ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ‘১ম বুদ্ধিস্ট কালচারাল ফেস্ট’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনব্যাপী উৎসবে বৌদ্ধ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধ তুলে ধরা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) প্রাঙ্গণ ও অডিটোরিয়ামে পালি এন্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগ ও সেন্টার ফর বুদ্ধিস্ট হেরিটেজ এন্ড কালচারের যৌথ উদ্যোগ এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ওই ফেস্টের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী উল্লেখ করেন, ‘শিক্ষা ও সংস্কৃতির সমন্বিত বিকাশ ছাড়া জাতি কখনোই এগিয়ে যেতে পারে না।’
সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, ‘সংস্কৃতি একটি জাতির আত্মা। শিক্ষা ও সংস্কৃতির সমন্বিত বিকাশ ছাড়া একটি জাতি কখনোই এগিয়ে যেতে পারে না। বাংলাদেশ বিভিন্ন ধর্ম, জাতিগোষ্ঠী ও সংস্কৃতির মানুষের মিলিত আবাসস্থল। এই বৈচিত্র্যের মধ্যেই জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একসময় এ অঞ্চল জ্ঞান, শিক্ষা ও সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল এবং সেই গৌরব পুনরুদ্ধারে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বৌদ্ধধর্মের প্রতিষ্ঠাতা গৌতম বুদ্ধ যে পথ অনুসরণ করেছিলেন তা মানবসমাজের জন্য অনুকরণীয় বলে উল্লেখ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপন দেওয়ান বলেন, ‘বৌদ্ধ ধর্ম মূলত একটি দর্শন, যার মূল শিক্ষা মানবতা, সহমর্মিতা ও বিনয়ের চর্চা। গৌতম বুদ্ধ রাজকীয় জীবন ত্যাগ করে মানবকল্যাণ ও আত্মজাগরণের পথ অনুসরণ করেছিলেন, যা আজও মানবসমাজের জন্য অনুকরণীয়।’
এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি এন্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শান্টু বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. দিলীপ কুমার বড়ুয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি এন্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার, প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিলসহ আরো অনেক উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে টিএসসি মাঠে বেলুন উড়িয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। পরে বর্ণাঢ্য নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে টিএসসি অডিটোরিয়ামে অতিথিদের বরণ করে নেওয়া হয়।
আরিফ জাওয়াদ/এসএন