে আসবে।
মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ শেষে শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ‘আমরা একটি ইনক্লুসিভ প্যানেল দেওয়ার চেষ্টা করেছি। বিশেষ করে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, নারী, অন্যান্য ধর্মালম্বীর পাশাপাশি জুলাই আন্দোলন ও ফ্যাসিবাদী সময়ে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে কথা বলতে গিয়ে আক্রমণের শিকার হয়েছেন, এমন শিক্ষার্থীদের আমাদের প্যানেলে রাখা চেষ্টা করেছি। আমরা আশা করব, ডাকসু নির্বাচনের যে সময়সীমা নির্ধারিত করছে সেই সময়েই মধ্যে চমৎকার এবং আনন্দঘন নির্বাচন উপহার দেবেন।’
প্যানেলে শিবিরের কতজন, নারীসহ অন্য প্লাটফর্মের কতজন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাবি শাখার শিবিরের এস এম ফরহাদ বলেন, ‘আমরা টোটাল সংখ্যা ডিভার (আলাদা করা) করতে চাচ্ছি না। আমরা প্রত্যেকে এখানে শিক্ষার্থী; এখানে শিবির কতজন, অন্য প্লাটফর্মের কতজন এটি বলতে চাইছি না। এখানে সকল শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রয়াসেই এই প্যানেলটি দেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই আমরা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করব।’
বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, ‘আমাদের প্যানেলের নাম হচ্ছে ডাকসু ফর চেঞ্জ, ভোট ফর চেঞ্জ এবং স্লোগান হচ্ছে, নো মোর ডার্টি পলিটিক্স, নো মোর ভায়োলেন্স, মেইক দ্যা ডাকসু একাডেমিক এক্সিলেন্স। কারণ, আমরা আর বিগত দিনের লেজুড়বৃত্তি, পেশিশক্তি ও দখলদারত্বের রাজনীতিতে ফিরে যেতে চাই না। আমরা শিক্ষার্থীদের কমিটমেন্ট করছি, আমরা যদি ম্যানডেট পাই, আমরা হল ও একাডেমিক এরিয়াতে ছাত্ররাজনীতির সাংগঠনিক কমিটি আমরা দিতে দেব না। একই সঙ্গে এর পাশাপাশি আমাদের ভিশন হচ্ছে: ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান বেড, ওয়ান টেবিল; আমরা সেটি নিয়ে কাজ করতে চাই।’
আগামীকাল মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) প্যানেল ঘোষণার কথা জানিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা বলেন, ‘আমরা যোগ্যতা দেখে মঙ্গলবার পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করব। আমরা শিক্ষার্থীবান্ধব একটি ডাকসু প্যানেল ঘোষণা করব।
আলাদাভাবে মনোনয়ন নিলেন ছাত্রদল নেতারা, চূড়ান্ত হয়নি প্যানেল
শেষ দিনেও নিজেদের পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করতে পারেনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সংগঠনটির একাধিক নেতাকে আলাদা আলাদাভাবে মনোনয়ন ফরম নিতে দেখা গেছে। ওই দিন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল ইসলাম জিসান; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান; জিএস পদে সূর্যসেন হল ছাত্রদলের সদস্য সচিব আবিদুর রহমান মিশু, ঢাবি ছাত্রদলের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক জারিফ রহমান, কবি জসীম উদ্দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর বারী হামিম; এজিএস পদে বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আল হাদী মায়েদসহ কয়েকজন মনোনয়ন নিয়েছেন।
মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ শেষে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা এখন শুধু মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করছি। তবে কারা কোন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেবেন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই ডাকসুতে ছাত্রদলের প্যানেল গঠিত হবে।’
মনোনয়ন সংগ্রহের সময় কবি জসীম উদ্দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর বারী হামিম সংগ্রহের সময় শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে স্লোগান দেন। বিষয়টি নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ হিসেবে দেখা হয়েছে। যদিও এমন কর্মকাণ্ডে পরবর্তীতে সকলকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
ডাকসুতে লড়ছেন যারা
ইসলামী ছাত্রশিবির ২৮ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করেছে। ঘোষিত প্যানেলে ভিপি পদে আছেন সাদিক কায়েম, জিএস পদে এস এম ফরহাদ এবং এজিএস পদে মহিউদ্দিন খান। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ ও গণআন্দোলন পদে যুক্ত হয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের ফাতিমা তাসনীম জুমা, আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে রয়েছেন জুলাই আন্দোলনে চোখ হারানো খান জসীম। সদস্য পদে লড়বেন সর্ব মিত্র চাকমা ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী রাইসুল ইসলাম।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ গত ৭ আগস্ট সম্ভাব্য প্যানেল ঘোষণা করে। ভিপি পদে ইয়াসিন আরাফাত, জিএস পদে খায়রুল আহসান মারজান এবং এজিএস পদে সাইফ মুহাম্মদ আলাউদ্দিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানানো হয়। তবে অন্য সংগঠন বা স্বতন্ত্রদের সঙ্গে সংযুক্ত প্যানেলে যেতে পারেন তারা। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ থেকে ভিপি পদে সংগঠনটির ঢাবি শাখার আহ্বায়ক আবদুল কাদের, জিএস পদে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদার, কেন্দ্রীয় মুখপাত্র আশরেফা খাতুন এজিএস, কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক তাহমিদ আল মুদ্দাসসির আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে লড়বেন।
