ঢাকা ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, রোববার, ২৬ মে ২০২৪

গোপালগঞ্জে মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৪, ০৭:১০ পিএম
গোপালগঞ্জে মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ
নিহতের মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন বিক্ষুব্ধ জনতা। ছবি : খবরের কাগজ

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় নিহত মো. ওয়াসিকুর রহমান ভূঁইয়ার মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছেন বিক্ষুব্ধ জনতা। তাদের অবরোধে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চন্দ্রদিঘলিয়ায়ও মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত হত্যার ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। বুধবারের (১৫ মে) মধ্যেই দোষীদের গ্রেপ্তার করা না হলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৬ মে) অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে গোপালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন-পরবর্তী বিজয়ী চেয়ারম্যান প্রার্থী কামরুজ্জামান ভূঁইয়া ও পরাজিত প্রার্থী বি এম লিয়াকত আলীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কামরুজ্জামানের সমর্থকের গুলিতে লিয়াকত আলীর সমর্থক মো. ওয়াসিকুর ভূঁইয়া (২৭) নিহত ও পাঁচজন আহত হন। এ ঘটনায় বুধবার বেলা ১১টায় ওয়াসিকুর ভূঁইয়ার লাশ নিয়ে বিক্ষোভ করেন বিক্ষুব্ধ জনতা। বিক্ষোভ মিছিলটি বঙ্গবন্ধু কলেজ মাঠ থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের চেনানিয়াকান্দিতে গিয়ে শেষ হয়। এতে চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। পরে দুপুর ১২টায় ওই স্থানে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী গাজী হাফিজুর রহমান লিকু ও বিজয়ী চেয়ারম্যান প্রার্থী কামরুজ্জামান ভূঁইয়ার অপসারণসহ দোষীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে অবেরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তারা সেখানে সমাবেশ করে বুধবার রাতের মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র জব্দ করা না হলে বৃহস্পতিবার অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় বিজিবি, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলম ও পুলিশ সুপার আল-বেলি আফিফা আশ্বাস দিলে বিক্ষুব্ধ জনতা এক ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেন। তবে এ ঘটনায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করায় আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন চন্দ্রদিঘলিয়াবাসী। 

জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হক বলেন, ‘হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই। যেহেতু জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, তাই আমরা সাময়িকভাবে অবরোধ তুলে নিয়েছি। আমরা প্রত্যাশা করছি, প্রশাসন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করবে।’

গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার আল-বেলি আফিফা বলেন, ‘অবরোধকারীদের সঙ্গে আমরা কথা বলে তাদের আশ্বস্ত করলে তারা অবরোধ তুলে নিয়েছেন। আমরা ইতোমধ্যে হত্যার তদন্ত শুরু করেছি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মামলা না হলেও আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’ 

জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলম বলেন, ‘উপজেলা পরিষদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে এবং স্বচ্ছভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান কম ছিল। জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাব, বিজিবি, আনসার ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। অবৈধ কোনো অস্ত্র ব্যবহার হলে তা উদ্ধারের জন্য অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

প্রাইভেটকারচাপায় অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিহত

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৬:৪০ পিএম
প্রাইভেটকারচাপায় অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিহত
মোস্তাকিম। ছবি : সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় প্রাইভেটকারচাপায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। রবিবার (২৬ মে) দুপুরে উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনায় নিহত মোস্তাকিম (১৩) কোদালিয়া সহরুল্লাহ ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র এবং চন্ডিপাশা ইউনিয়নের ভূঁইয়া বাড়ি ৩নং ওয়ার্ডের রফিক ভূঁইয়ার একমাত্র ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চন্ডিপাশার রফিক ভূঁইয়ার ছেলে মোস্তাকিম সড়কের পাশে বসে সাইকেলের চেইন ঠিক করছিলো। বিপরীত দিক থেকে আসা প্রাইভেটকার দ্রুত গতিতে চালিয়ে মোস্তাকিমের উপর দিয়ে চলে যায়। তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জের শহিদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করায়। হাসপাতালে নেওয়ার দুই ঘন্টা পর মোস্তাকিম মারা যায়।

