সিলেটে বিএনপির নির্বাচনি জনসভায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের নিরাপত্তা বেষ্টনীর বেড়া ডিঙিয়ে ভিতরে প্রবেশের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুমুল সমালোচনার জন্ম নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সিলেট নগরীর সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে আয়োজিত বিএনপির নির্বাচনি জনসভায় শাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দীন চৌধুরী এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিমকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। সেখানে তারা জনতার কাতারে দেওয়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর দেওয়াল ডিঙিয়ে ভিতরে প্রবেশের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
রিয়াজ হোসেন রিমন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেন, রাস্তার একটা ফকিরকে মুকুট পরিয়ে রাজার চেয়ারে বসালে যেমন সে রাজার দায়িত্ব পালন করতে পারবে না, তেমনি ৬৩ পেইজের একজন শিক্ষককে ভিসি বানিয়ে দিলে সে ভিসির দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। সিলেট বিভাগের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হচ্ছে শাবিপ্রবি অথচ আজকে মেরুদণ্ডহীন প্রশাসনের জন্য সাস্ট সমগ্র দেশের সামনে লজ্জিত।
শাকসুতে শিবির সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী দেলোয়ার হাসান শিশির লিখেন, বিএনপির সমাবেশে যোগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি করার জন্য ভিসি-প্রোভিসি স্যারকে ধন্যবাদ! স্টেইজে জায়গা না পেয়ে, বাঁশের উপর দিয়ে লাফিয়ে জনতার কাতারে দাঁড়ানোর কারণে সেই মর্যাদা আরও বেড়ে গেলো।
রাশিদ আবরার রাশিদ নামে একজন লিখেছেন, যারা একজন অনির্বাচিত নেতার সমাবেশে যেয়ে বসার জায়গা পান না, বাঁশ ডিঙ্গায়ে জন সাধারণের কাতারে যেয়েও সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, যাদের ন্যূনতম ব্যক্তিত্ব নাই, তারাই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর প্রসাশক। এই দলিয় পা চাটা লোকগুলোর জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মান-সম্মান যে কতটুকু হারালো তা বোঝার ক্ষমতা ৬৫ পেজের সিভি বহনকারী এই মহরথীর নাই। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধকে পা দিয়ে পিষে তারা যে অন্ধকার অধ্যায়ের সূচনা করলো, এর ফল শুধু আমরাই না, আমাদের অনুজদেরও ভোগাবে। আপনাদের জন্য একরাশ ঘৃণা।
মো. সাফায়েত হোসেন নামে একজন উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের বেড়া ডিঙিয়ে পার হয়ে বসার দৃশ্য পোস্ট করে রবীন্দ্রনাথের ছোট গল্প অপরিচিতার অনুপমের বিখ্যাত উক্তির মাধ্যমে ব্যাঙ্গ করে লিখেন, ‘এই তো আমি জায়গা পাইয়াছি’-অনুপম
আহনাফ রাদ লিখেন, বাংলাদেশে যে গুনীদের কদর হয় না তা বিএনপির নির্বাচনি সমাবেশে ভিসি, প্রো-ভিসি স্যারদের ভিআইপি জায়গা না দিয়ে জনসাধারণের জন্য রাখা বাঁশের বেড়ার মধ্যে বসিয়ে আরেকবার প্রমাণ করা হলো। দ্বিতীয়বার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাখলাম।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ফয়সাল হোসেন রাত ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রাজনৈতিক সমাবেশ অংশগ্রহণের প্রতিবাদে প্রশাসনকে শোকজ করে এক বিক্ষোভ মিছিলের আহ্বান করেন। সাংবাদিকদের এক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তিনি এই বিষয়টি জানান।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম বলেন, ‘‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে কেন, কোনো আইনেই একজনের দর্শক হওয়ার বা শ্রোতা হওয়ায় কোনো বাধা নেই। আমরা সেখানে আমন্ত্রিত ছিলাম। নির্ধারিত আসনে না বসে আমরা দর্শক-শ্রোতার সারিতে বসতে চেয়েছি। আমরা তো মঞ্চে গিয়ে কোনো বক্তৃতা দিয়ে কারো পক্ষে বিপক্ষে অবস্থান নিইনি।
বেড়া ডিঙিয়ে পার হওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, নিরাপত্তা ব্যাবস্থার জন্য সেখানে চারিদিকে বাশ দিয়ে বেড়া দেওয়া ছিল। তারা সেখানে আমাদের সম্মান দেখিয়ে দুই পাশে দুইটা চেয়ার দিয়ে আমাদেরকে ভিতরে যাওয়ার এবং সোফায় বসার সুযোগ করে দিয়েছে। এটা তো এমন না যে আমরা বাঁশ ধরে লটকে পার হয়েছি ।
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় আইন-১৯৮৭-এ স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা তার রাজনৈতিক মতামত প্রচার করতে পারবেন না এবং নিজেকে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত করতে পারবেন না।
ইসফাক/মাহফুজ