ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪

সিলেট নার্সিং কলেজ শর্ত না মানায় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে বাধা!

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৪:৪৪ পিএম
আপডেট: ২৬ মে ২০২৪, ০৪:৪৪ পিএম
শর্ত না মানায় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে বাধা!
সিলেট নার্সিং কলেজ হোস্টেল। ছবি : খবরের কাগজ

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সিলেট নার্সিং কলেজের আবাসন সমস্যার কোনো সমাধান না করে উল্টো শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা আটকে দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। রবিবার (২৬ মে) বিএসসি পুরাতন প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের রিটেক পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষার্থীরা কলেজে গেলে তাদের পরীক্ষা না নিয়ে সেখানে তাদের ক্লাস টিচার সুমা রানী দত্ত বলেন, ‘সিনিয়রদের চাপে অন্য শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যাচ্ছে। তারা কলেজের সব সিদ্ধান্ত মেনে নিতে রাজি আছে লিখে আবেদনপত্র দিতে হবে। যদি তারা এ ধরনের আবেদন না দেয় তাহলে তাদের রিটেইক পরীক্ষা দিতে দেওয়া হবে না এবং ফেল করিয়ে দেওয়া হবে।’

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ শাহিনা বেগম।

এদিকে কলেজ কর্তৃপক্ষের অযৌক্তিক ও অমানবিক শর্ত না মানায় গতকাল শনিবার (২৫ মে) বিএসসি ইন নার্সিং চতুর্থ বর্ষের ফাইনাল, দ্বিতীয় এবং প্রথম বর্ষের রিটেক ভাইবা পরীক্ষা নেওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়েছে।

শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের বারবার পরীক্ষায় ফেল দেবেন বলে ভয় দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া কলেজ কর্তৃপক্ষ হোস্টেল ত্যাগের যে নোটিশ দিয়েছেন তা বাতিলের কথা বললেও ওই নোটিশ এখনো বাতিল করা হয়নি এবং শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায় হয়নি বলে এখনো হোস্টেলে অবস্থান করছেন বলে জানান।

পোস্ট বেসিক বিএসসি ইন পাবলিক হেলথ, পোস্ট বেসিক বিএসসি ইন নার্সিং, বিএসসি নার্সিং কোর্সের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, “আজ কলেজ কর্তৃপক্ষ মিটিং করেছে। সেখানে আমাদের পক্ষ থেকে কয়েকজন ছাত্রী অংশ নেয়। সেই মিটিংয়ে আমাদের বলতে গেলে হেনস্থা করা হয়েছে। জোরপূর্বক তাদের দেওয়া বিভিন্ন শর্ত মানতে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। মিটিংয়ে হোস্টেলে থাকার সমস্যা সমাধানের কথা বললেই আমাদের ম্যাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে গিয়ে বলো, ডিজি মাকসুরা নূরকে গিয়ে বলো নতুন হোস্টেল চালু করে দিতে’।”

তারা বলেন, ‘গত ২৪ মে কলেজে লোকাল অথোরিটি এবং স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে শিক্ষকরা মিটিংয়ে বসেন। তখন আমরা হোস্টেলের সব শিক্ষার্থী এক সঙ্গে কলেজে যাই। কিন্তু কনফারেন্স রুমে মাত্র ৪ জনকে ঢুকতে দেওয়া হয়। ওখানে আবাসন সমস্যা নিয়ে কথা উঠে। বলা হয় যে কিছুদিনের মধ্যে জাইকা প্রজেক্টের দেওয়া হোস্টেল হ্যান্ডওভার নেওয়া হবে। তার আগ পর্যন্ত কলেজ যেভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে ওইভাবে শিক্ষার্থীদের থাকতে হবে। ভেতরে শিক্ষার্থী যারা ছিলেন তাদের দিয়ে ২৩ তারিখের আন্দোলনের জন্য ক্ষমা চাওয়ানো হয় এবং এমন পরিবেশ সৃষ্টি হয় যে তারা সেখানে বাধ্য হয়েই শিক্ষকদের কথা মেনে নেয়। ওই মিটিংয়ে বলা হয়, হোস্টেলের শিক্ষার্থীরা কলেজ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে রাজি এই মর্মে এবং ২৩ তারিখ আমরা উনাদের কাজে বাধা দিয়েছি তার জন্য ক্ষমা চেয়ে আবেদন করতে হবে। আমাদের প্রতিনিধিরা এই সিদ্ধান্ত আমাদের জানানোর পর আমরা কেউ এই আবেদন দিতে রাজি হইনি। কিন্তু কলেজ থেকে বারবার ফোন কলের মাধ্যমে আবেদন জমা দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে।’

শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘গতকাল আমরা তাদের কাছে সম্মানসূচক ক্ষমা চেয়ে আবেদন করেছি এবং এই মর্মে দরখাস্ত দিয়েছি যে, ন্যায়সঙ্গত ও শিক্ষার্থীসুলভ সিদ্ধান্তে আমরা কলেজ কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করব। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের দরখাস্ত গ্রহণ করেনি এবং বারবার ফোন কলের মাধ্যমে চাপ দেওয়া হয় যেন আমরা তাদের অযৌক্তিক দাবি মেনে নেই। আমরা তাদের এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নই, তাই আর কোনো আবেদন দেইনি। তারা তাদের সিদ্ধান্ত আমাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে কিন্তু আমরা এতগুলো শিক্ষার্থী যে গাদাগাদি করে থাকছি এতে তাদের টনক নড়ছে না।’ 

তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রতিদিন হিট স্ট্রোকে মানুষ মারা যাচ্ছে। এই গরমে রুমে ৪ জনের জায়গায় ৮ জন থাকলে আমরাও মারা যাব। এতে কলেজ কর্তৃপক্ষের হয়তো কিছু যাবে আসবে না। আমাদের অভিভাবক এই জায়গায় পড়াশোনার জন্য পাঠিয়েছেন। যেখানে আমাদের থাকার জায়গারই সংকট এই পরিবেশে আমরা পড়াশোনা করব কীভাবে? কলেজে কর্তৃপক্ষ নানাভাবে আমাদের চাপ দিচ্ছে। রিটেক ভাইবা পরীক্ষা স্থগিত করে দিয়েছেন। আমাদের পরীক্ষায় ফেল করানোর ও ছাত্রত্ব বাতিলের হুমকি দিচ্ছেন তারা।’

অন্যদিকে, ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি প্রথম বর্ষের আগামী ২৯ মে ফরম ফিলাপ করার কথা। কিন্তু হোস্টেলের সমস্যা সমাধান না হওয়ায় অনেকেই বাড়িতে চলে গেছেন। ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারির বেশ কয়েকজন ছাত্রী জানান, মিডওয়াইফারি প্রথম বর্ষের ৪৪ জন শিক্ষার্থী দ্বিতীয় তলার হলরুমে ২৫ জনের জায়গায় থাকছেন। এই গরমে তাদের অবস্থা খুব শোচনীয়। হোস্টেলে ওরা রুম পায়নি, আর কোনো রুমে উঠার মতো জায়গা নেই।

তারা বলেন, ‘আমরা আমাদের দাবি নিয়ে গেলে কলেজ কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা করে দেননি। তাই সবাই বাসায় চলে গেছি এবং জানিয়ে দিয়েছি হলরুমে থাকবে না। কলেজ কর্তৃপক্ষ যতদিন না এই সমস্যার সমাধান করবেন আমরা হোস্টেলে আসবে না।’

এ ব্যাপারে কলেজের অধ্যক্ষ শাহিনা বেগম খবরের কাগজকে বলেন, ‘কারও কোনো পরীক্ষা বন্ধ করা হয়নি। যাদের যে তারিখে পরীক্ষা সে তারিখেই পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।’ 

আজ বিএসসি পুরাতন প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের রিটেক পরীক্ষা কেন নেওয়া হয়নি এই প্রশ্নে কোনো উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই পরীক্ষা আগামীকাল নেওয়া হবে।’ 

শাহিনা বেগম বলেন, ‘সার্বিক বিষয়ে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলছি। নতুন একটি বিল্ডিংয়ে ছাত্রীদের শিফট করতে হলে হেড অফিস থেকে সিদ্ধান্ত আসতে হবে। প্রজেক্টের বিল্ডিং, তাই এটি হস্তান্তরে জন্য বেশ কিছু রিপ্রেজেন্টিভ লাগে। আগামীকাল একাডেমিক শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করব। তিনি সবার সঙ্গে যোগাযোগ করে যা করার করবেন।’