নিহতের চাচা মো. জাকারিয়া খবরের কাগজকে বলেন,পাশের বাড়ির এক ছেলে নাফিকে সঙ্গে নিয়ে সাইকেল চালিয়ে কোদালিয়া বাজারে গিয়েছিল। বাড়িতে ফেরার সময় চন্ডিপাশা ইউনিয়নের সামনে পৌঁছা মাত্র সাইকেলের চেইন পড়ে যায়। সাইকেল থেকে নেমে দু'জন দুইদিকে বসে সাইকেলের চেইন ঠিক করছিলো। হঠাৎ একটা প্রাইভেটকার রাস্তার পাশে বসা মোস্তাকিমের উপর দিয়ে চলে যায়। এরপর স্থানীয়রা হাসপাতালে নিয়ে গেছে। সেখানে তার মৃত্যু হয়েছে।

দূর্ঘটনার বিষয়ে পাকুন্দিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান টিটু খবরের কাগজকে বলেন, ঘটনার পরপরই একটি প্রাইভেটকার পাকুন্দিয়া থানার হেফাজতে রয়েছে। দুর্ঘটনার শিকার ছেলেটির মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মিতু/এমএ/

ঘূর্ণিঝড় রেমাল উপকূলে আতঙ্ক, সৈকতে পর্যটকদের ভিড়

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৫:০৫ পিএম
উপকূলে আতঙ্ক, সৈকতে পর্যটকদের ভিড়
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের ভিড়। ছবি : খবরের কাগজ

ঘুর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে কক্সবাজারে সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। ফলে সাগরে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে দুই-তিন ফুট বেড়ে যাওয়ায় বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করেছে জেলার বেশকিছু গ্রামে। এতে আতঙ্ক বিরাজ করছে উপকূলীয় বাসিন্দাদের মাঝে। তবে তেমন আতঙ্ক দেখা যায়নি সৈকতে ভিড় জমানো পর্যটক ও স্থানীয়দের মাঝে। দেখে মনে হচ্ছে, অনেকে ঘূর্ণিঝড় দেখতেই হয়তো সমুদ্রসৈকতে এসেছেন। 

রবিবার (২৬ মে) সকাল থেকে কক্সবাজার উপকূলে ঝড়ো বাতাস বইতে থাকে। দুপুরে জোয়ারের পানি বেড়ে যাওয়ায় নিম্নাঞ্চলগুলো ডুবে যায়। বিশেষ করে কক্সবাজার সদরের কুতুবদিয়া পাড়া, সমিতি পাড়া, গোমাতলী, পোকখালী, মহেশখালী, কুতুবদিয়াসহ জেলার অর্ধ-শতাধিক গ্রামে জোয়ারের পানি ঢুকে গেছে। সন্ধ্যায় উপকূল এলাকায় ৫ থেকে ৬ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। 

অন্যদিকে, সেন্টমার্টিন্স দ্বীপে বাতাসের গতিবেগ বেড়েছে। দ্বীপের বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। রেমালের প্রভাবে শনিবার রাতে সেন্টমার্টিনের কয়েকটি গ্রামে পানি ঢুকেছে। দ্বীপের বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়েছে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, ‘জোয়ারের সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছিল। এখনো দমকা হাওয়া ও সাগরের পানির উচ্চতা বেশি মনে হচ্ছে। দ্বীপের লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে যেতে মাইকিং করা হয়।’

সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। সৈকতে জেলা প্রশাসনের নিয়োজিত বিচকর্মী, ফায়ার সার্ভিস ও লাইফগার্ড কর্মীরা পর্যটকদের সতর্কতার বিষয়ে মাইকিং করছে। তারমধ্যেও অনেকেই সাগরে নামার চেষ্টা করছেন। 

সাগরজলে মেয়ে লুবনাকে নিয়ে নেমে পড়েছেন শরীয়তপুরের বাসিন্দা ইয়াছমিন আকতার। তিনি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় রেমাল দেখতে সদ্য এসএসসি পাস করা মেয়েকে নিয়ে কক্সবাজার এসেছি। সাগর উত্তাল, দেখতে অনেক ভালো লাগছে। ছবি তুলছি, শামুক-ঝিনুক কুড়িয়েছি। আগে কক্সবাজার অনেক আসা হয়েছে। তবে এবার ঘূর্ণিঝড়ের সময় আসা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের সময় কক্সবাজার সাগর কেমন হয় তা দেখতে পেলাম।’

