ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
প্রেরণার নাম ম্যাকগিন মৃত্যুকূপে দাঁড়িয়ে ফিরে আসার রোমাঞ্চ হাইতির স্বপ্নসারথি ইসিদোর অবসর ভাবনায় কর্তোয়া ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু কানাডার কাতারের সামনে সুইজারল্যান্ড চ্যালেঞ্জ লুকিচের গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে বসনিয়া কানাডার বিশ্বকাপ বরণ অনুষ্ঠান মাতালেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সঞ্জয় ইনজুরিতে বিশ্বকাপ শেষ, ভাঙা হৃদয়ে অবসর ঘোষণা মৃত্যুকে হারিয়ে বিশ্বকাপ হিরো গিমেনেজ আর্জেন্টিনা শিবিরে বড় সুসংবাদ হঠাৎই অবসরে উইলিয়ামসন সিলেটের মাজারে দানের টাকার ‘বেহিসেবী’ ঘোচাতে চান ডিসি সারওয়ার বেলকুচিতে উদ্ভাবননির্ভর দেশ গঠনে বিজ্ঞান মেলা টাঙ্গাইলে এলএসডি ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন চলে গেলেন আধুনিক শিল্পের আইকন ডেভিড হকনি সনকে নিয়ে অস্বস্তিতে দক্ষিণ কোরিয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে? পাকিস্তানের নতুন দাবি নাটকীয় সমাপ্তিতে ১৬ বছর পর চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান মন্তব্য ঘিরে আইনি জটিলতা, মমতার বিরুদ্ধে মামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে ইরান: আরাঘচি সিলেটে ফাহিমা হত্যার ১ মাস পর চার্জশিট দিল পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়, ছয় লেন সড়ক, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন; প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারবাসীর যত প্রত্যাশা হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ৬৪৩ আক্রান্ত ৮৪২৬৬ স্থায়ী নিয়োগসহ ছয় দফা দাবিতে রাজশাহীতে কর্মচারীদের সমাবেশ সোনারগাঁওয়ে আইফোনসহ ১৪৬ মোবাইল চুরি, প্রায় কোটি টাকা ক্ষতি শাহ আমানত বিমানবন্দরে ৬৪৭ কার্টুন সিগারেট জব্দ প্রথম ম্যাচে খেলা হচ্ছে না ডেভিসের নওগাঁয় দুইদিন মাইকিং করেও মেলেনি ব্রাজিল সমর্থক বর্তমান বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কারের সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম
Nagad desktop

থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে দেশভ্রমণ: টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পদযাত্রায় চৌদ্দগ্রামে অভিনন্দিত

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৫, ০৩:৩৭ পিএম
থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে দেশভ্রমণ: টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পদযাত্রায় চৌদ্দগ্রামে অভিনন্দিত
হাসান মুরাদ ও মাহমুদুল হাসান শাওন

থ্যালাসেমিয়া বিষয়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত পায়ে হেঁটে দেশব্যাপী এক অনন্য যাত্রা শুরু করেছেন দুই তরুণ চট্টগ্রামের হাসান মুরাদ ও নোয়াখালীর মাহমুদুল হাসান শাওন।

৩১ বছর বয়সী হাসান মুরাদ পেশায় একজন ব্যবসায়ী ও ভ্রমণপ্রেমী। তিনি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার বাসিন্দা এবং বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ সম্পন্ন করেছেন। অপরদিকে ২০ বছর বয়সী মাহমুদুল হাসান শাওন নোয়াখালীর চৌমুহনী সালেহ আহমেদ কলেজের বিবিএ প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

গত ১৭ অক্টোবর টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ থেকে তারা এই সচেতনতামূলক পদযাত্রা শুরু করেন। পুরো যাত্রা সম্পন্ন করতে প্রায় ২৮ থেকে ৩০ দিন সময় লাগতে পারে বলে তারা জানিয়েছেন।

তাদের পরিবারের কেউ থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত না হলেও, সমাজে সচেতনতার অভাব থেকেই এই কঠিন রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে মনে করেন তারা। হাসান মুরাদ দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সিবিবি ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়া সচেতনতায় কাজ করছেন।