ছাত্র অধিকার পরিষদের কয়েকটি পদ বাদে বাকি পদগুলোতে চূড়ান্ত প্যানেল ঘোষণা করেছে ছাত্র অধিকার পরিষদ। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা সহ-সভাপতি পদে এবং সাবিনা ইয়াসমিন সাধারণ সম্পাদক পদে লড়বেন বলে জানান। এছাড়া এজিএস পদে লড়বেন সংগঠনটির ঢাবি শাখার সদস্য সচিব রাকিবুল ইসলাম। এ প্যানেলের নাম হবে ‘ডাকসু ফর চেঞ্জ’ এবং তাদের। বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন আংশিক প্যানেল থেকে ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেবে ছাত্র ফেডারেশন। সংগঠনটির ঢাবি শাখার আহ্বায়ক আরমানুল হক এজিএস, সাকিবুর রনি স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, সীমা আক্তার সমাজসেবা সম্পাদক পদে লড়বেন।
স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংসদ ‘ডিইউ ফার্স্ট’ নামে প্যানেল ঘোষণা করেছে। ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন জামালুদ্দীন মোহাম্মদ খালিদ এবং জিএস পদে মাহীন সরকার। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা স্বতন্ত্র প্যানেলের ঘোষণা দিয়েছেন। ভিপি পদে তিনি নিজে, জিএস পদে সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি আল সাদী ভূঁইয়া এবং এজিএস পদে বর্তমান সভাপতি মহিউদ্দিন মুজাহিদ মাহী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এ প্যানেলের সম্ভাব্য নাম হতে পারে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখ্য সমন্বয়ক এবি জুবায়ের ও জুলাই ঐক্যের সংগঠক মুসাদ্দেক আলী ইবনে মুহাম্মদ আংশিক স্বতন্ত্র প্যানেলের ঘোষণা দিয়েছেন। সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে মুসাদ্দেক এবং সমাজসেবা সম্পাদক পদে জুবায়ের মনোনয়ন নিয়েছেন।
জোটবদ্ধ হয়ে লড়বেন বামপন্থীরা
বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলোর সমন্বিত জোট গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা। মনোনয়ন সংগ্রহ করলেও এখন পর্যন্ত প্যানেলের নাম ঘোষণা করেনি। জোটের পক্ষ থেকে ভিপি পদে মনোনয়ন নিয়েছেন শামসুন্নাহার হল ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি এবং জিএস ছাত্র ইউনিয়নের ঢাবি সভাপতি মেঘমল্লার বসু।
প্যানেল ঘোষণা করেন বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এবং এজিএস পদপ্রার্থী জাবির আহমেদ জুবেল বলেন, ‘ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, ছাত্র কাউন্সিল, ছাত্র যুব আন্দোলন, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও গণতান্ত্রিক ছাত্র মঞ্চ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে তাদের প্যানেল করা হয়েছে। কিছু পদে ইতোমধ্যে নাম ঘোষণা করা হয়েছে এবং বাকি পদগুলোতে জোটের কারা কারা প্রার্থী হতে যাচ্ছেন, সেটি মঙ্গলবার প্রকাশ করা হবে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।’
৬ দাবি বাম জোটের
ভোটের অন্তত ১৫ দিন আগে পরীক্ষা স্থগিত করাসহ ছয় দাবি জানিয়েছে, ছাত্র সংগঠনগুলোর সমন্বিত জোট গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট। মনোনয়ন সংগ্রহ শেষে সংবাদমাধ্যমে কথা বলার সময় দাবিগুলো তুলে ধরেন ছাত্র ইউনিয়নের ঢাবি শাখার সভাপতি মেঘমল্লার বসু।
দাবিগুলো হলো- আওয়ামী শাসনামলে শিক্ষার্থী নিপীড়নের সঙ্গে জড়িতদের তালিকা প্রকাশ করে অনতিবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করতে হবে। সব নিপীড়কের প্রার্থিতা বাতিল করতে হবে; জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে ছাত্র হত্যার পক্ষে সম্মতি উৎপাদনকারী নীল দলের শিক্ষকদের বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ পদ থেকে অপসারণ করতে হবে; বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ও নির্বাচনি প্রচারণার নিয়ম-নীতি কী হবে, সেই বিষয়ে রূপরেখা প্রণয়ন কমিটিকে অবিলম্বে স্পষ্ট নির্দেশনা দিতে হবে; ডাকসু নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নির্বাচনের অন্তত ১৫ দিন আগে থেকে সব পরীক্ষা স্থগিত করতে হবে ও নির্বাচনের দিন অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বাড়তি পরিবহনের ব্যবস্থা করতে হবে। ভোটকেন্দ্রের অপার্যপ্ততা দূর করতে হবে; অনলাইনভিত্তিক গুজব ও ডিসইনফরমেইশানের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে শক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে খোলা অথচ গুজব ও কুৎসা ব্যবহার করে একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়নরত সব গ্রুপ ও পেইজের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ক্যাম্পাসে নানা বিষয়কে কেন্দ্র করে ‘মব’ পরিস্থিতি তৈরি হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তা কীভাবে মোকাবিলা করবে, তার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রণয়ন করতে হবে।