শুধু ইয়াছমিন নন, একই সময় সৈকতের লাবনী পয়েন্টে এসেছেন নোয়াখালীর আব্দুর রহিম। তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ১৪ জন। সবাই নেমে পড়েন সাগরের নোনাজলে।

আব্দুর রহিম বলেন, ‘ঢেউ দেখে ভয় লাগছে। কিন্তু খুবই মজা পাচ্ছি। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে এত বড় বড় ঢেউ হতে পারে আগে জানতাম না।’

শুধু তারাই নয়, সৈকতের প্রতিটি পয়েন্টে ভিড় করেছে কয়েক হাজার পর্যটক। তবে সকাল সাড়ে ৮ টার পর কাউকে সাগরে নামতে দিচ্ছে না লাইফ গার্ড কর্মীরা।

সি সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার কর্মী জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে কক্সবাজারে ৯ নম্বর মহাবিপৎসংকেত (সবশেষ তথ্য) দেখানো হয়েছে। তাই সাগর উত্তাল রয়েছে। সৈকতের প্রতিটি পয়েন্টে টাঙানো হয়েছে লাল পতাকা। লাল পতাকা মানেই সতর্ক করা, যাতে কেউ সমুদ্রস্নানে না নামে। আমরা কাউকে সৈকতে সমুদ্রস্নানে নামতে দিচ্ছি না।’

অন্যদিকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে সকাল থেকে সব ধরনের বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। 

এ ছাড়া কক্সবাজার টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ রোডের বেশ কয়েকটি পয়েন্টে গাছ ভেঙে পড়ায় এই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। 

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শাহীন ইমরান জানান, জেলার কুতুবদিয়া, মহেশখালী, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ উপকূল ও নিম্নাঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য স্বেচ্ছাসেবকরা মাইকিং করছে। ঘূর্ণিঝড় রেমালের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় কক্সবাজারে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়টি কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করবে বিকেলে। এরই মধ্যে এর প্রভাব শুরু হয়েছে। জোয়ারের পানি ৮ থেকে ১২ ফুট উচ্চতায় প্রবাহিত হয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টি সন্ধ্যা ৬টার দিকে কক্সবাজার জেলা অতিক্রম করবে।’

মুহিববুল্লাহ মুহিব/সালমান/

মেম্বারকে কুপিয়ে জখম করা যুবককে পিটিয়ে হত্যা

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৫:৫২ পিএম
মেম্বারকে কুপিয়ে জখম করা যুবককে পিটিয়ে হত্যা

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে ইউপি সদস্য ওমর ফারুক পাটোয়ারীকে কুপিয়ে জখম করেছে দূর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় আহাদ আহমেদ নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে গ্রামবাসী।

রবিবার (২৬ মে) ভোর রাতের দিকে উপজেলার নোয়াখলা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম নোয়াখলা গ্রামের আকবর পাটোয়ারি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আহাদ আহমেদ ওরফে হাম্বা (২০) উপজেলার নোয়াখলা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম নোয়াখলা গ্রামের আকবর পাটোয়ারি বাড়ির বাবর হোসেনের ছেলে। আহত ওমর  ফারুক পাটোয়ারী মেম্বর ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, পূর্ব শক্রতার জের ধরে ভোর রাতের দিকে ইউপি সদস্য (মেম্বার) ওমর  ফারুক পাটোয়ারীকে তার ভাড়া বাসায় ঢুকে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। খবর পেয়ে মেম্বারের অনুসারী ও স্থানীয় এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত আহাদের বাড়িতে পাল্টা হামলা চালায়। একপর্যায়ে তাকে গণপিটুনি দিলে সে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

নোয়াখলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. মানিক বলেন, আহাদ আগে থেকেই মাদকাসক্ত বেপরোয়া ছিল। রবিবার ভোর রাতের দিকে সে মেম্বারের ঘরের দরজায় হাত দিয়ে টোকা দেয়। এরপর মেম্বার ফারুক দরজা খুলতেই তাকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।  খবর পেয়ে এলাকাবাসী আহাদের বাড়িতে গেলে সেখানে সে ছালেহ আহমদ নামে আরও এক ব্যক্তিকে জখম করে। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন আহাদের বাড়িতে তাকে ধরে বেধড়ক পিটুনি দেয়। এতে সে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, পুলিশ নিহত আহাদের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