যাত্রাপথে তারা বিভিন্ন বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনবহুল স্থানে থেমে মানুষকে থ্যালাসেমিয়া বিষয়ে অবহিত করছেন এবং লিফলেট বিতরণ করছেন। তীব্র গরমের কারণে যাত্রা কিছুটা ধীরগতিতে এগোলেও সাধারণ মানুষ তাদের এই মহৎ উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন এবং নানা উপায়ে সহায়তা করছেন।

তাদের বিশ্বাস, এই পদযাত্রা শুধু থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধেই নয়, বরং দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মানবিক উদ্যোগে অংশ নেওয়ার অনুপ্রেরণা যোগাবে।

আজ ২৯ অক্টোবর তারা কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা অতিক্রম করে পদুয়ারবাজার এলাকার কাছাকাছি অবস্থান করছেন। রাতে চৌদ্দগ্রাম পৌঁছলে তাদের অভিনন্দন জানান চৌদ্দগ্রাম প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন সামাজিক ও মানবধীকার নেতৃবৃন্দ। সামনে কয়েকদিনের মধ্যেই তারা ঢাকা ও উত্তরবঙ্গের পথে যাত্রা অব্যাহত রাখবেন বলে জানিয়েছেন।

জহিরুল হাসান/মৌসুমী/

বেলকুচিতে উদ্ভাবননির্ভর দেশ গঠনে বিজ্ঞান মেলা

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১১:৫৮ পিএম
বেলকুচিতে উদ্ভাবননির্ভর দেশ গঠনে বিজ্ঞান মেলা
ছবি: সংগৃহীত

উদ্ভাবননির্ভর বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিচর্চাকে উৎসাহিত করতে এক দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের যৌথ আয়োজনে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এ বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন করা হয়।

মেলায় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা উপস্থাপন করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খাঁন আলীম।

তিনি বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশ ছাড়া স্মার্ট ও উন্নত বাংলাদেশ গঠন সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক ও উদ্ভাবনী চিন্তায় উদ্বুদ্ধ করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বেলকুচি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান, বেলকুচি থানার তদন্ত কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস. এম. গোলাম রেজা, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডল এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব বনি আমিন।

এ সময় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এবারের বিজ্ঞান মেলায় উপজেলার মোট ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প, বিজ্ঞানভিত্তিক মডেল ও প্রযুক্তিগত উপস্থাপনা দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করে।

মেলা শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের নাম ঘোষণা করা হয়। পরে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সনদপত্র তুলে দেন অনুষ্ঠানের অতিথিবৃন্দ।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা বিস্তারে এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

এসএন/

টাঙ্গাইলে এলএসডি ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১১:৫৪ পিএম
টাঙ্গাইলে এলএসডি ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) উদ্ভাবিত লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন উপলক্ষে শুক্রবার (১২ জুন) বিকালে টাঙ্গাইল সদরের ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে রোগ প্রতিরোধ ও খামারিদের দক্ষতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, প্রাণিসম্পদের বিভিন্ন রোগব্যাধি সম্পর্কে অনেক খামারির পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় রোগ শনাক্তকরণ ও সঠিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

তিনি আরও বলেন, খামারিদের সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি প্রাণিসম্পদের রোগ প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচির পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এলএসডি ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে গবাদিপশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত হবে এবং দেশের প্রাণিসম্পদ খাত আরও সমৃদ্ধ ও টেকসই ভিত্তির ওপর এগিয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিসহ খামারি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

জুয়েল রানা/এসএন

সিলেটে ফাহিমা হত্যার ১ মাস পর চার্জশিট দিল পুলিশ

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১১:১৯ পিএম
সিলেটে ফাহিমা হত্যার ১ মাস পর চার্জশিট দিল পুলিশ
নিহত শিশু ফাহিমা। ছবি: সংগৃহীত

সিলেটে চার বছরের শিশু ফাহিমাকে ধর্ষণ ও হত্যার ১ মাস পর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। চার্জশিটে মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেনের পাশাপাশি তার দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। শুক্রবার (১২ জুন) বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মনজরুল আলম।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এতে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে জাকির হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া মরদেহ গুম করতে সহযোগিতার অভিযোগে তার দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে আসামি করা হয়েছে।

