নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলের নাম পরিবর্তন করে ‘শহিদ ওসমান হাদী হল’ নামকরণ করেছেন।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে হলের সামনে নতুন নামসংবলিত ব্যানার টাঙানো হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর প্রতিবাদে ওই রাতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়-সংক্রান্ত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপে হলটির নাম পরিবর্তনের দাবি উঠলে তাতে সমর্থন জানান অনেক শিক্ষার্থী।
বিশ্ববিদ্যালয় ওশোনোগ্রাফি বিভাগের শিক্ষার্থী জিহাদুল ইসলাম রাফি বলেন, বীর শহিদ ওসমান হাদি ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আমাদের আজাদীর লড়াইয়ের এক অমর সৈনিক। যতদিন এই বাংলাদেশ রইবে ততদিন তিনি বাংলাদেশপন্থিদের অন্তরে অমর হয়ে রইবেন।
তিনি আরও বলেন, সবার দাবির প্রেক্ষিতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু শিক্ষার্থীরা দাবি জানিয়ে আসছেন যেন ওসমান হাদি ভাইয়ের নামে একটি হলের নামকরণ করা হয়। তারই অংশ হিসেবে আজকে মালেক হলের নাম পরিবর্তন করে "বীর শহীদ ওসমান হাদি হল" নামকরণের জন্য শিক্ষার্থীরা মিলে একটি নাম ফলক টানিয়েছি। হল প্রসাশনের কাছে অফিশিয়ালি স্মারকলিপি প্রদানের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঐ হলের শিক্ষার্থীরা আবেদন জানাবেন।
ওশোনোগ্রাফি বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী আল মাহমুদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মালেক হলের নাম পরিবর্তনের জন্য দাবি করে আসছে হলের শিক্ষার্থীরা। কিন্তু হল প্রশাসন ও ভার্সিটি প্রশাসনের এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। এজন্য শিক্ষার্থীরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে লীগ ও ভারতীয় আগ্রাসনবিরোধী শহীদ শরীফ ওসমান হাদি ভাইয়ের নামেই এ হল পরিচিত হবে। এই দাবি হলের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীদের। যাতে করে ভারতীয় আগ্রাসন বিরোধী ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে শহিদ ওসমান হাদিকে সবাই মনে রাখে। সবাই যেন এ নামের অনুপ্রেরণায় তার রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজগুলোকে সমাপ্ত করতে পারে, ইনকিলাব জিন্দাবাদ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হল প্রোভোস্ট তসলিম মাহমুদ বলেন, “আমার কাছে এখনও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কোনো ফরমাল আবেদন আসেনি। ফরমালভাবে কোনো প্রস্তাব এলে আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানাব। প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিই আমার সিদ্ধান্ত।”
কাউসার/নাঈম