ওসি আরও বলেন, শুনেছি নিহত আহাদ শরীফ বাহিনীর সদস্য ছিল। তবে তার বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা ছিল না। এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মজনু/এমএ/

ঘূর্ণিঝড় রেমাল: পানিতে তলিয়ে গেছে শ্যামনগরের জেলেপাড়া

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৪:৫০ পিএম
ঘূর্ণিঝড় রেমাল: পানিতে তলিয়ে গেছে শ্যামনগরের জেলেপাড়া
ছবি : খবরের কাগজ

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে জেলেপাড়ার ১৩টি বাড়ি। 

রবিবার (২৬ মে) দুপুরে স্বাভাবিকের তুলনায় পানির উচ্চতা বেড়ে গেলে কলবাড়ির জেলেপাড়া ডুবে যায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী নজরুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে সহায়-সম্বল হারিয়ে কলবাড়ি চুনা নদীর চরে ওই পরিবারগুলো বহু বছর ধরে বসবাস করে আসছে। রবিবার দুপুরে স্বাভাবিক চেয়ে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলে তাদের বসতবাড়ি তলিয়ে যায়। তবে এ ঘটনায় প্রাণহানি হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও ঝুকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নিতে কাজ চলছে।

নাজমুল শাহাদাৎ/অমিয়/

সিলেট নার্সিং কলেজ শর্ত না মানায় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে বাধা!

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৪:৪৪ পিএম
শর্ত না মানায় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে বাধা!
সিলেট নার্সিং কলেজ হোস্টেল। ছবি : খবরের কাগজ

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সিলেট নার্সিং কলেজের আবাসন সমস্যার কোনো সমাধান না করে উল্টো শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা আটকে দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। রবিবার (২৬ মে) বিএসসি পুরাতন প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের রিটেক পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষার্থীরা কলেজে গেলে তাদের পরীক্ষা না নিয়ে সেখানে তাদের ক্লাস টিচার সুমা রানী দত্ত বলেন, ‘সিনিয়রদের চাপে অন্য শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যাচ্ছে। তারা কলেজের সব সিদ্ধান্ত মেনে নিতে রাজি আছে লিখে আবেদনপত্র দিতে হবে। যদি তারা এ ধরনের আবেদন না দেয় তাহলে তাদের রিটেইক পরীক্ষা দিতে দেওয়া হবে না এবং ফেল করিয়ে দেওয়া হবে।’

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ শাহিনা বেগম।

এদিকে কলেজ কর্তৃপক্ষের অযৌক্তিক ও অমানবিক শর্ত না মানায় গতকাল শনিবার (২৫ মে) বিএসসি ইন নার্সিং চতুর্থ বর্ষের ফাইনাল, দ্বিতীয় এবং প্রথম বর্ষের রিটেক ভাইবা পরীক্ষা নেওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়েছে।

শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের বারবার পরীক্ষায় ফেল দেবেন বলে ভয় দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া কলেজ কর্তৃপক্ষ হোস্টেল ত্যাগের যে নোটিশ দিয়েছেন তা বাতিলের কথা বললেও ওই নোটিশ এখনো বাতিল করা হয়নি এবং শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায় হয়নি বলে এখনো হোস্টেলে অবস্থান করছেন বলে জানান।

পোস্ট বেসিক বিএসসি ইন পাবলিক হেলথ, পোস্ট বেসিক বিএসসি ইন নার্সিং, বিএসসি নার্সিং কোর্সের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, “আজ কলেজ কর্তৃপক্ষ মিটিং করেছে। সেখানে আমাদের পক্ষ থেকে কয়েকজন ছাত্রী অংশ নেয়। সেই মিটিংয়ে আমাদের বলতে গেলে হেনস্থা করা হয়েছে। জোরপূর্বক তাদের দেওয়া বিভিন্ন শর্ত মানতে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। মিটিংয়ে হোস্টেলে থাকার সমস্যা সমাধানের কথা বললেই আমাদের ম্যাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে গিয়ে বলো, ডিজি মাকসুরা নূরকে গিয়ে বলো নতুন হোস্টেল চালু করে দিতে’।”