চার্জশিটে অভিযুক্তরা সবাই ফাহিমার প্রতিবেশী। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত জাকিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দুই দফায় জাকিরদের বাড়িতে ভাঙচুর চালায়।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ মে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশু ফাহিমা। দুই দিন পর ৮ মে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ১১ মে রাতে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে প্রতিবেশী জাকির হোসেনকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তিনি পুলিশের কাছে এবং আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার বর্ণনা দেন।

১২ মে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনার দিন সকালে ফাহিমাকে একটি দোকান থেকে সিগারেট এনে দিতে পাঠানো হয়। সিগারেট নিয়ে ফেরার পর জাকির তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেয়। সে সময় তার স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। ঘরের দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে জাকির। তবে ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছিল কি না, তা মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ একটি ব্রিফকেসে ভরে ঘরের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়। এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু হলে সেটি বাড়ির নিচে সরিয়ে রাখা হয়। সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে গভীর রাতে মরদেহটি পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে মরদেহ পানিতে ডুবে না যাওয়ায় সেটি ডোবার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় জাকির। অভিযুক্তের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাদর ও ব্রিফকেস উদ্ধার করেছে পুলিশ। তদন্তের অংশ হিসেবে এসব আলামত পরীক্ষার জন্য জব্দ করা হয়েছে।

আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডে সিলেটজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ফাহিমার হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং ডা. শফিকুর রহমান ফাহিমার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।

শাকিলা ববি/এসএন

বিশ্ববিদ্যালয়, ছয় লেন সড়ক, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন; প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারবাসীর যত প্রত্যাশা

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১১:১৫ পিএম
বিশ্ববিদ্যালয়, ছয় লেন সড়ক, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন; প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারবাসীর যত প্রত্যাশা
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো শনিবার (১৩ জুন) কক্সবাজার সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এই সফরকে ঘিরে পর্যটন নগরীর সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। একই সঙ্গে জেগেছে নানা প্রত্যাশা।

সমুদ্র, পর্যটন, মৎস্য, লবণ ও ব্লু ইকোনমির অপার সম্ভাবনার জেলা কক্সবাজার। প্রতিবছর দেশ-বিদেশ থেকে লাখো পর্যটকের আগমন ঘটলেও অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ খাতে এখনও রয়ে গেছে নানা সীমাবদ্ধতা। ফলে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে জেলার উন্নয়ন ও সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কক্সবাজারবাসীর প্রত্যাশার তালিকায় রয়েছে একটি ব্লু ইকোনমি ও মেরিন সায়েন্সভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ, লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং জেলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন।

শুক্রবার চকরিয়া পৌরসভার বাস টার্মিনাল এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কক্সবাজারবাসীর পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত বা আঞ্চলিক কোনো দাবি উত্থাপন করা হবে না। তবে জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনা হবে।

তিনি বলেন, কক্সবাজারে একটি ব্লু ইকোনমি ও মেরিন সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ এবং লবণ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।

কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি ও কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, কক্সবাজারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ রোহিঙ্গা সংকট। প্রধানমন্ত্রীর সফরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘ ও মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার হবে বলে আশা করা যায়। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়াও এগিয়ে যাবে।

কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল বলেন, জেলার উন্নয়নের স্বার্থে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা, কক্সবাজার সদর হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা, কক্সবাজার-মহেশখালী সেতু নির্মাণ, পিএমখালীর পাতলী খালকে শহীদ জিয়া স্মৃতি খাল নামকরণ এবং কক্সবাজার স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা।

এদিকে উচ্চশিক্ষা সম্প্রসারণের দাবিও জোরালো হচ্ছে। কক্সবাজার সিটি কলেজের অধ্যক্ষ আকতার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি দীর্ঘ পথ পেরিয়ে জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে কলেজটি জাতীয়করণ করা হলে কক্সবাজারের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

জেলা জুড়ে এখন একটাই আলোচনা প্রধানমন্ত্রীর সফর থেকে কক্সবাজার কী পেতে যাচ্ছে। উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও পর্যটন খাতের নানা প্রত্যাশা নিয়ে সমুদ্রকন্যা কক্সবাজার তাকিয়ে আছে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার দিকে।