প্রসঙ্গত, সিলেট নার্সিং কলেজ হোস্টেলে আছেন কলেজের পোস্ট বেসিক বিএসসি ইন পাবলিক হেলথ, পোস্ট বেসিক বিএসসি ইন নার্সিং, বিএসসি নার্সিং কোর্স ও ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি প্রোগ্রামে অধ্যয়নরত প্রায় পাঁচ শতাধিক ছাত্রী। হোস্টেলের এই আবাসন সমস্যা চলছে প্রায় ৫-৬ বছর ধরে। দায়িত্বশীলরা দীর্ঘদিন ধরে নতুন বিল্ডিংয়ে ছাত্রীদের দেই দিচ্ছি বলে আশার বাণী শুনিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই করছেন না।

হোস্টেলের চার তলা ভবনের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় তিনটি হলরুম আছে। সেগুলোতে নার্সিংয়ের ভর্তি হওয়া প্রথম বর্ষের ছাত্রীরা থাকেন। মিডওয়াইফারি প্রথম বর্ষের ছাত্রীরা দ্বিতীয় তলার হলরুমে থাকেন, তৃতীয় ও চতুর্থ তলার হলরুমে থাকেন বিএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্রীরা। ভবনের প্রথম তলায় রান্নাঘর ও খাবার ঘরের পাশাপাশি কয়েকটি থাকার কক্ষও রয়েছে।

দ্বিতীয় তৃতীয় ও চতুর্থ তলায়ও থাকার কক্ষ আছে। এই কক্ষগুলোতে এই চার প্রোগ্রামের প্রথম বর্ষ (পুরাতন), দ্বিতীয় বর্ষ, তৃতীয় বর্ষ ও চতুর্থ বর্ষের ছাত্রীরা থাকেন। প্রতিটি কক্ষে চারজন করে থাকার ধারণক্ষমতা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে এসব কক্ষে ছয়জন ছাত্রী গাদাগাদি করে থাকছেন। এই ছয়জনের মধ্যে চারজন সিনিয়র, একজন পুরাতন প্রথম বর্ষের ছাত্রী বেডে থাকছেন এবং হলরুমে জায়গা না হওয়ায় সব রুমে ফ্লোরে একজন জুনিয়রকে (নতুন প্রথম বর্ষ) থাকার জন্য দেওয়া হয়েছে। এখন কলেজ কর্তৃপক্ষ চাচ্ছে, চারজনের ধারণক্ষমতার রুমে আটজন করে থাকতে। যা মানছেন না হোস্টেলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা।

সালমান/

স্মার্ট নাগরিক গড়ে তুলবে 'ভূমির পাঠশালা': রাজশাহীর ডিসি

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৬:৩৪ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৬:৩৪ পিএম
স্মার্ট নাগরিক গড়ে তুলবে 'ভূমির পাঠশালা': রাজশাহীর ডিসি
ছবি : খবরের কাগজ

রাজশাহী জেলা প্রশাসক (ডিসি) শামীম আহমেদ বলেছেন, 'স্মার্ট বাংলাদেশ রোডম্যাপের চারটি পিলার- স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট সোসাইটি, স্মার্ট ইকোনমি ও স্মার্ট গর্ভন্যান্স। এই চারটি পিলারের মধ্যে স্মার্ট নাগরিক এমন একটি পিলার যা মজবুত না হলে অন্য তিনটি পিলার হবে ভঙ্গুর, প্রকারান্তরে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ হবে দুরূহ ও অসম্ভব এক ব্যাপার। এজন্য স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রথম এবং প্রধান শর্ত স্মার্ট নাগরিক তৈরি করা। কারণ স্মার্ট নাগরিকের মাধ্যমেই তৈরি হবে স্মার্ট সমাজ, স্মার্ট অর্থনীতি, যা একইসাথে নিশ্চিত করবে জবাবদিহিমূলক সরকার অর্থাৎ 'স্মার্ট গর্ভন্যান্স'। আর সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভূমি বিষয়ক জ্ঞান প্রদানের মাধ্যমে স্মার্ট নাগরিক গড়ে তুলবে 'ভূমির পাঠশালা'।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) ভূমিসেবা সপ্তাহ-২০২৪ উপলক্ষে জনসচেতনতামূলক সভা, বিতর্ক ও কুইজ প্রতিযোগিতা এবং স্মার্ট নাগরিক তৈরির প্রয়াসে নির্মিত 'ভূমির পাঠশালা' র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