তারা বলেন, ‘গত ২৪ মে কলেজে লোকাল অথোরিটি এবং স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে শিক্ষকরা মিটিংয়ে বসেন। তখন আমরা হোস্টেলের সব শিক্ষার্থী এক সঙ্গে কলেজে যাই। কিন্তু কনফারেন্স রুমে মাত্র ৪ জনকে ঢুকতে দেওয়া হয়। ওখানে আবাসন সমস্যা নিয়ে কথা উঠে। বলা হয় যে কিছুদিনের মধ্যে জাইকা প্রজেক্টের দেওয়া হোস্টেল হ্যান্ডওভার নেওয়া হবে। তার আগ পর্যন্ত কলেজ যেভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে ওইভাবে শিক্ষার্থীদের থাকতে হবে। ভেতরে শিক্ষার্থী যারা ছিলেন তাদের দিয়ে ২৩ তারিখের আন্দোলনের জন্য ক্ষমা চাওয়ানো হয় এবং এমন পরিবেশ সৃষ্টি হয় যে তারা সেখানে বাধ্য হয়েই শিক্ষকদের কথা মেনে নেয়। ওই মিটিংয়ে বলা হয়, হোস্টেলের শিক্ষার্থীরা কলেজ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে রাজি এই মর্মে এবং ২৩ তারিখ আমরা উনাদের কাজে বাধা দিয়েছি তার জন্য ক্ষমা চেয়ে আবেদন করতে হবে। আমাদের প্রতিনিধিরা এই সিদ্ধান্ত আমাদের জানানোর পর আমরা কেউ এই আবেদন দিতে রাজি হইনি। কিন্তু কলেজ থেকে বারবার ফোন কলের মাধ্যমে আবেদন জমা দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে।’

শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘গতকাল আমরা তাদের কাছে সম্মানসূচক ক্ষমা চেয়ে আবেদন করেছি এবং এই মর্মে দরখাস্ত দিয়েছি যে, ন্যায়সঙ্গত ও শিক্ষার্থীসুলভ সিদ্ধান্তে আমরা কলেজ কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করব। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের দরখাস্ত গ্রহণ করেনি এবং বারবার ফোন কলের মাধ্যমে চাপ দেওয়া হয় যেন আমরা তাদের অযৌক্তিক দাবি মেনে নেই। আমরা তাদের এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নই, তাই আর কোনো আবেদন দেইনি। তারা তাদের সিদ্ধান্ত আমাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে কিন্তু আমরা এতগুলো শিক্ষার্থী যে গাদাগাদি করে থাকছি এতে তাদের টনক নড়ছে না।’ 

তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রতিদিন হিট স্ট্রোকে মানুষ মারা যাচ্ছে। এই গরমে রুমে ৪ জনের জায়গায় ৮ জন থাকলে আমরাও মারা যাব। এতে কলেজ কর্তৃপক্ষের হয়তো কিছু যাবে আসবে না। আমাদের অভিভাবক এই জায়গায় পড়াশোনার জন্য পাঠিয়েছেন। যেখানে আমাদের থাকার জায়গারই সংকট এই পরিবেশে আমরা পড়াশোনা করব কীভাবে? কলেজে কর্তৃপক্ষ নানাভাবে আমাদের চাপ দিচ্ছে। রিটেক ভাইবা পরীক্ষা স্থগিত করে দিয়েছেন। আমাদের পরীক্ষায় ফেল করানোর ও ছাত্রত্ব বাতিলের হুমকি দিচ্ছেন তারা।’

অন্যদিকে, ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি প্রথম বর্ষের আগামী ২৯ মে ফরম ফিলাপ করার কথা। কিন্তু হোস্টেলের সমস্যা সমাধান না হওয়ায় অনেকেই বাড়িতে চলে গেছেন। ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারির বেশ কয়েকজন ছাত্রী জানান, মিডওয়াইফারি প্রথম বর্ষের ৪৪ জন শিক্ষার্থী দ্বিতীয় তলার হলরুমে ২৫ জনের জায়গায় থাকছেন। এই গরমে তাদের অবস্থা খুব শোচনীয়। হোস্টেলে ওরা রুম পায়নি, আর কোনো রুমে উঠার মতো জায়গা নেই।

