চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ‘ডি’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসে নাশিতা তাসনিম নামে এক শিক্ষার্থী তার বাবা হারিয়েছেন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে নগরের জিইসি মোড়ে থাকা সিটি টাওয়ার ভাড়া বাসায় বসবাসকারী ৬০ বছর বয়সী মো. ইব্রাহীম খলিল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তিনি কুমিল্লার স্থায়ী বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন চট্টগ্রামে থাকতেন।
নাশিতা তাসনিম ‘ডি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার্থী। তিনি মেয়েকে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করানোর পর ইব্রাহীম খলিল হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার ও পার্কভিউ হাসপাতালের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছানোর আগে তার মৃত্যু হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, 'অভিভাবক অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা করা হয়।'
এদিকে, শোকাবহ ঘটনার মধ্যেই সারা দেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ডি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা। এ বছর তিনটি কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৫১,৫০৯ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় উপস্থিত ছিলেন ৪৭,৩৬২ জন এবং অনুপস্থিত ছিলেন ৪,১৪৭ জন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ২৩,৩৬৬ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ২১,০৭২ জন। উপস্থিতির হার ছিল ৯০.১৮ শতাংশ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ছিলেন ২০,৫৪২ জন। এর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ১৯,২১৭ জন, যা শতকরা ৯৩.৫৫ শতাংশ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ৭,৫৯৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নেন ৭,১১৯ জন। সেখানে উপস্থিতির হার ছিল ৯৩.৭ শতাংশ।
শনিবার বিকেলে উপস্থিতির এই তথ্য নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ডি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়কারী অধ্যাপক মোহাম্মদ এনায়েত উল্যা পাটওয়ারী।
ভর্তি পরীক্ষা কমিটির তথ্যমতে, ‘ডি’ ইউনিটে মোট সাধারণ আসন রয়েছে ৮৪৯টি। এসব আসনের বিপরীতে পরীক্ষার্থী ৫১,০০০-এর বেশি হওয়ায় তীব্র প্রতিযোগিতা ছিল।
আল আরাফ/রিফাত/