মনোনয়নপত্র বিক্রিতে আয় এবং হলগুলোতে যে পরিমাণ সংগ্রহ
ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের সবমিলিয়ে মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৭৯১টি। ডাকসুর ২৮টি পদের বিপরীতে মোট ৫৬৫টি মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছে। আর হল সংসদ নির্বাচনের জন্য ১৮টি হলে বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ২২৬টি মনোনয়নপত্র। ডাকসু প্রতি মনোনয়ন বিক্রি হয়েছে ৩শ এবং হল সংসদে প্রতি মনোনয়ন বিক্রি হয়েছে ২শ টাকায়। সেই হিসেবে মনোনয়ন থেকে মোট আয় ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫০০ টাকা, ১৮ হলের সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম বিক্রিতে মোট আয় ২ লাখ ৪৫ হাজার ২০০ টাকা। সবমিলিয়ে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে মোট মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছে ৪ লাখ ১৪ হাজার ৭০০ টাকার।
এদিকে হলভিত্তিক মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে সর্বাধিক ৯৭ জন এবং বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে সর্বনিম্ন ২৯ জন মনোনয়নপত্র নিয়েছেন। এছাড়া সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে ৭১ জন, জগন্নাথ হলে ৬৬ জন, ফজলুল হক মুসলিম হলে ৭৮ জন, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে ৯৩ জন, রোকেয়া হলে ৪৬ জন, সূর্যসেন হলে ৯০ জন, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে ৭৪ জন, শামসুন নাহার হলে ৩৭ জন, কবি জসীম উদ্দীন হলে ৭৪ জন, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে ৮৭ জন, শেখ মুজিবুর রহমান হলে ৬৯ জন, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে ৩০ জন, অমর একুশে হলে ৮৪ জন, কবি সুফিয়া কামাল হলে ৪০ জন, বিজয় একাত্তর হলে ৮৮ জন এবং স্যার এ এফ রহমান হলে ৭৩ জন মনোনয়নপত্র নিয়েছেন।
ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহে মব সৃষ্টি করা বাঁধা অভিযোগ ছাত্রদলের
বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহে মব সৃষ্টি করা বাঁধা অভিযোগ তুলেছে ঢাবি শাখা ছাত্রদল। এ নিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুরক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে করে সংগঠনটি। এছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
মধুরক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে করে ঢাবি শাখা ছাত্রদল। ছবি: খবরের কাগজ
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ‘ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী নিজ হল সংসদের রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় হতে ফরম সংগ্রহ করতে গেলে, আমাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ অনুযায়ী প্রশাসনের ভূমিকা পালন করা একদল শিক্ষার্থী আমাদের সকল আশঙ্কাকে বাস্তব প্রমাণ করে একটি বিশৃঙ্খল মব সৃষ্টি করে ওই হলের কয়েকজন শিক্ষার্থীর উপর হামলা করার চেষ্টা করে এবং মনোনয়ন ফরম সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি করে।’
অভিযোগপত্রে নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সকলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে জড়িত সকলকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিষয়ক সকল আইন ও নির্বাচন কমিশনের সুনির্দিষ্ট আচরণবিধি অনুসারে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানানো হয়।
এ নিয়ে যোগাযোগ করা হলে গতকাল সোমবার রাত সোয়া ৮টার দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা এ নিয়ে মিটিংয়ে বসেছি। মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেখা যাক কি করা যায়।’
মনোনয়নপত্র জমাদান শেষ কাল
ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী আগামীকাল মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) বিকাল ৩টার মধ্যে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে।
প্রসঙ্গত, ডাকসুর ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে ২১ আগস্ট প্রাথমিক প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশিত হবে। চার দিনের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষে ২৬ আগস্ট প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ এবং সবশেষ ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে।
আরিফ জাওয়াদ/মাহফুজ