নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ধু-ধু প্রান্তর আজ যে স্নিগ্ধ অরণ্যে রূপ নিয়েছে, তার পেছনে রয়েছে একজন সাধারণ মানুষের অসাধারণ ত্যাগ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবদুস সালাম হলের বাবুর্চি মো. হারুন অর রশিদ। কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা পরিবেশবিদ না হয়েও, কেবল অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে তিনি গত ১৮ বছরে ক্যাম্পাসজুড়ে রোপণ করেছেন প্রায় দেড় হাজার ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ।
২০০৬ সালে মাস্টাররোলে চাকরি শুরুর পর থেকেই হারুন নিজের সীমিত আয়ের একটি বড় অংশ ব্যয় করতে থাকেন বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যায়। একটি জামরুল গাছ দিয়ে শুরু করা এই যাত্রা আজ মহীরুহে পরিণত হয়েছে। বট, অর্জুন, কৃষ্ণচূড়া থেকে শুরু করে আম, কাঁঠাল ও তালের মতো ১৫ প্রজাতির গাছ এখন ক্যাম্পাসের শোভাবর্ধন করছে। বিশেষ করে বজ্রপাত রোধে তিনি রোপণ করেছেন পাঁচ শতাধিক তালের আঁটি। প্রশাসনিক ভবন থেকে শুরু করে হলের আঙিনা ও রাস্তার ধার–সবখানেই রয়েছে তার হাতের ছোঁয়া।
হারুন অর রশিদের এই নিঃস্বার্থ শ্রমে ক্যাম্পাসে তৈরি হয়েছে পাখির অভয়ারণ্য এবং শিক্ষার্থীদের জন্য শীতল ছায়া। শিক্ষার্থীরা তাকে শ্রদ্ধাভরে ‘হারুন মামা’ বলে ডাকেন। তার এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেছে। পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের মতে, হারুন দেখিয়েছেন যে, আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তিগত উদ্যোগ কতটা কার্যকর হতে পারে। ৫৪ বছর বয়সী এই কর্মবীর যতদিন বেঁচে আছেন, ক্যাম্পাসকে আরও সবুজে ভরিয়ে দেওয়ার সংকল্প করেছেন। হারুন হয়তো একদিন থাকবেন না, কিন্তু তার লাগানো এই হাজারও গাছ তাকে অমর করে রাখবে।
লেখক: নোবিপ্রবি প্রতিনিধি