গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা খাতুনের বিরুদ্ধে পিএইচডি স্কলারশিপ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের (সাদা দল) সদস্যসচিব পদে আছেন।
এ অভিযোগের সত্যানুসন্ধানে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে লিখিত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানা গেছে। যদিও বিষয়টি গতকাল শুক্রবার গণমাধ্যমকর্মীদের নজরে আসে।
তদন্ত কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন ড. মো. কামরুজ্জামানকে এবং সদস্যসচিব করা হয়েছে রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামানকে। এ ছাড়া কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন ইইই বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. এ টি এম সাইফুল ইসলামসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফেলোশিপ ট্রাস্ট ফাতেমা খাতুনের পিএইচডি স্কলারশিপসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষা ছুটি শেষে দেশে ফিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করলেও তিনি তার পিএইচডি সনদপ্রাপ্তির তারিখ, ডিফেন্সসংক্রান্ত সুপারভাইজারের প্রত্যয়নপত্র এবং ফেলোশিপ ট্রাস্টের ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দেননি। এ বিষয়ে তথ্য চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে একাধিকবার (২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ও ২৭ জানুয়ারি ২০২৬) লিখিতভাবে চিঠি দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি বলেও অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বিস্তারিত তথ্য উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে পাঁচ সদস্যের একটি সত্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। চিঠিতে তদন্ত কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে লিখিত প্রতিবেদন উপাচার্যের কাছে জমা দিতে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।