পবা উপজেলা ভূমি অফিস চত্ত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ বলেন, সৃষ্টির শুরু থেকেই ভূমি নিয়ে মানুষের ভোগান্তি। বাংলাদেশে অধিকাংশ পরিবারেই ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে। অথচ এই ভূমি নিয়েই মানুষের জ্ঞানচর্চা সবচেয়ে কম। তাই 'ভূমির পাঠশালা' ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যেও 'ভূমির পাঠশালা' গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।'

ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় পবা উপজেলা ভূমি অফিস আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সালেহ মোহাম্মদ হাসনাত। এসময় বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সরকার অসীম কুমার, সোনার দেশ পত্রিকার সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত, প্রথম আলো পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্যে 'ভূমির পাঠশালা'র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিত সরকার। তিনি জানান, 'ভূমির পাঠশালা' ভূমি সেবা সপ্তাহের একটি উদ্ভাবনী উদ্যোগ। যার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য- জনগণকে ভূমি সংক্রান্ত সামগ্রিক জ্ঞান প্রদানের মাধ্যমে স্মার্ট নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সরকার অসীম কুমার জানান, পবার উদ্ভাবনী উদ্যোগ 'মাটির মায়ার'র হাত ধরে সমগ্র বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন সূচিত হয়ে ছিল। 'ভূমির পাঠশালা' সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে 'স্মার্ট বাংলাদেশ' বিনির্মাণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। এই উদ্ভাবনী উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে, আকাশচুম্বী প্রত্যাশার স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা সম্ভবপর হবে বলেও জানান তিনি।

পরে 'ভূমির পাঠশালা'য় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ভূমি বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

এনায়েত করিম/এমএ/

চাঁদপুরে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই মামলায় আসামি ৩৭৮, গ্রেপ্তার ৫

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৬:০২ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৬:০২ পিএম
চাঁদপুরে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই মামলায় আসামি ৩৭৮, গ্রেপ্তার ৫
ছবি : খবরের কাগজ

চাঁদপুর শহরের পুরাণ বাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় আল-আমিন নামে অটোরিকশা চালক নিহত হয়। আহত হয় পুলিশসহ কমপক্ষে ২০ জন। নিহত ও আহতের ঘটনায় চাঁদপুর সদর মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলায় আসামি করা হয়েছে ৩৭৮ জনকে। এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছে ৫ জন।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. মুহসীন আলম।

গ্রেপ্তার ৫ আসামিরা হলেন- শহরের পুরান বাজারের সঞ্জয় বর্মণ (১৯), জাকির হোসেন (২৮), বাবুল বেপারী (৪৪), ইয়াছিন মহব্বত (২৫) ও রিপন ইসলাম (২৮)।

থানা পুলিশ জানায়, অটোচালক আল-আমিন হত্যার ঘটনায় তার পিতা মজিদ খান ডেঙ্গু ১২ জুন থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় প্রধান আসামি নিতাইগঞ্জ রোডের বাসিন্দা সজিব মাঝি, দুই নম্বর আসামি তার পিতা পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোহাম্মদ আলী মাঝি ও তিন নম্বর আসামি তার বড় ভাই রাকিব মাঝি। এই মামলায় ২৮ জন নামসহ এবং অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ১৫০ জনকে।

এছাড়া একইদিন সরকারি কাজে বাধা ও সরকারি কর্মচারীর ওপর আক্রমণের ঘটনায় ২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় অপর মামলাটি করেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুল কুদ্দুস সরকার।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. মুহসীন আলম বলেন, ঘটনার পর থেকে পুলিশ জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এ পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরকে আজ বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করার জন্য চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দুটি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হলেন পুরাণ বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রাজিব শর্মা।
 