তারা বলেন, ‘আমরা আমাদের দাবি নিয়ে গেলে কলেজ কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা করে দেননি। তাই সবাই বাসায় চলে গেছি এবং জানিয়ে দিয়েছি হলরুমে থাকবে না। কলেজ কর্তৃপক্ষ যতদিন না এই সমস্যার সমাধান করবেন আমরা হোস্টেলে আসবে না।’

এ ব্যাপারে কলেজের অধ্যক্ষ শাহিনা বেগম খবরের কাগজকে বলেন, ‘কারও কোনো পরীক্ষা বন্ধ করা হয়নি। যাদের যে তারিখে পরীক্ষা সে তারিখেই পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।’ 

আজ বিএসসি পুরাতন প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের রিটেক পরীক্ষা কেন নেওয়া হয়নি এই প্রশ্নে কোনো উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই পরীক্ষা আগামীকাল নেওয়া হবে।’ 

শাহিনা বেগম বলেন, ‘সার্বিক বিষয়ে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলছি। নতুন একটি বিল্ডিংয়ে ছাত্রীদের শিফট করতে হলে হেড অফিস থেকে সিদ্ধান্ত আসতে হবে। প্রজেক্টের বিল্ডিং, তাই এটি হস্তান্তরে জন্য বেশ কিছু রিপ্রেজেন্টিভ লাগে। আগামীকাল একাডেমিক শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করব। তিনি সবার সঙ্গে যোগাযোগ করে যা করার করবেন।’

প্রসঙ্গত, সিলেট নার্সিং কলেজ হোস্টেলে আছেন কলেজের পোস্ট বেসিক বিএসসি ইন পাবলিক হেলথ, পোস্ট বেসিক বিএসসি ইন নার্সিং, বিএসসি নার্সিং কোর্স ও ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি প্রোগ্রামে অধ্যয়নরত প্রায় পাঁচ শতাধিক ছাত্রী। হোস্টেলের এই আবাসন সমস্যা চলছে প্রায় ৫-৬ বছর ধরে। দায়িত্বশীলরা দীর্ঘদিন ধরে নতুন বিল্ডিংয়ে ছাত্রীদের দেই দিচ্ছি বলে আশার বাণী শুনিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই করছেন না।

হোস্টেলের চার তলা ভবনের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় তিনটি হলরুম আছে। সেগুলোতে নার্সিংয়ের ভর্তি হওয়া প্রথম বর্ষের ছাত্রীরা থাকেন। মিডওয়াইফারি প্রথম বর্ষের ছাত্রীরা দ্বিতীয় তলার হলরুমে থাকেন, তৃতীয় ও চতুর্থ তলার হলরুমে থাকেন বিএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্রীরা। ভবনের প্রথম তলায় রান্নাঘর ও খাবার ঘরের পাশাপাশি কয়েকটি থাকার কক্ষও রয়েছে।

দ্বিতীয় তৃতীয় ও চতুর্থ তলায়ও থাকার কক্ষ আছে। এই কক্ষগুলোতে এই চার প্রোগ্রামের প্রথম বর্ষ (পুরাতন), দ্বিতীয় বর্ষ, তৃতীয় বর্ষ ও চতুর্থ বর্ষের ছাত্রীরা থাকেন। প্রতিটি কক্ষে চারজন করে থাকার ধারণক্ষমতা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে এসব কক্ষে ছয়জন ছাত্রী গাদাগাদি করে থাকছেন। এই ছয়জনের মধ্যে চারজন সিনিয়র, একজন পুরাতন প্রথম বর্ষের ছাত্রী বেডে থাকছেন এবং হলরুমে জায়গা না হওয়ায় সব রুমে ফ্লোরে একজন জুনিয়রকে (নতুন প্রথম বর্ষ) থাকার জন্য দেওয়া হয়েছে। এখন কলেজ কর্তৃপক্ষ চাচ্ছে, চারজনের ধারণক্ষমতার রুমে আটজন করে থাকতে। যা মানছেন না হোস্টেলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা।

সালমান/