তারেকুর রহমান/এসএন

স্থায়ী নিয়োগসহ ছয় দফা দাবিতে রাজশাহীতে কর্মচারীদের সমাবেশ

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১১:১১ পিএম
স্থায়ী নিয়োগসহ ছয় দফা দাবিতে রাজশাহীতে কর্মচারীদের সমাবেশ
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে দৈনিক মজুরি ভিত্তিক ও মাস্টার রোলে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে রাজশাহীতে বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশ থেকে আউটসোর্সিং প্রক্রিয়া বন্ধ, ‘দৈনিক ভিত্তিক সাময়িক শ্রমিক নিয়োজিতকরণ নীতিমালা-২০২৫’ বাতিলসহ ছয় দফা দাবি জানানো হয়।

শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে রাজশাহী নগরের একটি কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারী সমিতি, রাজশাহী বিভাগের উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাজশাহী বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দৈনিক মজুরি ও মাস্টার রোলে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারী এবং সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব মো. মিজানুর রহমান বাদল বলেন, দৈনিক মজুরি ও মাস্টার রোলভিত্তিক কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত কার্যক্রম সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। কিন্তু বছরের পর বছর দায়িত্ব পালন করেও তাঁদের চাকরির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত রয়ে গেছে। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কর্মচারীদের অন্য ব্যবস্থায় হস্তান্তর করা হলে চাকরির নিরাপত্তা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই আউটসোর্সিং প্রক্রিয়া বন্ধ করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের স্থায়ী নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে।

রাজশাহী ওয়াসা কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, অনেক শ্রমিক-কর্মচারী দীর্ঘদিন অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করতে করতে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা অতিক্রম করেছেন। এ কারণে তাঁদের ক্ষেত্রে বয়স শিথিল করে স্থায়ী নিয়োগের উদ্যোগ নিতে হবে। নীতিমালার নামে কর্মচারীদের চাকরি অনিশ্চিত করার কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়।

সমাবেশে উপস্থাপিত ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—আউটসোর্সিং ব্যবস্থা বন্ধ, ‘দৈনিক ভিত্তিক সাময়িক শ্রমিক নিয়োজিতকরণ নীতিমালা-২০২৫’ বাতিল এবং বয়স শিথিল করে কর্মরতদের স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানে স্থায়ীকরণ বা আত্তীকরণ; বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় ও বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি পুনর্নির্ধারণ এবং বার্ষিক ন্যূনতম ১০ শতাংশ হারে বেতন বৃদ্ধি; শ্রম আইন অনুযায়ী উৎসব ভাতা, বৈশাখী ভাতা, ওভারটাইম, চিকিৎসা ভাতা, বাড়িভাড়া ভাতা, শিক্ষা ভাতা, ঝুঁকি ভাতা ও রেশন সুবিধা চালু; নারী কর্মচারীদের জন্য মেডিকেল সনদের ভিত্তিতে ১৮০ দিনের সবেতন মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং সাপ্তাহিক ও বার্ষিক ছুটির নিশ্চয়তা; যথাযথ তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়া চাকরিচ্যুতি বন্ধ ও চাকরিচ্যুত কর্মচারীদের পুনর্বহাল; এবং ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের অধিকার নিশ্চিত করে সব কর্মচারীকে শ্রম আইনের পূর্ণাঙ্গ সুরক্ষার আওতায় আনা।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম শিশির, আশিকুর রহমান রাসেল, সাইফুল ইসলাম, তাহেরা আক্তার শান্তি, সাথী আক্তার, রফিকুল ইসলাম রফিক, মনিরুজ্জামান পিয়াস, ময়মনসিংহ বিভাগের আহ্বায়ক আব্দুর রাসেল, সদস্যসচিব তোফাজ্জল হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফৈরদাউস আহমেদ ও সাইদুর রহমান এবং ঢাকা বিভাগের সদস্য সোহাগ রানা ও সুমন মিয়াসহ অন্যান্য নেতারা।

এনায়েত করিম/এসএন