গত ১১ জুন মঙ্গলবার দিনগত রাতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শহরের পুরাণ বাজার পলাশের মোড় মেরকাটিজ রোড ও নিতাইগঞ্জ রোডের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আল-আমিন খান (৩০) নামে অটোরিকশা চারক নিহত হয়। আহত হয় কমপেক্ষ ২০ জন। এই ঘটনায় পুলিশ ৪০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

শরীফুল ইসলাম/এমএ/ 
 

সিলেটে বাস-লেগুনা সংঘর্ষে নিহত ২

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৫:৫৫ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৫:৫৫ পিএম
সিলেটে বাস-লেগুনা সংঘর্ষে নিহত ২

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজী এলাকায় সুনামগঞ্জগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে যাত্রীবাহী লেগুনার মুখোমুখি দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) সকাল ৭টার দিকে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের লামাকাজী এলাকার সিরাজপুর সাহেবনগর পয়েন্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পাইকাপন এলাকার কৌসর আলমের ছেলে শাহিন মিয়া (২৮) এবং বদরুল আলমের ছেলে শিব্বির আহমেদ (৪২)। তারা লেগুনার যাত্রী।

এ ঘটনায় আহত লেগুনাচালক নাইম (১৮) সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পুলিশ জানায়, বাসের সঙ্গে সুনামগঞ্জ থেকে আসা লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু হয়। আহত আরেকজনকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিশ্বনাথ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আব্দুর রউফ বলেন, দুর্ঘটনার পর রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হয়। পুলিশ গিয়ে তা স্বাভাবিক করে। লেগুনা ও বাসটি জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জয়কলস হাইওয়ে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে।

শাকিলা ববি/অমিয়/

সিলেটে বৃষ্টিতে আবারও বাড়ছে নদ-নদীর পানি

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৫:১৯ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৫:১৯ পিএম
সিলেটে বৃষ্টিতে আবারও বাড়ছে নদ-নদীর পানি
সিলেটে বাড়ছে নদ-নদীর পানি। ছবি: মামুন হোসেন

সিলেটে বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) ভোররাত থেকে শুরু হয় বজ্রসহ বৃষ্টিপাত। ভারী বৃষ্টির সঙ্গে প্রকট বজ্রের শব্দে ঘুম ভাঙে নগরীর বাসিন্দাদের। এতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয় জলাবদ্ধতার। পাশাপাশি ভারতের চেরাপুঞ্জি ও সিলেটে টানা বৃষ্টির কারণে বাড়তে শুরু করেছে নদ-নদীর পানি। 

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত জেলায় ১০৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্ট ছাড়া অন্য নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে অবস্থান করছে। ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে আজ থেকে আগামী টানা তিন দিন এ অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের আভাস দিয়েছে সিলেট আবহাওয়া অফিস। পাশাপাশি জেলাজুড়ে বজ্রসহ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত) বৃষ্টিপাত হয়েছে ৪ দশমিক ৬ মিলিমিটার। আজ সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ১০৫ মিলিমিটার এবং সকাল ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে ৮১ মিলিমিটার। এর মধ্যেই বজ্রপাত নিয়ে সর্তক করেছে আবহাওয়া অফিস। 

সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসাইন বলেন, ‘সিলেটে আজ সকাল থেকে যে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে তা অব্যাহত থাকবে তিন দিন। সিলেটের আকাশে বর্তমানে বজ্রমেঘের অবস্থান আছে। এটা কেটে যেতে সময় লাগবে। তাই সবাইকে বজ্রপাত থেকে সাবধান থাকতে হবে।’

এদিকে, সিলেটের এই দুর্যোগ পরিস্থিতি বিবেচনা করে যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য কর্মকর্তাদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান।

এক খুদে বার্তায় তিনি বলেন, ‘গতকাল বুধবার থেকে আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত চেরাপুঞ্জি ও সিলেট মিলিয়ে মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৫৩৫ মিমি। আরও বেশিও হতে পারে এবং আরও বৃষ্টি হওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে।’ 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিলেট কার্যালয়ের তথ্যমতে, বর্ষাকালে সুরমা নদীর কানাইঘাট এলাকার ডেঞ্জার লেভেল ১২.৭৫ সেন্টিমিটার। গতকাল এই পয়েন্টে নদীর পানি ছিল ১১.৬০ সেন্টিমিটার। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় এই পয়েন্টে পানি ছিল ১২.৩৭ সেন্টিমিটার। সিলেট পয়েন্টে সুরমা নদীর ডেঞ্জার লেভেল ১০.৮০ সেন্টিমিটার। গতকাল এই পয়েন্টে নদীর পানি ছিল ৯.৫৮ সেন্টিমিটার। আজ দুপুর ১২টায় এই পয়েন্টে পানি ছিল ১০.১১ সেন্টিমিটার।

