কুমিল্লা শহরের প্রবেশপথসহ নগরীর প্রধান তিনটি সড়কই বর্তমানে বেহাল। এসব সড়কের কোথাও উঠে গেছে ইট-পাথর, পিচ। কোথাও আবার বড় বড় গর্তে পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ। এসব সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই চলছে হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন।
বিশেষ করে নগরীর টমছম ব্রিজ থেকে কোটবাড়ী বিশ্বরোড, টমছম ব্রিজ থেকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হয়ে বাখরাবাদ সড়ক এবং কান্দিরপাড় পূবালী চত্বর থেকে নজরুল এভিনিউ হয়ে ধর্মপুর পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল। ভাঙা এ সড়কগুলোতে প্রতিদিনই ঘটে দুর্ঘটনা। এতে আহত হচ্ছেন চলাচলকারীরা, নষ্ট হচ্ছে যানবাহনের যন্ত্রাংশ।
এ ছাড়াও সংস্কারের বছর দেড়েক না যেতেই পুরোনো ভাঙাচোরা অবস্থায় ফিরে গেছে শহরের অন্যতম প্রবেশপথ শাসনগাছা থেকে আলেখার চর সড়কটি।
এ সড়কের দুর্গাপুর এলাকায় কয়েক কিলোমিটারজুড়ে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এ ছাড়াও নজরুল এভিনিউ, রাজগঞ্জ ও নিউ মার্কেটের সামনে বিভিন্ন এলাকায় সড়কের বেশ কিছু অংশ খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। যদিও সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে, চলতি বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়কগুলোর মেরামত কাজ শুরু করা হবে।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, টমছম ব্রিজ থেকে নন্দনপুর হয়ে কোটবাড়ী বিশ্বরোড পর্যন্ত সড়কটি একেবারেই বেহাল পড়ে আছে। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারও মানুষ চলাচল করেন। বিশেষ করে পর্যটন কেন্দ্র শালবন বিহার, ময়নামতি জাদুঘর, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) আশপাশের এলাকায় যাতায়াতের একমাত্র সড়ক হওয়ায় এ সড়কটিতে নানা প্রান্তের মানুষ চলাচল করেন।
টমছম ব্রিজ থেকে নন্দনপুর হয়ে কোটবাড়ী পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এ সড়ক দিয়ে র্যাব কার্যালয়, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড মডেল কলেজ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা সেনানিবাস, সার্ভে ইনস্টিটিউট, বিজিবি সেক্টর হেডকোয়ার্টার্স, কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, পানি উন্নয়ন বোর্ড, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া ডিগ্রি কলেজ, আনসার-ভিডিপি আঞ্চলিক কার্যালয়, প্রাণিসম্পদ কার্যালয়, ছোট বড় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু সড়কটির প্রায় বেশির ভাগ অংশেই ইট, পাথর ও পিচের চিহ্ন বলতে অবশিষ্ট কিছুই নেই।
চলতি বর্ষায় সড়কজুড়ে পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। ধীরগতিতে চলে যানবাহন। কোটবাড়ী বিশ্বরোড থেকে শহরে ঢোকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি এ অবস্থায় দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
অন্যদিকে টমছম ব্রিজ থেকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ রোড হয়ে বাখরাবাদ সড়কটির অবস্থাও নাজুক। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে রোগী, শিক্ষার্থী, পোশাককর্মীসহ প্রতিদিন লাখো মানুষ যাতায়াত করেন। সড়কের পাশে রয়েছে ইবনে তাইমিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ইপিজেড, পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) কার্যালয়, সদর উপজেলা পরিষদ, বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেম লিমিটেডসহ শ শ প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে এ সড়কটি দিয়ে যানবাহন চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এদিকে একই অবস্থা নগরীর কান্দিরপাড় থেকে রানীর বাজার হয়ে ধর্মপুর সড়কটির। ড্রেনেজব্যবস্থা না থাকায় অল্প বৃষ্টিতে সেখানে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। এ সড়ক হয়ে প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসসহ নানা যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। খানাখন্দে ভরা এ সড়কটিতে ব্যাটারিচালিত যানবাহন উল্টে দুর্ঘটনার শিকারও হয়েছেন অনেকে।
নগরীর বাসিন্দা সাংবাদিক ও সমাজকর্মী তানভীর দীপু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘চোখের সামনে শহরের নজরুল এভিনিউ, রাজগঞ্জ ও নিউ মার্কেট এলাকা, টমছম ব্রিজ-কোটবাড়ী, মেডিকেল কলেজ সড়ক খানাখন্দ অবস্থায় পড়ে আছে। সেটা ঠিক না করে বিভিন্ন জায়গায় নতুন রাস্তা তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে শুনছি। নতুন সড়ক নির্মাণে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু পুরোনো জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো আগে ঠিক করা দরকার। মানুষের দুর্ভোগ দূর করা জরুরি।
টমছম ব্রিজ-কোটবাড়ী সড়কের সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘দীর্ঘ দিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি বেহাল পড়ে আছে। সংস্কারের কোনো লক্ষণ দেখছি না। খানাখন্দ আর গর্তে এমন অবস্থা হয়েছে। সড়কটিতে কোনো সুস্থ মানুষ চলাচল করতে পারেন না। প্রতিদিন কোনো না কোনো যানবাহন উল্টে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। গাড়ি যন্ত্রপাতিও নষ্ট হচ্ছে। রাস্তাগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে সড়কগুলোতে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। বৃষ্টি কমলেই সংস্কার কাজ শুরু হবে। আশা করি, তখন মানুষের ভোগান্তি কমে আসবে।