চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দ্রুত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে অনলাইনে ‘এ চালান’ পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল। কিন্তু পদ্ধতিতে কিছু ত্রুটি দেখা যাচ্ছে। সফটওয়্যার ত্রুটির কারণে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের রাজস্ব চূড়ান্ত করা যায়নি। তবে সফটওয়্যারে ত্রুটি দেখা গেলেও শুল্ককর আদায় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কাস্টম হাউসের কর্মকর্তারা।
কাস্টম হাউসের উপকমিশনার এইচ এম কবির বলেন, “এ চালান সিস্টেমে শুল্ককর ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। শুল্ককর ঠিকই আদায় হয়েছে। কিন্তু আমাদের কাস্টমের সফটওয়্যার ‘অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড’ সিস্টেমে কিছু অসংগতি দেখা যাচ্ছে। সে জন্য কর ও শুল্ককে পৃথকভাবে দেখাচ্ছে না। তাই আমরা কাস্টমস ডিউটি, ভ্যাট, আয়কর ইত্যাদি খাতভিত্তিক চূড়ান্ত পরিসংখ্যান পাচ্ছি না। তবে এ বিষয়ে আমাদের পরিসংখ্যান শাখা কাজ করে যাচ্ছে। আশা করছি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে।”
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনলাইনে দ্রুত রাজস্ব জমার লক্ষ্যে চালু হয় এ চালান পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে ব্যাংকে জমা দেওয়া শুল্ককরের কাগজপত্র অনলাইনে জমা দিতে হয় পণ্য খালাসের সময়। কিন্তু সম্প্রতি সময়ে সিস্টেমে আদায় করা অর্থ কাস্টমসের সফটওয়্যার ‘অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড’-এর সঙ্গে মিলছে না। তাই রাজস্বের খাতভিত্তিক হিসাব নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। চট্টগ্রাম কাস্টমের তথ্য অনুযায়ী জুলাইয়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৬ হাজার ৮৮৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং আগস্টে ৬ হাজার ৫১০ কোটি ৩ লাখ টাকা। কিন্তু সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে রাজস্বের হিসাব এখনো তৈরি করা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে কাস্টম কর্মকর্তারা জানান, এ চালান ইতোমধ্যেই ‘অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড’ সিস্টেমে যুক্ত করা হয়েছে। তবুও প্রযুক্তিগত সমন্বয় না হওয়ায় রাজস্বের চূড়ান্ত হিসাব প্রণয়ন বিলম্বিত হচ্ছে। ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরুতে চালু হওয়া এ চালান ব্যবস্থায় আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকরা অনলাইনে তাৎক্ষণিকভাবে কোষাগারে শুল্ক জমা দিতে পারছেন।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট মোহাম্মদ সরওয়ার বলেন, ‘যেকোনো চালানের শুল্ককর জমার পর ওই কাগজপত্র অ্যাবসের মাধ্যমে এ চালান হিসেবে কাস্টস হাউসে পাঠাতে হয়, যা কাস্টম হাউসের সফওয়্যারে প্রদর্শন করার কথা। কিন্তু সম্প্রতি কিছু অসুবিধার কথা আমরা শুনতে পাচ্ছি। তবে এ ক্ষেত্রে সব দায়দায়িত্ব কাস্টম হাউসের। এখানে আমাদের কোনো দায় নেই।’
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট দিলিপ চৌধুরী বলেন, এ চালানে ২৪ ঘণ্টায় কাজ করা যায়। এ সফওয়্যার সব সময় খোলা থাকে। ব্যাংকে জমা দেওয়ার রসিদ বা কাগজপত্রগুলো এ চালানের মাধ্যমে অনলাইনে প্রেরণ করতে হয়। শুল্ককরের টাকা তো ব্যাংকে আগেই জমা হয়ে যায়।
এদিকে গত দুই মাস ধরে এ চালানের হিসাবের সঙ্গে কাস্টম হাউসে জমা হওয়া টাকার হিসাব মিলছে না। তবে সেটা অচিরেই সমাধান হয়ে যাবে বলে ধারণা করছে কাস্টম হাউসের কর্মকর্তারা।
এ চালান হলো সরকারের ডিজিটাল অর্থ প্রদান পদ্ধতি যার মাধ্যমে কর, জরিমানা এবং বিভিন্ন সরকারি ফি অনলাইনে পরিশোধ করা যায়। এটি কাগজপত্রের জটিলতা কমায় এবং লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে। ব্যবহারকারীকে মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে চালান তৈরি করতে হয়, এরপর ব্যাংক, ইন্টারনেট ব্যাংকিং কিংবা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে পেমেন্ট সম্পন্ন করা হয়। সফল লেনদেনের পরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিজিটাল রসিদ পাওয়া যায়, যা ভবিষ্যতে যাচাইয়ের কাজে লাগে।
এ চালান ব্যবহারে মানুষের সময় ও খরচ বাঁচে, ব্যাংকে সারি করার প্রয়োজন পড়ে না এবং হিসাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকারি কোষাগারে জমা হয়। ইলেকট্রনিক রেকর্ড জালিয়াতি কমায় এবং তথ্যের স্বচ্ছতা বাড়ায়। স্থিতিশীল ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে যে কেউ যেকোনো সময় অনলাইনে চালান তৈরি ও পরিশোধ করতে পারবেন; এতে ট্রাফিক জরিমানা, পাসপোর্ট ফি, কর ও অন্যান্য সরকারি ফি একক প্ল্যাটফর্মে সংগৃহীত হয়, ফলে প্রশাসনিক জটিলতা অনেকাংশে কমে। এ প্রক্রিয়া নাগরিকদের বিশ্বাস জোগায় এবং পরিষেবার মান বাড়ায়, তাই এর প্রচার।