কুশিয়ারা নদীর আমলশিদ পয়েন্টে পানির ডেঞ্জার লেভেল ১৫.৪০ সেন্টিমিটার। গতকাল এই পয়েন্টে নদীর পানি ছিল ১৩.৫৭ সেন্টিমিটার। আজ দুপুর ১২টায় এই পয়েন্টে পানি ছিল ১৩.৪৪ সেন্টিমিটার। কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানির ডেঞ্জার লেভেল ৯.৪৫ সেন্টিমিটার। গতকাল এই পয়েন্টে পানি ছিল ৯.৯১ সেন্টিমিটার। আজ দুপুর ১২টায় এই পয়েন্টে পানি ছিল ৯.৯৩ সেন্টিমিটার। সারি নদীর সারিঘাট পয়েন্টে ডেঞ্জার লেভেল ১২.৩৫ সেন্টিমিটার। গতকাল এই পয়েন্টে নদীর পানি ছিল ১০.২০ সেন্টিমিটার। আজ দুপুর ১২টায় এই পয়েন্টে পানি ছিল ১১.৫১ সেন্টিমিটার।

সারিগোয়াইন নদীর গোয়াইনঘাট পয়েন্টে ডেঞ্জার লেভেল হল ১০.৮২ সেন্টিমিটার। গতকাল এই পয়েন্টে নদীর পানি ছিল ৯.১৪ সেন্টিমিটার। আজ দুপুর ১২টায় এই পয়েন্টে পানি ছিল ৯.৫২ সেন্টিমিটার। ডাউকি নদীর জাফলং পয়েন্টে ডেঞ্জার লেভেল ১৩.০০ সেন্টিমিটার। গতকাল এই পয়েন্টে নদীর পানি ছিল ৯.২৯ সেন্টিমিটার। আজ দুপুর ১২টায় এই পয়েন্টে পানি ছিল ১০.১৭ সেন্টিমিটার।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস খবরের কাগজকে বলেন, ‘এই বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাত হলে বন্যার আশঙ্কা তো অবশ্যই থাকে। তা ছাড়া আমাদের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পায় মূলত উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে। ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তাই উজানের ঢলে আমাদের নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। পাশাপাশি সিলেটেও ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তার ওপর গত মাসের বন্যার কারণে ইতোমধ্যে সিলেটের নদ-নদীতে পানি বেশি আছে। এখন যেহেতু এখানেও বৃষ্টিপাত হচ্ছে, আবার ভারতে বৃষ্টিপাত হচ্ছে তাই নদ-নদীর পানি দ্রুতই বৃদ্ধি পাবে। এজন্য আমাদের বন্যা মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে।’

শাকিলা ববি/সালমান/

 

মাথায় ইট পড়ে রাজমিস্ত্রির মৃত্যু

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৪:৩৪ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৪:৩৪ পিএম
মাথায় ইট পড়ে রাজমিস্ত্রির মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

রাজশাহীর তানোরে একটি ভবনের কাজ করার সময় মাথায় ইট পড়ে এক রাজমিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন। 

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) সকালে উপজেলার পৌরশহরের হঠাৎপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শমসের আলী (৪৫) উপজেলার বনকেশর এলাকার মো. সানাউল্লাহর ছেলে। তবে আহতের নাম ও পরিচয় জানা যায়নি।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম।

তিনি বলেন, ‘তানোর পৌরশহরের হঠাৎপাড়া এলাকায় একটি ভবনে কাজ করার সময়ে অসাবধানতাবশত মাথায় ইট পড়ে গুরুতর আহত হন শমসসহ দুইজন। পরে শমসেরকে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তবে আহত অপরজনের নাম ও পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

এনায়েত করিম/সালমান/